Posts

Showing posts from 2026

কোলস্ওয়ার্দি গ্রান্টের 'রুরাল লাইফ ইন বেঙ্গল'।। অনুবাদ ও টীকা : অর্ণব রায়।। সুপ্রকাশ।।

Image
বগাডাঙা আধাআধি রাস্তা। এই জায়গাটাকেই আমরা ঘোড়াদের, চাকরদের ও আমাদের বিশ্রামস্থল হিসেবে ঠিক করে নিয়েছিলাম। ফলে আমরা বাকী দিনটা এখানেই থেকে গেলাম। ঠিক যেভাবে একজন প্ল্যান্টার আর একজন মফঃস্বলের যাত্রী গ্রামে গ্রামে যাত্রা করার সময় থাকে, সেভাবে। ট্রেনে করে যাতায়াত করার সময় যেরকম হুড়োহুড়ি করতে হয়, সেরকম ভাবে একেবারেই নয়, বরং অনেক ধীরেসুস্থে, আরাম করে। তা বলে এটা ধরে নিও না যে একজন প্ল্যান্টার দিনে ষোলো মাইলের বেশি যাত্রা করতে পারে না। যদি দরকার পরে, আর চাষের মরশুমে এরকম দরকার হামেশাই পড়ে, তাহলে বারবার ঘোড়া বদলে তারা দিনে তিরিশ থেকে চল্লিশ মাইল অবধি চলে যেতে পারে।     পরের দিন সকালে আবার চাকরদের মালপত্র দিয়ে আগে পাঠিয়ে দেওয়া হল। আমাদের যাত্রার ব্যাবস্থা আগের দিনের মতোই থাকল। ফেরিনৌকায় নদী পার হয়ে আমরা আবার ঘোড়ায় চড়ে কৃষ্ণনগরের দিকে চললাম। সেটা মোটামুটি আরও ষোলো মাইল দূরে। মাঝখানে আর একটা জায়গায় নদী পার হতে হলো। জায়গাটার নাম হাঁসখালি (মানে হাঁস চলার নদী)। সেখানে গিয়ে দেখলাম একখানা বড়ো ভৌলিয়া নৌকা দাঁড়িয়ে আছে। জানতে পারলাম এইচ— অ্যান্ড ডাব্লিউ— কোম্পানির অতি পরিচিত প্ল্যান্ট...

কোলস্ওয়ার্দি গ্রান্টের 'রুরাল লাইফ ইন বেঙ্গল'।। অনুবাদ ও টীকা : অর্ণব রায়।। সুপ্রকাশ

Image
বন্যা এখন মোটামুটি চরমে। ধানচাষীরা আউশ ধান কেটে ঘরে তুলে ফেলেছে। আর যাকে বলে ঘোলা পানি  সেই লাল রঙের কাদাগোলা জল ওপরের দিকের প্রভিন্সগুলো থেকে নেমে এসে ইছামতী ভরে ভরে বইছে। আর এই কাদাজলের আড়ালেই ঘুরে বেড়াচ্ছে কুমীর। খুব সম্ভবত গরমকালে এরা সুন্দরবনের দিকে চলে গেছিল। এবার তারা তাদের অভ্যস্ত শিকারের স্থলে ফিরে এসেছে। ইতিমধ্যেই গত পনেরো দিনে দুজন হতভাগ্য মহিলা এই আড়ালে আড়ালে ঘুরে বেড়ানো দৈত্যগুলোর শিকার হয়েছে। এই সব দৈত্যদের হাত থেকে সুরক্ষা দেওয়ার জন্যই ঘাটগুলোকে ঘিরে কাঠ আর বাঁশ দিয়ে শক্ত করে বেড়া দেওয়া হয়েছে। এই বেড়া নদীর ভেতরে ছয় থেকে আট ফুট পর্যন্ত এলাকা ঘিরে রেখেছে। এতে যে সমস্ত মানুষ স্নান করতে বা ঘরের কাজের জন্য জল নিতে আসবে, তারা সুরক্ষা পাবে। আর এদেশের পরিবারে এই দায়িত্বটা সবসময় মহিলাদের ঘাড়েই পড়ে। কিন্তু, এই সমস্ত অজ্ঞ, জেদি আর মূলত অদৃষ্টবাদী লোকগুলোর জন্য কোনওরকম সুরক্ষার ব্যবস্থা করার সব চেষ্টাই বৃথা। মি. এফ এখানে বাজারের কাছের ফেরি-ঘাটে এত কষ্ট করে একখানা বেড়া দাঁড় করালেন, কিন্তু যাদের ফায়দার জন্য এত কিছু করা, অন্তত এটুকু তো আশা করা যায় যে তারা এই বেড়াগুলো মেরামতটুকুর দ...

কোলস্ওয়ার্দি গ্রান্টের 'রুরাল লাইফ ইন বেঙ্গল'।। অনুবাদ ও টীকা : অর্ণব রায়।। সুপ্রকাশ

Image
তেলের ঘানি বা তেল পেষানোর মিল যে ঠিক কী জিনিস, সেটা আমার কলমের থেকে আমার পেনসিল তোমাদের ভালো বোঝাতে পারবে। সাধারণত একটা গোটা কুঁড়েঘর জুড়ে একটা ঘানি হয়। সেখানে পুরো জায়গাটা লাগে ‘অন্ধ বাহক’-টির জন্য— সে আসলে একটা শান্ত অত্যন্ত ধৈর্য্যশীল চোখে ঠুলি পরানো বলদ। সে এক এক বারে তিন ঘণ্টা ধরে ধীরে ধীরে ঘানি ঘোরানোর ক্লান্তিকর পরিশ্রমের কাজটা করে থাকে।     সরষে পিষে তেল বের করার যে মূল যন্ত্র তাকে বলে ঘানি গাছ। এই ঘানি গাছ তৈরি করা হয় অশ্বত্থ বা বটের নিরেট গুঁড়ি থেকে। সেটাকে ঘষে ঘষে মসৃণ করে একটা নির্দিষ্ট আকারে আনা হয়। তারপর সেটাকে শক্ত করে মাটিতে পুঁতে দেওয়া হয়। এর ওপরের অংশটাকে বলা হয় পিঁড়ে। এটি একটি হামানদিস্তার হামান বা বাটির কাজ করে। এর নীচের অংশে একটি গর্ত থাকে। তার মধ্যে সরষে বা যা পেষাই করা হবে সেটিকে ঢেলে দেওয়া হয়। এর মধ্যের হামানদিস্তার মুষল অংশটি যাকে ঝাঁট বলা হয়, সেটিকে ঢুকিয়ে পেষাই-এর কাজটা করা হয়। একটা বাঁশের হেলেদার আড়াআড়িভাবে পাশ থেকে লাগানো থাকে। এতে করে খোঁদলের মধ্যে দেওয়া বীজ ক্রমাগত নাড়া যায়। এছাড়া হামানদিস্তার মধ্যে ক্রমাগত পেষাইয়ের জন্য মাল সরবরাহও করা যায়। ...

