Posts

Showing posts from 2026

বৃক্ষমানুষের ছায়া।। দুর্লভ সূত্রধর।। সুপ্রকাশ।। পাঠপ্রতিক্রিয়া।।

Image
সুপ্রকাশ প্রকাশিত দুর্লভ সূত্রধরের উপন্যাস 'বৃক্ষমানুষের ছায়া' পড়ে মতামত জানিয়েছেন ফারজানা রহমান। আমরা তাঁর অনুমতি নিয়ে নিজেদের টাইমলাইন থেকে শেয়ার করছি। .............................................................. বই : বৃক্ষমানুষের ছায়া লেখক : দুর্লভ সূত্রধর  প্রকাশনী : সুপ্রকাশ মুদ্রিত মূল্য : ৩৬০ টাকা শুশ্রূষার সকাল আর আরোগ্যের বিকেলগুলো ঠিকই থাকে। বদলায় না। বদলে যায় মানুষ। ভেতরে ভেতরে ভেঙে যাওয়া মানুষ। তাদের চোখে তাই সেই সকাল এবং বিকেলগুলো হয়ে ওঠে জীবনে যে উদ্দেশ্যর বৃত্ত তার বহু বাইরের কিছু।  স্যানাটোরিয়াম থেকে যায় তখন রূপকথার রাজ্যে। ঠিক এই চাওয়া আর পাওয়ার মাঝে  দুর্লভ সূত্রধরের উপন্যাস 'বৃক্ষমানুষের ছায়া' যেমন একদিকে হয়ে ওঠে বৃক্ষের ছায়া, অথবা স্বপ্নের কোমল টোনের একটা রাস্তা, তেমনি সামাজিক অবক্ষয়েরর রুক্ষ্ণ টোনটুকুও সেই স্বপ্নের রাস্তাটুকু পিচ্ছিল করে তোলে। বৃক্ষপ্রতিম চরিত্রগুলোর পাশাপাশি আগাছাসদৃশ্য কিছু চরিত্রগুলোর ডুয়ালিজম যোগ করে সংঘাতগুলো জোরালে হয়ে ওঠে। বিভাজনগুলিকে আরও স্পষ্ট করে তোলে।  তখন উপন্যাসের কোন এক জায়গায় হয়তো হুমায়ূন আজাদও হয়ে ওঠেন প...

হামারটিয়া।। শাক্যজিৎ ভট্টাচার্য।। সুপ্রকাশ।।

Image
'২০২৪ সালের জানুয়ারি মাসে ডিডি হোমিসাইডের অবসরপ্রাপ্ত ইনস্পেকটর জাভেদ আহমেদের ঠিকানায় একটা হাতে-লেখা চিঠি পৌঁছোলে জাভেদ অবাক হলেন, কারণ ডিজিটাল যুগে এরকম চিঠি আসা প্রায় লুপ্ত হয়ে গেছে। তারপর প্রেরকের নাম দেখে তাঁর মনে হল আগে কোথায় যেন শুনেছেন। অবশেষে খাম খুলে চিঠিটা পড়তে গিয়ে নিশ্চিতভাবে মনে পড়ল তাঁর। হাতে চিঠি ধরে চোখ বুজে বসে থাকলেন প্রায় পনেরো মিনিট। তারপর বার বার ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে পড়লেন। হঠাৎ আপনমনে চেঁচিয়ে উঠলেন, 'বাস্টার্ড!' তাঁর স্ত্রী অবাক চোখে তাকালে বিরক্ত ভঙ্গিতে মাথা ঝাঁকালেন জাভেদ। কয়েক দিন আগেকার সংবাদপত্র ঘাঁটাঘাঁটি করলেন। আলমারি থেকে পুরোনো ফাইল খুলে দুপুর বেলা বসে থাকলেন ঝুম হয়ে। সেদিন জাভেদ সান্ধ্যভ্রমণে বেরোলেন না। সল্টলেকে নিজের বাড়ির ব্যালকনিতে চিঠি হাতে পায়চারি করলেন অস্থিরভাবে। একসময়ে সিদ্ধান্ত নিলেন চিঠির কথা তিনি ভুলে যাবেন। কিন্তু, পরদিন সকালে স্টাডিতে গিয়ে আবার তাঁর চোখে পড়ল। চিঠিটা সামনে খুলে বসে থাকলেন টানা একঘণ্টা। অবশেষে চোখ বুজে মাথা নাড়লেন নিজের মনে— এ বিষয়ে একটা স্টেপ তাঁকে নিতে হবে। এগোবার আগে কয়েক দিন সময় চাইছিলেন নিজেকে গুছিয়ে নেবার জন্য। কি...

