Posts

Showing posts from 2026

পলাশবাড়ি।। শুভদীপ চক্রবর্ত্তী।। সুপ্রকাশ।। পাঠপ্রতিক্রিয়া।।

Image
সুপ্রকাশ প্রকাশিত শুভদীপ চক্রবর্ত্তীর উপন্যাস 'পলাশবাড়ি' পড়ে মতামত জানিয়েছেন দীপঙ্কর দাস। আমরা তাঁর অনুমতি নিয়ে নিজেদের টাইমলাইন থেকে শেয়ার করছি। ..................................................... পলাশবাড়ি শুভদীপ চক্রবর্ত্তী সুপ্রকাশ প্রকাশনা  মুদ্রিত মূল্য : ২৫০ টাকা একটি জুটমিলকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা এক মফস্বল শহর দরদী। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বিশেষ করে বাংলার রাজনৈতিক পটপরিবর্তনকে সাক্ষী রেখে ধীরে ধীরে বদলে যেতে থাকে এই একরত্তি শহরের চেনা মুখ, চেনা ছন্দ। এই গল্পের কেন্দ্রে রয়েছে একটি বাড়ি। যাকে সকলে পলাশ বাড়ি নামে জানে।  ছোটবেলায় এক দুর্ঘটনায় বাবা-মাকে হারায় রুকু। স্থানীয় অভিভাবক অনঙ্গ মাস্টারের হাত ধরে তার জীবন নতুন পথে চলতে শুরু করে। প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষিকা হিসেবে রুকু নিজেকে আবিষ্কার করে। কিন্তু অনঙ্গ মাস্টারের মৃত্যুর পর রুকুর সেই আশ্রয়ও অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। অনঙ্গর ছেলের নাম ভুজঙ্গ বোস। এক উঠতি রাজনীতিক, এলাকার সিন্ডিকেটের মাথা সে। তার নজর পড়ে রুকুর স্কুলবাড়ি আর পলাশবাড়ির ওপর। ভয়, ক্ষমতা আর টাকার খেলায় একে একে দখল হয়ে যায় জুটমিলের ইউনিয়ন, বদলে যায় দরদীর চরিত্র।  এ...

দেয়ালের লেখা : এক অন্তহীন প্রকীর্ণ শিল্পকথা।। অনন্ত জানা।। সুপ্রকাশ।।

Image
"এ এমন এক কাজ, যার কথা শিবেশ-যতীশ সুমনের কাছে শুনেছে, ছবিও দেখেছে, তার ইতিহাসও তারা মোটামুটি জানে, কিন্তু নিজেরা কখনও হাতেকলমে করেনি। সুমনও এই গঞ্জদেশে সেই ধরনের দেয়াললেখার কোনো তাগিদ অনুভব করেননি। কিন্তু আজ তারই প্রয়োজন বোধ করলেন। ঘরে ছিল মোটা কার্টিজের কাগজ। তাতেই সুমন এঁকে ফেললেন এই রাঢ়ীয়-বঙ্গের প্রথম গ্রাফিতিটি। খুব সহজবোধ্য বিষয়— দু-জন ভিন্ন শ্রেণীর মানুষ— একজন অর্ধনগ্ন কঙ্কালসার একটি দেহাতি মানুষ— একেবারে নতজানু; অন্যজন ধুতি-সার্ট পরিহিত ভদ্রপানা একজন মানুষ। সকলেই দু-হাতে নিজ নিজ কর্ণধারণ করে আছেন। প্রথমে ছবিটার ক্যাপশন হিসেবে শ্লেষাত্মক কিছু লিখবেন ভেবেছিলেন। কিন্তু ভেবেচিন্তে তা বর্জন করলেন। শুধু বাঁ-হাতের তর্জনিতে ন্যাকড়া-জড়িয়ে ছেলেমানুষী কাগের ঠ্যাঙ-বগের ঠ্যাঙ করে গাঢ় কালো রঙে একটিমাত্র শব্দ লিখলেন— 'অগ্রগতী'। বলাই বাহুল্য হরফের এই কদর্যতা এবং 'অগ্রগতি' বানানের ঐ বিকৃতি একেবারেই ইচ্ছাকৃত। সবুজ বয়সে সুমনের শেখা রাজনৈতিক কৌশলের প্রয়োগ। সন্দেহ হলেও প্রকাশ্যে এমন কথা বলা মুশকিল যে, সুমন বা সুমনের চ্যালারা বানান ভুল লিখেছে! শিল্পের শক্তি ও উপভোক্তার বোধে তাঁর ...

দেয়ালের লেখা : এক অন্তহীন প্রকীর্ণ শিল্পকথা।। অনন্ত জানা।। সুপ্রকাশ।।

Image
বস্তুত শেপার্ড বিগ ব্রাদার চরিত্রটিকে গ্রহণ করেছিলেন জর্জ অরওয়েল [প্রকৃত নাম: এরিক আর্থার ব্লেয়ার (১৯০২-১৯৫০)]-এর 'নাইন্টিন এইটি ফোর' (১৯৪৯/১৯৮৪ সালে পুনর্বার প্রকাশিত) উপন্যাসের ব্যবহৃত 'বিগ ব্রাদার'-এর নাম থেকে। উপন্যাসের শুরুতেই উইনস্টন স্মিথ নামীয় চরিত্রটি 'বিগ ব্রাদার'-এর নজরদারির মুখোমুখি হন। অরওয়েল এপ্রিলের এক উজ্জ্বল ঠাণ্ডা সকালে উইনস্টন স্মিথের সূত্রে বিগ ব্রাদার-এর উপস্থিতির রূপকীয়-বাস্তবতার সঙ্গে পাঠকের এইভাবে পরিচয় করিয়ে দেন: 'হলওয়েতে (ঘরসদৃশ করিডর বা প্যাসেজ- প্রা.) বাঁধাকপি সেদ্ধ এবং পুরোনো ন্যাকড়ার গন্ধ ছিল। প্যাসেজের একপ্রান্তের দেয়ালে ঘরের মাপের সঙ্গে বেমানান বড়ো একটি রঙিন পোস্টার সাঁটানো ছিল। এই পোস্টার জুড়ে এক মিটারেরও বেশি চওড়া একটিমাত্র মুখের ছবি: প্রায় পঁয়তাল্লিশ বছর বয়সী একটি পুরুষের মুখের চিত্রণ— ঘন কালো গোঁফ, মুখটি রুক্ষ হলেও সুন্দর। সাত তলার ফ্ল্যাটে যাওয়ার জন্য উইনস্টন লিফ্ট পাননি, কেননা বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকায় লিফ্টটি অচল ছিল। ঊনত্রিশ বছর বয়সী উইনস্টন তাঁর ডান গোড়ালির প্রায়-স্থায়ী ভ্যারিকোজ আলসার বা ক্ষত নিয়ে ধীরে ধীরে এগিয়ে যাচ...