নিভৃত কুহক।। অলোক সান্যাল।। সুপ্রকাশ

Image
পর্ণশ্রী আবাসনে জোড়া খুন। ঘটনাস্থল পাঁচ তলার সেই ফ্ল্যাট, একবছর আগে যেখানে এক যুবকের রহস্যজনক ভাবে মৃত্যু হয়। তদন্তে নামেন পুলিশ অফিসার সূর্যশেখর সেনগুপ্ত। মৃত মানুষের অতীত, কর্পোরেট দুনিয়ার গোপন হিসেব, সম্পর্কের ভাঙন এবং মানুষের মনের অদ্ভুত নানান বাঁক। সব মিলিয়ে সত্যিটা ক্রমশ অধরা হয়ে ওঠে। মানুষ কেন বদলে যায়, কতটা বদলাতে পারে, আর সেই বদলের দায় শেষ পর্যন্ত কার— এই প্রশ্ন বারবার ফিরে আসে উপন্যাস জুড়ে। নিভৃত কুহক অলোক সান্যাল প্রচ্ছদ : সৌজন্য চক্রবর্তী মুদ্রিত মূল্য : ৩৭০ টাকা সুপ্রকাশ

নিভৃত কুহক।। অলোক সান্যাল।। সুপ্রকাশ।।

Image
বাজার থেকে ফেরার পথে মনে মনে প্রস্তুতি নিচ্ছিল সে। গেট পেরিয়ে পিচ ঢালা রাস্তা দিয়ে অনসূয়া যত এগিয়ে যাচ্ছিল, তত অজানা এক আশঙ্কা ভর করছিল তার ওপরে। সামনে অত লোকজন কেন? আরও কয়েক কদম হেঁটে যেতে সিকিউরিটির চেনা একটা মুখকে দেখতে পেয়েছিল সে। তার দিকে চেয়ে আছে। চোখ দুটো প্রবলভাবে কিছু বলতে চাইছে, কিন্তু পারছে না বেচারা। নীচতলার কয়েকজন আবাসিকও তার দিকে একইরকম ভঙ্গিতে তাকিয়ে। অধিকাংশই মহিলা। রিটায়ার্ড যাঁরা, তাঁরাই কেবল জমায়েতে যোগ দেওয়ার সুযোগ পেয়েছেন। এমনকি এ উইংয়ের মিসেস আগরওয়ালও তাঁর ভারী শরীর নিয়ে হাজির। হঠাৎ তাদের বিল্ডিংয়ের সামনে জমায়েতের কারণ কী? 'মিসেস গাঙ্গুলি...' ঘোলাটে দৃষ্টিতে তাকিয়েছিল অনসূয়া। ভদ্রলোক যে আবাসনের সেক্রেটারি সেই মুহূর্তে এটুকুও তার মনে ছিল না। কেবল এক অদ্ভুত নিস্তব্ধতা যেন ভীষণ ভারী পাথরের মতো চেপে বসেছিল বুকের ভেতর। ভদ্রলোক আর কী বলেছিলেন, আরও অনেকে কী কী বলেছিল, কিছুই তাকে ছুঁতে পারেনি। দু-একজন তার হাত চেপেও ধরেছিল। সামনে পাঁচিল তুলে দাঁড়িয়েছিল আরও কয়েকজন। যেন কোনো বিদঘুটে দৃশ্যকে দারুণ গোপনীয়তায় মুড়ে রাখতে চাইছিল সকলে। কিন্তু তারা পারেনি। সমস্ত আড়াল ভেঙে স...

কোলস্ওয়ার্দি গ্রান্টের 'রুরাল লাইফ ইন বেঙ্গল'।। অনুবাদ ও টীকা : অর্ণব রায়।। সুপ্রকাশ।।

Image
হুগলী নদীর জল কেটে যত জলযান যাতায়াত করে তার মধ্যে আমার সবচেয়ে সুন্দর মনে হয় ইলিশ মাছ ধরার নৌকাগুলিকে। এই একহারা চেহারার নৌকাগুলি, যদিও লম্বায় অনেক বড়, দুদিকে সরু হয়ে যাওয়ার কারণে দেখে মনে হয় তাদের পূর্ণ দৈর্ঘ্যের এক তৃতীয়াংশ জায়গাই দখল করে আছে মাত্র। এই নৌকাগুলি মোটামুটি জনাপাঁচেক লোক বহন করতে পারে। আর মাছ ধরার মরশুমে এর সঙ্গে একটা ৬ ফিট চওড়া আর মোটামুটি ৩০০ ফিট লম্বা জাল আটকানো থাকে। এই জালের নীচের লম্বা দিকটায় হালকা হালকা ওজন আটকানো থাকে। আর ওপরের দিকটা ধরে থাকে বাঁশের কাঠামো। আর যখনই মাছ ধরার সময় আসে, বাঁশের কাঠামো সমেত জাল নেমে গিয়ে জলের ভেতরে একখানা প্রাচীর তৈরি করে দেয়। স্রোতের সঙ্গে দ্রুত সাঁতার কেটে আসা ইলিশ মাছগুলির ডানা এই জালের প্রাচীরে আটকে যায় আর তারা পালাতে পারে না। মাঝে মাঝে দেখা যায় এই বিশালাকার জালগুলো নদীর অর্ধেকটা জুড়ে টাঙানো আছে। এমনভাবে টাঙানো আছে যে দরকার পড়লে কাঠামোসুদ্ধু জালকে এতটাই গভীরতায় নামিয়ে দেওয়া যাবে যে বড় নৌকা বা স্টিমার ওপর দিয়ে গেলেও কোনো ক্ষতি হবে না। এই সময় জালসুদ্ধু নৌকাটিই স্রোতের সাথে সাথে ভেসে চলে। স্রোতের বিরুদ্ধে যাওয়ার কোনোরকম প্রচেষ্টাই জা...

কোলস্ওয়ার্দি গ্রান্টের 'রুরাল লাইফ ইন বেঙ্গল'।। অনুবাদ ও টীকা : অর্ণব রায়।। সুপ্রকাশ

Image
এই মুহূর্তে আমাদের নদীঘাটে একখানা স্টিমার দাঁড়িয়ে আছে। আধুনিক পক্ষীরাজ। নাম ‘মির্জাপুর’। আজকাল ভারতের নদীগুলিতে যত নৌকো ইত্যাদি জলযান চলছে, তাদের মধ্যে বৃহত্তম। এই স্টিমারই আমাকে মফস্বল যাত্রায় সুখসাগরে মাত্র ছয় ঘন্টায় আরামে নিয়ে এসেছে। নয়ত বজরায় চেপে গদাইলস্করি চালে এই পথ পাড়ি দিতে কমসে কম দুদিন লাগত। স্টিমারের উঁচু চেহারা নদীর আর যত জলযান আছে সবার মধ্যে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকে। গোটা নদীর প্রস্থ জুড়ে অসংখ্য দেশী নৌকা। তাদের চেহারা জবরজং, গতি ধীর আর কিছুতেই বাগে আনা যায় না। আমাদের স্টিমারের উঁচু মাথা তার মধ্যে সগর্বে অনেক ওপরে দাঁড়িয়ে রয়েছে। এত নৌকার ভীড়ে ক্যাপ্টেনের খুবই দক্ষতা, যত্ন আর ধৈর্য্য না থাকলে অন্তত ডজনখানেকের সলিল সমাধি না ঘটিয়ে কোনও জলযানের পক্ষে এক পা-ও এগোনো সম্ভব নয়। এই বিরাট উঁচু স্টিমারের ওপর বসে আমি দুপাশের তীরের গ্রামের দৃশ্য যেভাবে উপভোগ করেছি, এতদিন এদেশের গ্রামকে সেভাবে দেখার সৌভাগ্য আমার হয়নি। বাংলার এই প্রান্তে এসে চারপাশে চাষাবাদ তবু কিছু দেখতে পাচ্ছি। একটু দেরির দিকে হলেও বৃষ্টি যে অত্যধিক হয়েছে, তারও প্রমান পাওয়া যাচ্ছে। ত্রিবেণী বা বাঁশবেড়িয়ার কাছে নদী দ...

