Posts

অকূলের কাল।। অর্দ্ধেন্দুশেখর গোস্বামী।। সুপ্রকাশ।।

Image
প্রকাশিত... . 'হাফ প্যাডেলের কাল'-এর বালক এখানে যুবক। গড়বেতা থেকে সে এসে পড়ে কলকাতায়। ঠাঁই মেলে উত্তর-কলকাতার এক হস্টেলে। সে হস্টেল যেন এক টুকরো বৈচিত্রময় বঙ্গদেশ। লেখা, পড়া, শোনা, সাহিত্যচর্চা এবং রাজনৈতিক আলোচনায় সে বেড়ে ওঠে। অতঃপর জীবিকার অনিশ্চয়তা, প্রেমে পড়া ও প্রেমের জন্য অপরিকল্পিত মরণঝাঁপ। আমাদের বংশগৌরব-লালিত মধ্যবিত্তের মিথ্যা ফানুসটিকে লেখক জীবন দিয়ে বোঝেন ও বেআব্রু করে দেখিয়ে দেন। লেখকের সংসার-গড়ার সংগ্রামময় আখ্যানেই এই পর্বের ইতি। অপেক্ষা পরবর্তী পর্বের। . . অকূলের কাল অর্দ্ধেন্দুশেখর গোস্বামী প্রচ্ছদ : সৌজন্য চক্রবর্তী অলংকরণ : অদ্বয় দত্ত মুদ্রিত মূল্য : ৪০০ টাকা সুপ্রকাশ

হামারটিয়া।। শাক্যজিৎ ভট্টাচার্য।। সুপ্রকাশ।। পাঠপ্রতিক্রিয়া।।

Image
সুপ্রকাশ প্রকাশিত শাক্যজিৎ ভট্টাচার্যের উপন্যাস 'হামারটিয়া' পড়ে মতামত জানিয়েছেন অগ্নিভ নিয়োগী। আমরা তাঁর অনুমতি নিয়ে নিজেদের টাইমলাইন থেকে শেয়ার করছি। ............................................ শাক্যজিৎ ভট্টাচার্যের ‘হামারটিয়া’ আপাত দৃষ্টিতে একটি লকড-রুম মার্ডার মিস্ট্রি। কিন্তু বইটি যত এগোয়, ততই স্পষ্ট হয় যে এটি কেবল খুনির সন্ধানের গল্প নয়; বরং মানুষের দুর্বলতা, অপরাধবোধ, নৈতিকতার ধূসর পরিসর এবং একটি শহরের অদৃশ্য ক্ষয়ের কাহিনি। গল্পের কেন্দ্রে রয়েছে মালিনীর রহস্যময় মৃত্যু। ১৯৯৮ সালে ঘটে যাওয়া সেই হত্যাকাণ্ডের দায়ে দণ্ডিত হয় অনিরুদ্ধ। দীর্ঘ কারাবাস, মুক্তির পর নিঃসঙ্গ জীবন, এবং অবশেষে আত্মহত্যার আগে নিজের নির্দোষতার দাবি—এই ঘটনাই ২৫ বছর পুরনো মামলাকে আবার আলোচনায় ফিরিয়ে আনে। তদন্তের ভার এসে পড়ে ইমানুয়েলের ওপর, যার অনুসন্ধান কেবল একটি অপরাধের পুনর্মূল্যায়ন নয়, বরং সত্য ও ন্যায়বিচারের প্রকৃতি নিয়ে এক গভীর প্রশ্নোত্তর। শাক্যজিৎ রহস্য নির্মাণে সংযমী। তিনি চমকের ওপর নির্ভর না করে ধীরে ধীরে চরিত্র, স্মৃতি এবং সাক্ষ্যের স্তর খুলে দেন। ফলে পাঠকও তদন্তের অংশ হয...

অকূলের কাল।। অর্দ্ধেন্দুশেখর গোস্বামী।। সুপ্রকাশ।।

Image
১৯৬৮ থেকে ১৯৭৪— এক অস্থির অথচ স্বপ্নময় সময় জুড়ে এই পর্বের বিস্তৃতি। উল্লিখিত সময়টা ছিল ভীষণই 'বোকা'। সংখ্যাগরিষ্ঠ তরুণ বাঙালি শুধুমাত্র উচ্চআয়ের পেশায় স্থিত হওয়ার সংকল্পে প্রাণপাত করার কথা ভাবত না। তাদের চোখে আদর্শ ছিল; ছিল যূথসমাজের স্বপ্নকথা কিংবা প্রেমের জন্য অপরিকল্পিত মরণঝাঁপ। . . অকূলের কাল অর্দ্ধেন্দুশেখর গোস্বামী প্রচ্ছদ : সৌজন্য চক্রবর্তী অলংকরণ : অদ্বয় দত্ত মুদ্রিত মূল্য : ৪০০ টাকা সুপ্রকাশ প্রকাশিতব্য