নষ্ট চাঁদের আলো।। অলোক সান্যাল।। সুপ্রকাশ।। পাঠপ্রতিক্রিয়া

Image
সুপ্রকাশ প্রকাশিত অলোক সান্যালের উপন্যাস 'নষ্ট চাঁদের আলো' পড়ে মতামত জানিয়েছেন সুনীত বিশ্বাস। আমরা তাঁর অনুমতি নিয়ে নিজেদের টাইমলাইন থেকে শেয়ার করছি। ............................................................... আঠারো শতকের উত্তাল আটলান্টিক—নীল জলরাশি যেখানে কেবল ঢেউয়ের খেলা নয়; সেখানে মিশে আছে রক্ত, অদম্য লোভ আর হাজারো মানুষের ভাঙা স্বপ্নের নোনা স্বাদ। দিগন্তজোড়া সেই সমুদ্রপথ ছিল জলদস্যুদের অবাধ বিচরণভূমি। তামাক, তুলো আর চিনি বোঝাই জাহাজ মানেই ছিল লুণ্ঠনের হাতছানি। এই ঝঞ্ঝাবিক্ষুব্ধ সময়েরই এক জীবন্ত কিংবদন্তি—ব্ল্যাকবিয়ার্ড। তার ভয়ংকর রণতরি ‘কুইন অ্যানস রিভেঞ্জ’ যখন দিগন্তে ভেসে উঠত, তখন ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের বাণিজ্যিক মানচিত্রে নেমে আসত আতঙ্কের ছায়া। ওক্রেকোক খাঁড়ির সেই রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে রয়্যাল নেভির হাতে ব্ল্যাকবিয়ার্ডের পতন ঘটেছিল। কিন্তু তার সঙ্গে সাগরের অতল গভীরে হারিয়ে যায় জাহাজ, অগাধ ঐশ্বর্য, আর ইতিহাসের কিছু অমীমাংসিত রহস্য। শতাব্দী পেরিয়ে একবিংশ শতাব্দীতে সেই হারিয়ে যাওয়া সত্যের সন্ধানে আমাদের হাত ধরে নিয়ে যান লেখক অলোক সান্যাল। সমুদ্র-প্রত্নতত্ত্ব...

দেয়ালের লেখা : এক অন্তহীন প্রকীর্ণ শিল্পকথা।। অনন্ত জানা।। সুপ্রকাশ

Image
"পোস্টার শিল্পের শুরুর যুগের সম্ভবত সবচেয়ে স্বীকৃত শিল্পী ছিলেন ইতালিয়ান শিল্পী এমিলিয়াস সেলের (পুরো নাম পাবলিয়াস এমিলিয়াস সেলের)। নির্বাচনী পোস্টার লিখেছেন তিনি, দেয়ালে, বিজ্ঞপ্তিও। সেসময়ে পোস্টারে টেক্সটের পর্যাপ্ত ব্যবহার ছিল। সেলেরের পোস্টারেও। সেলের অঙ্কিত গ্ল্যাডিয়েটর শো-এর পোস্টারে বয়ান ছিল এই রকম: 'টুয়েন্টি পেয়ারস অব গ্ল্যাডিয়েটরস ফার্নিশড্ বাই ডেসিমাস লুক্রেটিয়াস স্যাট্রিয়াস ভ্যালেন্স, পার্মানেন্ট প্রিস্ট অব নিরো, সন অব দি এম্পেরর, অ্যান্ড টেন পেয়ারস্ অব গ্ল্যাডিয়েটরস ফার্নিশড্ বাই ডেসিমাস লুক্রেটিয়াস ভ্যালেন্স হিজ সন, উইল ফাইট অ্যাট পম্পেই এপ্রিল ৮, ৯, ১০, ১১ অ্যান্ড ১২। দেয়ার উইল বি এ বিগ হান্ট অ্যান্ড অনিং। এমিলিয়াস সেলের রোট দিস, অল অ্যালোন বাই দি মুন।' (অগুস্ত মাও: ১৮৯৯) অর্থাৎ সেলের চাঁদের আলোয় একা এটি রচনা করেছিলেন। এখানে নিরোর উল্লেখ দেখে অগুস্ত মাও অনুমান করেছেন যে, এই ঘোষণাপত্রটি ৫০ খ্রিস্টাব্দ থেকে ৫৪ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে রচিত। কেননা নিজের চতুর্থ স্ত্রী এগ্রিপ্পিনা দি ইয়ংগারের পুত্র নিরোকে রোমান সম্রাট ক্লডিয়াস দত্তক নিয়েছিলেন খ্রিস্টীয় ৫০ খ্রিস্টাব্দে এ...

ভূমিকা পুস্তিকা।। উড়নচণ্ডীর পাঁচালি।। সুপ্রকাশ।।

Image
সুপ্রকাশ প্রকাশিত সমরেন্দ্র মণ্ডলের বই 'উড়নচণ্ডীর পাঁচালি'-র ভূমিকা-পুস্তিকা প্রকাশিত। যাঁরা এখনও পড়েননি, তাঁরা বই পড়ার আগেই বইয়ের অংশবিশেষ পড়ে নিতে পারেন। বন্ধুদের সঙ্গে ভাগ করে নিতে পারেন যত খুশি। ডাউনলোড লিঙ্ক  :  https://suprokashbooks.com/wp-content/uploads/2026/02/Bhumika-pustika-Uranchandi_02_02_26.pdf     

সকলই গরল ভেল।। গৌরভ বিশ্বাস।। সুপ্রকাশ।। পাঠপ্রতিক্রিয়া।।

Image
সুপ্রকাশ প্রকাশিত গৌরব বিশ্বাসের নন-ফিকশন 'সকলই গরল ভেল' পড়ে লিখেছেন শুভেন্দুবিকাশ ভট্টাচার্য। আমরা তাঁর অনুমতি নিয়ে নিজেদের টাইমলাইন থেকে শেয়ার করছি। ........................................... সকলই গরল ভেল গৌরব বিশ্বাস সুপ্রকাশ ২৮০ টাকা . প্রথম প্রথম ফেসবুকেই ছোটখাটো লেখা দিয়ে নজর কেড়েছেন গৌরব বাবু। বাংলা সাহিত্যের সঙ্গে কবরখানার হারিয়ে যাওয়া রূপকথার সঙ্গত করতেন।কখনো প্রেম কখনো অপরাধ রিরংসা কখনো অপ্রেম ঐ মাটির নিচে চাপা পড়ে থাকা অনেক যুগ আগেকার গল্প দ্বিতীয়বার ময়নাতদন্তের মতো খুঁড়ে এনে আমাদের পরিবেশন করেছেন।  কিন্তু গৌরব বাবুর কোন ব‌ই ছিল না।তাই এবারের ব‌ইমেলায় ওঁর লেখা "সকল‌ই গরল ভেল" পেয়ে সংগ্রহ করতে আর দ্বিধা করিনি। তারপর এক নিঃশ্বাসে পড়া।পড়ে ফেলার এক সপ্তাহ পরেও রেশ কাটতে চাইছে না। ভাবলাম সবার সঙ্গে ভাগ করে নিই। প্রথমেই দারুণ লাগে প্রচ্ছদের কালকূটের কৌটো। সৌজন্যে সৌজন্য চক্রবর্তী। প্রোডাকশন বাঁধাই সুপ্রকাশের অনবদ্য।১৫২ পাতার সাহিত্যরস সম্পৃক্ত ছোট্ট ব‌ইটির মুদ্রিত মূল্য ২৮০ টাকা মাত্র। এবার আসি মূল কথায়। গল্প নয় সত্য ঘটনা,গল্পের থেকেও রোমাঞ্চকর। প...

