Posts

লেটারপ্রেসের কম্পোজিটর : এক বিষাদান্ত পরম্পরা ।। অনন্ত জানা।। সুপ্রকাশ।। পাঠপ্রতিক্রিয়া।।

Image
সুপ্রকাশ প্রকাশিত অনন্ত জানার বই 'লেটারপ্রেসের কম্পোজিটর : এক বিষাদান্ত পরম্পরা' পড়ে মতামত জানিয়েছেন সৌরজিৎ বসাক। আমরা তাঁর অনুমতি নিয়ে নিজেদের টাইমলাইন থেকে শেয়ার করছি। ..................................................... পাঠ প্রতিক্রিয়া— ➤ বই :  লেটারপ্রেসের কম্পোজিটর : এক বিষাদান্ত পরম্পরা  ➤ লেখক : অনন্ত জানা ➤ প্রকাশক : সুপ্রকাশ   ➤ মুদ্রিত মূল্য : ২৯০ টাকা ➤ প্রচ্ছদ শিল্পী : সৌজন্য চক্রবর্তী  ➤ অলংকরণ শিল্পী : সুলিপ্ত মণ্ডল  পাঠক-জীবনের মুসাফিরনামায় এই যে এতশত শব্দের সমুদ্রের (নিদেনপক্ষে স্রোতস্বিনী নদী তো বটেই) মধ্যে দিয়ে বৈঠা বেয়ে এগিয়ে চলতে হয়, সেটির কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা ‘বই’ নামক ‘দুই-মলাটে-বন্দি’ সত্তার বোধকরি দু’রকমের আত্মপ্রকাশ। তার মধ্যে প্রথমটা তো সুপরিচিত লেখক-পাঠক যুগলবন্দি, কিংবা একটি গ্রন্থ যা বলতে চায়, শোনাতে চায়। কিন্তু এরপর দ্বিতীয় যে বিষয়, যা কিনা অনেকটাই অব্যক্ত — অর্থাৎ, কাগজ-কালির কাঁচামাল হতে সম্পূর্ণ গ্রন্থে উত্তরণের যে যাত্রা, সেই শেষ-হতে-না-চাওয়া যাত্রার অভিযাত্রীদের নিজস্ব ইতিকথা।  প্রাসঙ্গিকতার খাতিরে আমরা...

উত্তরেই যায় চিঠি।। কৌশিক ঘোষ।। সুপ্রকাশ।।

Image
বাগানের দিকে যেতেই এককোণে নয়নতারা গাছটার দিকে চোখ পড়ে তার, যেটা সেই এক বৃষ্টির দিন ভিজতে ভিজতে তারিক খালপাড় থেকে এনে এখানে পুঁতেছিল। উচ্চতা কোমর অবধি বড়জোর, কয়েকটা বেগুনি ফুল ফুটে আছে। কুলগাছে অনেক কুল, কিছু কুল পেকেছে, কেউ বিশেষ আসেনি এবার। লেবুগাছ, কুলগাছ, কুয়া, সবজির খেত, দুদিকের নারকেল, পেয়ারাগাছ ফেলে এগিয়ে যায় নবা পুকুরের দিকে। পরিধি বরাবর গোল হয়ে হেঁটে বেড়ার ওপারে নো ম্যানস ল্যান্ডের দিকে একবার তাকায়। এই জায়গাটা আশ্চর্য, একই রকম অন্ধকার, ছায়াময় মনে হয় এইদিক থেকে। দূরে ক্ষীণ রাস্তার আড়ালে বেলগাছটা অবধি দৃষ্টি যায়। ওদিকে যে কোনো রাস্তা আছে, এখান থেকে টের পাওয়া যায় না।       ঘাটে ফিরে আসে সে, ওপরের পাদানিতে বসে। তারিক কবে আসবে বলতে পারল না মানিক। কোথায় গেছে, রাণীগঞ্জ, পিনকোড কত? তারিককে ঠিকানা জোগাড় করে চিঠি লিখে চমকে দেবে সে?  তারিক কি উত্তর দেবে? ঘাটের দিকে ধাপগুলো ডুবে গেছে ফের, দুটো আঁকাবাকা আনাড়ি হাতের লেখার দুটো নাম তৃতীয় ধাপে আছে, সে জানে, আবার জাগবে আগামী গ্রীষ্মে, যখন জল টানতে টানতে চৌচির হয়ে যাবে মাটি। হঠাৎ তার চোখে ভেসে ওঠে ...

