Posts

বৃক্ষমানুষের ছায়া।। দুর্লভ সূত্রধর।। সুপ্রকাশ।।

Image
গান শেষ করে ফকির তৃপ্তির হাসি হাসলেন। বললেন— 'মানুষ একটা বিচিত্তির ব্যাপার। মানুষকে বিরিক্ষের মতো হতে হয়। গাছ যেমন নিজির জন্যি বাঁচে না, অপরের জন্যি ফুল দেয়, ফল দেয়—কিছু দিতে না-পারলে নিদেনপক্ষে ছায়া দেয়। শ্বাসের বাতাসকে শুদ্ধ করে। মানুষেরও সেই কাজ! মানুষেরও শুধু নিজির জন্যি বাঁচার কোনো উপায় নেই।'... সন্ধে নেমে আসছিল দ্রুত। নদীর দিক থেকে একটা হাওয়া উঠল। হাওয়াটা এই ছোট্ট সমাবেশটার মানুষগুলোর মাথা ছুঁয়ে, ফকিরের দাড়ি এলোমেলো করে দিয়ে চলে গেল কুমারডাঙার দিকে।  দাড়ির বোঝা বাঁ-হাত দিয়ে গোছাতে গোছাতে ফকির বললেন— 'এই যে বাতাসটা বিনি খাজনায় মোগের শরীলে আরাম দিয়ি চলি গেল, মানুষেরও এই বাতাসের মতো হবার কতা ছেল। কতা ছেল সকলের গা ছুঁয়ে, বুকের ভিতরে পরশ দিয়ে সকলের সঙ্গে বয়ে যাবার। মানুষ ঠেঙার মতো হলেই মুশকিল।' ................................... বৃক্ষমানুষের ছায়া দুর্লভ সূত্রধর ................................... অলংকরণ : অদ্বয় দত্ত প্রচ্ছদ : সৌজন্য চক্রবর্তী মুদ্রিত মূল্য : ৩৬০ টাকা সুপ্রকাশ প্রকাশিতব্য       

হামারটিয়া।। শাক্যজিৎ ভট্টাচার্য।। সুপ্রকাশ।।

Image
'রহস্যের সমাধান কিচ্ছু নয় জাভেদ, ওটা দশ শতাংশ। বাকি নব্বই শতাংশ কৃতকর্ম এবং তার পরিণামের বিশ্লেষণ, যাকে আমরা ভুলে থাকি। তুমি আত্মার কথা বলছিলে। আমাদের ধর্মবিশ্বাসে আত্মার সর্বোচ্চ স্তর হল নেশামাহ, সেরিব্রাল এবং ইন্টেলেকচুয়াল। কিন্তু, তার খোঁজ করতে গিয়ে আত্মার দ্বিতীয় স্তরকে আমরা ভুলে যাই। রুয়াচ। নৈতিকতা।' . . . হামারটিয়া শাক্যজিৎ ভট্টাচার্য প্রচ্ছদ : সৌজন্য চক্রবর্তী মুদ্রিত মূল্য : ৩৫০ টাকা  সুপ্রকাশ প্রকাশিতব্য

বৃক্ষমানুষের ছায়া।। দুর্লভ সূত্রধর।। সুপ্রকাশ।।

Image
সন্ধ্যা-বাতাসকে সঙ্গী করে বিষাণের গানের সুর ছড়িয়ে পড়ছিল। পরিষ্কার আকাশে কৃষ্ণা-দ্বাদশীর চাঁদ উঁকি দিচ্ছিল, নদীর দিক থেকে ভেসে আসছিল ভুটভুটির ক্ষীণ আওয়াজ—  ভেন্না কাষ্ঠের নৌকা খানি মাঝখানে তার বুরা,  নৌকার আগার থেকে পাছায় গেলে  গলুই যাবে খইয়া রে,  মাঝি বাইয়া যাও রে  অকুল দরিয়ার মাঝে আমার ভাঙ্গা নাও রে  মাঝি বাইয়া যাও রে। বিষাণের বউয়ের কথা অনুযায়ী বিষাণ অনেকদিন পরে গান গাইছে। কিন্তু, সুনন্দ বা গৌর কারোর সেকথা মনে হলো না। সুর লেগে গেছে— দরদে গানের কথাগুলো যেন অবয়ব পেয়ে জেগে উঠছে—  দীক্ষা শিক্ষা না হইতে আগে করছ বিয়া,  তুমি বিনা খতে গোলাম হইলে  গাইটের টাকা দিয়া রে  অকূল দরিয়ার মাঝে আমার ভাঙ্গা নাও রে মাঝি বাইয়া যাও রে। এমন ব্যথার সুরে কার কথা বলছে বিষাণ? গৌর এটুকু বুঝলেন অনুভবের শুদ্ধতার সঙ্গে বাণী আর সুরের সংগতি না-ঘটলে এমন গান গাওয়া যায় না। গৌর আর সুনন্দ লক্ষ করলেন— ঘরের দাওয়ায় বিষাণের বছর যোলোর নাইটি-পরা রোগা মেয়ে টুনা এসে দাঁড়িয়েছে। দাওয়ার একপাশে ঠোঁটের কোলে তর্জনী রেখে বিষাণের বউ স্বামীর গান শুনছে! তার মাথার ঘোমটা কাঁধ আর গলা বেড় দিয়ে মূ...

