Posts

সকলই গরল ভেল।। গৌরভ বিশ্বাস।। সুপ্রকাশ।। পাঠপ্রতিক্রিয়া।।

Image
সুপ্রকাশ প্রকাশিত গৌরব বিশ্বাসের নন-ফিকশন 'সকলই গরল ভেল' পড়ে লিখেছেন শুভেন্দুবিকাশ ভট্টাচার্য। আমরা তাঁর অনুমতি নিয়ে নিজেদের টাইমলাইন থেকে শেয়ার করছি। ........................................... সকলই গরল ভেল গৌরব বিশ্বাস সুপ্রকাশ ২৮০ টাকা . প্রথম প্রথম ফেসবুকেই ছোটখাটো লেখা দিয়ে নজর কেড়েছেন গৌরব বাবু। বাংলা সাহিত্যের সঙ্গে কবরখানার হারিয়ে যাওয়া রূপকথার সঙ্গত করতেন।কখনো প্রেম কখনো অপরাধ রিরংসা কখনো অপ্রেম ঐ মাটির নিচে চাপা পড়ে থাকা অনেক যুগ আগেকার গল্প দ্বিতীয়বার ময়নাতদন্তের মতো খুঁড়ে এনে আমাদের পরিবেশন করেছেন।  কিন্তু গৌরব বাবুর কোন ব‌ই ছিল না।তাই এবারের ব‌ইমেলায় ওঁর লেখা "সকল‌ই গরল ভেল" পেয়ে সংগ্রহ করতে আর দ্বিধা করিনি। তারপর এক নিঃশ্বাসে পড়া।পড়ে ফেলার এক সপ্তাহ পরেও রেশ কাটতে চাইছে না। ভাবলাম সবার সঙ্গে ভাগ করে নিই। প্রথমেই দারুণ লাগে প্রচ্ছদের কালকূটের কৌটো। সৌজন্যে সৌজন্য চক্রবর্তী। প্রোডাকশন বাঁধাই সুপ্রকাশের অনবদ্য।১৫২ পাতার সাহিত্যরস সম্পৃক্ত ছোট্ট ব‌ইটির মুদ্রিত মূল্য ২৮০ টাকা মাত্র। এবার আসি মূল কথায়। গল্প নয় সত্য ঘটনা,গল্পের থেকেও রোমাঞ্চকর। প...

দেয়ালের লেখা : এক অন্তহীন প্রকীর্ণ শিল্পকথা।। অনন্ত জানা।। সুপ্রকাশ।।

Image
বোধ হয় ঢাকায় গ্রাফিতিতে সুবোধ এসে পড়ায় আইজুদ্দিনের কষ্টের ইতিবৃত্তে যুক্ত হয় ভিন্নমাত্রার এক উদ্দেশ্যমূলকতা। এই গ্রাফিতিতে সুবোধ যেন এক বিশ্বজনীন চরিত্র। সেখানে কখনও বিশ্বপ্রাণের উৎস সূর্য-রক্ষক সুবোধের হাতে খাঁচার ভেতরে সূর্য! কখনও একা সুবোধ, কখনও তার সঙ্গে একটি শিশুকন্যা। কখনও সুবোধ ছুটন্ত, কখনও গরাদের অন্তরালে বন্দী। কখনও তার ঠোঁটে তর্জনির নিষেধাজ্ঞা। প্রায় সর্বত্র ইংরেজি বানানে 'হবে কি?'— এর উদ্যত জিজ্ঞাসা। সুবোধের গ্রাফিতিগুলিতে টেক্সট ঈষৎ বৈচিত্র্যময়:   'সুবোধ তুই পালিয়ে যা, এখন সময় পক্ষে না।' 'সুবোধ তুমি চুপ থাক।' 'সুবোধ তুই পালিয়ে যা,/এখন সময় পক্ষে না।/মানুষ ভালোবাসতে ভুলে গেছে।' 'সুবোধ তুই পালিয়ে যা, তোর ভাগ্যে কিছু নেই'। 'সুবোধ এখন জেলে, পাপবোধ নিশ্চিন্তে বাস করছে মানুষের হৃদয়ে।' 'এখানে সাপ ভরা চাপ চাপ রুচি।/কাপ ভরা পাপ পাপ ম!/সুবোধ........তুই পালিয়ে যাহ্।' 'সুবোধ, কবে হবে ভোর?' 'সুবোধ তুই পালিয়ে যা/ভুলেও ফিরে আসিস না।' 'সুবোধ তুই ঘুরে দাঁড়া'। 'তবুও সুবোধ রাখিস সূর্য ধরে।' 'সুবোধ তুই ল...

