Posts

Showing posts from 2026

নৈশ অপেরা।। শাক্যজিৎ ভট্টাচার্য।। সুপ্রকাশ।।

Image
 সুপ্রকাশ প্রকাশিত শাক্যজিৎ ভট্টাচার্যের উপন্যাস 'নৈশ অপেরা' পড়ে মতামত জানিয়েছেন শ্রী। আমরা তাঁর অনুমতি নিয়ে নিজেদের টাইমলাইন থেকে শেয়ার করছি। ............................................... বই : নৈশ অপেরা ধরণ : রহস্য উপন্যাস  লেখক : শাক্যজিৎ ভট্টাচার্য  প্রকাশক : সুপ্রকাশ  প্রচ্ছদ : সৌজন্য চক্রবর্তী  মুদ্রিত মূল্য : ৫৪০ টাকা  পৃষ্ঠা সংখ্যা : ৪১০ পাঠ অনুভূতি : শ্রী  "স্মৃতি যা আ--ত--তা-য়ী-র আনুগত্যে এবং বিশ্বাস-ঘা--তকের মসৃণতায় নিজেকে প্রশ্নময় রাখে, তাকে হ---ত্যা করা পাপ | আপনারা মনে রাখুন, মনে রাখুন, এবং মনে রাখুন |"  এই মনে রাখা, স্মৃতির অবিশ্রান্ত কোলাহলের বিস্মৃত আদিম গহ্বর থেকে উঠে আসা এক বেদনা বিজড়িত আখ্যান যাকে হয়তো পুরোপুরি রহস্য গল্প বলে দাগিয়ে দেওয়া যায়না | কারণ রহস্য তার আকর হলেও বিষাদ তার  ভাব, তার ছন্দ, স্মৃতির বিবর্ণতায় তার পূর্ণতার প্রকাশ |  এর আগে লেখকের "শেষ মৃত পাখি" পড়েছি | পড়েছি "একানড়ে" | এবং তাতে যা বুঝেছি, হয় এই লেখার ধরণ আপনার প্রচন্ড ভালো লাগবে অথবা একেবারে অসহ্য | এর মাঝামাঝি কিছু হতে পারেনা |  উপন্যাসে...

হামারটিয়া।। শাক্যজিৎ ভট্টাচার্য।। সুপ্রকাশ।।

Image
সুপ্রকাশ প্রকাশিত শাক্যজিৎ ভট্টাচার্যের উপন্যাস 'হামারটিয়া' পড়ে মতামত জানিয়েছেন অভিনব দাশগুপ্ত। আমরা তাঁর অনুমতি নিয়ে নিজেদের টাইমলাইন থেকে শেয়ার করছি। ............................................ শাক্যজিৎ ভট্টাচার্যর "হামারটিয়া" শুধুই একটি গোয়েন্দা কাহিনী, না লেখকের চোখে বর্ষাকালে রাস্তার জমা জলে ভেসে ওঠা একটা পলেস্তারা খসা, জীর্ণ বিদীর্ণ শহরের প্রতিচ্ছবি, তা বলা মুশকিল। এ শহরে একটা তীব্র কলোনিয়াল হ্যাংওভার আছে, এ গল্পের পাড়াগুলি ২০২৪-এর, কিন্তু খুব পুরানো। এ গল্পের গোয়েন্দা লেখকের ভাষায় কলকাতার শেষ ইহুদি। তার একটা মাইক্রফটও আছে, তিনি মহিলা, সম্ভবত অ্যাংলো ইন্ডিয়ান। ১৯৯৮ সালে সমাধান হয়ে গেছে, এরকম একটা মার্ডার কেস আচমকা ২০২৪-এ মাথা চাড়া দিয়ে উঠেছে। তাই এ গল্পে নয়ের দশকও আছে এবং আছে সে সময়ের পপ-কালচার। কিন্তু সর্বোপরি আছে সত্য উদঘাটন এবং ন্যায়বিচারের অভিমুখ, চরিত্র এবং যৌক্তিকতা নিয়ে তুমুল তর্ক। এসবকিছুর কেন্দ্রে আছে একটি চমৎকার রহস্যকাহিনী। কিন্তু হামারটিয়া, ঐ যা বললাম, শুধুই একটি গোয়েন্দাগল্প না। হামারটিয়া একটা বদলাতে নারাজ শহরের ইন্সিকিওর সমাজের যাপনের আখ্যান।...

হামারটিয়া।। শাক্যজিৎ ভট্টাচার্য।। সুপ্রকাশ।।

Image
সুপ্রকাশ প্রকাশিত শাক্যজিৎ ভট্টাচার্যের উপন্যাস 'হামারটিয়া' পড়ে মতামত জানিয়েছেন সুপ্রতীক চক্রবর্তী। আমরা তাঁর অনুমতি নিয়ে নিজেদের টাইমলাইন থেকে শেয়ার করছি। ............................................ আমি নিজেকে বাংলা সাহিত্যের একজন মনোজ্ঞ এবং অভিজ্ঞ পাঠক হিসেবেই মনে করি, এবং আমি প্রবল খুঁতখুঁতে। আমার পরিচিত লোকজনও এব্যাপারে একমত হবেন। আমার সেই জোরের জায়গা থেকেই আজ একটা ভবিষ্যদ্বাণী করে যাই - বাংলা ডিটেকটিভ গল্পের আধুনিক আকালে শাক্যজিত ভট্টাচার্য-র এই বইটি একটি উজ্জ্বল আবিষ্কার হয়ে থাকবে।( সম্প্রতি পিয়া সরকারও আমায় মুগ্ধ করেছিলেন তাঁর দর্শনা বোস সিরিজ দিয়ে।) আগ্রহী হয়ে থাকব ইজি এবং জাভেদের যুগলবন্দীও যেন আবার আসে, তনয়ার মতোই। শাক্যর অন্য বইয়ের মতোই বিষন্ন ও টানটান লেখনী এই গোটা উপন্যাসের গায়ে ছড়িয়ে আছে। এইরকম বই শেষ করে খানিক একা থাকা উচিৎ, নইলে শরীর খারাপ করে। একানড়ে শেষ করে আমি কয়েকদিন পর্যন্ত মুহ্যমান ছিলাম।  এটিও কাছাকাছি প্রায়।  শুধু একটাই অনুযোগ, শাক্য একটু লেখাকে সময় দিক। আরেকটু বড় লেখা ওর কাছে আশা করি। হামারটিয়া শাক্যজিৎ ভট্টাচার্য  মুদ্রিত মূল্য : ৩৫০ টাকা ...

