Posts

বৃক্ষমানুষের ছায়া।। দুর্লভ সূত্রধর।। সুপ্রকাশ।।

Image
প্রতিবাস্তবের কিনারা ছুঁয়ে এই উপন্যাস প্রায় মুছে যাওয়া ইতিহাস, অপহৃত ঐতিহ্যের হতমানতা থেকে পাঠককে শ্রম ও উদ্দীপনাময় জাগরণের সম্ভাবনাময় বাস্তবে নিয়ে যেতে চায়। মানবসম্পদের উপসংহারের প্রান্তবর্তী এই স্তম্ভিত সময়ে 'বৃক্ষমানুষের ছায়া' হয়ে উঠতে পারে অনিঃশেষ, অব্যক্ত এক সংগীত। বৃক্ষমানুষের ছায়া দুর্লভ সূত্রধর অলংকরণ : অদ্বয় দত্ত প্রচ্ছদ : সৌজন্য চক্রবর্তী মুদ্রিত মূল্য : ৩৬০ টাকা সুপ্রকাশ       

বাংলা সিনেমার চালচিত্র, প্রথম খণ্ড।। সংকলন, গ্রন্থনা, ভাষ্য : ঋদ্ধি রিত।। সুপ্রকাশ।।

Image
"ঘর ভাঙলে ঋত্বিক শুনতে পেতেন গ্রাম ভাঙার শব্দ—যা সৃষ্টি করে ছিন্নমূল মানুষের কাছে আতঙ্কের এক শূন্যতার পরিসর। যে মানুষ উন্মাদ, শিকড়হীন, ধ্বংসাত্মক প্রলয়ের শেষে তার সাংস্কৃতিক ঠিকানা কী হবে? নিথর শবদেহের ব্যবচ্ছেদ করা কখনই শিল্পীর কাজ নয়। এক প্রকৃত শিল্পীই তার দেশজননীকে স্নেহচ্ছলে বলতে পারে, 'আয় গো উমা কোলে লই'—এই দেশ যখন ক্ষুধায় সর্বস্ব হারিয়ে বিলাপ করে, তখন সে বলতে পারে, 'নামাজ আমার হইল না আদায়'!'        বাংলা সিনেমার চালচিত্র, প্রথম খণ্ড সংকলন, গ্রন্থনা, ভাষ্য : ঋদ্ধি রিত প্রচ্ছদ ও সজ্জা : ঋদ্ধি রিত মুদ্রিত মূল্য : ৬০০ টাকা সুপ্রকাশ         

বৃক্ষমানুষের ছায়া।। দুর্লভ সূত্রধর।। সুপ্রকাশ।।

Image
"গৌর ভাঙতে শুরু করেছিলেন অনেক আগে থেকেই। যেদিন একান্নবর্তী সংসারের মহাবৃক্ষ থেকে গৌর শুকনো পাতার মতো খসে পড়েছিলেন, অনেক ল্যাটা-প্যাটা খেয়ে পড়াশুনো চালিয়ে, বেশ কয়েকটি পেশার ঘাটে-বেঘাটে এলোমেলো ঠোক্কর খেয়ে, অনেক প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা-টরিক্ষা দিয়ে এখনকার চাকরিটা জোগাড় করেছিলেন— তার আগে থেকেই 'ছোটো' আর 'সাশ্রয়' শব্দ দুটো তাঁর সঙ্গী। একটা প্যান্ট, একটা জামা। চটি কিনতেন অবিশ্বাস্য কম টাকার মধ্যে— একেবারে জবাব দেওয়ার আগে সেটাকে বার বার সেলাই করে পিন মেরে চালাতেন। সস্তার হোটেলে পাঁচসিকের ডাল-ভাত-তরকারি। তখন কীই-বা বয়স— অনন্ত খিদে। তবু, অতিরিক্ত ভাত নিতে গিয়ে চারবার ভাবতেন— পকেটের এককোণে পড়ে-থাকা খুচরো পয়সার সঙ্গে ভাতের পরিমাণ মিলিয়ে দেখতেন মনে মনে, তারপর পেটে খিদে নিয়েই খাওয়া ছেড়ে উঠে পড়তেন টেবিল থেকে। কতদিন হয়েছে হোটেলের ভেতরে পা দিয়েও সরিয়ে নিয়েছেন পা— কোয়ার্টার পাউরুটির আধখানা আর একগ্লাস চা দিয়ে সে-বেলাটা চালিয়ে দিয়েছেন। শেষ ট্রেনে নির্বাস বাসভূমিতে নেমে বাসভাড়ার পনেরো পয়সা বা চার-আনা বাঁচাবার জন্য মাইল-চারেক হেঁটে একাকী আশ্রয়ে ফিরতেন দিনের পর দিন। এমনভাবে একসপ্তাহ হা...