কোলস্ওয়ার্দি গ্রান্টের 'রুরাল লাইফ ইন বেঙ্গল'।। অনুবাদ ও টীকা : অর্ণব রায়।। সুপ্রকাশ।।

Image
নীল উৎপাদনের মরশুম যখন আসে, গোটা ফ্যাক্টরিটা আর তার সব মানুষজন যেন নতুন প্রাণ পেয়ে জীবন্ত হয়ে ওঠে। যদি কারখানা ছোটো হয়, সেখানে অল্প পরিমাণ নীল উৎপাদন হয়, যেমন ধরা যাক কোনো কারখানায় যদি এক মরশুমে ২৫০ মণ বা ১৭ কুইন্টাল নীল উৎপাদন হয় তাহলে এই কাজটুকু করার জন্য প্রয়োজনীয় শ্রমিক আশেপাশের এলাকা থেকেই পাওয়া যায়। চাষীদের বিশেষ করে এই মরশুমের জন্য কাজে নেওয়া হয়। কিন্তু, যদি ফ্যাক্টরি বড়ো হয়, যেমন মূলনাথে, সেক্ষেত্রে অন্তত শ’খানেকের বেশি লোক পাশের জেলা থেকে ভাড়া করে আনতে হয়। বেশ কিছু আসে মেদিনীপুর জেলা থেকে। কিন্তু বেশিরভাগ শ্রমিকই হলো মানভূম বা সিংভূম জেলার জঙ্গুলে আদিবাসী। বাঁকুড়ার আশেপাশের অঞ্চলে তাদের জঙ্গল মেহার-ও বলা হয়। সাধারণভাবে এদের ভূনা বা ভূনওয়া কুলি বলা হয়।   এই গরিব মানুষগুলো সম্ভবত একশো কুড়ি মাইল দূর থেকে আসে, সামান্য মাইনেতে একটা কাজ পাবার জন্য। সে কাজের মেয়াদও আবার খুবই অল্প কয়েকটা দিন। এই লোকগুলি বাড়ি থেকে রওনা হওয়ার আগে অগ্রিম হিসেবে গোটা তিনেক টাকা পায় যাতে করে তাদের অবর্তমানে তাদের পরিবারগুলি খেয়ে পরে বেঁচে থাকে। এদের মিতব্যায়িতা এমনই যে যখন এরা মরশুম শেষে ফিরে যায়,...

জনবিলাসের বারোমাস্যা।। সমরেন্দ্র মণ্ডল।। সুপ্রকাশ।।

Image
বিলাস পা বাড়াল বোর্ডিং হাউসের দিকে। এই ছোট্ট ঘিলুর বয়সেই তার ভিতর দ্বন্দ্ব শুরু হল। বোর্ডিং হাউসের দিকে যেতে যেতেই তার মনে হল, সে তো বিলাস। বিলাস সরকার। কোথা থেকে যে একটা জন এসে ওর ঘাড়ে বসল! সে মায়ের কাছে ভূতের গল্প শুনেছে অনেক। তার মনে হল জন একটা ভূত। তার ঘাড়ে চেপে বসেছে। জন নামটাকে সে মেনে নিতে পারছে না। কিন্তু সবাই ওকে জন বলে ডাকছে। আর জন ঘাড়ে চেপে বসতেই তার ভিতর কেমন রাগ রাগ অনুভূতি দেখা গেল। বিলাস ছিল নম্র, মৃদুভাষী। তার ভিতর ক্রোধ নামক রিপু কোনওদিন সেভাবে বাসা বাঁধেনি। কখনও সখনও অল্প স্বল্প রেগেছে ঠিকই, কিন্তু সে সাময়িক। কিন্তু এখন যেন ক্রোধ ওর ভিতর চোরাস্রোতের মতো ধীরে ধীরে প্রবাহিত হচ্ছে। সে ঘাড় ঘুরিয়ে দেখল পিতৃদেব অফিসঘরের সামনে বারান্দার রেলিংয়ে হাত রেখে তার দিকে তাকিয়ে আছেন। পাশে সেই সাদা ফাদার। বিলাস প্রশ্ন করল সতীশকে, উনি কে? —কে? —ওই যে বাবার পাশে দাঁড়িয়ে আছেন। সাদা ফাদার। হাসল সতীশ। বলল, উনি ফাদার অ্যান্টনি। আমরা বলি ফাদার আন্তন। উনি এখানে সবচেয়ে বড়ো। বড়ো ফাদার। বিলাস কী বুঝল কে জানে। বলল, ও। সতীশ বলল, তোমার জিনিসপত্র রেখে, তোমাকে নিয়ে ঘুরব। তোমার মা কিছু খাবার দিয়েছেন? ...

জনবিলাসের বারোমাস্যা।। সমরেন্দ্র মণ্ডল।। সুপ্রকাশ।।

Image
বিলাস চলেছে আবাসিক বিদ্যালয়ে। মিশনারি বিদ্যালয়। এই বিদ্যালয় সম্পর্কে তার পূর্ব ধারণা নেই। না থাকাটাই স্বাভাবিক। তার হাফপ্যান্টের বয়সে এবং যে কিনা প্রকৃতির ভিতর লিপ্ত ছিল, তার পক্ষে শহুরে বিদ্যালয় সম্পর্কে না জানাটাই স্বাভবিক। পিতৃদেবের মুখনিঃসৃত সংবাদে মাতৃদেবী যে ধারণা অর্জন করেছিলেন এবং উপদেশের ছলে তিনি বিলাসকে যা বলেছিলেন, তা থেকে তার বোধ তৈরি হয়েছে সাদা চামড়ার আলখাল্লা পরিহিত মিশনারিরা এই বিদ্যালয়ের পরিচালক। সেখানে অনেক বালক বাস করে। বিরাট বিরাট অট্টালিকা। বিদ্যালয় এবং আবাসন একটি প্রাচীর ঘেরা জায়গায় অবস্থিত। কঠোর নিয়মের নিগড়ে তাদের বাস করতে হয়। সবই চলে নিয়মমতে। সে চলেছে ট্রেনে চেপে। এর আগে বহরমপুর যাওয়ার জন্য সে ট্রেনে চেপেছিল, কিন্তু সেই স্মৃতি অনেকটা ধূসর হয়ে গিয়েছে। এবারের স্মৃতিটা হবে নতুন। ফলে সে কিছুটা উত্তেজিত। আরেকটা কারণেও সে কৌতূহলী, সেবার ট্রেন গিয়েছিল উত্তরমুখী, এবার দক্ষিণমুখী। ট্রেনের একটা খোপে তারা উঠল। সে ছুটে গিয়ে জানলার ধারে বসল। পিঠে হেলান দেওয়া কাঠের বেঞ্চি, ফাঁক ফাঁক করা। পিতৃদেব বললেন, দাঁড়া, কাপড়টা পেতে দিই। সে উঠে দাঁড়াল। পিতৃদেব ঝোলা থেকে মায়ের একটি ছিন্ন শ...

কোলস্ওয়ার্দি গ্রান্টের 'রুরাল লাইফ ইন বেঙ্গল'।। অনুবাদ ও টীকা : অর্ণব রায়।। সুপ্রকাশ

Image
শহরের ইউরোপীয় অংশ ছাড়িয়ে আর উত্তরদিকে নদীবন্দরের মুখে জড়ো হওয়া অসংখ্য মালবাহী দেশীয় নৌকার ভিড় পার করলে প্রথম যে জিনিসটা চোখে পড়বে সেটা একটা ভাঙাচোরা দেখতে চতুষ্কোণ চত্বর, নদীর দিকে খোলা মুখ, বাকি দিকগুলোয় প্রাচীর দেওয়া। এই প্রাচীরের গায়ে বিরাট মাঠ। আর এই মাঠেই এক কাঁচা চামড়ার ব্যবসায়ী কিছু সাফাই আধিকারিককে সঙ্গে করে কলকাতা শহরের মৃত চতুষ্পদদের নিয়ে তার সুচারু কাজকারবার চালিয়ে থাকে। আর ওই প্রাচীরের ওপর সারাক্ষণ গোটা পঞ্চাশেক ক্ষুধার্ত শকুন হাঁ করে বসে থাকে। আর নীচে, আবর্জনা আর হাড়ের স্তূপের মধ্যে ঘুরে বেড়ায় একই রকম ক্ষুধার্ত জঘন্য দেখতে কিছু রাস্তার কুকুর। তাদের সাথে ওই ময়লা ঘেঁটে পাওয়া পুরস্কার নিয়ে কাড়াকাড়ি করে গোটা কুড়ি দৈত্যাকার সারস।     এই বাড়িটাকে   শ্মশানঘাট বলে। হিন্দুরা এই জায়গাটা ঘিরে দিয়ে অন্য জায়গার থেকে আলাদা করে রাখে তাদের মৃতদের দাহ করার জন্য। যখন আমি ‘হিন্দুরা’ বলছি, তখন বুঝতে হবে আমি বলতে চাইছি, যাদের মৃতদেহ দাহ করার ক্ষমতা আছে, তারা। কিন্তু দুর্ভাগ্যক্রমে, হিন্দু সমাজের অর্ধেকের বেশি মানুষ এই ক্ষমতা রাখে না। আর তোমরা ভালো করেই জানো, দু একটি ব্...