উত্তরেই যায় চিঠি।। কৌশিক ঘোষ।। সুপ্রকাশ।।

Image
সন্তুদার  শেষ চিঠি এসেছিল দিন পনেরো আগে। ওর কলকাতার বন্ধুরা বেড়াতে চায় এখানে, নিয়ে আসবে, চিঠিতে লিখেছিল। কলেজ স্ট্রিট, টবিন রোড, এইসব জায়গার কথা থাকে। নবা একবারই কলকাতা গেছিল। নিমাই পার্টির একটা জমায়েতে নিয়ে গেছিল তাকে আর রাণীকে, তখন নবার ক্লাস এইট। ট্রেন ছুটছে কোলাঘাট ব্রিজের ওপরে, ঝম ঝম শব্দ, তারপর ট্রেনটা একটা জায়গায় বাঁক নিয়েছিল, পথ ফুরাতেই চায় না আর। সে ট্রেনের জানলা থেকে বিস্ময়ে দেখেছিল পাওয়ার প্ল্যান্টের গা থেকে কুয়াশার মত কী যেন উঠছে, ঠিক ধোঁয়া নয়, যেন মেঘ, নাকি ঘনকুয়াশা, উড়ে যাচ্ছে। দুদিকের কত জনপদ আর কত স্টেশন পার করে শেষে ট্রেন থেমেছিল। হাওড়া স্টেশন থেকে মিছিলে হাঁটতে হাঁটতে একটা জায়গায় মিছিল এসে দাঁড়িয়েছিল, ওফফ এত লোক সেখানে... আর চতুর্দিক থেকে বাস, গাড়ি—নবার ভয় হচ্ছিল, সে নিমাইয়ের কাছাকাছি থাকার চেষ্টা করছিল আপ্রাণ। সেই মিটিংয়ে অনেক নেতা এসেছিল, নিমাই নাম বলছিল, দেখাচ্ছিল তাকে আর রাণীকে, সেসব নাম তার আর সব ভাল করে মনে নেই। একসময় নিমাই বলল, রাণী, ওই দ্যাখ, মৃণাল সেন। নবা দেখেছিল, মৃণাল সেনের জুলফির কাছটা খড়ির মত ঘষা। একটাই সিনেমা সে দেখেছিল মৃ...