বৃক্ষমানুষের ছায়া।। দুর্লভ সূত্রধর।। সুপ্রকাশ।।

Image
"সমস্ত আঙিনায় নৈঃশব্দ্য নেমে এসেছে। হেমন্তের সন্ধে। ধোঁয়া ধোঁয়া অন্ধকার। টালিখোলার দিক থেকে মাঝে মাঝে মাটি কাটা মেশিনের দূরশ্রুত ঘটাং ঘটাং। আঙিনার মানুষগুলোর শ্বাসও যেন শোনা যাচ্ছে। যেন দীর্ঘকাল পরে অনাস্বাদিত প্রশান্তির খোঁজ পেয়েছে তারা। ফকির কথা থামালেন। বিষাণের বউ-মেয়ে মুড়ি-চা এনে দিল, আজ মুড়ির সঙ্গে লাল মুলোর কুচি। গৌর লক্ষ করলেন— আজও সুজি নামের ছেলেটি বসেনি, ঠিক বাড়ির আঙিনার ভেতরেও আসেনি। সেদিনের জায়গাটাতেই সেদিনের ভঙ্গিতেই দাঁড়িয়ে আছে। মুখটা ভারি কাঁচুমাচু। তার চোখ টুনাকে ততদূর অনুসরণ করছে যতদূর দেখলে অন্যদের থেকে নিজের দৃষ্টি, নিজের লক্ষস্থলের গতিপথকে আড়াল করা যায়। টুনা কিন্তু মোটেও তাকে দেখছে না। কিন্তু, তার চোখ-দুটো হাসছে যেন। গৌর সুনন্দর দৃষ্টি আকর্ষণ করলেন। সুনন্দ হেসে বললেন— 'দেখেছি, দেখেছি। বিয়ে-থা করা হয়ে ওঠেনি বলে ভেবো না একেবারে কাঠখোট্টা বনে গেছি। নতুন একটা গল্পের জন্ম হচ্ছে।' মুড়ি খেতে খেতে সকলেই পাশাপাশি মানুষটার সঙ্গে অনুচ্চ স্বরে কথা বলছে। আজ কয়েক জন মেয়ে-বউকেও দেখা যাচ্ছে। গৌর আর সুনন্দ এইসব কথার মধ্যে মানুষগুলোর সুখ-দুঃখের, দৈনন্দিনের খবর পেলেন। কারো...

বৃক্ষমানুষের ছায়া।। দুর্লভ সূত্রধর।। সুপ্রকাশ।।

Image
"সদ্য-গড়ে-ওঠা মন্দিরটার সামনে দিয়ে এগিয়ে গিয়ে তাঁরা টালিখোলাটা বেড় দিয়ে অনেকটা পথ পেরোলেন। ভাটার পেছনদিকে মজুরদের ঘর। ঘরগুলো খুব নিচু, মনে হয় প্রায় হামাগুড়ি দিয়ে সেখানে ঢুকতে হয়। প্রত্যেকটা ঘরে একটামাত্র বেড়ার দরজা, জানালার বালাই নেই। এই সন্ধে-হয়ে-আসা কপিশ বিকেলেও স্ত্রী-পুরুষ মজুরেরা কাঠের ছাঁচে মাটির দলা ঠুসে কাঁচা টালি বানিয়ে চলেছে। কয়েক জন সেগুলোকে মাটিতে সার দিয়ে রাখছে। রুক্ষ-চুলের অনেকগুলো বাচ্চা ধুলোখেলায় মেতে আছে। তাদের দেহাতি শব্দের আনন্দোল্লাস ছড়িয়ে পড়ছে ঈষৎ ভারি হয়ে-আসা শেষ-বিকেলের বাতাসে। ভাটার একেবারে পুব-প্রান্তে মাটির স্তূপে তখনও একটা বড়ো মাটি-কাটা বেঁকো-মেশিন ঘটাং ঘটাং শব্দে মাটি সরাচ্ছে। ভাটার পেছনে পাড়া-ঘরের এলাকায় ঢুকে আঁকাবাঁকা খান-দুয়েক রাস্তা পেরিয়ে লোকটিকে অনুসরণ করে অনেক লোকের কৌতূহলী চোখে বিদ্ধ হতে হতে তাঁরা ভেঙে-পড়া বেড়া-দেওয়া একটা পরিচ্ছন্ন আঙিনায় প্রবেশ করলেন। গৌর অনুমান করলেন— এই সেই অগ্নিদগ্ধ গোয়াল ঘর, এখানেই পুড়ে গিয়েছিল বিষাণের বকনা বাছুরটা। গোয়াল ঘরের ডান পাশে আড়াআড়ি খান-দুয়েক ঘর, বসতঘর হবে— তার ফুটো টালির চালও প্লাস্টিক শিট দিয়ে পুলটিস দেওয়া। বসতঘ...

বৃক্ষমানুষের ছায়া।। দুর্লভ সূত্রধর।। সুপ্রকাশ।।

Image
"এখনও ভালো করে রোদ ওঠেনি, রাস্তার পাশের ঘাসের ডগায়, রাস্তার পাশ-বরাবর সবজির মাঠে কচি পালং-এর পাতায় ভোররাতের শিশিরবিন্দুগুলো টলটল করছে— এত সকাল বলেই বেশ একটু শীত-শীত ভাব। সুনন্দর পাশে একটা বাহারি ব্যাগ ভ্যানের মেঝেয় রাখা। সুনন্দ জানিয়েছেন— গতরাতে বাড়ি ফিরে বংশীকাকার চিরকুট পেয়ে আবার বাড়ি থেকে বেরিয়ে স্টেশনবাজারের খ্যাপা সাহার দোকান থেকে কিনে আনা মিষ্টির প্যাকেটগুলো আছে ওই ব্যাগে। আজ আর তাঁরা বকবক করছিলেন না— সকালের নরম হাওয়া, রোদের আভাস, সবজিখেতের পেছনে সদ্য আমন ধান কেটে-নেওয়া শূন্য মাঠান জমির বিস্তার, তারও পেছনে কয়েকটা ইটভাটার মোটা বেঁটে চিমনি, মাঝে মাঝে রাস্তার একেবারে ধার-ঘেঁষা বাড়িগুলোর সামনের আঙিনায় ইতস্তত বিক্ষিপ্ত অযত্নের গাছে উজ্জ্বল হলদে থোপা গাঁদা বা তারা গাঁদার গাছ, কয়েকটা সন্ধ্যামণির ঝোপ, কোনো কোনো আঙিনায় প্লট কেটে বেশ যত্ন করে বোনা ডালিয়া-চন্দ্রমল্লিকা-ইনকা-সাদা আর গোলাপি রঙের কৃষ্ণকলি, পিটুনিয়া ফোটানোর চেষ্টা দেখতে দেখতে তাঁরা এগোচ্ছিলেন। রাস্তার পাশে কোনো বাড়ির পাঁচিলের মাথা ছাড়িয়ে ঝুঁকে আছে টগর আর শিউলি গাছের মাথা— বাইরের ঘাসে ঝরা-শিউলির চির-চলিষ্ণুতা। এইসব দেখতে দে...