কোলস্ওয়ার্দি গ্রান্টের 'রুরাল লাইফ ইন বেঙ্গল'।। অনুবাদ ও টীকা : অর্ণব রায়।। সুপ্রকাশ।।

Image
যাত্রা শুরুর কথা বলতে গেলে আমাদের চলে যেতে হবে ঘাটে, যেখানে সমস্ত নৌকাগুলো এসে জড়ো হয়। আর কোন ঘাটে নৌকার সমাগম সবচেয়ে বেশি হয়, তা খুঁজতে গেলে আমাদের প্রথমেই যে ঘাটের কথা মনে আসবে সেটা হল বাবুঘাট। ঘাট বলতে কিছুই না, কয়েক ধাপ সিঁড়ি জলের দিকে নেমে গেছে। তার ওপরে একটা অনেকগুলো থামওয়ালা চাতালের মতো ঢাকা দেওয়া এলাকা। যে দেশীয় ভদ্রলোক এটি তৈরি করেছেন, থামের গায়ে তার নাম খোদাই করা। পাশেই একটা বিশাল অশ্বত্থ গাছ অনেকটা এলাকা জুড়ে ছাতা ধরে আছে। পুণ্যবতী হিন্দু মহিলাদের গঙ্গাস্নান সেরে উঠে আসার সময় হাতের তামার লোটা করে জল এনে এই অশ্বত্থ গাছের গোড়ায় দিতে দেখা যায়। তামার লোটা সবসময় তাদের হাতে থাকে।  . . কোলস্ওয়ার্দি গ্রান্টের 'রুরাল লাইফ ইন বেঙ্গল' অনুবাদ ও টীকা : অর্ণব রায় . প্রচ্ছদ : অজন্তা হাজরা মুদ্রিত মূল্য : ৫৫০ টাকা সুপ্রকাশ

আহাম্মকের খুদকুড়ো।। দুর্লভ সূত্রধর।। সুপ্রকাশ।। পাঠপ্রতিক্রিয়া

Image
সুপ্রকাশ প্রকাশিত দুর্লভ সূত্রধরের বই 'আহাম্মকের খুদকুড়ো' পড়ে গুডরিডস্-এ মতামত জানিয়েছেন পৌলমী ঘোষ। আমরা নিজেদের টাইমলাইন থেকে শেয়ার করছি।  .......................................................... দুর্লভ সূত্রধরের লেখার সঙ্গে আমার দ্বিতীয় পরিচয় আহাম্মকের খুদকুড়ো। 'অনন্যবর্তী' পড়ে তাঁর লেখার যে সহজ-সরল অথচ গভীর স্বরটির সঙ্গে পরিচয় হয়েছিল, এই বইয়ে এসে সেই স্বরটাকেই যেন আরও ব্যক্তিগত, আরও অন্তরঙ্গভাবে পেলাম। এটি আসলে কোনো সাজানো-গোছানো আত্মজীবনী নয়। বরং জীবনের এদিক-ওদিক ছড়িয়ে থাকা কিছু টুকরো স্মৃতি-শৈশব, স্কুল, শিক্ষক, বন্ধু, বাড়ির মানুষ, পাড়া, উৎসব, খাবার, অভাব, আনন্দ, ছোট ছোট বিস্ময় আর সময়ের বদলে যাওয়া। লেখক নিজেই যেন সেইসব স্মৃতির খুদকুড়ো কুড়িয়ে এনে আমাদের সামনে সাজিয়ে দিয়েছেন। আর আশ্চর্যের বিষয়, যেগুলোকে জীবনের সামান্যতম ঘটনা বলে পাশ কাটিয়ে যাওয়া যায়, লেখকের হাতে সেগুলোই হয়ে উঠেছে এক একটি সম্পূর্ণ গল্প। এই বই পড়তে পড়তে আমার বারবার মনে হয়েছে— মানুষের জীবনে আসলে বড় ঘটনা যতটা না থেকে যায়, তার চেয়ে অনেক বেশি থেকে যায় ছোট ছোট মুহূর্ত। জ্বরের দিনে মায়ের হাতে পাওয়া কোনো...

লেটারপ্রেসের কম্পোজিটর : এক বিষাদান্ত পরম্পরা ।। অনন্ত জানা।। সুপ্রকাশ।। পাঠপ্রতিক্রিয়া।।

Image
সুপ্রকাশ প্রকাশিত অনন্ত জানার বই 'লেটারপ্রেসের কম্পোজিটর : এক বিষাদান্ত পরম্পরা' পড়ে মতামত জানিয়েছেন সৌরজিৎ বসাক। আমরা তাঁর অনুমতি নিয়ে নিজেদের টাইমলাইন থেকে শেয়ার করছি। ..................................................... পাঠ প্রতিক্রিয়া— ➤ বই :  লেটারপ্রেসের কম্পোজিটর : এক বিষাদান্ত পরম্পরা  ➤ লেখক : অনন্ত জানা ➤ প্রকাশক : সুপ্রকাশ   ➤ মুদ্রিত মূল্য : ২৯০ টাকা ➤ প্রচ্ছদ শিল্পী : সৌজন্য চক্রবর্তী  ➤ অলংকরণ শিল্পী : সুলিপ্ত মণ্ডল  পাঠক-জীবনের মুসাফিরনামায় এই যে এতশত শব্দের সমুদ্রের (নিদেনপক্ষে স্রোতস্বিনী নদী তো বটেই) মধ্যে দিয়ে বৈঠা বেয়ে এগিয়ে চলতে হয়, সেটির কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা ‘বই’ নামক ‘দুই-মলাটে-বন্দি’ সত্তার বোধকরি দু’রকমের আত্মপ্রকাশ। তার মধ্যে প্রথমটা তো সুপরিচিত লেখক-পাঠক যুগলবন্দি, কিংবা একটি গ্রন্থ যা বলতে চায়, শোনাতে চায়। কিন্তু এরপর দ্বিতীয় যে বিষয়, যা কিনা অনেকটাই অব্যক্ত — অর্থাৎ, কাগজ-কালির কাঁচামাল হতে সম্পূর্ণ গ্রন্থে উত্তরণের যে যাত্রা, সেই শেষ-হতে-না-চাওয়া যাত্রার অভিযাত্রীদের নিজস্ব ইতিকথা।  প্রাসঙ্গিকতার খাতিরে আমরা...

উত্তরেই যায় চিঠি।। কৌশিক ঘোষ।। সুপ্রকাশ।।

Image
বাগানের দিকে যেতেই এককোণে নয়নতারা গাছটার দিকে চোখ পড়ে তার, যেটা সেই এক বৃষ্টির দিন ভিজতে ভিজতে তারিক খালপাড় থেকে এনে এখানে পুঁতেছিল। উচ্চতা কোমর অবধি বড়জোর, কয়েকটা বেগুনি ফুল ফুটে আছে। কুলগাছে অনেক কুল, কিছু কুল পেকেছে, কেউ বিশেষ আসেনি এবার। লেবুগাছ, কুলগাছ, কুয়া, সবজির খেত, দুদিকের নারকেল, পেয়ারাগাছ ফেলে এগিয়ে যায় নবা পুকুরের দিকে। পরিধি বরাবর গোল হয়ে হেঁটে বেড়ার ওপারে নো ম্যানস ল্যান্ডের দিকে একবার তাকায়। এই জায়গাটা আশ্চর্য, একই রকম অন্ধকার, ছায়াময় মনে হয় এইদিক থেকে। দূরে ক্ষীণ রাস্তার আড়ালে বেলগাছটা অবধি দৃষ্টি যায়। ওদিকে যে কোনো রাস্তা আছে, এখান থেকে টের পাওয়া যায় না।       ঘাটে ফিরে আসে সে, ওপরের পাদানিতে বসে। তারিক কবে আসবে বলতে পারল না মানিক। কোথায় গেছে, রাণীগঞ্জ, পিনকোড কত? তারিককে ঠিকানা জোগাড় করে চিঠি লিখে চমকে দেবে সে?  তারিক কি উত্তর দেবে? ঘাটের দিকে ধাপগুলো ডুবে গেছে ফের, দুটো আঁকাবাকা আনাড়ি হাতের লেখার দুটো নাম তৃতীয় ধাপে আছে, সে জানে, আবার জাগবে আগামী গ্রীষ্মে, যখন জল টানতে টানতে চৌচির হয়ে যাবে মাটি। হঠাৎ তার চোখে ভেসে ওঠে ...