বৃক্ষমানুষের ছায়া।। দুর্লভ সূত্রধর।। সুপ্রকাশ।। পাঠপ্রতিক্রিয়া।।

Image
সুপ্রকাশ প্রকাশিত দুর্লভ সূত্রধরের উপন্যাস 'বৃক্ষমানুষের ছায়া' পড়ে গুডরিডসে লিখেছেন অমিয়রঞ্জন সেন। আমরা নিজেদের টাইমলাইন থেকে শেয়ার করছি। ...................................................................... কোনও কোনও উপন্যাস পড়া শেষ হলে মনে হয়, একটি গল্প শেষ হলো। আবার কিছু উপন্যাস শেষ হয় না; বরং পাঠকের ভিতরে গিয়ে শুরু হয়। বৃক্ষমানুষের ছায়া আমার কাছে দ্বিতীয় ধরনের উপন্যাস। বইটি শেষ করার পরে বারবার মনে হয়েছে, এর কেন্দ্রে আসলে কোনও একক চরিত্র নেই। গৌর, সুনন্দ, বিষাণ, হকিম আলি ফকির, টুনা, সুজি-- এরা প্রত্যেকেই যেন একটি বৃহত্তর প্রশ্নের অংশ। সেই প্রশ্নটি হলো-- একটি সমাজ ভেঙে গেলে তাকে কি আবার জোড়া লাগানো যায়? উপন্যাসের শুরুতে গৌর ও সুনন্দ অবসরপ্রাপ্ত দুই মানুষ। তাঁদের জীবনে অভাব নেই, কিন্তু উদ্দেশ্য নেই। অন্যদিকে বিষাণের জীবনে উদ্দেশ্যও আছে, যন্ত্রণাও আছে; কিন্তু সমাজ তাকে একঘরে করেছে। এই দুই ভিন্ন জগতের সংযোগ ঘটায় হকিম আলি ফকির। আশ্চর্যের বিষয়, তিনি কোনও গুরু নন, কোনও ধর্মপ্রচারক নন, কোনও বিপ্লবী নেতাও নন। তিনি মানুষকে কোনও মতবাদ শেখান না; বরং তাদের একসঙ্গে বসতে শেখা...

হাফ প্যাডেলের কাল।। অর্দ্ধেন্দুশেখর গোস্বামী।। সুপ্রকাশ।। পাঠপ্রতিক্রিয়া।।

Image
সুপ্রকাশ প্রকাশিত অর্দ্ধেন্দুশেখর গোস্বামীর স্মৃতিকথা 'হাফ প্যাডেলের কাল' পড়ে লিখেছেন আসিক ইকবাল। আমরা তাঁর অনুমতি নিয়ে নিজেদের টাইমলাইন থেকে শেয়ার করছি। .................................................... বই :হাফ প্যাডেলের কাল  লেখক :অর্ধেন্দুশেখর গোস্বামী  মুদ্রিত মূল্য :৪০০/ প্রকাশক : সুপ্রকাশ   প্রচ্ছদ:সুলিপ্ত মন্ডল  পৃষ্ঠা :২৪৯টি  এই ধরণের আত্মজীবনীমূলক লেখা শেষ পড়েছিলাম স্মরণজিৎ চক্রবর্তীর 'ঝাল লজেন'। এই লেখাটিও সেই আত্মজীবনীমূলক বা স্মৃতিচারণামূলক একটি লেখা। এই ধরণের লেখা গুলো নিয়ে বেশি কিছু বলা যায় না, শুধু গোগ্রাসে গিলতে হয়, আর অজান্তেই আপনিও হারিয়ে যাবেন নিজের নস্টালজিক শৈশবের অন্তরালে। আমরা যারা শৈশব পেরিয়ে কৈশোরে সাইকেল চালাতে শিখেছি, তাদের কাছে বেশিরভাগই বাবা কাকাদের সেই বড়ো সাইকেলই ছিল একমাত্র ভরসা। এখন তো সাইকেলের নানা রকমফের। কালের নিয়মে সেই বড়ো সাইকেল গুলো আজ অবলুপ্তির পথে। তবে বড়ো সাইকেল গুলোয় সিটে বসা যেত না, ফলত ঠুক ঠুক করে হাফ প্যাডেলেই চালাতে হত, বালকও তেমন করেই চালাতে শিখেছে। তবে সে সাইকেল হাতে পেত না খুব একটা। লেখক এই লেখার মাধ্যম...