নৈশ অপেরা।। শাক্যজিৎ ভট্টাচার্য।। সুপ্রকাশ।। পাঠপ্রতিক্রিয়া।।

Image
সুপ্রকাশ প্রকাশিত শাক্যজিৎ ভট্টাচার্যের উপন্যাস 'নৈশ অপেরা' পড়ে মতামত জানিয়েছেন শুভপ্রিয়া। আমরা তাঁর অনুমতি নিয়ে নিজেদের টাইমলাইন থেকে শেয়ার করছি। ............................................... "বদ্ধ জলার ধাঁধাঁয়, অথবা ঘন কুয়াশার জটিলতায়, দৃশ্যের পর দৃশ্যের পুননির্মাণ ঘটে। যবনিকা পড়ে না তার ওপর; শুধু নখ - দাঁত, ক্ষত - আঘাতের জীবন থেকে যায়, বহমান কাল ধরে চলা নৈশ অপেরায়।।" -- মিরাই অনেকদিন লিখতে বসা হয়নি। সাধ হলেও সময় কুলোয় নি। কিন্তু আজ এটা লিখতে বসতে হতো --- এই জবানবন্দী পাঠকের লিসারলি বিলাসিতা নয়, শব্দাঘাত জর্জরিত এক অমোঘ আদেশ।। গোয়েন্দা বা রহস্যকাহিনির পোকা আমি সেই ছোটোবেলা থেকেই। ফেলুদা দিয়ে শুরু সেই যাত্রা কালে কালে ব্যোমকেশ, কিরীটি, কাকাবাবু, পারিজাত বক্সী এবং অবশ্যই দ্য ফেমাস বেকার স্ট্রীট ঘুরিয়ে  নিয়ে গেছে হাল আমলের শবর, মিতিন মাসি, দীপকাকু পর্যন্ত। এই গল্পগুলো পড়ার পেছনের মূল কারণই ছিলো দ্য আনডিনায়েবল অ্যাড্রিনালিন রাশ --- কে অপরাধী, কীভাবে অপরাধ হলো, অপরাধীর অ্যালটেরিয়ার মোটিভ কি, অপরাধীর মনস্তত্ত্ব, এবং সবশেষে সেই বিখ্যাত রহস্য সমাধানের সমাবেশ --- একটা...

হামারটিয়া।। শাক্যজিৎ ভট্টাচার্য।। সুপ্রকাশ।। পাঠপ্রতিক্রিয়া।।

Image
সুপ্রকাশ প্রকাশিত শাক্যজিৎ ভট্টাচার্যের উপন্যাস 'হামারটিয়া' পড়ে মতামত জানিয়েছেন তিতির চ্যাটার্জি। আমরা তাঁর অনুমতি নিয়ে নিজেদের টাইমলাইন থেকে শেয়ার করছি। ............................................ হামারটিয়া শাক্যজিৎ ভট্টাচার্য  প্রকাশক : সুপ্রকাশ  মুদ্রিত মূল্য : ৩৫০ টাকা।  Hamartia হামারশিয়া: গ্রিক সাহিত্যে ব্যবহৃত এই শব্দের অর্থ হলো কোনও চরিত্রের নিজের কৃতকর্মের জটিল গোলকধাঁধা তাঁর নিজের অবনমনের কারণ হয়। যেমন macbeth এর হামারশিয়া ছিলো তার ক্ষমতার জন্য লোভ, লালসা, ইকারাসের হামারশিয়া ছিলো দম্ভ এবং অবাধ্যতা।    এই গল্পের মূল দুই চরিত্র মালিনী এবং অনিরুদ্ধ। ২৫ বছর আগে মালিনী নিজের বাড়িতে বন্ধ ঘরে খুন হয়। খুনের সময় ঘরের ভেতরে ছিলো মালিনীর প্রেমিক অনিরুদ্ধ। পাতি লক্ড room murder মিস্ট্রি হিসাবে পুলিশ কেস সলভ করে ফেলে। অনিরুদ্ধর জবানবন্দিতে পাওয়া যায় অঢেল অসঙ্গতি এবং স্বাভাবিক ভাবেই খুনি সাবস্ত্য করা হয় অনিরুদ্ধকেই। ঘটনায় মোড় আসে ২৫ বছর পর। জেল থেকে ছাড়া পাওয়ার ১২ বছর পর অনিরুদ্ধ সুইসাইড করে, করার আগে নিজেকে নির্দোষ বলে দাবি করে চিঠি লিখে যায় সেই ...