উত্তরেই যায় চিঠি।। কৌশিক ঘোষ।। সুপ্রকাশ।।

Image
সন্তুদার  শেষ চিঠি এসেছিল দিন পনেরো আগে। ওর কলকাতার বন্ধুরা বেড়াতে চায় এখানে, নিয়ে আসবে, চিঠিতে লিখেছিল। কলেজ স্ট্রিট, টবিন রোড, এইসব জায়গার কথা থাকে। নবা একবারই কলকাতা গেছিল। নিমাই পার্টির একটা জমায়েতে নিয়ে গেছিল তাকে আর রাণীকে, তখন নবার ক্লাস এইট। ট্রেন ছুটছে কোলাঘাট ব্রিজের ওপরে, ঝম ঝম শব্দ, তারপর ট্রেনটা একটা জায়গায় বাঁক নিয়েছিল, পথ ফুরাতেই চায় না আর। সে ট্রেনের জানলা থেকে বিস্ময়ে দেখেছিল পাওয়ার প্ল্যান্টের গা থেকে কুয়াশার মত কী যেন উঠছে, ঠিক ধোঁয়া নয়, যেন মেঘ, নাকি ঘনকুয়াশা, উড়ে যাচ্ছে। দুদিকের কত জনপদ আর কত স্টেশন পার করে শেষে ট্রেন থেমেছিল। হাওড়া স্টেশন থেকে মিছিলে হাঁটতে হাঁটতে একটা জায়গায় মিছিল এসে দাঁড়িয়েছিল, ওফফ এত লোক সেখানে... আর চতুর্দিক থেকে বাস, গাড়ি—নবার ভয় হচ্ছিল, সে নিমাইয়ের কাছাকাছি থাকার চেষ্টা করছিল আপ্রাণ। সেই মিটিংয়ে অনেক নেতা এসেছিল, নিমাই নাম বলছিল, দেখাচ্ছিল তাকে আর রাণীকে, সেসব নাম তার আর সব ভাল করে মনে নেই। একসময় নিমাই বলল, রাণী, ওই দ্যাখ, মৃণাল সেন। নবা দেখেছিল, মৃণাল সেনের জুলফির কাছটা খড়ির মত ঘষা। একটাই সিনেমা সে দেখেছিল মৃ...

উত্তরেই যায় চিঠি।। কৌশিক ঘোষ।। সুপ্রকাশ।।

Image
এগোয় নবা। গলিপথ ধরে। যখন সে পৌঁছয় দেখে প্রায় সবাই এসে গেছে, মেয়েদের জায়গাগুলো নির্দিষ্ট, ছেলেদেরগুলো বদলে বদলে যায়, যে আগে যাবে সে নিজের পছন্দের জায়গা দখল করে। শুধু বিবেক নিজের জায়গার ব্যাপারে চেঁচামেচি করে। আজ একদম কৌণিক ও দূরবর্তী অবস্থানে পাপিয়া। একবার কি তাকাতে চাইল এদিকে? হতে পারে, নাও পারে। আগেরদিন যে নবা তার পেছনেই ছিল, টের পেয়েছে? কাউকে বলবে? কিন্তু, নবারই বা কী করার ছিল? সে তো বাড়িই যাচ্ছিল। হলুদের বাটি নিয়ে আসেন দীপেন স্যার। একটা কাঁচা হলুদের টুকরো চেবান, বাটিটা একপাশে রাখেন। শতরঞ্জিতে বসেন। যারা ক্লাস নাইনের, আর ক্লাস টেনের যারা তারাও দেখো, হয়ত আগে পড়েছ, নিউটনের গতিসূত্র তো আগের দিন কিছুটা হয়েছে। নবার মনে পড়ে, আজ এডিশনাল ফিজিক্সের দিন। একজনের খাতা টেনে নেয় দীপেন স্যার, সবাই খাতা পেন খুলে বসে। ত্বরণের একক কী? দীপেন স্যার শুধান। মিটার ভাজিত বর্গ সেকেন্ড । বর্গ সেকেন্ড কেন এলো? এটা কিন্তু বোঝা দরকার। কেউ বলো, আশেপাশে তাকায় দীপেন স্যার। উত্তরটা জানে নবা। কিন্তু মুখ খুলতে চায় না। কোণার দিকে একবার চোরা চোখে তাকায়, পাপিয়া মুখ নিচু করে আছে। নবার দিকে, এই মুহূর্ত...

উত্তরেই যায় চিঠি।। কৌশিক ঘোষ।। সুপ্রকাশ।।

Image
বল্লভপুর-পার নবা কিছুটা সচেতন ছিল,  হরি সিনেমা পার করে ভেবেছিল এবার বুঝি পাপিয়া সোজা চলে যাবে। সেক্ষেত্রে, তার পরবর্তী সিদ্ধান্ত কী হতো, হে পাঠক, নির্ণয় করা দুরূহ। এক্ষেত্রে মাত্র দুটি সম্ভাবনা ছিল, এক্ষেত্রে বিবেচনা বলে, নবা তার গন্তব্যনির্ধারিত বাঁদিকের সরু গলি ধরবে, কিন্তু অন্যথায়  যদি পাপিয়া অন্য রাস্তাটি ধরত সেক্ষেত্রে অনুসরণকারী, এড্রিনাল সার্জ বিচলিত নবা, সচেতন বা অচেতন, হয়ত বা পাপিয়ার পিছু পিছু নতুনবাজারগামী সোজা রাস্তা ধরত। কিন্তু নবাকে বিস্মিত করে টাউন স্কুল হতে আনুমানিক তিরিশ সেকেন্ড পর পাপিয়া হরিসিনেমার চক পার করে অতি সরু বামদিকের গলিতে সহসা অদৃশ্য হয়ে যায়। এতে নবার পরবর্তী সম্ভাবনাময় জার্নির কথা ভেবে নবা যারপরনাই পুলকিত হয়, কেননা এটি নবার বাড়িগন্তব্যের নির্ধারিত ও হাঁটাপথে আনুমানিক মিনিট কুড়ির প্রলম্বিত পথ। কিন্ত, অকস্মাৎ গলিতে অন্তর্হিত পাপিয়াকে দেখতে না পেয়ে তার প্রত্যাশী চোখ ঈষৎ মুষড়ে পড়ে, সুতরাং সে গতি বাড়াতে প্রয়াসী হয়। এই দীর্ঘতর অতিসংকীর্ণ গলি মূল রাস্তা হতে ভেতরে সেঁধিয়েই ডাইনে তুমুল বিসর্পিল, তাই নবা ঢুকেই পাপিয়াকে দেখতে অসমর্থ হয়। ...