বাংলা সিনেমার চালচিত্র।। ঋদ্ধি রিত।। সুপ্রকাশ।।

Image
"গতানুগতিকতার বাইরে ভাবনার নামই মৃণাল সেন। তাঁর ফ্রেমে ধরা দিয়েছে শহরের প্রগতিশীল বাঙালির ইতিহাসের সাক্ষর। বাইরে থেকে দেখলে অধিকাংশ ছবির ঘটনাস্থল কলকাতা। কিন্তু ছবিতে উঠে আসা কলকাতা, ভারতবর্ষের একটি শহর; যে দেশে সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী একশো জনের মধ্যে যাট জনই দারিদ্র্যরেখার নিচে বাস করেন। এই কলকাতা কেন্দ্রিক চলচ্চিত্রের আঙিনায় কলকাতা ট্রিলজির কথা উঠলে সত্যজিৎ রায়ের থেকেও আগে আসে মৃণাল সেনের নাম। তার কারণ তাঁরই একটি লেখা। যেখানে তিনি বলছেন, "এ দেশের যে শহরটা, শুনে থাকি, বারুদে ঠাসা—তার নাম কলকাতা... কলকাতায় বিক্ষোভ, ক্রোধ, ব্যারিকেড আর বোমা। কলকাতা বেপরোয়া, কলকাতা মারমুখী।” (মৃণাল সেন, 'ভূত-বর্তমান-ভবিষ্যৎ', ১৯৭৭)।"        বাংলা সিনেমার চালচিত্র, প্রথম খণ্ড সংকলন, গ্রন্থনা, ভাষ্য : ঋদ্ধি রিত প্রচ্ছদ ও সজ্জা : ঋদ্ধি রিত মুদ্রিত মূল্য : ৬০০ টাকা সুপ্রকাশ       

প্রতিযাত্রা।। দুর্লভ সূত্রধর।। সুপ্রকাশ।।

Image
অমিতাভ গৌতম বুদ্ধের মহাপরিনির্বাণের দ্বিসহস্রাধিক বছর অতিক্রম করার পরে বুদ্ধকালের শিক্ষা ও স্মৃতির সঙ্গী হয়ে এই কাহিনীর ইতিহাসপরিক্রমণের শুরু। বৈনাশিক অন্তর্কালের এবং অনিঃশেষ বেদনার দীর্ঘ দীর্ঘ শতাব্দী পেরোতে পেরোতে এই কাহিনীর প্রতিযাত্রা। ইতিহাসের সুনির্দিষ্ট পরিসর অনুসরণ না-করা সত্ত্বেও ভারতীয় পরিমণ্ডলের বৌদ্ধবলয় জুড়ে এর বিস্তৃতি। এটি স্থূল ইতিহাসমাত্র নয়, ইতিহাসসম্ভব। কয়েকশত বর্ষের প্রলম্বিত মানবিক কাহিনীর নিছকই এক নিরীক্ষিত আখ্যান, যা একটিমাত্র সংহত সময়ের বলয়ে বিন্যস্ত হয়েছে। ফলত তথ্যের নিশ্চয়তা বা অনিশ্চয়তার, তথ্যহীনতার, এমন কি তথ্যবিকারেরও কোনো দায় এখানে নেই। তবু মানববৈচিত্র্যের সীমাহীন বিপুলতার কারণেই এই রচনার কোথাও হয়তো অনির্দিষ্টকালের কুশীলবদের অস্থি-কাঠামোর ওপরে ফুটে ওঠা রক্ত-মাংস-শিরা-উপশিরা-ত্বকের সম্ভাব্য লাবণ্যের খোঁজ পাওয়া গেলেও যেতে পারে। প্রতিযাত্রা  দুর্লভ সূত্রধর  প্রচ্ছদ : সৌজন্য চক্রবর্তী  অলংকরণ : অদ্বয় দত্ত  মুদ্রিত মূল্য : ৪৮০ টাকা সুপ্রকাশ        