দেয়ালের লেখা : এক অন্তহীন প্রকীর্ণ শিল্পকথা।। অনন্ত জানা।। সুপ্রকাশ।।

Image
বোধ হয় ঢাকায় গ্রাফিতিতে সুবোধ এসে পড়ায় আইজুদ্দিনের কষ্টের ইতিবৃত্তে যুক্ত হয় ভিন্নমাত্রার এক উদ্দেশ্যমূলকতা। এই গ্রাফিতিতে সুবোধ যেন এক বিশ্বজনীন চরিত্র। সেখানে কখনও বিশ্বপ্রাণের উৎস সূর্য-রক্ষক সুবোধের হাতে খাঁচার ভেতরে সূর্য! কখনও একা সুবোধ, কখনও তার সঙ্গে একটি শিশুকন্যা। কখনও সুবোধ ছুটন্ত, কখনও গরাদের অন্তরালে বন্দী। কখনও তার ঠোঁটে তর্জনির নিষেধাজ্ঞা। প্রায় সর্বত্র ইংরেজি বানানে 'হবে কি?'— এর উদ্যত জিজ্ঞাসা। সুবোধের গ্রাফিতিগুলিতে টেক্সট ঈষৎ বৈচিত্র্যময়:   'সুবোধ তুই পালিয়ে যা, এখন সময় পক্ষে না।' 'সুবোধ তুমি চুপ থাক।' 'সুবোধ তুই পালিয়ে যা,/এখন সময় পক্ষে না।/মানুষ ভালোবাসতে ভুলে গেছে।' 'সুবোধ তুই পালিয়ে যা, তোর ভাগ্যে কিছু নেই'। 'সুবোধ এখন জেলে, পাপবোধ নিশ্চিন্তে বাস করছে মানুষের হৃদয়ে।' 'এখানে সাপ ভরা চাপ চাপ রুচি।/কাপ ভরা পাপ পাপ ম!/সুবোধ........তুই পালিয়ে যাহ্।' 'সুবোধ, কবে হবে ভোর?' 'সুবোধ তুই পালিয়ে যা/ভুলেও ফিরে আসিস না।' 'সুবোধ তুই ঘুরে দাঁড়া'। 'তবুও সুবোধ রাখিস সূর্য ধরে।' 'সুবোধ তুই ল...

দেয়ালের লেখা : এক অন্তহীন প্রকীর্ণ শিল্পকথা।। অনন্ত জানা।। সুপ্রকাশ।।

Image
একটি কবিতার জনগ্রাহ্য হয়ে ওঠার ইতিবৃত্তকে অনুসরণ করলেই গ্রাফিতি নামক এই রাস্তার শিল্পের অমেয় শক্তি বোঝা যায়। দেয়াল থেকে দেয়ালে একটি কবিতাটির 'হয়ে ওঠার' সেই ইতিবৃত্ত রোমহর্ষকও বটে। কবি হেলাল হাফিজ (১৯৪৮-১৯২৪)-এর সেই কবিতাটির প্রাথমিক চরণদুটি দেয়াললিপির সৌজন্যে অনেকের কাছেই— যিনি কবিতা পড়েন না আদৌ, যিনি সাম্প্রতিক বাংলা কবিতাকে বাংলা বর্ণে লেখা দুর্বোধ্য কোনো ভিন্ন ভাষার অ-বাক্য বলে মনে করেন, তেমন মানুষের কাছেও পরিচিতি পায়। হাসান হাফিজকে দেওয়া হেলাল হাফিজের এক সাক্ষাৎকার থেকে জানা যায়— ছাত্রাবস্থায় কবি হেলাল হাফিজ এক বিকেলে পুরান ঢাকা থেকে রিক্সা করে ফিরছিলেন তাঁর হস্টেল ইকবাল হলে। সেটা ১৯৬৯ সাল। সাবেক পূর্ব পাকিস্তানে পাকিস্তানী স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে তীব্র গণআন্দোলন শুরু হয়ে গেছে। ঢাকার গুলিস্তানের ফুলবেড়িয়ায় পৌঁছে হাফিজ দেখলেন সেখানে সমানে মিছিল ও বিক্ষোভ চলছে, ছাত্রজনতার সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ বেঁধে গেছে। পুলিশ-মিলিটারির লাঠিচার্জের প্রতিবাদে ছাত্রদের পক্ষ থেকে ঢিল-পাটকেল ছোড়া হচ্ছে। এরই মধ্যে বয়স্ক এক রিক্সাচালক বললেন— 'মার, মার শালাদের। প্রেমের জন্য কোনো কোনো সময় মার্ডারও ক...

নষ্ট চাঁদের আলো।। অলোক সান্যাল।। সুপ্রকাশ।। পাঠপ্রতিক্রিয়া।।

Image
সুপ্রকাশ প্রকাশিত অলোক সান্যালের উপন্যাস 'নষ্ট চাঁদের আলো' পড়ে গুডরিডস্-এ মতামত জানিয়েছেন মোস্তাফিজুর রহমান। আমরা নিজেদের টাইমলাইন থেকে শেয়ার করছি। ............................................................ অলোক সান্যালের লেখা "নষ্ট চাঁদের আলো" অষ্টাদশ শতকের আটলান্টিক মহাসাগরে জলদস্যুদের স্বর্ণযুগ, ব্ল্যাকবিয়ার্ডের উত্থান ও পতনের ইতিহাসের সঙ্গে সমান্তরালে এগিয়েছে বর্তমান সময়ে হারিয়ে যাওয়া গুপ্তধনের অনুসন্ধান নিয়ে থ্রিলার বই। অতীত ও বর্তমান— দুটি সময়কালকে সমান দক্ষতায় গেঁথেছেন লেখক। সমুদ্রযুদ্ধ, গুপ্তধনের কিংবদন্তি, উপনিবেশিক শোষণ ও দাসপ্রথার নির্মম বাস্তবতা উপন্যাসটিকে শুধু রোমাঞ্চকর নয়, ভাবনাপ্রবণও করে তোলে। চরিত্র নির্মাণ শক্তিশালী, অনুসন্ধানভিত্তিক থ্রিলার অংশে রয়েছে টানটান উত্তেজনা। প্রায় ৪০০ পৃষ্ঠার উপন্যাস হলেও কোথাও ক্লান্তিকর নয়। ইতিহাস আর অ্যাডভেঞ্চার যাঁরা ভালোবাসেন, তাঁদের জন্য "নষ্ট চাঁদের আলো" নিঃসন্দেহে একটি পাঠযোগ্য উপন্যাস। পাইরেটস অফ দ্য ক্যারিবিয়ানের মতো একটি সিরিজের ভঙ্গি এখানে স্পষ্ট, বিশেষ করে জাহাজের বর্ণনা এবং জলদস্যুদের চরিত্রায়ন...

লেটারপ্রেসের কম্পোজিটর: এক বিষাদান্ত পরম্পরা ।। অনন্ত জানা।। সুপ্রকাশ।। পাঠপ্রতিক্রিয়া।।

Image
সুপ্রকাশ প্রকাশিত অনন্ত জানার বই লেটারপ্রেসের কম্পোজিটর : এক বিষাদান্ত পরম্পরা পড়ে লিখেছেন মহুয়া বৈদ্য। আমরা তাঁর অনুমতি নিয়ে নিজেদের টাইমলাইন থেকে শেয়ার করছি।  .................. এক একটি বই কালেভদ্রে হাতে আসে যেটি পড়ার পর মনে হয়, হ্যাঁ পরিপূর্ণ কিছু পড়ে উঠলাম, যে পড়ার মাঝে ফাঁকফোকর প্রায় কিছুই নেই। বইটির নাম, “লেটারপ্রেসের কম্পোজিটর : এক বিষাদান্ত পরম্পরা”। লেখক অনন্ত জানা। পারিবারিক জীবনালেখ্যর সাথে লেটার-প্রেসের জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি এবং ইতিহাস মিশেমিশে একটি নিটোল পাঠের আয়োজন এই বইটিতে। সুপ্রকাশ একটি অসামান্য বই প্রকাশ করেছেন।  এই যে প্রতিনিয়ত এত বই আমাদের হাতে উঠে আসছে, সেই বই যাঁরা তৈরি করছেন, তাদের জীবনের অনালোকিত এবং প্রায় অনালোচিত অধ্যায় এই বইয়ের বিষয়বস্তু। বইটির মূল বৈশিষ্ট্য হল বিষয়বস্তুর সাথে জীবনস্মৃতির উপাখ্যানের এক আশ্চর্য মেলবন্ধন। একজন কম্পোজিটরের জীবন, পরিবার, প্রেস…এই সমস্ত যাপনের সাথে অনায়াসে মিশে গেছে প্রেসের ইতিহাস, কম্পোজিটর জীবিকাটির ইতিহাস এবং তার জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ক্ষেত্র। বইটির লেখক প্রকৃত অর্থে ‘কাঙলীর নাতিপুতি’দের একজন। একটি একান্নবর্ত...