উত্তরেই যায় চিঠি।। কৌশিক ঘোষ।। সুপ্রকাশ।।

Image
এগোয় নবা। গলিপথ ধরে। যখন সে পৌঁছয় দেখে প্রায় সবাই এসে গেছে, মেয়েদের জায়গাগুলো নির্দিষ্ট, ছেলেদেরগুলো বদলে বদলে যায়, যে আগে যাবে সে নিজের পছন্দের জায়গা দখল করে। শুধু বিবেক নিজের জায়গার ব্যাপারে চেঁচামেচি করে। আজ একদম কৌণিক ও দূরবর্তী অবস্থানে পাপিয়া। একবার কি তাকাতে চাইল এদিকে? হতে পারে, নাও পারে। আগেরদিন যে নবা তার পেছনেই ছিল, টের পেয়েছে? কাউকে বলবে? কিন্তু, নবারই বা কী করার ছিল? সে তো বাড়িই যাচ্ছিল। হলুদের বাটি নিয়ে আসেন দীপেন স্যার। একটা কাঁচা হলুদের টুকরো চেবান, বাটিটা একপাশে রাখেন। শতরঞ্জিতে বসেন। যারা ক্লাস নাইনের, আর ক্লাস টেনের যারা তারাও দেখো, হয়ত আগে পড়েছ, নিউটনের গতিসূত্র তো আগের দিন কিছুটা হয়েছে। নবার মনে পড়ে, আজ এডিশনাল ফিজিক্সের দিন। একজনের খাতা টেনে নেয় দীপেন স্যার, সবাই খাতা পেন খুলে বসে। ত্বরণের একক কী? দীপেন স্যার শুধান। মিটার ভাজিত বর্গ সেকেন্ড । বর্গ সেকেন্ড কেন এলো? এটা কিন্তু বোঝা দরকার। কেউ বলো, আশেপাশে তাকায় দীপেন স্যার। উত্তরটা জানে নবা। কিন্তু মুখ খুলতে চায় না। কোণার দিকে একবার চোরা চোখে তাকায়, পাপিয়া মুখ নিচু করে আছে। নবার দিকে, এই মুহূর্ত...

উত্তরেই যায় চিঠি।। কৌশিক ঘোষ।। সুপ্রকাশ।।

Image
বল্লভপুর-পার নবা কিছুটা সচেতন ছিল,  হরি সিনেমা পার করে ভেবেছিল এবার বুঝি পাপিয়া সোজা চলে যাবে। সেক্ষেত্রে, তার পরবর্তী সিদ্ধান্ত কী হতো, হে পাঠক, নির্ণয় করা দুরূহ। এক্ষেত্রে মাত্র দুটি সম্ভাবনা ছিল, এক্ষেত্রে বিবেচনা বলে, নবা তার গন্তব্যনির্ধারিত বাঁদিকের সরু গলি ধরবে, কিন্তু অন্যথায়  যদি পাপিয়া অন্য রাস্তাটি ধরত সেক্ষেত্রে অনুসরণকারী, এড্রিনাল সার্জ বিচলিত নবা, সচেতন বা অচেতন, হয়ত বা পাপিয়ার পিছু পিছু নতুনবাজারগামী সোজা রাস্তা ধরত। কিন্তু নবাকে বিস্মিত করে টাউন স্কুল হতে আনুমানিক তিরিশ সেকেন্ড পর পাপিয়া হরিসিনেমার চক পার করে অতি সরু বামদিকের গলিতে সহসা অদৃশ্য হয়ে যায়। এতে নবার পরবর্তী সম্ভাবনাময় জার্নির কথা ভেবে নবা যারপরনাই পুলকিত হয়, কেননা এটি নবার বাড়িগন্তব্যের নির্ধারিত ও হাঁটাপথে আনুমানিক মিনিট কুড়ির প্রলম্বিত পথ। কিন্ত, অকস্মাৎ গলিতে অন্তর্হিত পাপিয়াকে দেখতে না পেয়ে তার প্রত্যাশী চোখ ঈষৎ মুষড়ে পড়ে, সুতরাং সে গতি বাড়াতে প্রয়াসী হয়। এই দীর্ঘতর অতিসংকীর্ণ গলি মূল রাস্তা হতে ভেতরে সেঁধিয়েই ডাইনে তুমুল বিসর্পিল, তাই নবা ঢুকেই পাপিয়াকে দেখতে অসমর্থ হয়। ...