দেয়ালের লেখা : এক অন্তহীন প্রকীর্ণ শিল্পকথা।। অনন্ত জানা।। সুপ্রকাশ।।

Image
একটি কবিতার জনগ্রাহ্য হয়ে ওঠার ইতিবৃত্তকে অনুসরণ করলেই গ্রাফিতি নামক এই রাস্তার শিল্পের অমেয় শক্তি বোঝা যায়। দেয়াল থেকে দেয়ালে একটি কবিতাটির 'হয়ে ওঠার' সেই ইতিবৃত্ত রোমহর্ষকও বটে। কবি হেলাল হাফিজ (১৯৪৮-১৯২৪)-এর সেই কবিতাটির প্রাথমিক চরণদুটি দেয়াললিপির সৌজন্যে অনেকের কাছেই— যিনি কবিতা পড়েন না আদৌ, যিনি সাম্প্রতিক বাংলা কবিতাকে বাংলা বর্ণে লেখা দুর্বোধ্য কোনো ভিন্ন ভাষার অ-বাক্য বলে মনে করেন, তেমন মানুষের কাছেও পরিচিতি পায়। হাসান হাফিজকে দেওয়া হেলাল হাফিজের এক সাক্ষাৎকার থেকে জানা যায়— ছাত্রাবস্থায় কবি হেলাল হাফিজ এক বিকেলে পুরান ঢাকা থেকে রিক্সা করে ফিরছিলেন তাঁর হস্টেল ইকবাল হলে। সেটা ১৯৬৯ সাল। সাবেক পূর্ব পাকিস্তানে পাকিস্তানী স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে তীব্র গণআন্দোলন শুরু হয়ে গেছে। ঢাকার গুলিস্তানের ফুলবেড়িয়ায় পৌঁছে হাফিজ দেখলেন সেখানে সমানে মিছিল ও বিক্ষোভ চলছে, ছাত্রজনতার সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ বেঁধে গেছে। পুলিশ-মিলিটারির লাঠিচার্জের প্রতিবাদে ছাত্রদের পক্ষ থেকে ঢিল-পাটকেল ছোড়া হচ্ছে। এরই মধ্যে বয়স্ক এক রিক্সাচালক বললেন— 'মার, মার শালাদের। প্রেমের জন্য কোনো কোনো সময় মার্ডারও ক...