দেয়ালের লেখা : এক অন্তহীন প্রকীর্ণ শিল্পকথা ।। অনন্ত জানা ।। সুপ্রকাশ

Image
"১৯৮০-র দশকে পূর্ব আর পশ্চিম জার্মানির মধ্যে ভাগ হওয়া, বার্লিনকে দ্বিখণ্ডিত করা জার্মান প্রাচীর [(১৯৬১-১৯৮৯) জার্মান প্রাচীর নিজেই ছিল ইতিহাসের একটি পর্বের সাক্ষী। বস্তুত জার্মান বা বার্লিন প্রাচীর ছিল আদর্শগত বিভেদ, মতাদর্শগত অবস্থানের প্রভেদ এবং দ্বিতীয় মহাযুদ্ধ-পরবর্তী ঠাণ্ডা যুদ্ধের প্রতীক] গ্রাফিতির একটি বিস্তৃত আশ্রয় হয়ে ওঠে। প্রকাশ, বিদ্রোহ, সামাজিক বৈপরীত্য, পরম্পরাগত আবেগ প্রকাশের মাধ্যম হিসেবে জার্মান প্রাচীর গুরুত্ব পেয়েছিল। এই প্রাচীরের পূর্ব অংশটি ঈষৎ ধূসর ছিল আর পশ্চিম অংশটি গ্রাফিতির জন্য বেশি ব্যবহৃত, অনেকটা প্রাণবন্ত। প্রাচীরের গ্রাফিতিগুলিকে এলা গারলিন গভীর সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। ১৮৮০-র দশকে আমেরিকার অকালপ্রয়াত চিত্রশিল্পী ও নিও এক্সপ্রেশনিজম আন্দোলনের সহযোগী জিন মিশেল-বাসকিয়াত (১৯৬০-১৯৮৮) ঐতিহ্যবাহী শিল্প জগতে গ্রাফিতিকে গুরুত্বপূর্ণ মর্যাদায় অভিষিক্ত করেছিলেন। বাসকিয়াতের কাজ উল্লেখযোগ্য স্বীকৃতি অর্জন করেছিল। তাঁর রচনায় বর্ণবাদ এবং শ্রেণীবিভেদের বিরুদ্ধে অসন্তুষ্টিজনিত প্রতিবাদে গ্রাফিতি নির্মাণে বাসকিয়েত নিজের স্বল্প-পরিসর জীব...

পলাশবাড়ি।। শুভদীপ চক্রবর্ত্তী।। সুপ্রকাশ

Image
"দীপনদের পাড়াটাতেও বসবাস মূলত বাঙালি আর বিহারিদের। হিন্দু-মুসলিম দুই সম্প্রদায়ের মানুষই গা ঘেঁষাঘেঁষি করে টিকে আছে এখানে। টিকে আছে কথাটাই ঠিক, কারণ তাদের এই থাকাটা সঠিক অর্থে বেঁচে থাকা বলে দীপন মনে করে না। তার উপর দিন দিন যত ঘিঞ্জি হচ্ছে এলাকাটা, ততই ছোট আর নোংরা হয়ে যাচ্ছে মনে হয় এখানকার মানুষদের মনগুলো। সারাদিন ঝগড়া আর খিস্তি। মিউনিসিপ্যালিটির কলে জল নেওয়ার জন্য বালতি বসানো নিয়ে ঝামেলা সকালে-বিকালে। কে কাকে ধারের টাকা নিয়ে ফেরত দিচ্ছে না, সেই নিয়ে মুখ খারাপ করা লাগাতার। দিনে-দুপুরেই বাংলা মদ গিলে এসে কে যেন বউ পেটাচ্ছে ঘরে। পাশের খাল থেকে সারা গায়ে পাঁক মেখে উঠে এসে গোটা রাস্তায় সেই দুর্গন্ধ ছড়াতে ছড়াতে মাঠের দিকে নেমে যাচ্ছে একটা বুড়ো শুয়োর। কিছুটা এগোলেই একটা পুকুর। রোজকার ব্যবহারের যোগ্য আর নেই সেটা একদমই। কালো তেলচিটে সর পড়ে গেছে যেন পুকুরের জলের উপরটায়। আর কচুরিপানা ঢেকে ফেলেছে সেই পুকুরের অর্ধেকটারও বেশি। একটা ডাকপাখি সেই কচুরিপানার ফাঁক দিয়ে হেঁটে যাচ্ছে ল্যাগব্যাগে পায়ে পিছন দুলিয়ে দুলিয়ে। সবে বড়দিন কেটেছে। তাও এই পাড়াটায় ঢুকলেই আকাশের আলো যেন কমে আসে কেমন। কেমন যেন পিচ...

সকলই গরল ভেল।। গৌরব বিশ্বাস।। সুপ্রকাশ

Image
"শেষ জুলাইয়ের এক সন্ধ্যায় কর্মস্থল থেকে ফেরার পথে জনৈক ব্যানার্জিবাবুর কেমিস্ট অ্যান্ড ড্রাগিস্টের দোকান থেকে ৩০ গ্রেইন (প্রায় ১.৯৪ গ্রাম) অ্যাট্রোপিনের পাউডার কিনল ক্লার্ক। তবে, শুধু অ্যাট্রোপিনে খেলা জমবে না। এর সঙ্গে কয়েক চিমটে কোকেইন মেশালে তব আয়েগা মজা। সেই সন্ধ্যাতেই ক্লার্কের হাতে জন্ম নিল রহস্যময় 'হিটস্ট্রোক' মিক্সচার। একাধিক বিষের মিশ্রণে নতুন এক বিষাক্ত ককটেলের জন্ম, এ দুনিয়ায় এমন অবশ্য প্রথম নয়। ক্লার্ককে এ ব্যাপারে পথিকৃৎ বলা চলে না। তারও গুরুদেব আছে। ১৮৬৫ নাগাদ গ্লাসগোর ডাক্তার, এডওয়ার্ড প্রিটচার্ড তাঁর স্ত্রী ও শাশুড়িকে খুন করেছিল অ্যাকোনাইট-আফিম-অ্যান্টিমনির বিষাক্ত ককটেল দিয়ে। ক্লার্ক, ডাঃ প্রিটচার্ডের যোগ্য শিষ্য। ক্লার্ক তার অত্যাশ্চর্য সৃষ্টির দিকে বিস্ময়ের দৃষ্টিতে চেয়ে থাকে। সে 'বিষ-বৈদ্য', 'ইভিল-জিনিয়াস'।" . আসছে... . উপনিবেশিক ভারতচর্চা গ্রন্থমালা ১ . সকলই গরল ভেল গৌরব বিশ্বাস প্রচ্ছদ : সৌজন্য চক্রবর্তী মুদ্রিত মূল্য : ২৮০ টাকা সুপ্রকাশ        

