Posts

উত্তরেই যায় চিঠি।। কৌশিক ঘোষ।। সুপ্রকাশ।।

Image
আশির দশকের এক ছোট শহর। রেডিওতে ভেসে আসে তালাত মাহমুদ, হেমন্ত, আকাশবাণীর খবর। পাড়ায় পাড়ায় রাজনীতি, মিছিল, পার্টি অফিসের ব্যস্ততা। সেই সময়েই বড় হয়ে উঠছে নবা। তার জীবনে এসে পড়ে প্রথম প্রেম, বন্ধুত্ব, ক্রিকেট, বই, গান আর চারপাশের মানুষজন। পাপিয়াকে খুঁজতে খুঁজতে নবা যেন চিনে নিতে থাকে তার সময়কে। তার পরিবার, পাড়া, রাজনীতি, ভালোবাসা আর ভাঙাগড়ার সেই দিনগুলো ধীরে ধীরে জুড়ে যায় তার বড় হয়ে ওঠার গল্পে। উত্তরেই যায় চিঠি কৌশিক ঘোষ প্রচ্ছদ : সৌজন্য চক্রবর্তী  অলংকরণ : অদ্বয় দত্ত মুদ্রিত মূল্য : ২৫০ টাকা সুপ্রকাশ প্রকাশিতব্য 

কোলস্ওয়ার্দি গ্রান্টের 'রুরাল লাইফ ইন বেঙ্গল'।। অনুবাদ ও টীকা : অর্ণব রায়।। সুপ্রকাশ।।

Image
একটি বই, যা একই সঙ্গে ইতিহাস, ভ্রমণকাহিনি এবং এক ঔপনিবেশিক চোখে দেখা চিরস্থায়ী বন্দবস্তোত্তর বাংলার দলিল। উনিশ শতকের বাংলার গ্রামজীবন কেমন ছিল? নীলকুঠির ভেতরের জীবন, নদীপথের যাত্রা, গ্রামবাংলার মানুষ, তাদের জীবনযাত্রা-বিশ্বাস-উৎসব— এসবের এমন প্রত্যক্ষ বিবরণ বাংলা ভাষায় খুব বেশি নেই। কোলস্ওয়ার্দি গ্রান্ট সেই বাংলাকে দেখেছিলেন একজন ইংরেজ শিল্পী ও পর্যটকের চোখে। তিনি যা দেখেছেন, তা লিখেছেন; যা তাঁকে আকৃষ্ট করেছে, তা এঁকেছেন।  এই বই একদিকে যেমন উনিশ শতকের বাংলার মূল্যবান তথ্যভাণ্ডার, তেমনই ঔপনিবেশিক মানসিকতারও একটি গুরুত্বপূর্ণ দলিল। বিস্তৃত টীকাসহ অর্ণব রায়ের সযত্ন অনুবাদ এই বিরল গ্রন্থকে সমকালীন বাংলা পাঠকের কাছে নতুনভাবে উন্মোচন করল। কোলস্ওয়ার্দি গ্রান্টের 'রুরাল লাইফ ইন বেঙ্গল' ...................................................... অনুবাদ ও টীকা : অর্ণব রায় প্রচ্ছদ : অজন্তা হাজরা মুদ্রিত মূল্য : ৫৫০ টাকা সুপ্রকাশ প্রকাশিতব্য

বৃক্ষমানুষের ছায়া।। দুর্লভ সূত্রধর।। সুপ্রকাশ।। পাঠপ্রতিক্রিয়া।।

Image
সুপ্রকাশ প্রকাশিত দুর্লভ সূত্রধরের উপন্যাস 'বৃক্ষমানুষের ছায়া' পড়ে মতামত জানিয়েছেন ফারজানা রহমান। আমরা তাঁর অনুমতি নিয়ে নিজেদের টাইমলাইন থেকে শেয়ার করছি। .............................................................. বই : বৃক্ষমানুষের ছায়া লেখক : দুর্লভ সূত্রধর  প্রকাশনী : সুপ্রকাশ মুদ্রিত মূল্য : ৩৬০ টাকা শুশ্রূষার সকাল আর আরোগ্যের বিকেলগুলো ঠিকই থাকে। বদলায় না। বদলে যায় মানুষ। ভেতরে ভেতরে ভেঙে যাওয়া মানুষ। তাদের চোখে তাই সেই সকাল এবং বিকেলগুলো হয়ে ওঠে জীবনে যে উদ্দেশ্যর বৃত্ত তার বহু বাইরের কিছু।  স্যানাটোরিয়াম থেকে যায় তখন রূপকথার রাজ্যে। ঠিক এই চাওয়া আর পাওয়ার মাঝে  দুর্লভ সূত্রধরের উপন্যাস 'বৃক্ষমানুষের ছায়া' যেমন একদিকে হয়ে ওঠে বৃক্ষের ছায়া, অথবা স্বপ্নের কোমল টোনের একটা রাস্তা, তেমনি সামাজিক অবক্ষয়েরর রুক্ষ্ণ টোনটুকুও সেই স্বপ্নের রাস্তাটুকু পিচ্ছিল করে তোলে। বৃক্ষপ্রতিম চরিত্রগুলোর পাশাপাশি আগাছাসদৃশ্য কিছু চরিত্রগুলোর ডুয়ালিজম যোগ করে সংঘাতগুলো জোরালে হয়ে ওঠে। বিভাজনগুলিকে আরও স্পষ্ট করে তোলে।  তখন উপন্যাসের কোন এক জায়গায় হয়তো হুমায়ূন আজাদও হয়ে ওঠেন প...

