শঙ্কর মাস্টার। বরুণদেব। পোস্ট ২
মোমবাতির কাঁপা শিখায় খেয়াঘাটের একমাত্র চায়ের দোকানে আলো ছায়ার ত্রিকোণমিতি। আকাশে গুটিকয় তারা। চাঁদের ইশারা নিয়ে রাত্রি নিবিড় হয়। খণ্ডিত অন্ধকারে গাছেরা দোলায় মাথা। শেষ খেয়া পাড়ে ভিড়লে দিনের ক্লান্তি মুছে ফেলে আত্মমগ্ন হয় খেয়াঘাট। 'সেই হরিনাম তুমি গাইবে কবে'। ঘাটে নৌকা বেঁধে গান গাইতে গাইতে মাঝি উঠে এসে বসে চা-দোকানের বেঞ্চে। 'তুমি শঙ্কর মাস্টারের ছেলে না?' মাঝি প্রশ্ন ছুঁড়ে দেয় আমার দিকে। হাওয়া বয়। জনক জননী হাওয়া। দোকানের বেঞ্চ থেকে উঠে পড়ি আমি। ঘাটে এসে দাঁড়াই। হাওয়ারা বয়। সন্ন্যাসী গ্রীষ্ম, বৈরাগী বসন্ত, জলপরী বর্ষারা ঋতুচক্রের নাগরদোলায় নদীর পাড় ধরে বয়ে যায় জনপদে জনপদে। শিউলি ঝরা শরত শেষে মরচে রঙা কাশের সাথে আলাপনে বসে জনপদের বাতাস। জবুথবু শীতে দুয়ার আঁটে। ঋতুচক্র বয়ে চলে। বয়ে চলে নদী। জনপদ। সময়। সময়ের কথা সময় জানে। আর জানে ভেসে যাওয়া খড়কুটোরা। কালের নিয়মে নশ্বর এ দেহ চিতার আগুন, কবরের মাটি হয়ে বিলীন হয়ে যেতে যেতে রেখে যায় তরঙ্গ কিছু, সময়ের হাত ধরে, সময়ের কাছে। বাতাসে রেণু রেণু স্মৃতি। সেই স্মৃতির সুবাস নিয়ে কণা থেকে কণায় ভাঙতে ভাঙতে, তরঙ্গের সাথে তরঙ্গ জুড়তে জুড়তে, ...