"সাতচল্লিশে যে স্বাধীনতা এসেছিল অনেক রক্ত, দাঙ্গা আর দেশভাগের মিথ্যেকে সঙ্গে নিয়ে, সেই স্বাধীনতারই বছর পাঁচেক পরে বজবজে এসে পৌঁছালেন অদ্ভুত মানুষ একজন। কবি। বিপ্লবী। প্রেমিক। সর্বক্ষণ পায়ের তলায় সর্ষে যেন। এই যে, এখন এই অদ্ভুত এক শূন্যতা ঢাকতে সেই শূন্যতাকে সঙ্গে নিয়েই হেঁটে চলেছে সে সারাক্ষণ— সেই মানুষকেও কি তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে সেরকমই কোনো শূন্যতা? ক্রমশ সারবত্তা হারিয়ে ফেলা বামপন্থা আন্দোলনই কি কারণ সেই শূন্যতার? একটু কি ফিকে হয়ে আসছে লাল টুকটুকে দিন? তবু, পথ একটু ঘেঁটে গেলেও, লক্ষ্য তো স্থির। লক্ষ্য তো দাঁড়ানো সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষগুলোর পাশে। দেখতে থাকা একটা দেশের আসল জীবনধারা। বছর তেত্রিশের বাঙালি যুবক তাই সদ্য ইউরোপ-ফেরতা স্ত্রীকে নিয়ে এসে উঠলেন এই বজবজে। চড়িয়ালের কয়লা সড়কের কাছেই ব্যাঞ্জনহেড়িয়ায়। মানুষের কাছে কী এত বলার তাঁর? কিংবা এতকিছু নয়, বলার শুধু এটাই যে, 'কমরেড আজ নবযুগ আনবে না?' 'নেমেছিলাম চড়িয়ালে। গ্রাম ব্যাঞ্জনহেড়িয়া। চটকল আর তেলকলের মজুরদের বাস। মাটির ঘর। সামনে এঁদো পুকুর। আঠারো টাকা ভাড়া। দু'জনেই সর্বক্ষণের কর্মী। বিনা ভাতায়। লেখালেখি থেকে মাসে সাকু...