হামারটিয়া।। শাক্যজিৎ ভট্টাচার্য।। সুপ্রকাশ।। পাঠপ্রতিক্রিয়া।।

Image
সুপ্রকাশ প্রকাশিত শাক্যজিৎ ভট্টাচার্যের উপন্যাস 'হামারটিয়া' পড়ে মতামত জানিয়েছেন পথিক মিত্র। আমরা তাঁর অনুমতি নিয়ে নিজেদের টাইমলাইন থেকে শেয়ার করছি। ............................................ বই : হামারটিয়া  লেখক : শাক্যজিৎ ভট্টাচার্য   প্রকাশনা : সুপ্রকাশ প্রকাশনা  মুদ্রিত মূল্য : ৩৫০/- এই কলামটি আমি বিগত পাঁচ ছয় বছর ধরে লিখি। তখন আমি বইপাড়ার সাথে নেহাত একজন পাঠক হিসেবে যুক্ত। কাজেই বই পড়ে ভালো, খারাপ যা লাগতো, নির্দ্বিধায় লিখে দিতাম। এরপর যখন নিজের দু একটা বই এলো, একজন লেখক বন্ধু বললেন খারাপ কে খারাপ বলতে নেই। তারপর থেকেই যাকে স্পর্ধা বিদায় নিলো, বিনয় এলো। আজকেও এর ব্যতিক্রম হতো না যদি শাক্যজিৎ ভট্টাচার্যের হামারটিয়া বইটা না পড়তাম। আজকাল থ্রিলারের রমরমা বাজার। পাঠক এবং প্রকাশকের এক দাবি থ্রিলার দাও, যাতে একশন থাকবে, টুইস্ট থাকবে একাধিক, শিহরণ থাকবে, আরো বেশি টুইস্ট থাকবে! সাম্প্রতিক কালে আমার কিছু গল্পের অডিও রূপান্তরের ক্ষেত্রে দেখেছি বারবার শ্রোতা জানাচ্ছেন আরও থ্রিল চাই, আরো রহস্য চাই, আরো টানটান সারপ্রাইজ চাই!! না চাইতেই পারেন পাঠক তবে আমরা যে সা...

শেকল ভাঙার গান।। অলোক সান্যাল।। সুপ্রকাশ।।

Image
"ঢালু জমির মুখে দাঁড়িয়ে প্রতিপক্ষকে চিনে নেওয়ার দুর্বার বাসনায় ঘাড় ঘুরিয়েছিল নূর। প্রথম দর্শনে ঠিক এই কথাটাই নূরের মাথায় উঁকি মারল। সামনে এখন কোনও আড়াল নেই। যেকোনও মুহূর্তে তাকে দেখতে পেয়ে যাবে। যেভাবেই হোক তার আগে গুহায় পৌঁছাতে হবে। সে কি পারবে? গুহাটা যে অনেক উঁচুতে। ভয় দ্বিধা সব ঝেড়ে ফেলে প্রাণপণে ছুটতে শুরু করল নূর। একবার মায়ের কাছে পৌঁছোতে পারলে আর কোনও ভয় নেই। চেহারায় যত তাগড়াই হোক না কেন, তার মায়ের কাছে প্রতিপক্ষ ঠিক জব্দ হয়ে যাবে। আশঙ্কায় বুকটা কেঁপে উঠল পুরন্দরের। বাইনোকুলারে চোখে লাগিয়েও ঘাস-পাতার ফাঁক গলে সে ছুটন্ত বাঘটাকে ঠিকমতো দেখতে পাচ্ছে না। চামড়ার ডোরাকাটা দাগগুলোকে চেনবার আপ্রাণ চেষ্টা করছিল পুরন্দর। বাঘ চেনার এটা অন্যতম উপায়। হলুদ রঙের ওপরে ডোরাকাটা দাগগুলো অনেকটা মানুষের আঙুলের ছাপের মতন। মানুষের আঙুলের ছাপ যেমন ব্যক্তিবিশেষে আলাদা হয়, বাঘেদের ডোরাকাটা দাগও তেমন। সমস্যা তৈরি করেছে তার জিপের সামনে বেখাপ্পাভাবে বেড়ে ওঠা ঝোপ। ঝোপের ফাঁক গলে শরীরের দাগগুলোকে ঠিকভাবে নজর করা যাচ্ছে না। রাজবাগের অঞ্চলে টি২৯-এর রাজত্ব। অবশ্য অনেকদিন হল এদিকটায় তার দেখা মেলেনি। অন্য কো...

