Posts

দেয়ালের লেখা : এক অন্তহীন প্রকীর্ণ শিল্পকথা।। অনন্ত জানা।। সুপ্রকাশ।।

Image
"এ এমন এক কাজ, যার কথা শিবেশ-যতীশ সুমনের কাছে শুনেছে, ছবিও দেখেছে, তার ইতিহাসও তারা মোটামুটি জানে, কিন্তু নিজেরা কখনও হাতেকলমে করেনি। সুমনও এই গঞ্জদেশে সেই ধরনের দেয়াললেখার কোনো তাগিদ অনুভব করেননি। কিন্তু আজ তারই প্রয়োজন বোধ করলেন। ঘরে ছিল মোটা কার্টিজের কাগজ। তাতেই সুমন এঁকে ফেললেন এই রাঢ়ীয়-বঙ্গের প্রথম গ্রাফিতিটি। খুব সহজবোধ্য বিষয়— দু-জন ভিন্ন শ্রেণীর মানুষ— একজন অর্ধনগ্ন কঙ্কালসার একটি দেহাতি মানুষ— একেবারে নতজানু; অন্যজন ধুতি-সার্ট পরিহিত ভদ্রপানা একজন মানুষ। সকলেই দু-হাতে নিজ নিজ কর্ণধারণ করে আছেন। প্রথমে ছবিটার ক্যাপশন হিসেবে শ্লেষাত্মক কিছু লিখবেন ভেবেছিলেন। কিন্তু ভেবেচিন্তে তা বর্জন করলেন। শুধু বাঁ-হাতের তর্জনিতে ন্যাকড়া-জড়িয়ে ছেলেমানুষী কাগের ঠ্যাঙ-বগের ঠ্যাঙ করে গাঢ় কালো রঙে একটিমাত্র শব্দ লিখলেন— 'অগ্রগতী'। বলাই বাহুল্য হরফের এই কদর্যতা এবং 'অগ্রগতি' বানানের ঐ বিকৃতি একেবারেই ইচ্ছাকৃত। সবুজ বয়সে সুমনের শেখা রাজনৈতিক কৌশলের প্রয়োগ। সন্দেহ হলেও প্রকাশ্যে এমন কথা বলা মুশকিল যে, সুমন বা সুমনের চ্যালারা বানান ভুল লিখেছে! শিল্পের শক্তি ও উপভোক্তার বোধে তাঁর ...

দেয়ালের লেখা : এক অন্তহীন প্রকীর্ণ শিল্পকথা।। অনন্ত জানা।। সুপ্রকাশ।।

Image
বস্তুত শেপার্ড বিগ ব্রাদার চরিত্রটিকে গ্রহণ করেছিলেন জর্জ অরওয়েল [প্রকৃত নাম: এরিক আর্থার ব্লেয়ার (১৯০২-১৯৫০)]-এর 'নাইন্টিন এইটি ফোর' (১৯৪৯/১৯৮৪ সালে পুনর্বার প্রকাশিত) উপন্যাসের ব্যবহৃত 'বিগ ব্রাদার'-এর নাম থেকে। উপন্যাসের শুরুতেই উইনস্টন স্মিথ নামীয় চরিত্রটি 'বিগ ব্রাদার'-এর নজরদারির মুখোমুখি হন। অরওয়েল এপ্রিলের এক উজ্জ্বল ঠাণ্ডা সকালে উইনস্টন স্মিথের সূত্রে বিগ ব্রাদার-এর উপস্থিতির রূপকীয়-বাস্তবতার সঙ্গে পাঠকের এইভাবে পরিচয় করিয়ে দেন: 'হলওয়েতে (ঘরসদৃশ করিডর বা প্যাসেজ- প্রা.) বাঁধাকপি সেদ্ধ এবং পুরোনো ন্যাকড়ার গন্ধ ছিল। প্যাসেজের একপ্রান্তের দেয়ালে ঘরের মাপের সঙ্গে বেমানান বড়ো একটি রঙিন পোস্টার সাঁটানো ছিল। এই পোস্টার জুড়ে এক মিটারেরও বেশি চওড়া একটিমাত্র মুখের ছবি: প্রায় পঁয়তাল্লিশ বছর বয়সী একটি পুরুষের মুখের চিত্রণ— ঘন কালো গোঁফ, মুখটি রুক্ষ হলেও সুন্দর। সাত তলার ফ্ল্যাটে যাওয়ার জন্য উইনস্টন লিফ্ট পাননি, কেননা বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকায় লিফ্টটি অচল ছিল। ঊনত্রিশ বছর বয়সী উইনস্টন তাঁর ডান গোড়ালির প্রায়-স্থায়ী ভ্যারিকোজ আলসার বা ক্ষত নিয়ে ধীরে ধীরে এগিয়ে যাচ...

