বৃক্ষমানুষের ছায়া।। দুর্লভ সূত্রধর।। সুপ্রকাশ।।
"গৌর ভাঙতে শুরু করেছিলেন অনেক আগে থেকেই। যেদিন একান্নবর্তী সংসারের মহাবৃক্ষ থেকে গৌর শুকনো পাতার মতো খসে পড়েছিলেন, অনেক ল্যাটা-প্যাটা খেয়ে পড়াশুনো চালিয়ে, বেশ কয়েকটি পেশার ঘাটে-বেঘাটে এলোমেলো ঠোক্কর খেয়ে, অনেক প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা-টরিক্ষা দিয়ে এখনকার চাকরিটা জোগাড় করেছিলেন— তার আগে থেকেই 'ছোটো' আর 'সাশ্রয়' শব্দ দুটো তাঁর সঙ্গী। একটা প্যান্ট, একটা জামা। চটি কিনতেন অবিশ্বাস্য কম টাকার মধ্যে— একেবারে জবাব দেওয়ার আগে সেটাকে বার বার সেলাই করে পিন মেরে চালাতেন। সস্তার হোটেলে পাঁচসিকের ডাল-ভাত-তরকারি। তখন কীই-বা বয়স— অনন্ত খিদে। তবু, অতিরিক্ত ভাত নিতে গিয়ে চারবার ভাবতেন— পকেটের এককোণে পড়ে-থাকা খুচরো পয়সার সঙ্গে ভাতের পরিমাণ মিলিয়ে দেখতেন মনে মনে, তারপর পেটে খিদে নিয়েই খাওয়া ছেড়ে উঠে পড়তেন টেবিল থেকে। কতদিন হয়েছে হোটেলের ভেতরে পা দিয়েও সরিয়ে নিয়েছেন পা— কোয়ার্টার পাউরুটির আধখানা আর একগ্লাস চা দিয়ে সে-বেলাটা চালিয়ে দিয়েছেন। শেষ ট্রেনে নির্বাস বাসভূমিতে নেমে বাসভাড়ার পনেরো পয়সা বা চার-আনা বাঁচাবার জন্য মাইল-চারেক হেঁটে একাকী আশ্রয়ে ফিরতেন দিনের পর দিন। এমনভাবে একসপ্তাহ হা...