পলাশবাড়ি।। শুভদীপ চক্রবর্ত্তী।। সুপ্রকাশ

Image
"পাহাড়ে একটা এনজিও চালাতো রুকুর মা। উত্তরবাংলার চা বাগানগুলো থেকে মেয়ে, বিশেষ করে শিশুকন্যা পাচার হয়ে যাওয়া দগদগে একটা ক্ষতের মতো জ্বলছে যখন, রুকুর মা, শ্রীমতি দয়াময়ী গোস্বামী ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন ঘেন্না করার মতো এই কাজটাকে আটকানোর চেষ্টায়। দয়াময়ীর স্বামী, অপ্রতীম, জালান জুটমিলের সর্বময় কর্তা তখন। চিফ ম্যানেজার। কিন্তু ব্যস্ত স্বামীর ছত্রছায়ায় ঢাকা পড়তে চাননি দয়াময়ী। ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন মেয়ে পাচার আটকানোর মতো পবিত্র, অথচ চূড়ান্ত বিপদমাখা একটা কাজে। অপ্রতীমও বাঁধা দেননি কখনও। বরং ছোট্ট রুকুকে দাদু-দিদার জিম্মায় রেখে নিজেও সামিল হয়ে যেতেন কখনও কখনও দয়াময়ীর সঙ্গে। সেরকমই একটা দিনে কার্শিয়াংয়ের একটা চা বাগানে যাওয়ার দরকার পড়ল খুবই। কিন্তু সেদিনই সকাল থেকে বৃষ্টি অবিরাম। ওখানকার বহুদিনের চেনা ড্রাইভার বিনোদজীর বারংবার বারণ শুনে শুরুতে অপ্রতীম একটু ইতস্তত করলেও, বেরিয়েই পড়েছিলেন শেষমেষ দয়াময়ীর সঙ্গে। সেই যে বেরোলেন, তারপর গাড়ি নিয়ে বৃষ্টির মধ্যেই যেতে যেতে আচমকাই রাস্তার পাশের উঠে যাওয়া পাহাড়টা থেকে একটা অতিকায় সরীসৃপ নেমে আসার মতো শব্দ হল, আর... আর তার সঙ্গেই তৈরি হয়েছিল যে বিশাল শূন্যতাটা, দ...

দেয়ালের লেখা : এক অন্তহীন প্রকীর্ণ শিল্পকথা ।। অনন্ত জানা ।। সুপ্রকাশ

Image
"প্রখ্যাত শিল্পীদের অনেকেই সিনেমা পোস্টার আঁকছেন দেখলে প্রাথমিকভাবে আশ্চর্য হতে হয়। যেমন মুর্তজা বশীর (১৯৩২-২০২০)। কিংবদন্তি ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহের পুত্র বশীর ছিলেন একাধারে দেশে ও বিদেশে প্রশিক্ষিত শিল্পী, কবি, ঔপন্যাসিক, ছোটোগল্পকার, চিত্রনাট্যকার, প্রবন্ধকার, সহকারী চিত্র পরিচালক, গবেষক, শিক্ষক, মুদ্রাসংগ্রাহক, মুদ্রণবিদ, কার্টুনিস্ট। আপাত-বিমূর্ত ও প্রমূর্ত (যাকে বলা হয়েছে 'বিমূর্ত বাস্তবতা') ধারায় মানুষের 'বিক্ষত-বেদনার প্রস্তরীভূত চেহারা' বাইরের মসৃণতার অন্তর্দেশে নিরন্তর বিস্ফোরণ ও ক্ষতের মুদ্রণ! দেয়ালের ভাঙনের মধ্যে প্রদাহকীর্ণ 'অস্তিত্ববাদী একাকীত্ব' নিয়ে চিত্রচর্চা করলেও বশীরকে জন-অনুপ্রেরিত প্রকাশ্য ময়দানের শিল্পী বলতে হয়। প্রথমে ভাষা আন্দোলনে যোগ দিয়ে বশীর পোস্টার, ফেস্টুন, কার্টুন এঁকেছেন (বক্ষ্যমাণ রচনায় প্রকাশিত দ্বিতীয় পোস্টারটি বশীরের 'একুশের আঁকা, একুশের লেখা' গ্রন্থের প্রচ্ছদরূপে ব্যবহৃত হয়েছে)— তারপরেও পোস্টারে, ব্যানারে, ফেস্টুনে, উডকাটে, লিনোকাটে, এচিংয়ে, দেয়াললিখনে বশীর জাগ্রত থেকেছেন। বাংলাদেশের রাজনীতিতে বশীর ছাপচিত্র ব্য...

দেয়ালের লেখা : এক অন্তহীন প্রকীর্ণ শিল্পকথা ।। অনন্ত জানা ।। সুপ্রকাশ

Image
"বাংলা পোস্টারের আরেকটি বড়ো ভাণ্ডার অবশ্যই প্রার্থীর নাম ও প্রতীক চিহ্ন দিয়ে হাজারে হাজারে ছাপানো বিভিন্ন স্তরের ভোটের পোস্টার। এই সূত্রেই এসে পড়ে বাংলার রাজনৈতিক পোস্টারের কথা। রাজনৈতিক কর্মীরা তাঁদের দৈনন্দিন দাবিসম্বলিত বা কর্মসূচি ঘোষণার পোস্টার সাধারণভাবে কাগজের ওপর হাতে লিখে তৈরি করতেন। বামপন্থীদের সংগ্রহে অমন পোস্টার লিখিয়ে, রাস্তার শিল্পী শিবেশ-যতীশ বা আলংকারিক ক্ষেত্রে সুমনরা সর্বত্রই ছিলেন। পোস্টার লেখায় বাজেট ছিল কম, উদ্ভাবনী প্রচেষ্টা ছিল বেশি। উপকরণের বাহুল্যে উদ্যোগে তখনও আলস্য-বিষ প্রবেশ করেনি। পোস্টার লিখিয়ে কর্মীদের হাতেখড়ি হতো পুরোনো খবরের কাগজের ওপর লিখে। সাধারণভাবে রবিন ব্লু, কালো আর লাল রঙ এসব পোস্টারে ব্যবহার করা হতো, কিন্তু রঙের অভাবে একরঙে, তেমন তেমন পরিস্থিতিতে তাড়াহুড়ো করে রাতারাতি পোস্টার লিখে ফেলতে হতো। তাতে নিশ্চতভাবেই পারিপাট্যের বিলক্ষণ অভাব ঘটতো, কিন্তু বোঝাপড়াটা এই ছিল যে, যত তাড়াতাড়ি সম্ভব মোটামুটি পাঠ করা যায় এমন পোস্টার লিখে দেয়ালস্থ করতে পারলেই হলো অর্থাৎ এসব ক্ষেত্রে, শিল্প নয়, উপযোগিতা দিকটিই ছিল একমাত্র বিবেচ্য। যদি সঠিকভাবে বিবেচনা করা যায় ...

দেয়ালের লেখা : এক অন্তহীন প্রকীর্ণ শিল্পকথা ।। অনন্ত জানা ।। সুপ্রকাশ

Image
"ইউরোপীয় পোস্টার রচনার ক্ষেত্রে কত শিল্পী ও কর্মীর কত অবদান সে তো একটি বৃহত্তর ইতিহাসের অঙ্গ হিসেবে স্বতন্ত্র গ্রন্থের বিষয়। যেমন: চেক বংশোদ্ভূত আলফোনেস মারিয়া মুচা (১৮৬০-১৩৩৯)। শিল্পশিক্ষার উদ্দেশ্যে মুচা ১৮৮৮ সাল নাগাদ ফ্রান্সের প্যারিসে আসেন। প্যারিসে শিল্পশিক্ষার্থী হয়েও তিনি সাপ্তাহিক পত্রিকায় উপন্যাসের ইলাস্ট্রেশন করার কাজ পান। এই শহর তাঁকে স্বীকৃতি দিয়েছিল, দিয়েছিল নিয়মিত অর্থোপার্জনের সুযোগ। অবিলম্বে প্রচ্ছদ অঙ্কনের কাজও পান মুচা। ১৮৯৪ সালে তাঁর শিল্পী ও পেশাদার জীবনে এক বড়ো পরিবর্তন আসে। এই সময়েই তিনি সেকালের বিখ্যাত মঞ্চাভিনেত্রী সারা বার্নহার্ড (? বার্নার্ড/? বার্নহার্ট)-এর হয়ে কাজ করতে শুরু করেন। বার্নহার্ড অভিনীত নাটকের পোস্টার যে প্রকাশন সংস্থা ছাপতেন তাঁদের আগ্রহে থিয়েটার ডি লা রেনেসাঁসে মঞ্চস্থ 'গিসমোন্ডা' নাটকের নতুন পোস্টার তৈরির ডাক পান। গ্রিক কাহিনী থেকে গৃহীত মঞ্চসফল মেলোড্রামাটি আগেই জনপ্রিয় হয়েছিল, ফলে নাটকটি ক্রিসমাসের বিরতির পরেও চলবে— এই মর্মে একটি পোস্টার তৈরির প্রয়োজন ছিল। এই আহ্বান পাওয়ার আগেই মুচা লে কস্টিউম আউ থিয়েটারে ক্লিয়োপেট্রায় সারা বার্...