অকূলের কাল।। অর্দ্ধেন্দুশেখর গোস্বামী।। সুপ্রকাশ।।

Image
'ভরা শরীর নিয়েই নতুন সংসারে বেশ মগ্ন হয়েছে দোলন। ক্ষিতি অবাক হয়ে দেখে, সামান্য জামাকাপড় আর রান্নার তেল নুন মশলা পুরনো কৌটায় ভরে সাজিয়ে রাখছে সে। রঙচটা কৌটোগুলোতে সব রঙিন কাগজ সাঁটিয়ে চকচকে রূপ দিয়েছে। কাগজ, আঠা— সব সে নাদুকে বরাত দিয়ে আনিয়েছে। দিদির বাড়িতে কিছুদিন থেকে সে রুটি করতে শিখেছে। সে-বাড়িতে প্রতিদিনই রাতে খাওয়ার জন্য দিস্তেখানেক রুটি আর প্রায় এক গামলা গার্হস্থ সংস্করণের তরকা তৈরি হয়। গোটা মুগ আর আলুসেদ্ধ সামান্য গাওয়া ঘি দিয়ে ছকে নেওয়া সেই তরকাও সে অবিকল দিদির মতোই তৈরি করতে শিখে গেছে। রোজই সে মনার সাহায্য নিয়ে কুড়ি-বাইশ খানা রুটি তৈরি করছে। বেশ খিদে বেড়েছে দোলনের। ক্ষিতিকেও কোনো কোনোদিন হারিয়ে দিচ্ছে রুটি খাওয়ায়। তরকা শেষ হলো তো দুধ-গুড় দিয়ে শুরু হলো। গ্রামের বাড়িতে থেকে চুলে জটা পড়লে কী হবে, দুধ খাওয়াটা সে ভালোই অভ্যেস করে ফেলেছে। এই দুধও গ্রামের বাড়ির মতোই খাঁটি দুধ। দিদির বাড়ি থেকে আসে। ভাড়া বাড়িতে গরুও পোষেন তিনি। জামাইবাবুই তদারকি করেন। খাঁটি দুধ ছাড়া রাতে ঘুম আসে না তাঁর। স্বাধীন সংসার একটা পুরো মাসও ভোগ করতে পারল না দোলন। ব্যথা উঠে গেল এক বিকেলে। খবর পেয়ে দিদি এলেন...

অকূলের কাল।। অর্দ্ধেন্দুশেখর গোস্বামী।। সুপ্রকাশ।।

Image
'লোকটির নাম ভগবান দাস। ক্ষিতির মনে হলো স্বয়ং ভগবানই বুঝি চলে এসেছেন তাকে সাহায্য করতে। দইজুড়িতে নেমে ক্ষিতিকে সাইকেলের রডে বসিয়ে হাওয়ার বেগে সাইকেল চালাল ভগবান। তবুও ঘাটে নামতে না নামতেই পশ্চিম আকাশে টুপ করে ডুবে গেল সূর্য। ক্ষিতিকে নামিয়ে দিয়ে ভগবান বলল,— নদী পেরিয়ে যেদিকে শ্মশান দেখতে পাবেন, সেদিকেই সজা হাঁটবেন। এদিক উদিক হেলবেননি মোটে। তাইলেই লালগড় পেয়ে যাবেন। তখনও যেটুকু আলো ছিল তাতে চারদিকে পড়ে থাকা ভাঙ্গা হাঁড়ি, পোড়া কাঠ ইত্যাদি দেখে শ্মশান চিনতে অসুবিধে হলো না ক্ষিতির। শ্মশানের গায়ে লেগে থাকা মোটা আলে পা দিতেই ঝুপ করে দিনের শেষ আলোটুকুও নিভে গেল। সেদিন সম্ভবত অমাবস্যা। নিশ্ছিদ্র অন্ধকার। আন্দাজে পা চালাল ক্ষিতি। আল তো সরলরেখায় চলে না, হামেশাই ডাইনে বাঁয়ে ঘুরে যায়। মাঝে মাঝেই পিছলে যাচ্ছে তার পা। একটু পরে অন্ধকার খানিক সয়ে গেল চোখে। তারাদের ক্ষীণ আলোয় ভরসা করে আল ছেড়ে ধেনোমাঠে নেমে সরলরেখায় চলতে শুরু করল সে। আর তখনই তার সামনে থেকে ছায়ার মতো কিছু সরে গেল, একটু দূরেই সমস্বরে শিয়াল ডেকে উঠল। ডাকাবুকো ক্ষিতির বুকও দুরুদুরু, ধানগাছের গোড়ায় হোঁচট খায় সে। কাঁধের ব্যাগ ক্রমশ ভারী হতে...