বৃক্ষমানুষের ছায়া।। দুর্লভ সূত্রধর।। সুপ্রকাশ।।
সন্ধ্যা-বাতাসকে সঙ্গী করে বিষাণের গানের সুর ছড়িয়ে পড়ছিল। পরিষ্কার আকাশে কৃষ্ণা-দ্বাদশীর চাঁদ উঁকি দিচ্ছিল, নদীর দিক থেকে ভেসে আসছিল ভুটভুটির ক্ষীণ আওয়াজ— ভেন্না কাষ্ঠের নৌকা খানি মাঝখানে তার বুরা, নৌকার আগার থেকে পাছায় গেলে গলুই যাবে খইয়া রে, মাঝি বাইয়া যাও রে অকুল দরিয়ার মাঝে আমার ভাঙ্গা নাও রে মাঝি বাইয়া যাও রে। বিষাণের বউয়ের কথা অনুযায়ী বিষাণ অনেকদিন পরে গান গাইছে। কিন্তু, সুনন্দ বা গৌর কারোর সেকথা মনে হলো না। সুর লেগে গেছে— দরদে গানের কথাগুলো যেন অবয়ব পেয়ে জেগে উঠছে— দীক্ষা শিক্ষা না হইতে আগে করছ বিয়া, তুমি বিনা খতে গোলাম হইলে গাইটের টাকা দিয়া রে অকূল দরিয়ার মাঝে আমার ভাঙ্গা নাও রে মাঝি বাইয়া যাও রে। এমন ব্যথার সুরে কার কথা বলছে বিষাণ? গৌর এটুকু বুঝলেন অনুভবের শুদ্ধতার সঙ্গে বাণী আর সুরের সংগতি না-ঘটলে এমন গান গাওয়া যায় না। গৌর আর সুনন্দ লক্ষ করলেন— ঘরের দাওয়ায় বিষাণের বছর যোলোর নাইটি-পরা রোগা মেয়ে টুনা এসে দাঁড়িয়েছে। দাওয়ার একপাশে ঠোঁটের কোলে তর্জনী রেখে বিষাণের বউ স্বামীর গান শুনছে! তার মাথার ঘোমটা কাঁধ আর গলা বেড় দিয়ে মূ...