হামারটিয়া।। শাক্যজিৎ ভট্টাচার্য।। সুপ্রকাশ।।

Image
'২০২৪ সালের জানুয়ারি মাসে ডিডি হোমিসাইডের অবসরপ্রাপ্ত ইনস্পেকটর জাভেদ আহমেদের ঠিকানায় একটা হাতে-লেখা চিঠি পৌঁছোলে জাভেদ অবাক হলেন, কারণ ডিজিটাল যুগে এরকম চিঠি আসা প্রায় লুপ্ত হয়ে গেছে। তারপর প্রেরকের নাম দেখে তাঁর মনে হল আগে কোথায় যেন শুনেছেন। অবশেষে খাম খুলে চিঠিটা পড়তে গিয়ে নিশ্চিতভাবে মনে পড়ল তাঁর। হাতে চিঠি ধরে চোখ বুজে বসে থাকলেন প্রায় পনেরো মিনিট। তারপর বার বার ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে পড়লেন। হঠাৎ আপনমনে চেঁচিয়ে উঠলেন, 'বাস্টার্ড!' তাঁর স্ত্রী অবাক চোখে তাকালে বিরক্ত ভঙ্গিতে মাথা ঝাঁকালেন জাভেদ। কয়েক দিন আগেকার সংবাদপত্র ঘাঁটাঘাঁটি করলেন। আলমারি থেকে পুরোনো ফাইল খুলে দুপুর বেলা বসে থাকলেন ঝুম হয়ে। সেদিন জাভেদ সান্ধ্যভ্রমণে বেরোলেন না। সল্টলেকে নিজের বাড়ির ব্যালকনিতে চিঠি হাতে পায়চারি করলেন অস্থিরভাবে। একসময়ে সিদ্ধান্ত নিলেন চিঠির কথা তিনি ভুলে যাবেন। কিন্তু, পরদিন সকালে স্টাডিতে গিয়ে আবার তাঁর চোখে পড়ল। চিঠিটা সামনে খুলে বসে থাকলেন টানা একঘণ্টা। অবশেষে চোখ বুজে মাথা নাড়লেন নিজের মনে— এ বিষয়ে একটা স্টেপ তাঁকে নিতে হবে। এগোবার আগে কয়েক দিন সময় চাইছিলেন নিজেকে গুছিয়ে নেবার জন্য। কি...

বৃক্ষমানুষের ছায়া।। দুর্লভ সূত্রধর।। সুপ্রকাশ।। পাঠপ্রতিক্রিয়া।।

Image
সুপ্রকাশ প্রকাশিত দুর্লভ সূত্রধরের উপন্যাস 'বৃক্ষমানুষের ছায়া' পড়ে গুডরিডসে লিখেছেন অমিয়রঞ্জন সেন। আমরা নিজেদের টাইমলাইন থেকে শেয়ার করছি। ...................................................................... কোনও কোনও উপন্যাস পড়া শেষ হলে মনে হয়, একটি গল্প শেষ হলো। আবার কিছু উপন্যাস শেষ হয় না; বরং পাঠকের ভিতরে গিয়ে শুরু হয়। বৃক্ষমানুষের ছায়া আমার কাছে দ্বিতীয় ধরনের উপন্যাস। বইটি শেষ করার পরে বারবার মনে হয়েছে, এর কেন্দ্রে আসলে কোনও একক চরিত্র নেই। গৌর, সুনন্দ, বিষাণ, হকিম আলি ফকির, টুনা, সুজি-- এরা প্রত্যেকেই যেন একটি বৃহত্তর প্রশ্নের অংশ। সেই প্রশ্নটি হলো-- একটি সমাজ ভেঙে গেলে তাকে কি আবার জোড়া লাগানো যায়? উপন্যাসের শুরুতে গৌর ও সুনন্দ অবসরপ্রাপ্ত দুই মানুষ। তাঁদের জীবনে অভাব নেই, কিন্তু উদ্দেশ্য নেই। অন্যদিকে বিষাণের জীবনে উদ্দেশ্যও আছে, যন্ত্রণাও আছে; কিন্তু সমাজ তাকে একঘরে করেছে। এই দুই ভিন্ন জগতের সংযোগ ঘটায় হকিম আলি ফকির। আশ্চর্যের বিষয়, তিনি কোনও গুরু নন, কোনও ধর্মপ্রচারক নন, কোনও বিপ্লবী নেতাও নন। তিনি মানুষকে কোনও মতবাদ শেখান না; বরং তাদের একসঙ্গে বসতে শেখা...