হামারটিয়া।। শাক্যজিৎ ভট্টাচার্য।। সুপ্রকাশ।।

Image
সুপ্রকাশ প্রকাশিত শাক্যজিৎ ভট্টাচার্যের উপন্যাস 'হামারটিয়া' পড়ে মতামত জানিয়েছেন সায়ন সরকার। আমরা তাঁর অনুমতি নিয়ে নিজেদের টাইমলাইন থেকে শেয়ার করছি।  ............................................. হামারটিয়া  শাক্যজিৎ ভট্টাচার্য  সুপ্রকাশ মুদ্রিত মূল্য ₹৩৫০ গল্পে পরে আসা যাবে, আগে বুঝতে হবে হামারটিয়া মানে কি?? আর সেই মানের মধ্যেও রয়েছে একটা অদ্ভুত ডুয়ালিটি.....যে ডুয়ালিটি বা দ্বিধা মনখারাপের মত ছড়িয়ে রয়েছে এই উপন্যাসের পাতায় পাতায়....যা গ্রাস করেছে এই গল্পের ঘটনাক্রম, চরিত্র এমনকি পাঠক হিসেবে আমাকেও। প্রাচীন গ্রিক থেকে আসা এই শব্দ হামারটিয়া বেশিরভাগ ক্ষেত্রে বোঝায় কোন একটি চরিত্র যখন একটি মারাত্মক ভুল করে বসে অথবা সেই ভুলটি রয়েছে তার চরিত্রের মধ্যেই এবং যে ভুলের জন্য সেই চরিত্রের অবসম্ভাবী পতন হচ্ছে..... এই মানেটাকে ধরে এগোলে পুরো দোষটাই চরিত্রের ঘাড়ে চাপিয়ে দেওয়া যায়, কিন্তু কখনো কখনো হামারটিয়া মানে একটু অন্যভাবেও বোঝানো হয়। সেখানে শুধুমাত্র একটি ভুল বা একটি "এরর অফ জাজমেন্ট" এর জন্যেই গল্পের মুখ্য প্রোটাগনিস্টের পতন হচ্ছে.... সেই বিশেষ ভুলটি নট...

টাঁড় পাহাড়ের পদাবলি।। মিহির সেনগুপ্ত।। সুপ্রকাশ।।

Image
'টাঁড় সেই স্থান, যেখানে শুধু ঝাঁটি, ঝাড়, জঙ্গল, খাঁ-খাঁ ভূমি, পাথর এবং অসম্ভব দরিদ্র 'ডিংলাপারা' মানুষজন। তারা ওই মালভূমির খাঁজে-খাঁজে টিলার গোড়ালিতে কিছু চাষ-আবাদ করে, অথবা আশপাশ অঞ্চলের খনিতে কয়লা, অভ্র, ম্যাঙ্গানিজ এইসব আকর তোলে। যারা এসব কাজে দড় নয়, অত্যন্ত পিছিয়ে পড়া এবং গভীর অরণ্যবাসী গোষ্ঠী, তারা জংলি লতা, গাছের আঁশ এই সব দিয়ে দড়ি বোনে, বনের কাঠ চুরি করে হাই রোডের ধারে সাজিয়ে বসে বিক্রি করার জন্য। সাতঘাটের জল খেয়ে, সাতসতেরো হ্যাপা সেরে এ-রকম এক স্থানে আমার স্থিতি। এখানে ভূমির চরিত্র বড় বিশৃঙ্খলার। এ-ভূমি টাঁড় তো, ও ভূমি বহিয়ার। টাঁড়ে ভূমি বড় রুক্ষ, তথাপি বৃক্ষ সব বনস্পতি। নাবালের ভূমিতে জন্মকর্ম, ডাঙর হওয়া। সেখানে শস্য-শাবক, গাছপালা, বৃক্ষ লক্-লহমায় বাড়ে। তারা শ্যামলিমায় শ্যামল, কান্তিতে কান্ত। টাঁড়ে তা নয়। এখানের বৃক্ষ-বনস্পতির চরিত্র ভিন্ন। তাদের শরীরে কান্তভাব কম। কিন্তু তারাও কি ছায়া দেয় না? দেয়, তবে তফাত আছে। এই তফাতটি প্রকৃতি এবং মানুষের এক নতুন অধ্যায় খুলে দেয় চোখের সামনে। রুক্ষ কঠোর আদিম এই সৌন্দর্য। বিশাল-বিস্তার এই ভূখণ্ডের বেশিটাই টাঁড়। কোথাও নাবাল, বহিয়ার...

দেয়ালের লেখা : এক অন্তহীন প্রকীর্ণ শিল্পকথা ।। অনন্ত জানা ।। সুপ্রকাশ।।

Image
দেওয়ালে লেখা থেকে কাগজের পোস্টার— এই গঞ্জের এমনতর কাজের সব কিছুই এতকাল ধরে যতীশ আর শিবেশই করে এসেছে। কিন্তু সে-সবই বিনা পয়সায় বেগারস্বরূপ। এমন কী পাড়ার কাকিমা, বৌদিরা তাঁদের ইস্কুলে-পড়া বাচ্চাদের ওয়ার্ক এডুকেশনের খাতা, সদরে বিটি পড়া ভাইপো-ভাইঝিদের লেসন প্ল্যানের খাতা, প্র্যাকটিস-টিচিংয়ের পোস্টার— সেসবও বিনি মাগনায় করিয়ে নিয়েছেন। মিষ্টিকথার দাম বা অ্যামেচারের হদ্দমুদ্দ যাকে বলে। বিনিময়ে প্রাপ্য শুধু হাসি। প্রথম প্রথম দেয়াল লেখার মুন্সিয়ানা দেখে নেতারা পিঠ চাপড়াতেন, প্রশংসাও করতেন। ইদানীং সেটুকু করাকেও তাঁরা বাহুল্য বলে মনে করেন। এই দুজনের স্থায়ী কোনো পেশা না-থাকায় দুবেলা বাড়ির বাইরে দু-কাপ চায়ের পয়সা জোটাতে দুই শিল্পী (যাদের বাপ-জ্যাঠা-কাকারা, এমন-কী আড়ালে-আবডালে সহযোগী কর্মীরাও শিল্পীর বদলে ঝুলপি বা কুলপি বলে থাকেন) একেবারে জেরবার। তবে যতীশ আর শিবেশের ক্ষেত্রে ঘরের খেয়ে বনের মোষ তাড়ানোর উদাহরণ নিতান্তই খাপ খায় না। কেননা তাদের দুজনের কারোর ঘরেই খাবারই নেই! যতীশের বাপের মৃত্যুর পর তাদের বিঘে দশেক জমির প্রায় সবটাই দাদারা বাঁটোয়ারা করে নিয়ে নেবার পর তার ভাগে নিচু ডোবা জমি বর্তেছে বিঘা-দুয়ে...

দেয়ালের লেখা : এক অন্তহীন প্রকীর্ণ শিল্পকথা।। অনন্ত জানা ।। সুপ্রকাশ।।

Image
সেটা বিগত শতকের নব্বই-এর দশকের মাঝামাঝি সময়। রাঢ় বাংলার একটা মাঝারি মাপের স্টেশনে আরও একগাদা মানুষের সঙ্গে কাঁচা-পাকা চুলওয়ালা একজন মানুষকে নামিয়ে দিয়ে দূরপাল্লার এক্সপ্রেস ট্রেনের ভারি ভারি চব্বিশ বগি তার প্রলম্বিত সর্পিল গা টেনে টেনে চলে গেল উত্তরবঙ্গের দিকে। আপাতদৃষ্টিতে মানুষটির কোনো বৈশিষ্ট্য নেই— রোগাশোকা, মধ্য-বয়সী, গড় বাঙালির মতোই লম্বত্ব, গাত্রবর্ণ ঈষৎ বাদামি, সাধারণ প্যান্ট। প্যান্টের সঙ্গে হ্যান্ডলুমের পাঞ্জাবি পরনে— কাঁধ থেকে ঝুলছে সুপরিচিত নিত্যযাত্রীদের মতো একটা কালোরঙের সস্তার ছোটো কিট-ব্যাগ। তবু কেন যেন ভদ্রলোককে এখানকার স্থানীয় মানুষ বলে মনে হয় না। মুখে-চোখে, শরীরী ভাষায় কোথায় যেন গাঙ্গেয়-কোমলতা ছেয়ে আছে। ভদ্রলোকের চোখে ছিল আধা-অপরিচিতের উদ্ভ্রান্তি। বর্ধমান পেরোবার পর এদিককার অনেক স্টেশনের প্ল্যাটফর্মই একটু নিচু, কিন্তু তুলনায় চওড়া এবং এই অঞ্চলের জনবিরল বসতিগুলোর চারপাশে ছড়িয়ে থাকা চাষের মাঠগুলোর মতোই একটু হা-হা ধরনের, ফাঁকাটে। প্ল্যাটফর্মের ওপর দোকানপাট নেই বললেই চলে। যে জনতা ট্রেন থেকে নেমেছিল তারা দ্রুত-পায়ে নিষ্ক্রান্ত হওয়ায় প্ল্যাটফর্মটি অচিরেই জনশূন্যতার নৈঃশব্দ...