বৃক্ষমানুষের ছায়া।। দুর্লভ সূত্রধর।। সুপ্রকাশ।।

Image
প্রতিবাস্তবের কিনারা ছুঁয়ে এই উপন্যাস প্রায় মুছে যাওয়া ইতিহাস, অপহৃত ঐতিহ্যের হতমানতা থেকে পাঠককে শ্রম ও উদ্দীপনাময় জাগরণের সম্ভাবনাময় বাস্তবে নিয়ে যেতে চায়। মানবসম্পদের উপসংহারের প্রান্তবর্তী এই স্তম্ভিত সময়ে 'বৃক্ষমানুষের ছায়া' হয়ে উঠতে পারে অনিঃশেষ, অব্যক্ত এক সংগীত। বৃক্ষমানুষের ছায়া দুর্লভ সূত্রধর অলংকরণ : অদ্বয় দত্ত প্রচ্ছদ : সৌজন্য চক্রবর্তী মুদ্রিত মূল্য : ৩৬০ টাকা সুপ্রকাশ       

বাংলা সিনেমার চালচিত্র, প্রথম খণ্ড।। সংকলন, গ্রন্থনা, ভাষ্য : ঋদ্ধি রিত।। সুপ্রকাশ।।

Image
"ঘর ভাঙলে ঋত্বিক শুনতে পেতেন গ্রাম ভাঙার শব্দ—যা সৃষ্টি করে ছিন্নমূল মানুষের কাছে আতঙ্কের এক শূন্যতার পরিসর। যে মানুষ উন্মাদ, শিকড়হীন, ধ্বংসাত্মক প্রলয়ের শেষে তার সাংস্কৃতিক ঠিকানা কী হবে? নিথর শবদেহের ব্যবচ্ছেদ করা কখনই শিল্পীর কাজ নয়। এক প্রকৃত শিল্পীই তার দেশজননীকে স্নেহচ্ছলে বলতে পারে, 'আয় গো উমা কোলে লই'—এই দেশ যখন ক্ষুধায় সর্বস্ব হারিয়ে বিলাপ করে, তখন সে বলতে পারে, 'নামাজ আমার হইল না আদায়'!'        বাংলা সিনেমার চালচিত্র, প্রথম খণ্ড সংকলন, গ্রন্থনা, ভাষ্য : ঋদ্ধি রিত প্রচ্ছদ ও সজ্জা : ঋদ্ধি রিত মুদ্রিত মূল্য : ৬০০ টাকা সুপ্রকাশ         

বৃক্ষমানুষের ছায়া।। দুর্লভ সূত্রধর।। সুপ্রকাশ।।

Image
"গৌর ভাঙতে শুরু করেছিলেন অনেক আগে থেকেই। যেদিন একান্নবর্তী সংসারের মহাবৃক্ষ থেকে গৌর শুকনো পাতার মতো খসে পড়েছিলেন, অনেক ল্যাটা-প্যাটা খেয়ে পড়াশুনো চালিয়ে, বেশ কয়েকটি পেশার ঘাটে-বেঘাটে এলোমেলো ঠোক্কর খেয়ে, অনেক প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা-টরিক্ষা দিয়ে এখনকার চাকরিটা জোগাড় করেছিলেন— তার আগে থেকেই 'ছোটো' আর 'সাশ্রয়' শব্দ দুটো তাঁর সঙ্গী। একটা প্যান্ট, একটা জামা। চটি কিনতেন অবিশ্বাস্য কম টাকার মধ্যে— একেবারে জবাব দেওয়ার আগে সেটাকে বার বার সেলাই করে পিন মেরে চালাতেন। সস্তার হোটেলে পাঁচসিকের ডাল-ভাত-তরকারি। তখন কীই-বা বয়স— অনন্ত খিদে। তবু, অতিরিক্ত ভাত নিতে গিয়ে চারবার ভাবতেন— পকেটের এককোণে পড়ে-থাকা খুচরো পয়সার সঙ্গে ভাতের পরিমাণ মিলিয়ে দেখতেন মনে মনে, তারপর পেটে খিদে নিয়েই খাওয়া ছেড়ে উঠে পড়তেন টেবিল থেকে। কতদিন হয়েছে হোটেলের ভেতরে পা দিয়েও সরিয়ে নিয়েছেন পা— কোয়ার্টার পাউরুটির আধখানা আর একগ্লাস চা দিয়ে সে-বেলাটা চালিয়ে দিয়েছেন। শেষ ট্রেনে নির্বাস বাসভূমিতে নেমে বাসভাড়ার পনেরো পয়সা বা চার-আনা বাঁচাবার জন্য মাইল-চারেক হেঁটে একাকী আশ্রয়ে ফিরতেন দিনের পর দিন। এমনভাবে একসপ্তাহ হা...