উত্তরেই যায় চিঠি।। কৌশিক ঘোষ।। সুপ্রকাশ।।

Image
সাফাইকার্যে নিযুক্ত লোকজনকে কাজে লাগিয়ে ব্যস্ত নিমাই দৃশ্য হতে চলে যায়,  নবা দুরুদুরু বক্ষে কুয়ার অনতিদূরে দাঁড়িয়ে থাকে। অনতিবিলম্বে কাজে লাগা লোকজনের মেহনত শুরু হয়, রজ্জুবদ্ধ, ও, একটি সাফাইউপযুক্ত কাঁটা নামানো ও তোলা হবে দফায় দফায়। প্রথম দফাতেই, উপস্থিত কর্মীদের, ও, উদ্বিগ্ন, অপেক্ষারত নবার চোখে পড়ল একটি  দৃশ্য:  কুয়া থেকে উঠে এলো উঁচিয়ে থাকা লোহার ঊর্ধ্বমুখী কাঁটাআবৃত রাজ্যের ভেজা পচা পাতা, কিছু ডালপালা, আবর্জনা, ও, জলে ভেজা একটি বই। কিন্তু তার চেয়েও আশ্চর্য, পাতার স্তূপেই কাঁটাটি বেষ্টন করে আপ্রাণ বেরিয়ে আসতে চাইছে একটি সরু আকৃতির কালচে ও ডোরাদাগের সাপ, আপাতত যে অপারগ ও অসহায়। সাপটিকে কাঁটা হতে বের করতে চেষ্টা করে নাকাল হচ্ছিল উপস্থিত সবাই। অনেক খোঁচাখুঁচি করে কাহিল সাপটি বেরোনোর পর একজন মারতে উদ্যত হলে বাকিরা, সাপটি নিতান্ত বিষহীন, এই মর্মে সরীসৃপটিকে রেহাই দেয়, সাপটি বাগানের ইতিউতি বিস্তৃত ঘাসজমি বেয়ে  বাঁদিকের বেড়া বরাবর দ্রুত পালাতে সক্ষম হয়।         এর পর পাতা ও সংশ্লিষ্ট আবর্জনা পাশের জমিতে মিস্ত্রিরা রাখামাত্রই নবা জলে ...

তারাপদর জন্মনক্ষত্র।। শতঞ্জীব রাহা।। সুপ্রকাশ।।

Image
একটি মাত্র গল্পকে নিয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ বই বাংলা ভাষায় খুব বেশি আছে বলে মনে হয়ে না। রবীন্দ্রনাথের 'অতিথি' গল্পটিকে নিয়ে আসছে একটি পূর্ণাঙ্গ বই শতঞ্জীব রাহার 'তারাপদর জন্মনক্ষত্র'। আজ রইলো লেখকের ভূমিকা। ................................... প্রায় তিন দশক পূর্বে এই একই নামে এই রচনাটি ছোটো প্রবন্ধের আকারে রচিত ও প্রকাশিত হয়েছিল একাধিক পত্রিকার পাতায়। পুনঃপ্রকাশের সময় প্রতিটি ক্ষেত্রেই কিছু সংযোজন বিয়োজন ঘটেছিল। পরে, ২০১৯ সালে এটি গ্রন্থাকারে বিস্তারিত হয়। গ্রন্থটি নির্মাণের পরও কয়েকটি ঋতুচক্র পেরিয়ে গিয়েছে। রচনাটির ভরকেন্দ্র বিষয়ে সংশয়ের কারণে তখন গ্রন্থটি প্রকাশিত হয়নি। কেননা একটিমাত্র গল্পকে কেন্দ্র করে একটি গোটা বই লেখার এমন উদাহরণ আমাদের দেশে খুব বেশি আছে বলে মনে হয় না। তবু এমন একটি কাজ করা গিয়েছিল তিনি রবীন্দ্রনাথ বলেই। তাঁর সমস্ত রচনা একটি সমগ্রের অংশ বলেই যে-কোনো অগ্রবিন্দু থেকে দেখতে শুরু করলেও শেষ পর্যন্ত তার অচূর্ণিত সমগ্রকে স্পর্শ করা যায়। বিষয়ের অনুরোধে, লিখন-পরিকল্পনার স্বার্থে, আমরাও সেই সমগ্রের দিকে ইঙ্গিত করতে চেয়েছি, কিন্তু বিস্তারিত হতে পারিনি; বিষয়-সংলগ্ন ...