বৃক্ষমানুষের ছায়া।। দুর্লভ সূত্রধর।। সুপ্রকাশ।।

Image
গান শেষ করে ফকির তৃপ্তির হাসি হাসলেন। বললেন— 'মানুষ একটা বিচিত্তির ব্যাপার। মানুষকে বিরিক্ষের মতো হতে হয়। গাছ যেমন নিজির জন্যি বাঁচে না, অপরের জন্যি ফুল দেয়, ফল দেয়—কিছু দিতে না-পারলে নিদেনপক্ষে ছায়া দেয়। শ্বাসের বাতাসকে শুদ্ধ করে। মানুষেরও সেই কাজ! মানুষেরও শুধু নিজির জন্যি বাঁচার কোনো উপায় নেই।'... সন্ধে নেমে আসছিল দ্রুত। নদীর দিক থেকে একটা হাওয়া উঠল। হাওয়াটা এই ছোট্ট সমাবেশটার মানুষগুলোর মাথা ছুঁয়ে, ফকিরের দাড়ি এলোমেলো করে দিয়ে চলে গেল কুমারডাঙার দিকে।  দাড়ির বোঝা বাঁ-হাত দিয়ে গোছাতে গোছাতে ফকির বললেন— 'এই যে বাতাসটা বিনি খাজনায় মোগের শরীলে আরাম দিয়ি চলি গেল, মানুষেরও এই বাতাসের মতো হবার কতা ছেল। কতা ছেল সকলের গা ছুঁয়ে, বুকের ভিতরে পরশ দিয়ে সকলের সঙ্গে বয়ে যাবার। মানুষ ঠেঙার মতো হলেই মুশকিল।' ................................... বৃক্ষমানুষের ছায়া দুর্লভ সূত্রধর ................................... অলংকরণ : অদ্বয় দত্ত প্রচ্ছদ : সৌজন্য চক্রবর্তী মুদ্রিত মূল্য : ৩৬০ টাকা সুপ্রকাশ প্রকাশিতব্য       

হামারটিয়া।। শাক্যজিৎ ভট্টাচার্য।। সুপ্রকাশ।।

Image
'রহস্যের সমাধান কিচ্ছু নয় জাভেদ, ওটা দশ শতাংশ। বাকি নব্বই শতাংশ কৃতকর্ম এবং তার পরিণামের বিশ্লেষণ, যাকে আমরা ভুলে থাকি। তুমি আত্মার কথা বলছিলে। আমাদের ধর্মবিশ্বাসে আত্মার সর্বোচ্চ স্তর হল নেশামাহ, সেরিব্রাল এবং ইন্টেলেকচুয়াল। কিন্তু, তার খোঁজ করতে গিয়ে আত্মার দ্বিতীয় স্তরকে আমরা ভুলে যাই। রুয়াচ। নৈতিকতা।' . . . হামারটিয়া শাক্যজিৎ ভট্টাচার্য প্রচ্ছদ : সৌজন্য চক্রবর্তী মুদ্রিত মূল্য : ৩৫০ টাকা  সুপ্রকাশ প্রকাশিতব্য

বৃক্ষমানুষের ছায়া।। দুর্লভ সূত্রধর।। সুপ্রকাশ।।

Image
সন্ধ্যা-বাতাসকে সঙ্গী করে বিষাণের গানের সুর ছড়িয়ে পড়ছিল। পরিষ্কার আকাশে কৃষ্ণা-দ্বাদশীর চাঁদ উঁকি দিচ্ছিল, নদীর দিক থেকে ভেসে আসছিল ভুটভুটির ক্ষীণ আওয়াজ—  ভেন্না কাষ্ঠের নৌকা খানি মাঝখানে তার বুরা,  নৌকার আগার থেকে পাছায় গেলে  গলুই যাবে খইয়া রে,  মাঝি বাইয়া যাও রে  অকুল দরিয়ার মাঝে আমার ভাঙ্গা নাও রে  মাঝি বাইয়া যাও রে। বিষাণের বউয়ের কথা অনুযায়ী বিষাণ অনেকদিন পরে গান গাইছে। কিন্তু, সুনন্দ বা গৌর কারোর সেকথা মনে হলো না। সুর লেগে গেছে— দরদে গানের কথাগুলো যেন অবয়ব পেয়ে জেগে উঠছে—  দীক্ষা শিক্ষা না হইতে আগে করছ বিয়া,  তুমি বিনা খতে গোলাম হইলে  গাইটের টাকা দিয়া রে  অকূল দরিয়ার মাঝে আমার ভাঙ্গা নাও রে মাঝি বাইয়া যাও রে। এমন ব্যথার সুরে কার কথা বলছে বিষাণ? গৌর এটুকু বুঝলেন অনুভবের শুদ্ধতার সঙ্গে বাণী আর সুরের সংগতি না-ঘটলে এমন গান গাওয়া যায় না। গৌর আর সুনন্দ লক্ষ করলেন— ঘরের দাওয়ায় বিষাণের বছর যোলোর নাইটি-পরা রোগা মেয়ে টুনা এসে দাঁড়িয়েছে। দাওয়ার একপাশে ঠোঁটের কোলে তর্জনী রেখে বিষাণের বউ স্বামীর গান শুনছে! তার মাথার ঘোমটা কাঁধ আর গলা বেড় দিয়ে মূ...