বৃক্ষমানুষের ছায়া।। দুর্লভ সূত্রধর।। সুপ্রকাশ

Image
বেশ একটু শীত-শীত ভাব পড়ায় বিষাণের দু-কাঠার বেগুন গাছগুলো আবার চেগে উঠেছে। ফলে, তাকে ইদানীং ঘন ঘন বাজারে আসতে হচ্ছে। নিতাই এখন আর বিষাণের বেগুন রাখছে না, সে-জায়গা নিয়েছে শটে। ফকিরবাবা আরও দু-চারটি বউ-ঝিকে ঝুড়ি বোনা শেখাচ্ছেন। তিনি বলেছেন— এতে সব’ক-টা সংসারেরই মেয়েদের আয় বাড়বে অনেক। সুরাহা হবে. কথাটা পাড়ার কারো কারো মনে ধরেছে। তাই গোবিন্দডাঙার পুবপাড়ার বাড়ি বাড়ি মেয়ে-বউদের কুলো আর ঝুড়ি বোনার ধুম চলছে। অন্যদিকে, হকিম আলির কাছে কেউ কেউ শিখছে পুতুল বানানোর কায়দাকানুন। ফকিরবাবা বার বার বলেছেন— নদীর ধারে বাস, মাটির নেই অভাব। তিনি বলেন— নিজেদের শক্তি না-থাকলে অন্য-কেউ এসে শুধু সাহায্য দিয়ে বাঁচাতে পারবে না। শরীরের ভেতরে রোগ ঠেকানোর ‘ক্ষেমতা’ না-থাকলে ডাক্তার, বদ্যি, ওষুধপত্র কাউকে বাঁচাতে পারে না। এর মধ্যেই দুই বন্ধু মধ্যদুপুরে বিষাণের বাড়িতে হানা দিয়ে ঝুড়ি বুননরত ফকিরবাবার কাছ থেকে আগের দিনের কথা, তেভাগাকালের গল্প, বিষাণের ঠাকুমা-ঠাকুদ্দা, বাবা-মা, শহিদ দানেশ শেখ— বাউলিয়া বা বাউলি থেকে গোবিন্দডাঙা পর্যন্ত এই জনপদের তেভাগার লড়াইয়ের গল্প শুনলেন— যদি ফকিরের কথা আর বংশীকাকার বিবরণ থেকে থেকে কোনো ...

রান্নাঘরের গল্প।। মহুয়া বৈদ্য।। সুপ্রকাশ।। পাঠপ্রতিক্রিয়া।।

Image
সুপ্রকাশ প্রকাশিত মহুয়া বৈদ্যের বই 'রান্নাঘরের গল্প' পড়ে মতামত জানিয়েছেন সুমনা চৌধুরী। আমরা তাঁর অনুমতি নিয়ে নিজেদের টাইমলাইন থেকে শেয়ার করছি। .................................................................... রান্নাঘর— আপাত উপেক্ষিত, দেওয়ালে তেল-হলুদের ছোপ পড়া ঝুলকালিমাখা আধো অন্ধকারময় এক অন্দরমহল, যার সাথে কয়েক শতক জুড়ে মেয়েদের অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িয়ে রাখা সুনিশ্চিত করেছে আমাদের মধ্যবিত্তীয় মূল্যবোধ-যাপন। আদর্শ মা, আদর্শ বউ এসবের মাপকাঠি একবিংশ শতকে দাঁড়িয়ে এখনও রান্নাঘরের চারদেয়াল ঠিক করে দেয়। রান্নাঘরের রাজনীতি থেকে লিঙ্গ-সাম্যের রাজনীতি, গৃহশ্রমের ধারণা-মজুরী— যাত্রাপথ, আলোচনা, তত্ত্ব, তর্ক কম তো হয়নি দশকজুড়ে! আবার মেয়েদের রান্নাঘরকে কেন্দ্র করে নস্টালজিয়ায় মোড়া সাহিত্য, সিনেমা, সিরিজও কম হয়নি! সেসব অধিকাংশক্ষেত্রেই আমরা দেখেছি পুরুষ লেখক বা নির্মাতার চোখে নারীর রান্নাঘরের শ্রম আর স্মৃতির বয়ান বা ভাষ্য। ঠিক এ-জায়গায় এসেই প্রশ্ন জাগে একজন নারী তাঁর রান্নাঘরের যাপন আর অভিজ্ঞতাকে কেমন করে দেখেন? কী বলতে চান তিনি বা তাঁরা? বদলে যাওয়া পারিপার্শ্ব, সময...