নষ্ট চাঁদের আলো।। অলোক সান্যাল।। সুপ্রকাশ।। পাঠপ্রতিক্রিয়া।।

Image
সুপ্রকাশ প্রকাশিত অলোক সান্যালের উপন্যাস 'নষ্ট চাঁদের আলো' পড়ে গুডরিডস্-এ মতামত জানিয়েছেন মোস্তাফিজুর রহমান। আমরা নিজেদের টাইমলাইন থেকে শেয়ার করছি। ............................................................ অলোক সান্যালের লেখা "নষ্ট চাঁদের আলো" অষ্টাদশ শতকের আটলান্টিক মহাসাগরে জলদস্যুদের স্বর্ণযুগ, ব্ল্যাকবিয়ার্ডের উত্থান ও পতনের ইতিহাসের সঙ্গে সমান্তরালে এগিয়েছে বর্তমান সময়ে হারিয়ে যাওয়া গুপ্তধনের অনুসন্ধান নিয়ে থ্রিলার বই। অতীত ও বর্তমান— দুটি সময়কালকে সমান দক্ষতায় গেঁথেছেন লেখক। সমুদ্রযুদ্ধ, গুপ্তধনের কিংবদন্তি, উপনিবেশিক শোষণ ও দাসপ্রথার নির্মম বাস্তবতা উপন্যাসটিকে শুধু রোমাঞ্চকর নয়, ভাবনাপ্রবণও করে তোলে। চরিত্র নির্মাণ শক্তিশালী, অনুসন্ধানভিত্তিক থ্রিলার অংশে রয়েছে টানটান উত্তেজনা। প্রায় ৪০০ পৃষ্ঠার উপন্যাস হলেও কোথাও ক্লান্তিকর নয়। ইতিহাস আর অ্যাডভেঞ্চার যাঁরা ভালোবাসেন, তাঁদের জন্য "নষ্ট চাঁদের আলো" নিঃসন্দেহে একটি পাঠযোগ্য উপন্যাস। পাইরেটস অফ দ্য ক্যারিবিয়ানের মতো একটি সিরিজের ভঙ্গি এখানে স্পষ্ট, বিশেষ করে জাহাজের বর্ণনা এবং জলদস্যুদের চরিত্রায়ন...

লেটারপ্রেসের কম্পোজিটর: এক বিষাদান্ত পরম্পরা ।। অনন্ত জানা।। সুপ্রকাশ।। পাঠপ্রতিক্রিয়া।।

Image
সুপ্রকাশ প্রকাশিত অনন্ত জানার বই লেটারপ্রেসের কম্পোজিটর : এক বিষাদান্ত পরম্পরা পড়ে লিখেছেন মহুয়া বৈদ্য। আমরা তাঁর অনুমতি নিয়ে নিজেদের টাইমলাইন থেকে শেয়ার করছি।  .................. এক একটি বই কালেভদ্রে হাতে আসে যেটি পড়ার পর মনে হয়, হ্যাঁ পরিপূর্ণ কিছু পড়ে উঠলাম, যে পড়ার মাঝে ফাঁকফোকর প্রায় কিছুই নেই। বইটির নাম, “লেটারপ্রেসের কম্পোজিটর : এক বিষাদান্ত পরম্পরা”। লেখক অনন্ত জানা। পারিবারিক জীবনালেখ্যর সাথে লেটার-প্রেসের জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি এবং ইতিহাস মিশেমিশে একটি নিটোল পাঠের আয়োজন এই বইটিতে। সুপ্রকাশ একটি অসামান্য বই প্রকাশ করেছেন।  এই যে প্রতিনিয়ত এত বই আমাদের হাতে উঠে আসছে, সেই বই যাঁরা তৈরি করছেন, তাদের জীবনের অনালোকিত এবং প্রায় অনালোচিত অধ্যায় এই বইয়ের বিষয়বস্তু। বইটির মূল বৈশিষ্ট্য হল বিষয়বস্তুর সাথে জীবনস্মৃতির উপাখ্যানের এক আশ্চর্য মেলবন্ধন। একজন কম্পোজিটরের জীবন, পরিবার, প্রেস…এই সমস্ত যাপনের সাথে অনায়াসে মিশে গেছে প্রেসের ইতিহাস, কম্পোজিটর জীবিকাটির ইতিহাস এবং তার জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ক্ষেত্র। বইটির লেখক প্রকৃত অর্থে ‘কাঙলীর নাতিপুতি’দের একজন। একটি একান্নবর্ত...