বৃক্ষমানুষের ছায়া।। দুর্লভ সূত্রধর।। সুপ্রকাশ

Image
বেশ একটু শীত-শীত ভাব পড়ায় বিষাণের দু-কাঠার বেগুন গাছগুলো আবার চেগে উঠেছে। ফলে, তাকে ইদানীং ঘন ঘন বাজারে আসতে হচ্ছে। নিতাই এখন আর বিষাণের বেগুন রাখছে না, সে-জায়গা নিয়েছে শটে। ফকিরবাবা আরও দু-চারটি বউ-ঝিকে ঝুড়ি বোনা শেখাচ্ছেন। তিনি বলেছেন— এতে সব’ক-টা সংসারেরই মেয়েদের আয় বাড়বে অনেক। সুরাহা হবে. কথাটা পাড়ার কারো কারো মনে ধরেছে। তাই গোবিন্দডাঙার পুবপাড়ার বাড়ি বাড়ি মেয়ে-বউদের কুলো আর ঝুড়ি বোনার ধুম চলছে। অন্যদিকে, হকিম আলির কাছে কেউ কেউ শিখছে পুতুল বানানোর কায়দাকানুন। ফকিরবাবা বার বার বলেছেন— নদীর ধারে বাস, মাটির নেই অভাব। তিনি বলেন— নিজেদের শক্তি না-থাকলে অন্য-কেউ এসে শুধু সাহায্য দিয়ে বাঁচাতে পারবে না। শরীরের ভেতরে রোগ ঠেকানোর ‘ক্ষেমতা’ না-থাকলে ডাক্তার, বদ্যি, ওষুধপত্র কাউকে বাঁচাতে পারে না। এর মধ্যেই দুই বন্ধু মধ্যদুপুরে বিষাণের বাড়িতে হানা দিয়ে ঝুড়ি বুননরত ফকিরবাবার কাছ থেকে আগের দিনের কথা, তেভাগাকালের গল্প, বিষাণের ঠাকুমা-ঠাকুদ্দা, বাবা-মা, শহিদ দানেশ শেখ— বাউলিয়া বা বাউলি থেকে গোবিন্দডাঙা পর্যন্ত এই জনপদের তেভাগার লড়াইয়ের গল্প শুনলেন— যদি ফকিরের কথা আর বংশীকাকার বিবরণ থেকে থেকে কোনো ...

রান্নাঘরের গল্প।। মহুয়া বৈদ্য।। সুপ্রকাশ।। পাঠপ্রতিক্রিয়া।।

Image
সুপ্রকাশ প্রকাশিত মহুয়া বৈদ্যের বই 'রান্নাঘরের গল্প' পড়ে মতামত জানিয়েছেন সুমনা চৌধুরী। আমরা তাঁর অনুমতি নিয়ে নিজেদের টাইমলাইন থেকে শেয়ার করছি। .................................................................... রান্নাঘর— আপাত উপেক্ষিত, দেওয়ালে তেল-হলুদের ছোপ পড়া ঝুলকালিমাখা আধো অন্ধকারময় এক অন্দরমহল, যার সাথে কয়েক শতক জুড়ে মেয়েদের অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িয়ে রাখা সুনিশ্চিত করেছে আমাদের মধ্যবিত্তীয় মূল্যবোধ-যাপন। আদর্শ মা, আদর্শ বউ এসবের মাপকাঠি একবিংশ শতকে দাঁড়িয়ে এখনও রান্নাঘরের চারদেয়াল ঠিক করে দেয়। রান্নাঘরের রাজনীতি থেকে লিঙ্গ-সাম্যের রাজনীতি, গৃহশ্রমের ধারণা-মজুরী— যাত্রাপথ, আলোচনা, তত্ত্ব, তর্ক কম তো হয়নি দশকজুড়ে! আবার মেয়েদের রান্নাঘরকে কেন্দ্র করে নস্টালজিয়ায় মোড়া সাহিত্য, সিনেমা, সিরিজও কম হয়নি! সেসব অধিকাংশক্ষেত্রেই আমরা দেখেছি পুরুষ লেখক বা নির্মাতার চোখে নারীর রান্নাঘরের শ্রম আর স্মৃতির বয়ান বা ভাষ্য। ঠিক এ-জায়গায় এসেই প্রশ্ন জাগে একজন নারী তাঁর রান্নাঘরের যাপন আর অভিজ্ঞতাকে কেমন করে দেখেন? কী বলতে চান তিনি বা তাঁরা? বদলে যাওয়া পারিপার্শ্ব, সময...

পলাশবাড়ি।। শুভদীপ চক্রবর্ত্তী।। সুপ্রকাশ।। পাঠপ্রতিক্রিয়া।।

Image
সুপ্রকাশ প্রকাশিত শুভদীপ চক্রবর্ত্তীর উপন্যাস 'পলাশবাড়ি' পড়ে মতামত জানিয়েছেন দীপঙ্কর দাস। আমরা তাঁর অনুমতি নিয়ে নিজেদের টাইমলাইন থেকে শেয়ার করছি। ..................................................... পলাশবাড়ি শুভদীপ চক্রবর্ত্তী সুপ্রকাশ প্রকাশনা  মুদ্রিত মূল্য : ২৫০ টাকা একটি জুটমিলকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা এক মফস্বল শহর দরদী। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বিশেষ করে বাংলার রাজনৈতিক পটপরিবর্তনকে সাক্ষী রেখে ধীরে ধীরে বদলে যেতে থাকে এই একরত্তি শহরের চেনা মুখ, চেনা ছন্দ। এই গল্পের কেন্দ্রে রয়েছে একটি বাড়ি। যাকে সকলে পলাশ বাড়ি নামে জানে।  ছোটবেলায় এক দুর্ঘটনায় বাবা-মাকে হারায় রুকু। স্থানীয় অভিভাবক অনঙ্গ মাস্টারের হাত ধরে তার জীবন নতুন পথে চলতে শুরু করে। প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষিকা হিসেবে রুকু নিজেকে আবিষ্কার করে। কিন্তু অনঙ্গ মাস্টারের মৃত্যুর পর রুকুর সেই আশ্রয়ও অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। অনঙ্গর ছেলের নাম ভুজঙ্গ বোস। এক উঠতি রাজনীতিক, এলাকার সিন্ডিকেটের মাথা সে। তার নজর পড়ে রুকুর স্কুলবাড়ি আর পলাশবাড়ির ওপর। ভয়, ক্ষমতা আর টাকার খেলায় একে একে দখল হয়ে যায় জুটমিলের ইউনিয়ন, বদলে যায় দরদীর চরিত্র।  এ...

দেয়ালের লেখা : এক অন্তহীন প্রকীর্ণ শিল্পকথা।। অনন্ত জানা।। সুপ্রকাশ।।

Image
"এ এমন এক কাজ, যার কথা শিবেশ-যতীশ সুমনের কাছে শুনেছে, ছবিও দেখেছে, তার ইতিহাসও তারা মোটামুটি জানে, কিন্তু নিজেরা কখনও হাতেকলমে করেনি। সুমনও এই গঞ্জদেশে সেই ধরনের দেয়াললেখার কোনো তাগিদ অনুভব করেননি। কিন্তু আজ তারই প্রয়োজন বোধ করলেন। ঘরে ছিল মোটা কার্টিজের কাগজ। তাতেই সুমন এঁকে ফেললেন এই রাঢ়ীয়-বঙ্গের প্রথম গ্রাফিতিটি। খুব সহজবোধ্য বিষয়— দু-জন ভিন্ন শ্রেণীর মানুষ— একজন অর্ধনগ্ন কঙ্কালসার একটি দেহাতি মানুষ— একেবারে নতজানু; অন্যজন ধুতি-সার্ট পরিহিত ভদ্রপানা একজন মানুষ। সকলেই দু-হাতে নিজ নিজ কর্ণধারণ করে আছেন। প্রথমে ছবিটার ক্যাপশন হিসেবে শ্লেষাত্মক কিছু লিখবেন ভেবেছিলেন। কিন্তু ভেবেচিন্তে তা বর্জন করলেন। শুধু বাঁ-হাতের তর্জনিতে ন্যাকড়া-জড়িয়ে ছেলেমানুষী কাগের ঠ্যাঙ-বগের ঠ্যাঙ করে গাঢ় কালো রঙে একটিমাত্র শব্দ লিখলেন— 'অগ্রগতী'। বলাই বাহুল্য হরফের এই কদর্যতা এবং 'অগ্রগতি' বানানের ঐ বিকৃতি একেবারেই ইচ্ছাকৃত। সবুজ বয়সে সুমনের শেখা রাজনৈতিক কৌশলের প্রয়োগ। সন্দেহ হলেও প্রকাশ্যে এমন কথা বলা মুশকিল যে, সুমন বা সুমনের চ্যালারা বানান ভুল লিখেছে! শিল্পের শক্তি ও উপভোক্তার বোধে তাঁর ...