হাফ প্যাডেলের কাল।। অর্দ্ধেন্দুশেখর গোস্বামী।। সুপ্রকাশ।। পাঠপ্রতিক্রিয়া।।

Image
সুপ্রকাশ প্রকাশিত অর্দ্ধেন্দুশেখর গোস্বামীর স্মৃতিকথা 'হাফ প্যাডেলের কাল' পড়ে লিখেছেন আসিক ইকবাল। আমরা তাঁর অনুমতি নিয়ে নিজেদের টাইমলাইন থেকে শেয়ার করছি। .................................................... বই :হাফ প্যাডেলের কাল  লেখক :অর্ধেন্দুশেখর গোস্বামী  মুদ্রিত মূল্য :৪০০/ প্রকাশক : সুপ্রকাশ   প্রচ্ছদ:সুলিপ্ত মন্ডল  পৃষ্ঠা :২৪৯টি  এই ধরণের আত্মজীবনীমূলক লেখা শেষ পড়েছিলাম স্মরণজিৎ চক্রবর্তীর 'ঝাল লজেন'। এই লেখাটিও সেই আত্মজীবনীমূলক বা স্মৃতিচারণামূলক একটি লেখা। এই ধরণের লেখা গুলো নিয়ে বেশি কিছু বলা যায় না, শুধু গোগ্রাসে গিলতে হয়, আর অজান্তেই আপনিও হারিয়ে যাবেন নিজের নস্টালজিক শৈশবের অন্তরালে। আমরা যারা শৈশব পেরিয়ে কৈশোরে সাইকেল চালাতে শিখেছি, তাদের কাছে বেশিরভাগই বাবা কাকাদের সেই বড়ো সাইকেলই ছিল একমাত্র ভরসা। এখন তো সাইকেলের নানা রকমফের। কালের নিয়মে সেই বড়ো সাইকেল গুলো আজ অবলুপ্তির পথে। তবে বড়ো সাইকেল গুলোয় সিটে বসা যেত না, ফলত ঠুক ঠুক করে হাফ প্যাডেলেই চালাতে হত, বালকও তেমন করেই চালাতে শিখেছে। তবে সে সাইকেল হাতে পেত না খুব একটা। লেখক এই লেখার মাধ্যম...

বাংলা সিনেমার চালচিত্র।। ঋদ্ধি রিত।। সুপ্রকাশ।।

Image
"গতানুগতিকতার বাইরে ভাবনার নামই মৃণাল সেন। তাঁর ফ্রেমে ধরা দিয়েছে শহরের প্রগতিশীল বাঙালির ইতিহাসের সাক্ষর। বাইরে থেকে দেখলে অধিকাংশ ছবির ঘটনাস্থল কলকাতা। কিন্তু ছবিতে উঠে আসা কলকাতা, ভারতবর্ষের একটি শহর; যে দেশে সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী একশো জনের মধ্যে যাট জনই দারিদ্র্যরেখার নিচে বাস করেন। এই কলকাতা কেন্দ্রিক চলচ্চিত্রের আঙিনায় কলকাতা ট্রিলজির কথা উঠলে সত্যজিৎ রায়ের থেকেও আগে আসে মৃণাল সেনের নাম। তার কারণ তাঁরই একটি লেখা। যেখানে তিনি বলছেন, "এ দেশের যে শহরটা, শুনে থাকি, বারুদে ঠাসা—তার নাম কলকাতা... কলকাতায় বিক্ষোভ, ক্রোধ, ব্যারিকেড আর বোমা। কলকাতা বেপরোয়া, কলকাতা মারমুখী।” (মৃণাল সেন, 'ভূত-বর্তমান-ভবিষ্যৎ', ১৯৭৭)।"        বাংলা সিনেমার চালচিত্র, প্রথম খণ্ড সংকলন, গ্রন্থনা, ভাষ্য : ঋদ্ধি রিত প্রচ্ছদ ও সজ্জা : ঋদ্ধি রিত মুদ্রিত মূল্য : ৬০০ টাকা সুপ্রকাশ