সমর ভট্টাচার্য রচনা সংগ্রহ।। সুপ্রকাশ।।
পাঠশালার পাশেই গীলবার্ট সাহেবের বাড়ি। বাড়ির গঠনটাও বিদেশি ধাঁচের। সামনেটা ফুলের বাগান। বেল, জুঁই এবং বিভিন্ন ঋতুর বিদেশি ফুল ফুটে থাকে সব সময়। ফুলবাগান পেরিয়ে বাড়ি। শ্লেট রঙয়ের। সামনের ঘরটিতে আলমারি ভর্তি বই। সবই ইংরেজি। মধ্যিখানে বসবার চেয়ার টেবিল। ঘরের দেয়ালে টাঙানো ছবি। অংশু জানত না ছবিগুলো কীসের এবং কার। গীলবার্ট সায়েব প্রতিটা ছবি চিনিয়ে দিয়েছেন অংশুকে। অধিকাংশই যিশুখ্রিস্টের ছবি। ক্রুশ ঘাড়ে হাঁটছেন নিজের বধ্যভূমির দিকে। কোনোটাতে পড়ে গিয়েছেন। শেষের ছবিটাতে ক্রুশবিদ্ধ যীশু। মাথায় কাঁটার মুকুট। হাতে পায়ে বুকে নৃশংস পেরেক পোঁতা। তা থেকে রক্ত ঝরছে। মাথাটা কাত হয়ে আছে বাঁ-পাশে। ছবিগুলো দেখে অংশুর খুব কষ্ট হয়েছিল। —'মানুষ মানুষকে এমন করে মেরে ফেলতে পারে?' —'হ্যাঁ পারে। মানুষই তো মানুষকে মারে।' —'কেন মারে?' —'মানুষের স্বার্থে যদি কেউ আঘাত করে তাকে বাঁচতে দেয় না।' —'কী করেছিলেন যিশুখ্রিস্ট?' —'মানুষকে ভালবাসতে শিখিয়েছিলেন। বলেছিলেন, এ-মাটি কোনো রাজার নয়। মানুষের। ঈশ্বরের সৃষ্টি এ-পৃথিবী ভোগ করবে ঈশ্বরের পুত্র মানুষেরা। তাই তো রাজা হেরড রাজদ্রোহী ...