দেয়ালের লেখা : এক অন্তহীন প্রকীর্ণ শিল্পকথা।। অনন্ত জানা।। সুপ্রকাশ।।

Image
বস্তুত শেপার্ড বিগ ব্রাদার চরিত্রটিকে গ্রহণ করেছিলেন জর্জ অরওয়েল [প্রকৃত নাম: এরিক আর্থার ব্লেয়ার (১৯০২-১৯৫০)]-এর 'নাইন্টিন এইটি ফোর' (১৯৪৯/১৯৮৪ সালে পুনর্বার প্রকাশিত) উপন্যাসের ব্যবহৃত 'বিগ ব্রাদার'-এর নাম থেকে। উপন্যাসের শুরুতেই উইনস্টন স্মিথ নামীয় চরিত্রটি 'বিগ ব্রাদার'-এর নজরদারির মুখোমুখি হন। অরওয়েল এপ্রিলের এক উজ্জ্বল ঠাণ্ডা সকালে উইনস্টন স্মিথের সূত্রে বিগ ব্রাদার-এর উপস্থিতির রূপকীয়-বাস্তবতার সঙ্গে পাঠকের এইভাবে পরিচয় করিয়ে দেন: 'হলওয়েতে (ঘরসদৃশ করিডর বা প্যাসেজ- প্রা.) বাঁধাকপি সেদ্ধ এবং পুরোনো ন্যাকড়ার গন্ধ ছিল। প্যাসেজের একপ্রান্তের দেয়ালে ঘরের মাপের সঙ্গে বেমানান বড়ো একটি রঙিন পোস্টার সাঁটানো ছিল। এই পোস্টার জুড়ে এক মিটারেরও বেশি চওড়া একটিমাত্র মুখের ছবি: প্রায় পঁয়তাল্লিশ বছর বয়সী একটি পুরুষের মুখের চিত্রণ— ঘন কালো গোঁফ, মুখটি রুক্ষ হলেও সুন্দর। সাত তলার ফ্ল্যাটে যাওয়ার জন্য উইনস্টন লিফ্ট পাননি, কেননা বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকায় লিফ্টটি অচল ছিল। ঊনত্রিশ বছর বয়সী উইনস্টন তাঁর ডান গোড়ালির প্রায়-স্থায়ী ভ্যারিকোজ আলসার বা ক্ষত নিয়ে ধীরে ধীরে এগিয়ে যাচ...

নষ্ট চাঁদের আলো।। অলোক সান্যাল।। সুপ্রকাশ।। পাঠপ্রতিক্রিয়া

Image
সুপ্রকাশ প্রকাশিত অলোক সান্যালের উপন্যাস 'নষ্ট চাঁদের আলো' পড়ে মতামত জানিয়েছেন সুনীত বিশ্বাস। আমরা তাঁর অনুমতি নিয়ে নিজেদের টাইমলাইন থেকে শেয়ার করছি। ............................................................... আঠারো শতকের উত্তাল আটলান্টিক—নীল জলরাশি যেখানে কেবল ঢেউয়ের খেলা নয়; সেখানে মিশে আছে রক্ত, অদম্য লোভ আর হাজারো মানুষের ভাঙা স্বপ্নের নোনা স্বাদ। দিগন্তজোড়া সেই সমুদ্রপথ ছিল জলদস্যুদের অবাধ বিচরণভূমি। তামাক, তুলো আর চিনি বোঝাই জাহাজ মানেই ছিল লুণ্ঠনের হাতছানি। এই ঝঞ্ঝাবিক্ষুব্ধ সময়েরই এক জীবন্ত কিংবদন্তি—ব্ল্যাকবিয়ার্ড। তার ভয়ংকর রণতরি ‘কুইন অ্যানস রিভেঞ্জ’ যখন দিগন্তে ভেসে উঠত, তখন ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের বাণিজ্যিক মানচিত্রে নেমে আসত আতঙ্কের ছায়া। ওক্রেকোক খাঁড়ির সেই রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে রয়্যাল নেভির হাতে ব্ল্যাকবিয়ার্ডের পতন ঘটেছিল। কিন্তু তার সঙ্গে সাগরের অতল গভীরে হারিয়ে যায় জাহাজ, অগাধ ঐশ্বর্য, আর ইতিহাসের কিছু অমীমাংসিত রহস্য। শতাব্দী পেরিয়ে একবিংশ শতাব্দীতে সেই হারিয়ে যাওয়া সত্যের সন্ধানে আমাদের হাত ধরে নিয়ে যান লেখক অলোক সান্যাল। সমুদ্র-প্রত্নতত্ত্ব...

দেয়ালের লেখা : এক অন্তহীন প্রকীর্ণ শিল্পকথা।। অনন্ত জানা।। সুপ্রকাশ

Image
"পোস্টার শিল্পের শুরুর যুগের সম্ভবত সবচেয়ে স্বীকৃত শিল্পী ছিলেন ইতালিয়ান শিল্পী এমিলিয়াস সেলের (পুরো নাম পাবলিয়াস এমিলিয়াস সেলের)। নির্বাচনী পোস্টার লিখেছেন তিনি, দেয়ালে, বিজ্ঞপ্তিও। সেসময়ে পোস্টারে টেক্সটের পর্যাপ্ত ব্যবহার ছিল। সেলেরের পোস্টারেও। সেলের অঙ্কিত গ্ল্যাডিয়েটর শো-এর পোস্টারে বয়ান ছিল এই রকম: 'টুয়েন্টি পেয়ারস অব গ্ল্যাডিয়েটরস ফার্নিশড্ বাই ডেসিমাস লুক্রেটিয়াস স্যাট্রিয়াস ভ্যালেন্স, পার্মানেন্ট প্রিস্ট অব নিরো, সন অব দি এম্পেরর, অ্যান্ড টেন পেয়ারস্ অব গ্ল্যাডিয়েটরস ফার্নিশড্ বাই ডেসিমাস লুক্রেটিয়াস ভ্যালেন্স হিজ সন, উইল ফাইট অ্যাট পম্পেই এপ্রিল ৮, ৯, ১০, ১১ অ্যান্ড ১২। দেয়ার উইল বি এ বিগ হান্ট অ্যান্ড অনিং। এমিলিয়াস সেলের রোট দিস, অল অ্যালোন বাই দি মুন।' (অগুস্ত মাও: ১৮৯৯) অর্থাৎ সেলের চাঁদের আলোয় একা এটি রচনা করেছিলেন। এখানে নিরোর উল্লেখ দেখে অগুস্ত মাও অনুমান করেছেন যে, এই ঘোষণাপত্রটি ৫০ খ্রিস্টাব্দ থেকে ৫৪ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে রচিত। কেননা নিজের চতুর্থ স্ত্রী এগ্রিপ্পিনা দি ইয়ংগারের পুত্র নিরোকে রোমান সম্রাট ক্লডিয়াস দত্তক নিয়েছিলেন খ্রিস্টীয় ৫০ খ্রিস্টাব্দে এ...