হামারটিয়া।। শাক্যজিৎ ভট্টাচার্য।। সুপ্রকাশ।। পাঠপ্রতিক্রিয়া।।

Image
সুপ্রকাশ প্রকাশিত শাক্যজিৎ ভট্টাচার্যের উপন্যাস 'হামারটিয়া' পড়ে মতামত জানিয়েছেন পথিক মিত্র। আমরা তাঁর অনুমতি নিয়ে নিজেদের টাইমলাইন থেকে শেয়ার করছি। ............................................ বই : হামারটিয়া  লেখক : শাক্যজিৎ ভট্টাচার্য   প্রকাশনা : সুপ্রকাশ প্রকাশনা  মুদ্রিত মূল্য : ৩৫০/- এই কলামটি আমি বিগত পাঁচ ছয় বছর ধরে লিখি। তখন আমি বইপাড়ার সাথে নেহাত একজন পাঠক হিসেবে যুক্ত। কাজেই বই পড়ে ভালো, খারাপ যা লাগতো, নির্দ্বিধায় লিখে দিতাম। এরপর যখন নিজের দু একটা বই এলো, একজন লেখক বন্ধু বললেন খারাপ কে খারাপ বলতে নেই। তারপর থেকেই যাকে স্পর্ধা বিদায় নিলো, বিনয় এলো। আজকেও এর ব্যতিক্রম হতো না যদি শাক্যজিৎ ভট্টাচার্যের হামারটিয়া বইটা না পড়তাম। আজকাল থ্রিলারের রমরমা বাজার। পাঠক এবং প্রকাশকের এক দাবি থ্রিলার দাও, যাতে একশন থাকবে, টুইস্ট থাকবে একাধিক, শিহরণ থাকবে, আরো বেশি টুইস্ট থাকবে! সাম্প্রতিক কালে আমার কিছু গল্পের অডিও রূপান্তরের ক্ষেত্রে দেখেছি বারবার শ্রোতা জানাচ্ছেন আরও থ্রিল চাই, আরো রহস্য চাই, আরো টানটান সারপ্রাইজ চাই!! না চাইতেই পারেন পাঠক তবে আমরা যে সা...