দেয়ালের লেখা : এক অন্তহীন প্রকীর্ণ শিল্পকথা ।। অনন্ত জানা ।। সুপ্রকাশ

Image
লোত্রেকের বিখ্যাত পোস্টারগুলির একটা গণনীয় অংশ মৌলিন রুজের সঙ্গে কোনো-না কোনোভাবে সম্পর্কিত ছিল। ১৮৮৯ সালে বুলেভার্ড ডি ক্লিচিতে মমার্তের কাছে মৌলিন রুজ জার্ডিন ডি প্যারিসের দ্বারোদ্ঘাটন হয়। জোসেফ ওলা এবং ম্যানেজার চার্লস জ়িডলারের উদ্যোগে বহিরাঙ্গন ক্যাফে কনসার্ট হিসেবে পরিকল্পিত এই বিনোদনক্ষেত্রটি বিস্তৃত পরিসরে এমন একটি পরিবেশ তৈরি করেছিল যেখানে শ্রমিক, স্থানীয় বাসিন্দা ও নাগরিক, মধ্যবিত্ত মানুষ, শিল্পী, ব্যবসায়ী, ফ্যাশনেবল মহিলা এবং প্যারিসে যাতায়াতকারী পরিযায়ী পর্যটকেরা মিলিত হতে পারেন এবং নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ রাখতে পারেন। ওলা ও জ়িডলার অসামান্য ব্যবসায়ী ছিলেন এবং জনসাধারণের রুচিগত চাহিদার হদিশ জানতেন। এর ফলে অচিরেই 'দি ফার্স্ট প্যালেস অব উইমেন' বলে চিহ্নিত এই ক্যাফে কনসার্টটি ক্যাবারে হিসেবে বিশ্বখ্যাতি লাভ করে।  মৌলিন রুজ ক্যানক্যান নৃত্য [সাধারণভাবে চারজন নারীর দ্বারা প্রদর্শিত এই নৃত্যশৈলী খুবই পরিশ্রমসাধ্য, প্রাণবন্ত, চঞ্চল, দ্রুতিপ্রবণ, শরীরী উচ্ছ্বাসপূর্ণ, প্রকাশভঙ্গির দিক দিয়ে প্রলোভনসঙ্কুল, এবং বহুলাংশে প্ররোচক বলে মনে হতে পারে। অনেক সময় এই নৃত্য শ্লীলতার সীমা অতি...

দেয়ালের লেখা : এক অন্তহীন প্রকীর্ণ শিল্পকথা।। অনন্ত জানা ।। সুপ্রকাশ

Image
কিন্তু এই গঞ্জে বহু-সংখ্যক পোস্টার বলতে সিনেমার পোস্টারকেই বোঝায়। এখানে একটিই মাত্র সিনেমা হল। হল ঠিক নয়, আগে ছিল আলুর গুদাম। সদরের আলু-কিং কমল গুছাইত সদর আর মহকুমার মাঝামাঝি এই গঞ্জের গুদামে বর্ধমান আর হুগলি থেকে আনা আলু মজুত করে দশটা হাটে, সাবেক বিহার বা এখনকার ঝাড়খণ্ডে সাপ্লাই করতেন। এখন এই রাঢ়ীয় অঞ্চল এবং সংলগ্ন মল্লভূমে প্রচুর আলু উৎপাদিত হওয়ায় মাঝারি ব্যাপারিরাও স্থানীয় আলু ছোটাহাতি বা ম্যাটাডোরে করে দিনের-দিন নিয়ে এসে খুচরা কারবারিদের দিয়ে দেয়। কমল গুছাইত পয়সাওয়ালা উদ্যোগী মানুষ। বিপাক বুঝে গুদামটাকে ঝেড়ে-ঝুরে তিনি সিনেমা হলে পরিণত করেছেন। হাটের দিনে ম্যাটিনি, পুজোপার্বণের দিনে ইভনিং, আর প্রতিদিনই নেশাড়ুদের নিয়ে নাইট শো-এর 'শীলা কী জওয়ানি'-মার্কা ছবি মোটামুটি ভালোই চলতো। মাঝে বাজারের পাশে ঝাঁপের ঘরে একটা ভিডিও হল গজিয়েছিল— তখনই সেটা গেছে। ঘরে ঘরে টিভির প্রাদুর্ভাব সত্ত্বেও তখনও গুছাইতবাবুর সিনেমা হল (হাটুরেদের ভাষায় 'সিনেমিনা') চলেছে, এখনও চলছে। পুরোনো প্রজেক্টারটা আছে কীনা কে জানে! এখনও ভ্যানে মাইক লাগিয়ে গঞ্জের একমাত্র মাইকের দোকান ছড়িদার সাউন্ডস্-এর মালিক কাম...

দেয়ালের লেখা : এক অন্তহীন প্রকীর্ণ শিল্পকথা | অনন্ত জানা | সুপ্রকাশ |

Image
"বস্তুত শুধু সপ্তদশ-অষ্টাদশ শতকের ইংলন্ড, ফ্রান্স বা ইউরোপ নয়, কলোনী ভারতেও বাজারের বিস্তারের সঙ্গে সঙ্গে জ্ঞাপনীর বাড়াবাড়ি রকমের ব্যবহার হতে থাকে। সাইনবোর্ডের ঘনঘটার ক্ষেত্রে অষ্টাদশ শতকের লন্ডন অথবা ব্রিটিশ ভারতের নগরকেন্দ্রগুলির বা বিশ শতকের প্রথমার্ধের রাজপথগুলির বিশেষ কোনো ফারাক খুঁজে পাওয়া মুশকিল।  আমরা আগেই দেখেছি যে, শুধু ভারতে নয়, সমগ্র প্রাচ্যেই সাধারণভাবে ব্যবসাকেন্দ্রগুলিতে বিপণি পরিচয়ের তেমন প্রয়োজন হতো না, কেননা জনভুক্ত ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়েই অক্ষর পরিচয়ের বিশেষ ধার ধারত না। তারও ওপর পণ্য-অনুযায়ী বিক্রয়-এলাকা এবং ক্রেতা-বিক্রেতাদের পছন্দ এতই সুনির্দিষ্ট এবং তাদের পারস্পরিক সম্বন্ধ এতই অব্যবহিত ছিল যে সাইনবোর্ড বা সাইনেজ-ব্যবহার করার প্রশ্নই ছিল না। অষ্টাদশ-ঊনবিংশ শতাব্দীর মধ্যভাগের এবং তার পরেরও কলকাতার ছবি ও স্কেচগুলিতে ক্রেতা-বিক্রেতায় ভিড়াক্রান্ত বাজারে বিপণির সংখ্যা অগণন হলেও সেখানে বিপণির স্থায়ী কাঠামোর সংখ্যা কম এবং তা জ্ঞাপনীবিরল। সেকালের বিকিকিনির পদ্ধতির ধরনটি বোঝা যায় সেকালের গ্রন্থে। হুতোম তাঁর নকশায় লেখেন: 'যে সকল মহাত্মারা ছেলে-বেলা কলকেতার চীনে বাজার...