পলাশবাড়ি।। শুভদীপ চক্রবর্ত্তী।। সুপ্রকাশ।। পাঠপ্রতিক্রিয়া।।

Image
সুপ্রকাশ প্রকাশিত শুভদীপ চক্রবর্ত্তীর উপন্যাস 'পলাশবাড়ি' পড়ে মতামত জানিয়েছেন দীপঙ্কর দাস। আমরা তাঁর অনুমতি নিয়ে নিজেদের টাইমলাইন থেকে শেয়ার করছি। ..................................................... পলাশবাড়ি শুভদীপ চক্রবর্ত্তী সুপ্রকাশ প্রকাশনা  মুদ্রিত মূল্য : ২৫০ টাকা একটি জুটমিলকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা এক মফস্বল শহর দরদী। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বিশেষ করে বাংলার রাজনৈতিক পটপরিবর্তনকে সাক্ষী রেখে ধীরে ধীরে বদলে যেতে থাকে এই একরত্তি শহরের চেনা মুখ, চেনা ছন্দ। এই গল্পের কেন্দ্রে রয়েছে একটি বাড়ি। যাকে সকলে পলাশ বাড়ি নামে জানে।  ছোটবেলায় এক দুর্ঘটনায় বাবা-মাকে হারায় রুকু। স্থানীয় অভিভাবক অনঙ্গ মাস্টারের হাত ধরে তার জীবন নতুন পথে চলতে শুরু করে। প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষিকা হিসেবে রুকু নিজেকে আবিষ্কার করে। কিন্তু অনঙ্গ মাস্টারের মৃত্যুর পর রুকুর সেই আশ্রয়ও অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। অনঙ্গর ছেলের নাম ভুজঙ্গ বোস। এক উঠতি রাজনীতিক, এলাকার সিন্ডিকেটের মাথা সে। তার নজর পড়ে রুকুর স্কুলবাড়ি আর পলাশবাড়ির ওপর। ভয়, ক্ষমতা আর টাকার খেলায় একে একে দখল হয়ে যায় জুটমিলের ইউনিয়ন, বদলে যায় দরদীর চরিত্র।  এ...

দেয়ালের লেখা : এক অন্তহীন প্রকীর্ণ শিল্পকথা।। অনন্ত জানা।। সুপ্রকাশ।।

Image
"এ এমন এক কাজ, যার কথা শিবেশ-যতীশ সুমনের কাছে শুনেছে, ছবিও দেখেছে, তার ইতিহাসও তারা মোটামুটি জানে, কিন্তু নিজেরা কখনও হাতেকলমে করেনি। সুমনও এই গঞ্জদেশে সেই ধরনের দেয়াললেখার কোনো তাগিদ অনুভব করেননি। কিন্তু আজ তারই প্রয়োজন বোধ করলেন। ঘরে ছিল মোটা কার্টিজের কাগজ। তাতেই সুমন এঁকে ফেললেন এই রাঢ়ীয়-বঙ্গের প্রথম গ্রাফিতিটি। খুব সহজবোধ্য বিষয়— দু-জন ভিন্ন শ্রেণীর মানুষ— একজন অর্ধনগ্ন কঙ্কালসার একটি দেহাতি মানুষ— একেবারে নতজানু; অন্যজন ধুতি-সার্ট পরিহিত ভদ্রপানা একজন মানুষ। সকলেই দু-হাতে নিজ নিজ কর্ণধারণ করে আছেন। প্রথমে ছবিটার ক্যাপশন হিসেবে শ্লেষাত্মক কিছু লিখবেন ভেবেছিলেন। কিন্তু ভেবেচিন্তে তা বর্জন করলেন। শুধু বাঁ-হাতের তর্জনিতে ন্যাকড়া-জড়িয়ে ছেলেমানুষী কাগের ঠ্যাঙ-বগের ঠ্যাঙ করে গাঢ় কালো রঙে একটিমাত্র শব্দ লিখলেন— 'অগ্রগতী'। বলাই বাহুল্য হরফের এই কদর্যতা এবং 'অগ্রগতি' বানানের ঐ বিকৃতি একেবারেই ইচ্ছাকৃত। সবুজ বয়সে সুমনের শেখা রাজনৈতিক কৌশলের প্রয়োগ। সন্দেহ হলেও প্রকাশ্যে এমন কথা বলা মুশকিল যে, সুমন বা সুমনের চ্যালারা বানান ভুল লিখেছে! শিল্পের শক্তি ও উপভোক্তার বোধে তাঁর ...