শেকল ভাঙার গান।। অলোক সান্যাল।। সুপ্রকাশ।।

Image
"ঢালু জমির মুখে দাঁড়িয়ে প্রতিপক্ষকে চিনে নেওয়ার দুর্বার বাসনায় ঘাড় ঘুরিয়েছিল নূর। প্রথম দর্শনে ঠিক এই কথাটাই নূরের মাথায় উঁকি মারল। সামনে এখন কোনও আড়াল নেই। যেকোনও মুহূর্তে তাকে দেখতে পেয়ে যাবে। যেভাবেই হোক তার আগে গুহায় পৌঁছাতে হবে। সে কি পারবে? গুহাটা যে অনেক উঁচুতে। ভয় দ্বিধা সব ঝেড়ে ফেলে প্রাণপণে ছুটতে শুরু করল নূর। একবার মায়ের কাছে পৌঁছোতে পারলে আর কোনও ভয় নেই। চেহারায় যত তাগড়াই হোক না কেন, তার মায়ের কাছে প্রতিপক্ষ ঠিক জব্দ হয়ে যাবে। আশঙ্কায় বুকটা কেঁপে উঠল পুরন্দরের। বাইনোকুলারে চোখে লাগিয়েও ঘাস-পাতার ফাঁক গলে সে ছুটন্ত বাঘটাকে ঠিকমতো দেখতে পাচ্ছে না। চামড়ার ডোরাকাটা দাগগুলোকে চেনবার আপ্রাণ চেষ্টা করছিল পুরন্দর। বাঘ চেনার এটা অন্যতম উপায়। হলুদ রঙের ওপরে ডোরাকাটা দাগগুলো অনেকটা মানুষের আঙুলের ছাপের মতন। মানুষের আঙুলের ছাপ যেমন ব্যক্তিবিশেষে আলাদা হয়, বাঘেদের ডোরাকাটা দাগও তেমন। সমস্যা তৈরি করেছে তার জিপের সামনে বেখাপ্পাভাবে বেড়ে ওঠা ঝোপ। ঝোপের ফাঁক গলে শরীরের দাগগুলোকে ঠিকভাবে নজর করা যাচ্ছে না। রাজবাগের অঞ্চলে টি২৯-এর রাজত্ব। অবশ্য অনেকদিন হল এদিকটায় তার দেখা মেলেনি। অন্য কো...

অকূলের কাল।। অর্দ্ধেন্দুশেখর গোস্বামী।। সুপ্রকাশ।।

Image
'ভরা শরীর নিয়েই নতুন সংসারে বেশ মগ্ন হয়েছে দোলন। ক্ষিতি অবাক হয়ে দেখে, সামান্য জামাকাপড় আর রান্নার তেল নুন মশলা পুরনো কৌটায় ভরে সাজিয়ে রাখছে সে। রঙচটা কৌটোগুলোতে সব রঙিন কাগজ সাঁটিয়ে চকচকে রূপ দিয়েছে। কাগজ, আঠা— সব সে নাদুকে বরাত দিয়ে আনিয়েছে। দিদির বাড়িতে কিছুদিন থেকে সে রুটি করতে শিখেছে। সে-বাড়িতে প্রতিদিনই রাতে খাওয়ার জন্য দিস্তেখানেক রুটি আর প্রায় এক গামলা গার্হস্থ সংস্করণের তরকা তৈরি হয়। গোটা মুগ আর আলুসেদ্ধ সামান্য গাওয়া ঘি দিয়ে ছকে নেওয়া সেই তরকাও সে অবিকল দিদির মতোই তৈরি করতে শিখে গেছে। রোজই সে মনার সাহায্য নিয়ে কুড়ি-বাইশ খানা রুটি তৈরি করছে। বেশ খিদে বেড়েছে দোলনের। ক্ষিতিকেও কোনো কোনোদিন হারিয়ে দিচ্ছে রুটি খাওয়ায়। তরকা শেষ হলো তো দুধ-গুড় দিয়ে শুরু হলো। গ্রামের বাড়িতে থেকে চুলে জটা পড়লে কী হবে, দুধ খাওয়াটা সে ভালোই অভ্যেস করে ফেলেছে। এই দুধও গ্রামের বাড়ির মতোই খাঁটি দুধ। দিদির বাড়ি থেকে আসে। ভাড়া বাড়িতে গরুও পোষেন তিনি। জামাইবাবুই তদারকি করেন। খাঁটি দুধ ছাড়া রাতে ঘুম আসে না তাঁর। স্বাধীন সংসার একটা পুরো মাসও ভোগ করতে পারল না দোলন। ব্যথা উঠে গেল এক বিকেলে। খবর পেয়ে দিদি এলেন...