ভূমিকা পুস্তিকা।। উড়নচণ্ডীর পাঁচালি।। সুপ্রকাশ।।

Image
সুপ্রকাশ প্রকাশিত সমরেন্দ্র মণ্ডলের বই 'উড়নচণ্ডীর পাঁচালি'-র ভূমিকা-পুস্তিকা প্রকাশিত। যাঁরা এখনও পড়েননি, তাঁরা বই পড়ার আগেই বইয়ের অংশবিশেষ পড়ে নিতে পারেন। বন্ধুদের সঙ্গে ভাগ করে নিতে পারেন যত খুশি। ডাউনলোড লিঙ্ক  :  https://suprokashbooks.com/wp-content/uploads/2026/02/Bhumika-pustika-Uranchandi_02_02_26.pdf     

সকলই গরল ভেল।। গৌরভ বিশ্বাস।। সুপ্রকাশ।। পাঠপ্রতিক্রিয়া।।

Image
সুপ্রকাশ প্রকাশিত গৌরব বিশ্বাসের নন-ফিকশন 'সকলই গরল ভেল' পড়ে লিখেছেন শুভেন্দুবিকাশ ভট্টাচার্য। আমরা তাঁর অনুমতি নিয়ে নিজেদের টাইমলাইন থেকে শেয়ার করছি। ........................................... সকলই গরল ভেল গৌরব বিশ্বাস সুপ্রকাশ ২৮০ টাকা . প্রথম প্রথম ফেসবুকেই ছোটখাটো লেখা দিয়ে নজর কেড়েছেন গৌরব বাবু। বাংলা সাহিত্যের সঙ্গে কবরখানার হারিয়ে যাওয়া রূপকথার সঙ্গত করতেন।কখনো প্রেম কখনো অপরাধ রিরংসা কখনো অপ্রেম ঐ মাটির নিচে চাপা পড়ে থাকা অনেক যুগ আগেকার গল্প দ্বিতীয়বার ময়নাতদন্তের মতো খুঁড়ে এনে আমাদের পরিবেশন করেছেন।  কিন্তু গৌরব বাবুর কোন ব‌ই ছিল না।তাই এবারের ব‌ইমেলায় ওঁর লেখা "সকল‌ই গরল ভেল" পেয়ে সংগ্রহ করতে আর দ্বিধা করিনি। তারপর এক নিঃশ্বাসে পড়া।পড়ে ফেলার এক সপ্তাহ পরেও রেশ কাটতে চাইছে না। ভাবলাম সবার সঙ্গে ভাগ করে নিই। প্রথমেই দারুণ লাগে প্রচ্ছদের কালকূটের কৌটো। সৌজন্যে সৌজন্য চক্রবর্তী। প্রোডাকশন বাঁধাই সুপ্রকাশের অনবদ্য।১৫২ পাতার সাহিত্যরস সম্পৃক্ত ছোট্ট ব‌ইটির মুদ্রিত মূল্য ২৮০ টাকা মাত্র। এবার আসি মূল কথায়। গল্প নয় সত্য ঘটনা,গল্পের থেকেও রোমাঞ্চকর। প...

দেয়ালের লেখা : এক অন্তহীন প্রকীর্ণ শিল্পকথা।। অনন্ত জানা।। সুপ্রকাশ।।

Image
বোধ হয় ঢাকায় গ্রাফিতিতে সুবোধ এসে পড়ায় আইজুদ্দিনের কষ্টের ইতিবৃত্তে যুক্ত হয় ভিন্নমাত্রার এক উদ্দেশ্যমূলকতা। এই গ্রাফিতিতে সুবোধ যেন এক বিশ্বজনীন চরিত্র। সেখানে কখনও বিশ্বপ্রাণের উৎস সূর্য-রক্ষক সুবোধের হাতে খাঁচার ভেতরে সূর্য! কখনও একা সুবোধ, কখনও তার সঙ্গে একটি শিশুকন্যা। কখনও সুবোধ ছুটন্ত, কখনও গরাদের অন্তরালে বন্দী। কখনও তার ঠোঁটে তর্জনির নিষেধাজ্ঞা। প্রায় সর্বত্র ইংরেজি বানানে 'হবে কি?'— এর উদ্যত জিজ্ঞাসা। সুবোধের গ্রাফিতিগুলিতে টেক্সট ঈষৎ বৈচিত্র্যময়:   'সুবোধ তুই পালিয়ে যা, এখন সময় পক্ষে না।' 'সুবোধ তুমি চুপ থাক।' 'সুবোধ তুই পালিয়ে যা,/এখন সময় পক্ষে না।/মানুষ ভালোবাসতে ভুলে গেছে।' 'সুবোধ তুই পালিয়ে যা, তোর ভাগ্যে কিছু নেই'। 'সুবোধ এখন জেলে, পাপবোধ নিশ্চিন্তে বাস করছে মানুষের হৃদয়ে।' 'এখানে সাপ ভরা চাপ চাপ রুচি।/কাপ ভরা পাপ পাপ ম!/সুবোধ........তুই পালিয়ে যাহ্।' 'সুবোধ, কবে হবে ভোর?' 'সুবোধ তুই পালিয়ে যা/ভুলেও ফিরে আসিস না।' 'সুবোধ তুই ঘুরে দাঁড়া'। 'তবুও সুবোধ রাখিস সূর্য ধরে।' 'সুবোধ তুই ল...

দেয়ালের লেখা : এক অন্তহীন প্রকীর্ণ শিল্পকথা।। অনন্ত জানা।। সুপ্রকাশ।।

Image
একটি কবিতার জনগ্রাহ্য হয়ে ওঠার ইতিবৃত্তকে অনুসরণ করলেই গ্রাফিতি নামক এই রাস্তার শিল্পের অমেয় শক্তি বোঝা যায়। দেয়াল থেকে দেয়ালে একটি কবিতাটির 'হয়ে ওঠার' সেই ইতিবৃত্ত রোমহর্ষকও বটে। কবি হেলাল হাফিজ (১৯৪৮-১৯২৪)-এর সেই কবিতাটির প্রাথমিক চরণদুটি দেয়াললিপির সৌজন্যে অনেকের কাছেই— যিনি কবিতা পড়েন না আদৌ, যিনি সাম্প্রতিক বাংলা কবিতাকে বাংলা বর্ণে লেখা দুর্বোধ্য কোনো ভিন্ন ভাষার অ-বাক্য বলে মনে করেন, তেমন মানুষের কাছেও পরিচিতি পায়। হাসান হাফিজকে দেওয়া হেলাল হাফিজের এক সাক্ষাৎকার থেকে জানা যায়— ছাত্রাবস্থায় কবি হেলাল হাফিজ এক বিকেলে পুরান ঢাকা থেকে রিক্সা করে ফিরছিলেন তাঁর হস্টেল ইকবাল হলে। সেটা ১৯৬৯ সাল। সাবেক পূর্ব পাকিস্তানে পাকিস্তানী স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে তীব্র গণআন্দোলন শুরু হয়ে গেছে। ঢাকার গুলিস্তানের ফুলবেড়িয়ায় পৌঁছে হাফিজ দেখলেন সেখানে সমানে মিছিল ও বিক্ষোভ চলছে, ছাত্রজনতার সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ বেঁধে গেছে। পুলিশ-মিলিটারির লাঠিচার্জের প্রতিবাদে ছাত্রদের পক্ষ থেকে ঢিল-পাটকেল ছোড়া হচ্ছে। এরই মধ্যে বয়স্ক এক রিক্সাচালক বললেন— 'মার, মার শালাদের। প্রেমের জন্য কোনো কোনো সময় মার্ডারও ক...