শেকল ভাঙার গান।। অলোক সান্যাল।। সুপ্রকাশ।।

Image
লোকটার নাম পুরন্দর। রনথম্বোরের জঙ্গল ঘেঁষা ছোটো-বড়ো গ্রামের প্রায় সকলে পুরন্দরকে চেনে। নিতান্তই ভালো মনের মানুষ। ঠাণ্ডা মাথার। শুধু জঙ্গলের আইন ভাঙলে সেই পরিচিত সবসময় হাসি লেগে থাকা মুখটা লহমায় বদলে যায়। তখন তার মেজাজ থেকে নিস্তার নেই। পুরন্দর এই জঙ্গলের রেঞ্জার নয়। বিরাট কোনো ফরেস্ট অফিসারও নয়। সে সাধারণ এক পাহারাদার। ফরেস্ট গার্ড। পুরন্দরের বাবাও তাই-ই ছিলেন। বাঘের হানায় প্রাণ খুইয়েছিলেন। পুরন্দর তখন সদ্য আঠারোয় পার করেছে। ফরেস্ট অফিসের বদান্যতায় বাবার চাকরিটা জুটে গিয়েছিল। ভাগ্যিস গিয়েছিল! সেই ছোট্ট বেলা থেকে রনথম্বোরের জঙ্গলই তার একমাত্র পৃথিবী। মাঝবয়েসে পৌঁছেও সেই ঠিকানার বদল হয়নি। হবেও না। বাঘের পাঞ্জা বাবাকে কেড়ে নিলেও, পুরন্দরের সঙ্গে তাদের কোনো শ্রেণী শত্রুতা নেই। বরং উলটো। রনথম্বোরের বাঘেদের সঙ্গে পুরন্দরের সখ্যতা দেখে চেনাজানা লোকজন প্রথম প্রথম অবাকই হত। এখন সবাই বুঝে গেছে, এই জঙ্গল এবং জঙ্গলের প্রাণীদের তার মতো করে কেউ চেনে না। এমনকি বন দপ্তরের কর্তাব্যক্তিরাও তার কথায় আলাদা গুরুত্ব দিয়ে থাকেন। টি৪০-কে আলাদা করে 'নূর' নামটা সে-ই দিয়েছিল। যেমন তার মাকে দিয়েছিল 'চ...

শেকল ভাঙার গান।। অলোক সান্যাল।। সুপ্রকাশ।।

Image
রোজকার মতোই দুপুরে একটা বড়োসড়ো গাছের ছায়ায় বসে বিশ্রাম নিচ্ছে টি৩৭। একটু দূরের ঘাসজমি টপকে জলাশয়। ঝোপের আড়ালে থাকলেও ঘাসের ফাঁকফোঁকর গলে সেদিকে নজর রাখতে অসুবিধা হচ্ছে না। জলাশয়ের দিকে নজর বিছিয়ে শুয়ে আছে সে। জলের ওপর থেকে তিরতিরে ঠান্ডা বাতাস ভেসে আসছে। মন্দ লাগছে না। জলার কাছে জন্মানো রসালো পাতার লোভে হরিণের পাল মাঝেমধ্যেই এসে উপস্থিত হয়। জায়গাটা বেছে নেওয়ার এটাই কারণ। কিছুক্ষণ পর তার অনুমান অভ্রান্ত প্রমাণ করে একটা ছোটো দল হাজির হল। হরিণের পালটা দৃষ্টি সীমানায় ধরা দেওয়ার আগেই টি৩৭ যাবতীয় আলিস্যি ঝেড়ে উঠে দাঁড়িয়েছিল। এবার সে স্থির এবং নিষ্পলক চোখে চেয়ে রইল জলাশয়ের দিকে। বাঘিনীরা এমন আভাস আগে থেকে পেয়ে গেলেও তার ছানারা বুঝতে পারে না। নূর এখন ছোটো। তিন মাসের। আরও একটু বড়ো হলে এমন হাজারো না-ফোটা শব্দগুলো সে-ও নিশ্চয়ই টের পাবে। নূর এতক্ষণ তার ভাই-বোনের সঙ্গে খুনসুটিতে মত্ত ছিল। মাঝেমধ্যে মায়ের নরম পেটে গড়িয়ে পড়ছিল তিনজনায়। খানিক গলা ভিজিয়ে নিয়ে আবার ঝাঁপাই জুড়ছিল। মাকে হঠাৎ উঠে দাঁড়াতে দেখে অবাক হল তারা। নূর 'কুঁই কুঁই' স্বরে মাকে কিছু জিজ্ঞেস করতে যাচ্ছিল, শিকারের গন্ধ পেতে টি৩৭...