অক্সিজেন।। সর্বাণী বন্দ্যোপাধ্যায়।। সুপ্রকাশ।।

Image
শহরতলির একটি অতি সাধারণ মেয়ে কুহু। ক্লাস ফাইভের বাংলা বইয়ে তেনজিং নোরগে আর এডমন্ড হিলারির এভারেস্ট অভিযানের কাহিনি পড়ে ছোট্ট সেই মেয়েটার মনে পাহাড়জয়ের স্বপ্নের বীজ সেই দিনই পোঁতা হয়ে যায়। ধীরে ধীরে সেই বীজ অঙ্কুরিত হয়। ডালপালা মেলে। পাহাড়ের হাতছানিতে এক পা দু'পা করে কুহুর স্বপ্ন-ছোঁয়ার আখ্যান এই উপন্যাস। . আসছে... . অক্সিজেন সর্বাণী বন্দ্যোপাধ্যায় প্রচ্ছদ : সৌজন্য চক্রবর্তী মুদ্রিত মূল্য : ২৮০ টাকা  সুপ্রকাশ প্রকাশিতব্য . কলকাতা বইমেলায় স্টল ৫০৩ | গেট নম্বর ৯ |

সকলই গরল ভেল।। গৌরব বিশ্বাস।। সুপ্রকাশ।।

Image
ঔপনিবেশিক ভারত। এক নারীর অপূর্ণ দাম্পত্য, এক বিপজ্জনক পুরুষের মোহ, আর সেই মোহ থেকে জন্ম নেওয়া এমন এক সম্পর্ক, যার শেষ পরিণতি খু .ন। অগাস্টা ফুল্যাম ভালোবাসা চেয়েছিল—কিন্তু পেয়েছিল সন্দেহ, অপরা.ধ আর আত্মগ্লানি। হেনরি লভেল ক্লার্ক চেয়েছিল মুক্তি— আর তার পথ হয়ে উঠেছিল বিষ। সে ধীরে ধীরে তৈরি হয়— চিঠিতে, নীরব দুপুরে, বিশ্বাসভঙ্গের ছোটো ছোটো মুহূর্তে। চিকিৎসার ছদ্মবেশে ঢুকে পড়ে আর্সেনিক, আর প্রেমের নামে রচিত হয় নিখুঁত অপরা.ধ। . আসছে... . উপনিবেশিক ভারতচর্চা গ্রন্থমালা ১ . সকলই গরল ভেল গৌরব বিশ্বাস প্রচ্ছদ : সৌজন্য চক্রবর্তী মুদ্রিত মূল্য : ২৮০ টাকা সুপ্রকাশ

পলাশবাড়ি।। শুভদীপ চক্রবর্ত্তী।। সুপ্রকাশ।।

Image
বড় শহর থেকে ঘণ্টা খানেকের দূরত্বে জেগে থাকে যে আপাত আলোড়নহীন মফস্বল টাউনগুলো, তাদের মতোই একটা টাউন শহর দরদী। কিন্তু এই বাংলার বুকে বদলাতে থাকা রাজনীতির ছায়া পড়ে দ্রুত যেন বদলাতে থাকে সেই মফস্বলের পরিচিত চেহারা। লোভ, হিংস্রতা, আর কালো পিচের রাস্তায় ছিটকে পড়া র .ক্ত— এইসবের মধ্যে ধিকিধিকি জ্বলতে থাকে কোথাও একপশলা প্রেমও। আর এই জ্বলতে থাকার কথা উঠলেই যেন জ্যোৎস্না নিভে যায় ঝুপ করে কোথাও। নিভে যাওয়া জ্যোৎস্নার আলো মেখেও, সেখানে অপেক্ষায় থাকে কেউ একটা পলাশ গাছে ফুল ভরে আসার। . আসছে... . পলাশবাড়ি শুভদীপ চক্রবর্ত্তী প্রচ্ছদ : সৌজন্য চক্রবর্ত্তী  অলংকরণ :  অদ্বয় দত্ত মুদ্রিত মূল্য : ২৫০ টাকা সুপ্রকাশ প্রকাশিতব্য

পলাশবাড়ি।। শুভদীপ চক্রবর্ত্তী।। সুপ্রকাশ।।

Image
বড় শহর থেকে ঘণ্টা খানেকের দূরত্বে জেগে থাকে যে আপাত আলোড়নহীন মফস্বল টাউনগুলো, তাদের মতোই একটা টাউন শহর দরদী। কিন্তু এই বাংলার বুকে বদলাতে থাকা রাজনীতির ছায়া পড়ে দ্রুত যেন বদলাতে থাকে সেই মফস্বলের পরিচিত চেহারা। লোভ, হিংস্রতা, আর কালো পিচের রাস্তায় ছিটকে পড়া র .ক্ত— এইসবের মধ্যে ধিকিধিকি জ্বলতে থাকে কোথাও একপশলা প্রেমও। আর এই জ্বলতে থাকার কথা উঠলেই যেন জ্যোৎস্না নিভে যায় ঝুপ করে কোথাও। নিভে যাওয়া জ্যোৎস্নার আলো মেখেও, সেখানে অপেক্ষায় থাকে কেউ একটা পলাশ গাছে ফুল ভরে আসার। . আসছে... . পলাশবাড়ি শুভদীপ চক্রবর্ত্তী প্রচ্ছদ : সৌজন্য চক্রবর্ত্তী  অলংকরণ :  অদ্বয় দত্ত মুদ্রিত মূল্য : ২৫০ টাকা সুপ্রকাশ প্রকাশিতব্য

নিমন্ত্রণ।। মানস শেঠ।। সুপ্রকাশ।।

Image
অতিথিপরায়ণ বাঙালির 'নিমন্ত্রণ'-এর অন্দরে থাকা সামাজিক ইতিহাস, লোকাচার ও মানবিক সম্পর্কের ভাষ্য নির্মাণের প্রচেষ্টা এই বই। . আসছে... . সুপ্রকাশ যাপন গ্রন্থমালা ৩ . নিমন্ত্রণ মানস শেঠ প্রচ্ছদ : ভুবন বসু মুদ্রিত মূল্য : ২৫০ টাকা সুপ্রকাশ প্রকাশিতব্য  . কলকাতা বইমেলায় স্টল ৫০৩ | গেট নম্বর ৯ |

রান্নাঘরের গল্প।। মহুয়া বৈদ্য।। সুপ্রকাশ।।

Image
"দু-কাঠা জায়গা, সেখানে বাড়ি হবে। আমাদের চাই বিশাল একটা লিভিং-রুম, যেখানে চাইলে ছেলেরা ক্রিকেট খেলবে আর মাঝেসাঝে আমাদের ঘরে গান-কবিতার আসর বসবে। আমার চাই বড়ো একটা রান্নাঘর আর আমার প্রাক্তনের দাবি ছিল, যা-ই হয়ে যাক, গ্যারেজ রাখতে হবেই, তিনি গাড়ি কিনবেন। এইটুকু জায়গা আর এত বড়ো স্বপ্ন! 'গোরুটা একপোয়া দুধ দিয়েছে, উপেন খাবে বিপিন খাবে তাকে একটু দিতে হবে/ নন্দলাল কোলের ছেলে তাকে একটু দিতে হবে/ আমার আবার পোড়া মুখে দই না হলে রোচে না তাকে একটু দিতে হবে...!' সব্বাইকে দিতে হবে। আমাদের প্ল্যান নিয়ে যে প্ল্যানারের কাছে যাই, তাঁরাই হাল ছেড়ে দেন বা যাহোক একটা প্ল্যান গছিয়ে দ্যান, যাতে এইটুকু রান্নাঘর, একটা সোফা রাখার মতো লিভিং-রুম—  খালি তাঁরা কায়দা করে একটা বড়ো গ্যারেজ বিভিন্ন দিকে বার করে প্ল্যান দেখাতে লাগলেন। তখন আর কী করা, নিজেকেই মাঠে নামতে হলো। 'হোমস অ্যান্ড গার্ডেন' বা 'হাউস অ্যান্ড গার্ডেন' এমনি কোনো নামে একটি পত্রিকায় তখন বিশাল-বিশাল বড়োলোক মানুষদের বাড়ির প্ল্যান ছাপা হতো। কলেজ স্ট্রিটের পুরোনো দোকান থেকে কিনে আনা সেই সব পত্রিকায় আমার বইয়ের তাক ভরে উঠল। কিছুতেই আ...