দেয়ালের লেখা : এক অন্তহীন প্রকীর্ণ শিল্পকথা ।। অনন্ত জানা ।। সুপ্রকাশ

Image
"১৯৮০-র দশকে পূর্ব আর পশ্চিম জার্মানির মধ্যে ভাগ হওয়া, বার্লিনকে দ্বিখণ্ডিত করা জার্মান প্রাচীর [(১৯৬১-১৯৮৯) জার্মান প্রাচীর নিজেই ছিল ইতিহাসের একটি পর্বের সাক্ষী। বস্তুত জার্মান বা বার্লিন প্রাচীর ছিল আদর্শগত বিভেদ, মতাদর্শগত অবস্থানের প্রভেদ এবং দ্বিতীয় মহাযুদ্ধ-পরবর্তী ঠাণ্ডা যুদ্ধের প্রতীক] গ্রাফিতির একটি বিস্তৃত আশ্রয় হয়ে ওঠে। প্রকাশ, বিদ্রোহ, সামাজিক বৈপরীত্য, পরম্পরাগত আবেগ প্রকাশের মাধ্যম হিসেবে জার্মান প্রাচীর গুরুত্ব পেয়েছিল। এই প্রাচীরের পূর্ব অংশটি ঈষৎ ধূসর ছিল আর পশ্চিম অংশটি গ্রাফিতির জন্য বেশি ব্যবহৃত, অনেকটা প্রাণবন্ত। প্রাচীরের গ্রাফিতিগুলিকে এলা গারলিন গভীর সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। ১৮৮০-র দশকে আমেরিকার অকালপ্রয়াত চিত্রশিল্পী ও নিও এক্সপ্রেশনিজম আন্দোলনের সহযোগী জিন মিশেল-বাসকিয়াত (১৯৬০-১৯৮৮) ঐতিহ্যবাহী শিল্প জগতে গ্রাফিতিকে গুরুত্বপূর্ণ মর্যাদায় অভিষিক্ত করেছিলেন। বাসকিয়াতের কাজ উল্লেখযোগ্য স্বীকৃতি অর্জন করেছিল। তাঁর রচনায় বর্ণবাদ এবং শ্রেণীবিভেদের বিরুদ্ধে অসন্তুষ্টিজনিত প্রতিবাদে গ্রাফিতি নির্মাণে বাসকিয়েত নিজের স্বল্প-পরিসর জীব...

পলাশবাড়ি।। শুভদীপ চক্রবর্ত্তী।। সুপ্রকাশ

Image
"দীপনদের পাড়াটাতেও বসবাস মূলত বাঙালি আর বিহারিদের। হিন্দু-মুসলিম দুই সম্প্রদায়ের মানুষই গা ঘেঁষাঘেঁষি করে টিকে আছে এখানে। টিকে আছে কথাটাই ঠিক, কারণ তাদের এই থাকাটা সঠিক অর্থে বেঁচে থাকা বলে দীপন মনে করে না। তার উপর দিন দিন যত ঘিঞ্জি হচ্ছে এলাকাটা, ততই ছোট আর নোংরা হয়ে যাচ্ছে মনে হয় এখানকার মানুষদের মনগুলো। সারাদিন ঝগড়া আর খিস্তি। মিউনিসিপ্যালিটির কলে জল নেওয়ার জন্য বালতি বসানো নিয়ে ঝামেলা সকালে-বিকালে। কে কাকে ধারের টাকা নিয়ে ফেরত দিচ্ছে না, সেই নিয়ে মুখ খারাপ করা লাগাতার। দিনে-দুপুরেই বাংলা মদ গিলে এসে কে যেন বউ পেটাচ্ছে ঘরে। পাশের খাল থেকে সারা গায়ে পাঁক মেখে উঠে এসে গোটা রাস্তায় সেই দুর্গন্ধ ছড়াতে ছড়াতে মাঠের দিকে নেমে যাচ্ছে একটা বুড়ো শুয়োর। কিছুটা এগোলেই একটা পুকুর। রোজকার ব্যবহারের যোগ্য আর নেই সেটা একদমই। কালো তেলচিটে সর পড়ে গেছে যেন পুকুরের জলের উপরটায়। আর কচুরিপানা ঢেকে ফেলেছে সেই পুকুরের অর্ধেকটারও বেশি। একটা ডাকপাখি সেই কচুরিপানার ফাঁক দিয়ে হেঁটে যাচ্ছে ল্যাগব্যাগে পায়ে পিছন দুলিয়ে দুলিয়ে। সবে বড়দিন কেটেছে। তাও এই পাড়াটায় ঢুকলেই আকাশের আলো যেন কমে আসে কেমন। কেমন যেন পিচ...