নষ্ট চাঁদের আলো।। অলোক সান্যাল।। সুপ্রকাশ।। পাঠপ্রতিক্রিয়া।।

Image
সুপ্রকাশ প্রকাশিত অলোক সান্যালের উপন্যাস 'নষ্ট চাঁদের আলো' পড়ে গুডরিডস্-এ মতামত জানিয়েছেন মোস্তাফিজুর রহমান। আমরা নিজেদের টাইমলাইন থেকে শেয়ার করছি। ............................................................ অলোক সান্যালের লেখা "নষ্ট চাঁদের আলো" অষ্টাদশ শতকের আটলান্টিক মহাসাগরে জলদস্যুদের স্বর্ণযুগ, ব্ল্যাকবিয়ার্ডের উত্থান ও পতনের ইতিহাসের সঙ্গে সমান্তরালে এগিয়েছে বর্তমান সময়ে হারিয়ে যাওয়া গুপ্তধনের অনুসন্ধান নিয়ে থ্রিলার বই। অতীত ও বর্তমান— দুটি সময়কালকে সমান দক্ষতায় গেঁথেছেন লেখক। সমুদ্রযুদ্ধ, গুপ্তধনের কিংবদন্তি, উপনিবেশিক শোষণ ও দাসপ্রথার নির্মম বাস্তবতা উপন্যাসটিকে শুধু রোমাঞ্চকর নয়, ভাবনাপ্রবণও করে তোলে। চরিত্র নির্মাণ শক্তিশালী, অনুসন্ধানভিত্তিক থ্রিলার অংশে রয়েছে টানটান উত্তেজনা। প্রায় ৪০০ পৃষ্ঠার উপন্যাস হলেও কোথাও ক্লান্তিকর নয়। ইতিহাস আর অ্যাডভেঞ্চার যাঁরা ভালোবাসেন, তাঁদের জন্য "নষ্ট চাঁদের আলো" নিঃসন্দেহে একটি পাঠযোগ্য উপন্যাস। পাইরেটস অফ দ্য ক্যারিবিয়ানের মতো একটি সিরিজের ভঙ্গি এখানে স্পষ্ট, বিশেষ করে জাহাজের বর্ণনা এবং জলদস্যুদের চরিত্রায়ন...

লেটারপ্রেসের কম্পোজিটর: এক বিষাদান্ত পরম্পরা ।। অনন্ত জানা।। সুপ্রকাশ।। পাঠপ্রতিক্রিয়া।।

Image
সুপ্রকাশ প্রকাশিত অনন্ত জানার বই লেটারপ্রেসের কম্পোজিটর : এক বিষাদান্ত পরম্পরা পড়ে লিখেছেন মহুয়া বৈদ্য। আমরা তাঁর অনুমতি নিয়ে নিজেদের টাইমলাইন থেকে শেয়ার করছি।  .................. এক একটি বই কালেভদ্রে হাতে আসে যেটি পড়ার পর মনে হয়, হ্যাঁ পরিপূর্ণ কিছু পড়ে উঠলাম, যে পড়ার মাঝে ফাঁকফোকর প্রায় কিছুই নেই। বইটির নাম, “লেটারপ্রেসের কম্পোজিটর : এক বিষাদান্ত পরম্পরা”। লেখক অনন্ত জানা। পারিবারিক জীবনালেখ্যর সাথে লেটার-প্রেসের জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি এবং ইতিহাস মিশেমিশে একটি নিটোল পাঠের আয়োজন এই বইটিতে। সুপ্রকাশ একটি অসামান্য বই প্রকাশ করেছেন।  এই যে প্রতিনিয়ত এত বই আমাদের হাতে উঠে আসছে, সেই বই যাঁরা তৈরি করছেন, তাদের জীবনের অনালোকিত এবং প্রায় অনালোচিত অধ্যায় এই বইয়ের বিষয়বস্তু। বইটির মূল বৈশিষ্ট্য হল বিষয়বস্তুর সাথে জীবনস্মৃতির উপাখ্যানের এক আশ্চর্য মেলবন্ধন। একজন কম্পোজিটরের জীবন, পরিবার, প্রেস…এই সমস্ত যাপনের সাথে অনায়াসে মিশে গেছে প্রেসের ইতিহাস, কম্পোজিটর জীবিকাটির ইতিহাস এবং তার জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ক্ষেত্র। বইটির লেখক প্রকৃত অর্থে ‘কাঙলীর নাতিপুতি’দের একজন। একটি একান্নবর্ত...

দেয়ালের লেখা : এক অন্তহীন প্রকীর্ণ শিল্পকথা ।। অনন্ত জানা ।। সুপ্রকাশ

Image
"১৯৮০-র দশকে পূর্ব আর পশ্চিম জার্মানির মধ্যে ভাগ হওয়া, বার্লিনকে দ্বিখণ্ডিত করা জার্মান প্রাচীর [(১৯৬১-১৯৮৯) জার্মান প্রাচীর নিজেই ছিল ইতিহাসের একটি পর্বের সাক্ষী। বস্তুত জার্মান বা বার্লিন প্রাচীর ছিল আদর্শগত বিভেদ, মতাদর্শগত অবস্থানের প্রভেদ এবং দ্বিতীয় মহাযুদ্ধ-পরবর্তী ঠাণ্ডা যুদ্ধের প্রতীক] গ্রাফিতির একটি বিস্তৃত আশ্রয় হয়ে ওঠে। প্রকাশ, বিদ্রোহ, সামাজিক বৈপরীত্য, পরম্পরাগত আবেগ প্রকাশের মাধ্যম হিসেবে জার্মান প্রাচীর গুরুত্ব পেয়েছিল। এই প্রাচীরের পূর্ব অংশটি ঈষৎ ধূসর ছিল আর পশ্চিম অংশটি গ্রাফিতির জন্য বেশি ব্যবহৃত, অনেকটা প্রাণবন্ত। প্রাচীরের গ্রাফিতিগুলিকে এলা গারলিন গভীর সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। ১৮৮০-র দশকে আমেরিকার অকালপ্রয়াত চিত্রশিল্পী ও নিও এক্সপ্রেশনিজম আন্দোলনের সহযোগী জিন মিশেল-বাসকিয়াত (১৯৬০-১৯৮৮) ঐতিহ্যবাহী শিল্প জগতে গ্রাফিতিকে গুরুত্বপূর্ণ মর্যাদায় অভিষিক্ত করেছিলেন। বাসকিয়াতের কাজ উল্লেখযোগ্য স্বীকৃতি অর্জন করেছিল। তাঁর রচনায় বর্ণবাদ এবং শ্রেণীবিভেদের বিরুদ্ধে অসন্তুষ্টিজনিত প্রতিবাদে গ্রাফিতি নির্মাণে বাসকিয়েত নিজের স্বল্প-পরিসর জীব...