রান্নাঘরের গল্প।। মহুয়া বৈদ্য।। সুপ্রকাশ।।

Image
"মেজোনানার ছয় ছেলের সঙ্গে এক মেয়েও ছিল। তার ডাকনাম ছিল বাম্পো। এই বাম্পোপিসির সঙ্গে আমার মায়ের খুব গলায়-গলায় ভাব ছিল। বাপের বাড়ি এলেই, সে 'ও আরতিদি' বলে মায়ের সঙ্গে এক ঝুড়ি গল্প নিয়ে বসে যেত। এই বাম্পোপিসির ছেলে দীপু ছিল আমার বয়সি। তার মুসলমানি মেজোনানার বাড়িতেই হলো। ঘরোয়া অনুষ্ঠান। কিন্তু কাজিসাহেবদের বাড়িতে চার ভাইয়ের পরিবার মিলে প্রায় আশি-নব্বইজনের রান্না। সেদিন দেখলাম, কাজিসাহেবদের পারিবারিক বাসন রাখার ঘর থেকে বেরোল এই অ্যাতো বড়ো-বড়ো পিতলের নকশাকাটা হাঁড়ি, তিন-চারটে। এই অ্যাত্তো বড়ো কড়াই, গামলা, খুন্তি, ঝাঁঝরি— সব পিতলের। আমার মনে হলো যেন আলিবাবার রান্নাঘর থেকে জিনিসপত্র কী করে এখানে চলে এসেছে। অমন সুন্দর নকশাদার হাঁড়িকুড়ি আমি আর কোথাও দেখিনি। উঠোনের মাঝখানে একটা বিশাল শামিয়ানা টাঙিয়ে রাঁধাবাড়ার জোগাড় চলতে লাগল। এই প্রথম আমি বিরিয়ানি নামক খাবারের নাম শুনলাম। অবাক হয়ে আরও দেখলাম, আজ সদ্য তৈরি উনুনে কড়াই বসিয়ে তাতে খুন্তি নাড়ছেন স্বয়ং মেজোনানা। সেদিন হেঁশেল থেকে তিনি মেয়েদের ছুটি দিয়ে দিলেন। ছয় ছেলেকে নিয়ে কী তরিবত করেই না তিনি রেঁধে ফেললেন অসামান্য বিরিয়ানি, স্বাদে-গন্ধ...

রান্নাঘরের গল্প।। মহুয়া বৈদ্য।। সুপ্রকাশ।।

Image
"সময়ের সঙ্গে-সঙ্গে যখন এই যৌথ রান্নাঘরের হাঁড়ি আলাদা হলো, তখনো নববর্ষ-রান্নাপুজো-বিজয়া এমন সব পর্বদিনে সবাই একসঙ্গে খাওয়াদাওয়া করেছি। ছোটোমামা অবশ্য এই সময়ে অন্যত্র বাড়ি করে চলে যান। ফুলমামা তো বরাবর বাইরে থাকতেন। তবু বচ্ছরকার দিনে, বিশেষত পয়লা বৈশাখ, আমরা সবাই একসঙ্গে হয়েছি। খুব মনে পড়ে, নববর্ষের দিন ভোরবেলা পুকুরে জাল পড়ত। এত-এত মাছ উঠত। মামিরা সবাই মিলে একসঙ্গে হইহই করে সেই মাছ কুটতে বসে যেতেন। মামারা সব দিলখোলা হয়ে বাজার করছেন সেদিন। কেউ আনলেন খাসি তো কেউ চিংড়ি। কেউ মনে করে কুমড়ো ফুল কিনলেন ছোটোবোনের জন্য তো কেউ আবার বাগান ঘুরে খুঁজে-খুঁজে কেটে আনলেন পুরুষ্টু এঁচোড়— মেজোবোনটা যে এঁচোড়-চিংড়ি খেতে বড়ো ভালোবাসে! বাড়ির একটু বড়ো দাদারা নিমগাছ থেকে আঁকশি দিয়ে নিমপাতা পেড়ে ফেলছে। রান্নাঘরের পাশের জমিতে লংকা গাছের পাশে কয়েকটি হলুদ গাছ টেনে তুলল টুসি। নিমপাতা আর হলুদ পুকুরজলে কষকষে করে ধুয়ে ঝুড়িতে তুলে রাখলেন সেজোমামি। ওগুলি বেটে সরষের তেল-সহ গায়ে মাখতে হবে আজ। আমি ঝুনুদিদির সঙ্গে ঘুরে ঘুরে টুকটুক করে সংগ্রহ করলাম পাঁচ রকমের ফোটা ফুল আর পাঁচটি গাছের পাতা। এর সঙ্গে সোনা-রুপো মিলিয়ে শাঁখ...

রান্নাঘরের গল্প।। মহুয়া বৈদ্য।। সুপ্রকাশ।।

Image
"জ্ঞান হওয়া ইস্তক মায়ের যে রান্নাঘর দেখেছি, সেটি এখনকার যে রান্নাঘরের ধারণা, তার সঙ্গে একেবারেই যায় না। বাসাবাড়িতে আমাদের শোবার ঘরে ছিল একটা তক্তপোশ, সেটা ইট দিয়ে অ্যাত্তোখানি উঁচু করা। তার নীচে গোটা-চারেক ট্রাঙ্ক, তাতে জামাকাপড়, বইপত্তর। আর শোবার ঘরের সামনে একটা খোলার টালি দেওয়া বড়ো জায়গা, যার আদ্দেকটায় সিমেন্টের মেঝে, আদ্দেকটা মাটি। সেখানে জানালা ছিল দুটো- কাঠের ফ্রেম, কাঠের দাঁড়া (এবং কপাট), যা আজকাল প্রায় দেখাই যায় না। সস্তার জানালা, রাসের মেলা থেকে কেনা, ঘুণ ধরা থেকে বাঁচাতে তাতে দেওয়া ছিল কালো আলকাতরার পোঁচ। এইখানেই আমার মায়ের রান্নাঘর, এইখানেই আমাদের আসন পেতে খাওয়া- আজকের ভাষায় যারে বলে 'কিচেন-কাম-ডাইনিং'। এই রান্নাঘরের প্রাণ ছিল একটা এই অ্যাত্তো বড়ো কাঠের লম্বা আলমারি, যার পিছনটা কাচ দেওয়া। আজকাল মিষ্টির দোকানে যেমন শোকেস থাকে, জিনিসটা অনেকটা সেই রকম ছিল। মানে কাচের দিকটাই সামনে থাকার কথা, মা সেটাকে নিজের প্রয়োজনমতো ব্যবহার করছিলেন। মায়ের কাছে শুনেছিলাম, বিয়ের পর আমাদের দেশের বাড়িতে বেড়াতে গিয়ে বারান্দার এক কোণে অতি অবহেলায় মা এটাকে পড়ে থাকতে দেখেছিলেন। দিদিশাশুড়িক...