নষ্ট চাঁদের আলো।। অলোক সান্যাল।। সুপ্রকাশ।। পাঠপ্রতিক্রিয়া

Image
সুপ্রকাশ প্রকাশিত অলোক সান্যালের উপন্যাস 'নষ্ট চাঁদের আলো' পড়ে মতামত জানিয়েছেন সুনীত বিশ্বাস। আমরা তাঁর অনুমতি নিয়ে নিজেদের টাইমলাইন থেকে শেয়ার করছি। ............................................................... আঠারো শতকের উত্তাল আটলান্টিক—নীল জলরাশি যেখানে কেবল ঢেউয়ের খেলা নয়; সেখানে মিশে আছে রক্ত, অদম্য লোভ আর হাজারো মানুষের ভাঙা স্বপ্নের নোনা স্বাদ। দিগন্তজোড়া সেই সমুদ্রপথ ছিল জলদস্যুদের অবাধ বিচরণভূমি। তামাক, তুলো আর চিনি বোঝাই জাহাজ মানেই ছিল লুণ্ঠনের হাতছানি। এই ঝঞ্ঝাবিক্ষুব্ধ সময়েরই এক জীবন্ত কিংবদন্তি—ব্ল্যাকবিয়ার্ড। তার ভয়ংকর রণতরি ‘কুইন অ্যানস রিভেঞ্জ’ যখন দিগন্তে ভেসে উঠত, তখন ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের বাণিজ্যিক মানচিত্রে নেমে আসত আতঙ্কের ছায়া। ওক্রেকোক খাঁড়ির সেই রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে রয়্যাল নেভির হাতে ব্ল্যাকবিয়ার্ডের পতন ঘটেছিল। কিন্তু তার সঙ্গে সাগরের অতল গভীরে হারিয়ে যায় জাহাজ, অগাধ ঐশ্বর্য, আর ইতিহাসের কিছু অমীমাংসিত রহস্য। শতাব্দী পেরিয়ে একবিংশ শতাব্দীতে সেই হারিয়ে যাওয়া সত্যের সন্ধানে আমাদের হাত ধরে নিয়ে যান লেখক অলোক সান্যাল। সমুদ্র-প্রত্নতত্ত্ব...

দেয়ালের লেখা : এক অন্তহীন প্রকীর্ণ শিল্পকথা।। অনন্ত জানা।। সুপ্রকাশ

Image
"পোস্টার শিল্পের শুরুর যুগের সম্ভবত সবচেয়ে স্বীকৃত শিল্পী ছিলেন ইতালিয়ান শিল্পী এমিলিয়াস সেলের (পুরো নাম পাবলিয়াস এমিলিয়াস সেলের)। নির্বাচনী পোস্টার লিখেছেন তিনি, দেয়ালে, বিজ্ঞপ্তিও। সেসময়ে পোস্টারে টেক্সটের পর্যাপ্ত ব্যবহার ছিল। সেলেরের পোস্টারেও। সেলের অঙ্কিত গ্ল্যাডিয়েটর শো-এর পোস্টারে বয়ান ছিল এই রকম: 'টুয়েন্টি পেয়ারস অব গ্ল্যাডিয়েটরস ফার্নিশড্ বাই ডেসিমাস লুক্রেটিয়াস স্যাট্রিয়াস ভ্যালেন্স, পার্মানেন্ট প্রিস্ট অব নিরো, সন অব দি এম্পেরর, অ্যান্ড টেন পেয়ারস্ অব গ্ল্যাডিয়েটরস ফার্নিশড্ বাই ডেসিমাস লুক্রেটিয়াস ভ্যালেন্স হিজ সন, উইল ফাইট অ্যাট পম্পেই এপ্রিল ৮, ৯, ১০, ১১ অ্যান্ড ১২। দেয়ার উইল বি এ বিগ হান্ট অ্যান্ড অনিং। এমিলিয়াস সেলের রোট দিস, অল অ্যালোন বাই দি মুন।' (অগুস্ত মাও: ১৮৯৯) অর্থাৎ সেলের চাঁদের আলোয় একা এটি রচনা করেছিলেন। এখানে নিরোর উল্লেখ দেখে অগুস্ত মাও অনুমান করেছেন যে, এই ঘোষণাপত্রটি ৫০ খ্রিস্টাব্দ থেকে ৫৪ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে রচিত। কেননা নিজের চতুর্থ স্ত্রী এগ্রিপ্পিনা দি ইয়ংগারের পুত্র নিরোকে রোমান সম্রাট ক্লডিয়াস দত্তক নিয়েছিলেন খ্রিস্টীয় ৫০ খ্রিস্টাব্দে এ...