উত্তরেই যায় চিঠি।। কৌশিক ঘোষ।। সুপ্রকাশ।।

Image
সাফাইকার্যে নিযুক্ত লোকজনকে কাজে লাগিয়ে ব্যস্ত নিমাই দৃশ্য হতে চলে যায়,  নবা দুরুদুরু বক্ষে কুয়ার অনতিদূরে দাঁড়িয়ে থাকে। অনতিবিলম্বে কাজে লাগা লোকজনের মেহনত শুরু হয়, রজ্জুবদ্ধ, ও, একটি সাফাইউপযুক্ত কাঁটা নামানো ও তোলা হবে দফায় দফায়। প্রথম দফাতেই, উপস্থিত কর্মীদের, ও, উদ্বিগ্ন, অপেক্ষারত নবার চোখে পড়ল একটি  দৃশ্য:  কুয়া থেকে উঠে এলো উঁচিয়ে থাকা লোহার ঊর্ধ্বমুখী কাঁটাআবৃত রাজ্যের ভেজা পচা পাতা, কিছু ডালপালা, আবর্জনা, ও, জলে ভেজা একটি বই। কিন্তু তার চেয়েও আশ্চর্য, পাতার স্তূপেই কাঁটাটি বেষ্টন করে আপ্রাণ বেরিয়ে আসতে চাইছে একটি সরু আকৃতির কালচে ও ডোরাদাগের সাপ, আপাতত যে অপারগ ও অসহায়। সাপটিকে কাঁটা হতে বের করতে চেষ্টা করে নাকাল হচ্ছিল উপস্থিত সবাই। অনেক খোঁচাখুঁচি করে কাহিল সাপটি বেরোনোর পর একজন মারতে উদ্যত হলে বাকিরা, সাপটি নিতান্ত বিষহীন, এই মর্মে সরীসৃপটিকে রেহাই দেয়, সাপটি বাগানের ইতিউতি বিস্তৃত ঘাসজমি বেয়ে  বাঁদিকের বেড়া বরাবর দ্রুত পালাতে সক্ষম হয়।         এর পর পাতা ও সংশ্লিষ্ট আবর্জনা পাশের জমিতে মিস্ত্রিরা রাখামাত্রই নবা জলে ...

তারাপদর জন্মনক্ষত্র।। শতঞ্জীব রাহা।। সুপ্রকাশ।।

Image
একটি মাত্র গল্পকে নিয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ বই বাংলা ভাষায় খুব বেশি আছে বলে মনে হয়ে না। রবীন্দ্রনাথের 'অতিথি' গল্পটিকে নিয়ে আসছে একটি পূর্ণাঙ্গ বই শতঞ্জীব রাহার 'তারাপদর জন্মনক্ষত্র'। আজ রইলো লেখকের ভূমিকা। ................................... প্রায় তিন দশক পূর্বে এই একই নামে এই রচনাটি ছোটো প্রবন্ধের আকারে রচিত ও প্রকাশিত হয়েছিল একাধিক পত্রিকার পাতায়। পুনঃপ্রকাশের সময় প্রতিটি ক্ষেত্রেই কিছু সংযোজন বিয়োজন ঘটেছিল। পরে, ২০১৯ সালে এটি গ্রন্থাকারে বিস্তারিত হয়। গ্রন্থটি নির্মাণের পরও কয়েকটি ঋতুচক্র পেরিয়ে গিয়েছে। রচনাটির ভরকেন্দ্র বিষয়ে সংশয়ের কারণে তখন গ্রন্থটি প্রকাশিত হয়নি। কেননা একটিমাত্র গল্পকে কেন্দ্র করে একটি গোটা বই লেখার এমন উদাহরণ আমাদের দেশে খুব বেশি আছে বলে মনে হয় না। তবু এমন একটি কাজ করা গিয়েছিল তিনি রবীন্দ্রনাথ বলেই। তাঁর সমস্ত রচনা একটি সমগ্রের অংশ বলেই যে-কোনো অগ্রবিন্দু থেকে দেখতে শুরু করলেও শেষ পর্যন্ত তার অচূর্ণিত সমগ্রকে স্পর্শ করা যায়। বিষয়ের অনুরোধে, লিখন-পরিকল্পনার স্বার্থে, আমরাও সেই সমগ্রের দিকে ইঙ্গিত করতে চেয়েছি, কিন্তু বিস্তারিত হতে পারিনি; বিষয়-সংলগ্ন ...

উত্তরেই যায় চিঠি।। কৌশিক ঘোষ।। সুপ্রকাশ।।

Image
আশির দশকের এক ছোট শহর। রেডিওতে ভেসে আসে তালাত মাহমুদ, হেমন্ত, আকাশবাণীর খবর। পাড়ায় পাড়ায় রাজনীতি, মিছিল, পার্টি অফিসের ব্যস্ততা। সেই সময়েই বড় হয়ে উঠছে নবা। তার জীবনে এসে পড়ে প্রথম প্রেম, বন্ধুত্ব, ক্রিকেট, বই, গান আর চারপাশের মানুষজন। পাপিয়াকে খুঁজতে খুঁজতে নবা যেন চিনে নিতে থাকে তার সময়কে। তার পরিবার, পাড়া, রাজনীতি, ভালোবাসা আর ভাঙাগড়ার সেই দিনগুলো ধীরে ধীরে জুড়ে যায় তার বড় হয়ে ওঠার গল্পে। উত্তরেই যায় চিঠি কৌশিক ঘোষ প্রচ্ছদ : সৌজন্য চক্রবর্তী  অলংকরণ : অদ্বয় দত্ত মুদ্রিত মূল্য : ২৫০ টাকা সুপ্রকাশ প্রকাশিতব্য 

কোলস্ওয়ার্দি গ্রান্টের 'রুরাল লাইফ ইন বেঙ্গল'।। অনুবাদ ও টীকা : অর্ণব রায়।। সুপ্রকাশ।।

Image
একটি বই, যা একই সঙ্গে ইতিহাস, ভ্রমণকাহিনি এবং এক ঔপনিবেশিক চোখে দেখা চিরস্থায়ী বন্দবস্তোত্তর বাংলার দলিল। উনিশ শতকের বাংলার গ্রামজীবন কেমন ছিল? নীলকুঠির ভেতরের জীবন, নদীপথের যাত্রা, গ্রামবাংলার মানুষ, তাদের জীবনযাত্রা-বিশ্বাস-উৎসব— এসবের এমন প্রত্যক্ষ বিবরণ বাংলা ভাষায় খুব বেশি নেই। কোলস্ওয়ার্দি গ্রান্ট সেই বাংলাকে দেখেছিলেন একজন ইংরেজ শিল্পী ও পর্যটকের চোখে। তিনি যা দেখেছেন, তা লিখেছেন; যা তাঁকে আকৃষ্ট করেছে, তা এঁকেছেন।  এই বই একদিকে যেমন উনিশ শতকের বাংলার মূল্যবান তথ্যভাণ্ডার, তেমনই ঔপনিবেশিক মানসিকতারও একটি গুরুত্বপূর্ণ দলিল। বিস্তৃত টীকাসহ অর্ণব রায়ের সযত্ন অনুবাদ এই বিরল গ্রন্থকে সমকালীন বাংলা পাঠকের কাছে নতুনভাবে উন্মোচন করল। কোলস্ওয়ার্দি গ্রান্টের 'রুরাল লাইফ ইন বেঙ্গল' ...................................................... অনুবাদ ও টীকা : অর্ণব রায় প্রচ্ছদ : অজন্তা হাজরা মুদ্রিত মূল্য : ৫৫০ টাকা সুপ্রকাশ প্রকাশিতব্য

বৃক্ষমানুষের ছায়া।। দুর্লভ সূত্রধর।। সুপ্রকাশ।। পাঠপ্রতিক্রিয়া।।

Image
সুপ্রকাশ প্রকাশিত দুর্লভ সূত্রধরের উপন্যাস 'বৃক্ষমানুষের ছায়া' পড়ে মতামত জানিয়েছেন ফারজানা রহমান। আমরা তাঁর অনুমতি নিয়ে নিজেদের টাইমলাইন থেকে শেয়ার করছি। .............................................................. বই : বৃক্ষমানুষের ছায়া লেখক : দুর্লভ সূত্রধর  প্রকাশনী : সুপ্রকাশ মুদ্রিত মূল্য : ৩৬০ টাকা শুশ্রূষার সকাল আর আরোগ্যের বিকেলগুলো ঠিকই থাকে। বদলায় না। বদলে যায় মানুষ। ভেতরে ভেতরে ভেঙে যাওয়া মানুষ। তাদের চোখে তাই সেই সকাল এবং বিকেলগুলো হয়ে ওঠে জীবনে যে উদ্দেশ্যর বৃত্ত তার বহু বাইরের কিছু।  স্যানাটোরিয়াম থেকে যায় তখন রূপকথার রাজ্যে। ঠিক এই চাওয়া আর পাওয়ার মাঝে  দুর্লভ সূত্রধরের উপন্যাস 'বৃক্ষমানুষের ছায়া' যেমন একদিকে হয়ে ওঠে বৃক্ষের ছায়া, অথবা স্বপ্নের কোমল টোনের একটা রাস্তা, তেমনি সামাজিক অবক্ষয়েরর রুক্ষ্ণ টোনটুকুও সেই স্বপ্নের রাস্তাটুকু পিচ্ছিল করে তোলে। বৃক্ষপ্রতিম চরিত্রগুলোর পাশাপাশি আগাছাসদৃশ্য কিছু চরিত্রগুলোর ডুয়ালিজম যোগ করে সংঘাতগুলো জোরালে হয়ে ওঠে। বিভাজনগুলিকে আরও স্পষ্ট করে তোলে।  তখন উপন্যাসের কোন এক জায়গায় হয়তো হুমায়ূন আজাদও হয়ে ওঠেন প...