অকূলের কাল।। অর্দ্ধেন্দুশেখর গোস্বামী।। সুপ্রকাশ।।

Image
'লোকটির নাম ভগবান দাস। ক্ষিতির মনে হলো স্বয়ং ভগবানই বুঝি চলে এসেছেন তাকে সাহায্য করতে। দইজুড়িতে নেমে ক্ষিতিকে সাইকেলের রডে বসিয়ে হাওয়ার বেগে সাইকেল চালাল ভগবান। তবুও ঘাটে নামতে না নামতেই পশ্চিম আকাশে টুপ করে ডুবে গেল সূর্য। ক্ষিতিকে নামিয়ে দিয়ে ভগবান বলল,— নদী পেরিয়ে যেদিকে শ্মশান দেখতে পাবেন, সেদিকেই সজা হাঁটবেন। এদিক উদিক হেলবেননি মোটে। তাইলেই লালগড় পেয়ে যাবেন। তখনও যেটুকু আলো ছিল তাতে চারদিকে পড়ে থাকা ভাঙ্গা হাঁড়ি, পোড়া কাঠ ইত্যাদি দেখে শ্মশান চিনতে অসুবিধে হলো না ক্ষিতির। শ্মশানের গায়ে লেগে থাকা মোটা আলে পা দিতেই ঝুপ করে দিনের শেষ আলোটুকুও নিভে গেল। সেদিন সম্ভবত অমাবস্যা। নিশ্ছিদ্র অন্ধকার। আন্দাজে পা চালাল ক্ষিতি। আল তো সরলরেখায় চলে না, হামেশাই ডাইনে বাঁয়ে ঘুরে যায়। মাঝে মাঝেই পিছলে যাচ্ছে তার পা। একটু পরে অন্ধকার খানিক সয়ে গেল চোখে। তারাদের ক্ষীণ আলোয় ভরসা করে আল ছেড়ে ধেনোমাঠে নেমে সরলরেখায় চলতে শুরু করল সে। আর তখনই তার সামনে থেকে ছায়ার মতো কিছু সরে গেল, একটু দূরেই সমস্বরে শিয়াল ডেকে উঠল। ডাকাবুকো ক্ষিতির বুকও দুরুদুরু, ধানগাছের গোড়ায় হোঁচট খায় সে। কাঁধের ব্যাগ ক্রমশ ভারী হতে...

অকূলের কাল।। অর্দ্ধেন্দুশেখর গোস্বামী।। সুপ্রকাশ।।

Image
'শ্রুতিলিখন শেষ হতেই জুনিয়ার মেয়েটি সেই ছয় পৃষ্ঠার রচনাটিকে মনসুর সাহেবের দিকে ঘুরিয়ে রাখল। তিনি সেটিকে মন দিয়ে পড়তে লাগলেন আর সেই সঙ্গে চলল ইতিউতি সংশোধন। Affidavit শিরোনামের নীচে বেশ কিছুটা ফাঁকা জায়গা রয়ে গেছে। এবার সেটা পূর্ণ করতে হবে। মনসুর সাহেব ক্ষিতিকে সামনে ডাকলেন। বললেন, শোন— এই যে মেয়েটিকে দেখছিস আমার সঙ্গে কাজ করছে, এ বাঙালি নয়। বাড়ি সেই সুদূর পাঞ্জাবে। নাম কিরণ মোহে। তোর দোলনের মতো এও বাড়ি থেকে পালিয়ে এসেছিল বছর সাতেক আগে। তবে বিয়ে হাসিল করার জন্যে নয়, একেবারে উলটো কারণে। পাঞ্জাবের সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি থেকে গ্র্যাজুয়েসন করার পর আইন পড়তে চেয়েছিল। বাড়ির লোক রাজি নয়। মনসুর সাহেব তার জুনিয়ারের জীবনী বলে চলেছেন। কেন বলছেন কে জানে! ক্ষিতি মেয়েটিকে এই প্রথম ভালো করে দেখছে। বেশ লম্বা, তীক্ষ্ণ নাক, পাতলা ওষ্ঠাধর, চোখ দুটি কেবল বাঙালি মেয়েদের মতো, কালো তারায় কোমল চাহনি। মনসুর সাহেব তারই গল্প সাতকাহন করে শোনাচ্ছেন বলেই বোধহয় একটু লজ্জায় পড়েছে। কারণ ধীরে ধীরে তার ফরসা গালে লালের আভা দেখতে পাচ্ছে ক্ষিতি। মনসুর সাহেব বলছেন,— তারা কিরণের বিয়ের আয়োজনে ব্যস্ত। সেই ব্যস্ততার মধ্যে এক ...