ভূমিকা পুস্তিকা।। উড়নচণ্ডীর পাঁচালি।। সুপ্রকাশ।।

Image
সুপ্রকাশ প্রকাশিত সমরেন্দ্র মণ্ডলের বই 'উড়নচণ্ডীর পাঁচালি'-র ভূমিকা-পুস্তিকা প্রকাশিত। যাঁরা এখনও পড়েননি, তাঁরা বই পড়ার আগেই বইয়ের অংশবিশেষ পড়ে নিতে পারেন। বন্ধুদের সঙ্গে ভাগ করে নিতে পারেন যত খুশি। ডাউনলোড লিঙ্ক  :  https://suprokashbooks.com/wp-content/uploads/2026/02/Bhumika-pustika-Uranchandi_02_02_26.pdf     

সকলই গরল ভেল।। গৌরভ বিশ্বাস।। সুপ্রকাশ।। পাঠপ্রতিক্রিয়া।।

Image
সুপ্রকাশ প্রকাশিত গৌরব বিশ্বাসের নন-ফিকশন 'সকলই গরল ভেল' পড়ে লিখেছেন শুভেন্দুবিকাশ ভট্টাচার্য। আমরা তাঁর অনুমতি নিয়ে নিজেদের টাইমলাইন থেকে শেয়ার করছি। ........................................... সকলই গরল ভেল গৌরব বিশ্বাস সুপ্রকাশ ২৮০ টাকা . প্রথম প্রথম ফেসবুকেই ছোটখাটো লেখা দিয়ে নজর কেড়েছেন গৌরব বাবু। বাংলা সাহিত্যের সঙ্গে কবরখানার হারিয়ে যাওয়া রূপকথার সঙ্গত করতেন।কখনো প্রেম কখনো অপরাধ রিরংসা কখনো অপ্রেম ঐ মাটির নিচে চাপা পড়ে থাকা অনেক যুগ আগেকার গল্প দ্বিতীয়বার ময়নাতদন্তের মতো খুঁড়ে এনে আমাদের পরিবেশন করেছেন।  কিন্তু গৌরব বাবুর কোন ব‌ই ছিল না।তাই এবারের ব‌ইমেলায় ওঁর লেখা "সকল‌ই গরল ভেল" পেয়ে সংগ্রহ করতে আর দ্বিধা করিনি। তারপর এক নিঃশ্বাসে পড়া।পড়ে ফেলার এক সপ্তাহ পরেও রেশ কাটতে চাইছে না। ভাবলাম সবার সঙ্গে ভাগ করে নিই। প্রথমেই দারুণ লাগে প্রচ্ছদের কালকূটের কৌটো। সৌজন্যে সৌজন্য চক্রবর্তী। প্রোডাকশন বাঁধাই সুপ্রকাশের অনবদ্য।১৫২ পাতার সাহিত্যরস সম্পৃক্ত ছোট্ট ব‌ইটির মুদ্রিত মূল্য ২৮০ টাকা মাত্র। এবার আসি মূল কথায়। গল্প নয় সত্য ঘটনা,গল্পের থেকেও রোমাঞ্চকর। প...

দেয়ালের লেখা : এক অন্তহীন প্রকীর্ণ শিল্পকথা।। অনন্ত জানা।। সুপ্রকাশ।।

Image
বোধ হয় ঢাকায় গ্রাফিতিতে সুবোধ এসে পড়ায় আইজুদ্দিনের কষ্টের ইতিবৃত্তে যুক্ত হয় ভিন্নমাত্রার এক উদ্দেশ্যমূলকতা। এই গ্রাফিতিতে সুবোধ যেন এক বিশ্বজনীন চরিত্র। সেখানে কখনও বিশ্বপ্রাণের উৎস সূর্য-রক্ষক সুবোধের হাতে খাঁচার ভেতরে সূর্য! কখনও একা সুবোধ, কখনও তার সঙ্গে একটি শিশুকন্যা। কখনও সুবোধ ছুটন্ত, কখনও গরাদের অন্তরালে বন্দী। কখনও তার ঠোঁটে তর্জনির নিষেধাজ্ঞা। প্রায় সর্বত্র ইংরেজি বানানে 'হবে কি?'— এর উদ্যত জিজ্ঞাসা। সুবোধের গ্রাফিতিগুলিতে টেক্সট ঈষৎ বৈচিত্র্যময়:   'সুবোধ তুই পালিয়ে যা, এখন সময় পক্ষে না।' 'সুবোধ তুমি চুপ থাক।' 'সুবোধ তুই পালিয়ে যা,/এখন সময় পক্ষে না।/মানুষ ভালোবাসতে ভুলে গেছে।' 'সুবোধ তুই পালিয়ে যা, তোর ভাগ্যে কিছু নেই'। 'সুবোধ এখন জেলে, পাপবোধ নিশ্চিন্তে বাস করছে মানুষের হৃদয়ে।' 'এখানে সাপ ভরা চাপ চাপ রুচি।/কাপ ভরা পাপ পাপ ম!/সুবোধ........তুই পালিয়ে যাহ্।' 'সুবোধ, কবে হবে ভোর?' 'সুবোধ তুই পালিয়ে যা/ভুলেও ফিরে আসিস না।' 'সুবোধ তুই ঘুরে দাঁড়া'। 'তবুও সুবোধ রাখিস সূর্য ধরে।' 'সুবোধ তুই ল...