হামারটিয়া।। শাক্যজিৎ ভট্টাচার্য।। সুপ্রকাশ।।

Image
'২০২৪ সালের জানুয়ারি মাসে ডিডি হোমিসাইডের অবসরপ্রাপ্ত ইনস্পেকটর জাভেদ আহমেদের ঠিকানায় একটা হাতে-লেখা চিঠি পৌঁছোলে জাভেদ অবাক হলেন, কারণ ডিজিটাল যুগে এরকম চিঠি আসা প্রায় লুপ্ত হয়ে গেছে। তারপর প্রেরকের নাম দেখে তাঁর মনে হল আগে কোথায় যেন শুনেছেন। অবশেষে খাম খুলে চিঠিটা পড়তে গিয়ে নিশ্চিতভাবে মনে পড়ল তাঁর। হাতে চিঠি ধরে চোখ বুজে বসে থাকলেন প্রায় পনেরো মিনিট। তারপর বার বার ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে পড়লেন। হঠাৎ আপনমনে চেঁচিয়ে উঠলেন, 'বাস্টার্ড!' তাঁর স্ত্রী অবাক চোখে তাকালে বিরক্ত ভঙ্গিতে মাথা ঝাঁকালেন জাভেদ। কয়েক দিন আগেকার সংবাদপত্র ঘাঁটাঘাঁটি করলেন। আলমারি থেকে পুরোনো ফাইল খুলে দুপুর বেলা বসে থাকলেন ঝুম হয়ে। সেদিন জাভেদ সান্ধ্যভ্রমণে বেরোলেন না। সল্টলেকে নিজের বাড়ির ব্যালকনিতে চিঠি হাতে পায়চারি করলেন অস্থিরভাবে। একসময়ে সিদ্ধান্ত নিলেন চিঠির কথা তিনি ভুলে যাবেন। কিন্তু, পরদিন সকালে স্টাডিতে গিয়ে আবার তাঁর চোখে পড়ল। চিঠিটা সামনে খুলে বসে থাকলেন টানা একঘণ্টা। অবশেষে চোখ বুজে মাথা নাড়লেন নিজের মনে— এ বিষয়ে একটা স্টেপ তাঁকে নিতে হবে। এগোবার আগে কয়েক দিন সময় চাইছিলেন নিজেকে গুছিয়ে নেবার জন্য। কি...

বৃক্ষমানুষের ছায়া।। দুর্লভ সূত্রধর।। সুপ্রকাশ।। পাঠপ্রতিক্রিয়া।।

Image
সুপ্রকাশ প্রকাশিত দুর্লভ সূত্রধরের উপন্যাস 'বৃক্ষমানুষের ছায়া' পড়ে গুডরিডসে লিখেছেন অমিয়রঞ্জন সেন। আমরা নিজেদের টাইমলাইন থেকে শেয়ার করছি। ...................................................................... কোনও কোনও উপন্যাস পড়া শেষ হলে মনে হয়, একটি গল্প শেষ হলো। আবার কিছু উপন্যাস শেষ হয় না; বরং পাঠকের ভিতরে গিয়ে শুরু হয়। বৃক্ষমানুষের ছায়া আমার কাছে দ্বিতীয় ধরনের উপন্যাস। বইটি শেষ করার পরে বারবার মনে হয়েছে, এর কেন্দ্রে আসলে কোনও একক চরিত্র নেই। গৌর, সুনন্দ, বিষাণ, হকিম আলি ফকির, টুনা, সুজি-- এরা প্রত্যেকেই যেন একটি বৃহত্তর প্রশ্নের অংশ। সেই প্রশ্নটি হলো-- একটি সমাজ ভেঙে গেলে তাকে কি আবার জোড়া লাগানো যায়? উপন্যাসের শুরুতে গৌর ও সুনন্দ অবসরপ্রাপ্ত দুই মানুষ। তাঁদের জীবনে অভাব নেই, কিন্তু উদ্দেশ্য নেই। অন্যদিকে বিষাণের জীবনে উদ্দেশ্যও আছে, যন্ত্রণাও আছে; কিন্তু সমাজ তাকে একঘরে করেছে। এই দুই ভিন্ন জগতের সংযোগ ঘটায় হকিম আলি ফকির। আশ্চর্যের বিষয়, তিনি কোনও গুরু নন, কোনও ধর্মপ্রচারক নন, কোনও বিপ্লবী নেতাও নন। তিনি মানুষকে কোনও মতবাদ শেখান না; বরং তাদের একসঙ্গে বসতে শেখা...

হাফ প্যাডেলের কাল।। অর্দ্ধেন্দুশেখর গোস্বামী।। সুপ্রকাশ।। পাঠপ্রতিক্রিয়া।।

Image
সুপ্রকাশ প্রকাশিত অর্দ্ধেন্দুশেখর গোস্বামীর স্মৃতিকথা 'হাফ প্যাডেলের কাল' পড়ে লিখেছেন আসিক ইকবাল। আমরা তাঁর অনুমতি নিয়ে নিজেদের টাইমলাইন থেকে শেয়ার করছি। .................................................... বই :হাফ প্যাডেলের কাল  লেখক :অর্ধেন্দুশেখর গোস্বামী  মুদ্রিত মূল্য :৪০০/ প্রকাশক : সুপ্রকাশ   প্রচ্ছদ:সুলিপ্ত মন্ডল  পৃষ্ঠা :২৪৯টি  এই ধরণের আত্মজীবনীমূলক লেখা শেষ পড়েছিলাম স্মরণজিৎ চক্রবর্তীর 'ঝাল লজেন'। এই লেখাটিও সেই আত্মজীবনীমূলক বা স্মৃতিচারণামূলক একটি লেখা। এই ধরণের লেখা গুলো নিয়ে বেশি কিছু বলা যায় না, শুধু গোগ্রাসে গিলতে হয়, আর অজান্তেই আপনিও হারিয়ে যাবেন নিজের নস্টালজিক শৈশবের অন্তরালে। আমরা যারা শৈশব পেরিয়ে কৈশোরে সাইকেল চালাতে শিখেছি, তাদের কাছে বেশিরভাগই বাবা কাকাদের সেই বড়ো সাইকেলই ছিল একমাত্র ভরসা। এখন তো সাইকেলের নানা রকমফের। কালের নিয়মে সেই বড়ো সাইকেল গুলো আজ অবলুপ্তির পথে। তবে বড়ো সাইকেল গুলোয় সিটে বসা যেত না, ফলত ঠুক ঠুক করে হাফ প্যাডেলেই চালাতে হত, বালকও তেমন করেই চালাতে শিখেছে। তবে সে সাইকেল হাতে পেত না খুব একটা। লেখক এই লেখার মাধ্যম...

বাংলা সিনেমার চালচিত্র।। ঋদ্ধি রিত।। সুপ্রকাশ।।

Image
"গতানুগতিকতার বাইরে ভাবনার নামই মৃণাল সেন। তাঁর ফ্রেমে ধরা দিয়েছে শহরের প্রগতিশীল বাঙালির ইতিহাসের সাক্ষর। বাইরে থেকে দেখলে অধিকাংশ ছবির ঘটনাস্থল কলকাতা। কিন্তু ছবিতে উঠে আসা কলকাতা, ভারতবর্ষের একটি শহর; যে দেশে সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী একশো জনের মধ্যে যাট জনই দারিদ্র্যরেখার নিচে বাস করেন। এই কলকাতা কেন্দ্রিক চলচ্চিত্রের আঙিনায় কলকাতা ট্রিলজির কথা উঠলে সত্যজিৎ রায়ের থেকেও আগে আসে মৃণাল সেনের নাম। তার কারণ তাঁরই একটি লেখা। যেখানে তিনি বলছেন, "এ দেশের যে শহরটা, শুনে থাকি, বারুদে ঠাসা—তার নাম কলকাতা... কলকাতায় বিক্ষোভ, ক্রোধ, ব্যারিকেড আর বোমা। কলকাতা বেপরোয়া, কলকাতা মারমুখী।” (মৃণাল সেন, 'ভূত-বর্তমান-ভবিষ্যৎ', ১৯৭৭)।"        বাংলা সিনেমার চালচিত্র, প্রথম খণ্ড সংকলন, গ্রন্থনা, ভাষ্য : ঋদ্ধি রিত প্রচ্ছদ ও সজ্জা : ঋদ্ধি রিত মুদ্রিত মূল্য : ৬০০ টাকা সুপ্রকাশ       

প্রতিযাত্রা।। দুর্লভ সূত্রধর।। সুপ্রকাশ।।

Image
অমিতাভ গৌতম বুদ্ধের মহাপরিনির্বাণের দ্বিসহস্রাধিক বছর অতিক্রম করার পরে বুদ্ধকালের শিক্ষা ও স্মৃতির সঙ্গী হয়ে এই কাহিনীর ইতিহাসপরিক্রমণের শুরু। বৈনাশিক অন্তর্কালের এবং অনিঃশেষ বেদনার দীর্ঘ দীর্ঘ শতাব্দী পেরোতে পেরোতে এই কাহিনীর প্রতিযাত্রা। ইতিহাসের সুনির্দিষ্ট পরিসর অনুসরণ না-করা সত্ত্বেও ভারতীয় পরিমণ্ডলের বৌদ্ধবলয় জুড়ে এর বিস্তৃতি। এটি স্থূল ইতিহাসমাত্র নয়, ইতিহাসসম্ভব। কয়েকশত বর্ষের প্রলম্বিত মানবিক কাহিনীর নিছকই এক নিরীক্ষিত আখ্যান, যা একটিমাত্র সংহত সময়ের বলয়ে বিন্যস্ত হয়েছে। ফলত তথ্যের নিশ্চয়তা বা অনিশ্চয়তার, তথ্যহীনতার, এমন কি তথ্যবিকারেরও কোনো দায় এখানে নেই। তবু মানববৈচিত্র্যের সীমাহীন বিপুলতার কারণেই এই রচনার কোথাও হয়তো অনির্দিষ্টকালের কুশীলবদের অস্থি-কাঠামোর ওপরে ফুটে ওঠা রক্ত-মাংস-শিরা-উপশিরা-ত্বকের সম্ভাব্য লাবণ্যের খোঁজ পাওয়া গেলেও যেতে পারে। প্রতিযাত্রা  দুর্লভ সূত্রধর  প্রচ্ছদ : সৌজন্য চক্রবর্তী  অলংকরণ : অদ্বয় দত্ত  মুদ্রিত মূল্য : ৪৮০ টাকা সুপ্রকাশ        

বৃক্ষমানুষের ছায়া।। দুর্লভ সূত্রধর।। সুপ্রকাশ।।

Image
প্রতিবাস্তবের কিনারা ছুঁয়ে এই উপন্যাস প্রায় মুছে যাওয়া ইতিহাস, অপহৃত ঐতিহ্যের হতমানতা থেকে পাঠককে শ্রম ও উদ্দীপনাময় জাগরণের সম্ভাবনাময় বাস্তবে নিয়ে যেতে চায়। মানবসম্পদের উপসংহারের প্রান্তবর্তী এই স্তম্ভিত সময়ে 'বৃক্ষমানুষের ছায়া' হয়ে উঠতে পারে অনিঃশেষ, অব্যক্ত এক সংগীত। বৃক্ষমানুষের ছায়া দুর্লভ সূত্রধর অলংকরণ : অদ্বয় দত্ত প্রচ্ছদ : সৌজন্য চক্রবর্তী মুদ্রিত মূল্য : ৩৬০ টাকা সুপ্রকাশ       

বাংলা সিনেমার চালচিত্র, প্রথম খণ্ড।। সংকলন, গ্রন্থনা, ভাষ্য : ঋদ্ধি রিত।। সুপ্রকাশ।।

Image
"ঘর ভাঙলে ঋত্বিক শুনতে পেতেন গ্রাম ভাঙার শব্দ—যা সৃষ্টি করে ছিন্নমূল মানুষের কাছে আতঙ্কের এক শূন্যতার পরিসর। যে মানুষ উন্মাদ, শিকড়হীন, ধ্বংসাত্মক প্রলয়ের শেষে তার সাংস্কৃতিক ঠিকানা কী হবে? নিথর শবদেহের ব্যবচ্ছেদ করা কখনই শিল্পীর কাজ নয়। এক প্রকৃত শিল্পীই তার দেশজননীকে স্নেহচ্ছলে বলতে পারে, 'আয় গো উমা কোলে লই'—এই দেশ যখন ক্ষুধায় সর্বস্ব হারিয়ে বিলাপ করে, তখন সে বলতে পারে, 'নামাজ আমার হইল না আদায়'!'        বাংলা সিনেমার চালচিত্র, প্রথম খণ্ড সংকলন, গ্রন্থনা, ভাষ্য : ঋদ্ধি রিত প্রচ্ছদ ও সজ্জা : ঋদ্ধি রিত মুদ্রিত মূল্য : ৬০০ টাকা সুপ্রকাশ         

বৃক্ষমানুষের ছায়া।। দুর্লভ সূত্রধর।। সুপ্রকাশ।।

Image
"গৌর ভাঙতে শুরু করেছিলেন অনেক আগে থেকেই। যেদিন একান্নবর্তী সংসারের মহাবৃক্ষ থেকে গৌর শুকনো পাতার মতো খসে পড়েছিলেন, অনেক ল্যাটা-প্যাটা খেয়ে পড়াশুনো চালিয়ে, বেশ কয়েকটি পেশার ঘাটে-বেঘাটে এলোমেলো ঠোক্কর খেয়ে, অনেক প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা-টরিক্ষা দিয়ে এখনকার চাকরিটা জোগাড় করেছিলেন— তার আগে থেকেই 'ছোটো' আর 'সাশ্রয়' শব্দ দুটো তাঁর সঙ্গী। একটা প্যান্ট, একটা জামা। চটি কিনতেন অবিশ্বাস্য কম টাকার মধ্যে— একেবারে জবাব দেওয়ার আগে সেটাকে বার বার সেলাই করে পিন মেরে চালাতেন। সস্তার হোটেলে পাঁচসিকের ডাল-ভাত-তরকারি। তখন কীই-বা বয়স— অনন্ত খিদে। তবু, অতিরিক্ত ভাত নিতে গিয়ে চারবার ভাবতেন— পকেটের এককোণে পড়ে-থাকা খুচরো পয়সার সঙ্গে ভাতের পরিমাণ মিলিয়ে দেখতেন মনে মনে, তারপর পেটে খিদে নিয়েই খাওয়া ছেড়ে উঠে পড়তেন টেবিল থেকে। কতদিন হয়েছে হোটেলের ভেতরে পা দিয়েও সরিয়ে নিয়েছেন পা— কোয়ার্টার পাউরুটির আধখানা আর একগ্লাস চা দিয়ে সে-বেলাটা চালিয়ে দিয়েছেন। শেষ ট্রেনে নির্বাস বাসভূমিতে নেমে বাসভাড়ার পনেরো পয়সা বা চার-আনা বাঁচাবার জন্য মাইল-চারেক হেঁটে একাকী আশ্রয়ে ফিরতেন দিনের পর দিন। এমনভাবে একসপ্তাহ হা...