অকূলের কাল।। অর্দ্ধেন্দুশেখর গোস্বামী।। সুপ্রকাশ।।

Image
'সকাল আটটায় বেরিয়ে পড়ছে ক্ষিতি। কাঁধে ঝোলানো একটা ছোট ব্যাগের মধ্যে একটা ডাইরি, অর্ডারের বিল বই আর পেন। একটা বাস ধরে খিদিরপুরের মোড়ে নেমেই হাঁটা শুরু করে ডায়মন্ড হারবার রোড ধরে। দৃষ্টি রাস্তার ডাইনে বাঁয়ে দুদিকেই— ওষুধের দোকানের সন্ধানে। মুখচোরা ক্ষিতির মনে অস্বস্তি বিজবিজ করছে। ওষুধের অর্ডার চাইতে গেলে কীভাবে, কী কথা বলে শুরু করবে! ঠিক করতে না পেরে মরিয়া ক্ষিতি, অর্ডার না পেলে চাকরিটাই বড়জোর যাবে— ধরে নিয়ে নিজের স্বভাবমতোই প্রতিটি দোকানে ঢুকে শুকনো মুখে দাঁড়িয়ে থাকে। ভিড় না থাকলে খদ্দের ভেবে দোকানিই এগিয়ে এসে কথা বলে। মনে মনে বারবার আওড়ানো কথাগুলোই কোনোরকমে উগরে দেয় ক্ষিতি— জি এম মেডিক্যাল স্টোর্স থেকে আসছি। আমরা অ্যালবার্ট, ইন্ডন আর ই মার্কের ওষুধ রাখি। অর্ডার দিলে হোলসেল দরে দোকানে পৌঁছে দিই। দোকানি চোখ দিয়ে তাকে মেপে নেয়। দু-একজন ভদ্রতা করে বলে,— নতুন দেখচি আপনাকে, আসবেন মাঝে মাঝে, অর্ডার থাকলে রেখে দেব। মনে জোর আনার চেষ্টা করে ক্ষিতি। গোবিন্দ সাহাও বলেছিল, প্রথম মাসটায় হয়তো অর্ডারই পাবেন না। নিয়মিত যেতে হবে তবুও। পরিচিত হতে একটু সময় লাগবে। তবুও দু-চারটে দোকান ঘোরার পরে নিজেকে ...

অকূলের কাল।। অর্দ্ধেন্দুশেখর গোস্বামী।। সুপ্রকাশ।।

Image
'দেশ যুদ্ধে জড়ালে কী হয়, তার বিন্দুবিসর্গ না জানত ক্ষিতি, না জানত দোলন। তাদের দু-তিন মাস ছাড়া ছাড়া চিড়িয়াখানায় দ্বিপ্রাহরিক ভ্রমণ অব্যাহত ছিল। পরবর্তী সেই দিনটা ছিল ছয় কি সাত তারিখ। বেরোবার সময় সব স্বাভাবিক। মামাবাড়ি যাচ্ছি বলে বেরিয়ে তিন-চার ঘণ্টা ক্ষিতির সঙ্গে চিড়িয়াখানায় কাটিয়ে সন্ধে নাগাদ মামাবাড়ি পৌঁছবে, কেউ কিচ্ছু টের পাবে না। ক্ষিতি হেদোর বাস স্টপে অপেক্ষা করছিল, দোলনকে দেখতে পেয়েই একটা অপেক্ষমাণ ট্যাক্সি ডেকে উঠে পড়েছিল দুজনে। বিপদ হলো ফিরে আসার সময়। ডিসেম্বরের বেলা ছোট হয়ে গেছে তাদের অজান্তেই। চিড়িয়াখানা থেকে বেরোতেই অবাক হয়ে দেখে রাস্তাঘাট ঘুটঘুটে অন্ধকারে ঢাকা। অন্যদিন চিড়িয়াখানা থেকে বেরোলেই তাদের গা ঘেঁষে ট্যাক্সি হর্ন দেয়, আজ কোথাও কোনো ট্যাক্সি নেই। দোলন বাসে চাপতে পারে না, তাও ক্ষিতি মরিয়া হয়ে বাসের জন্য এদিক ওদিক ছুটল খানিক। এখান থেকে সরাসরি উত্তর কলকাতা যাওয়ার বাস খুবই কম। অনেকক্ষণ চেষ্টা করেও এমন একটা বাসের দেখা মিলল না যেটাতে ক্ষিতি দোলনকে নিয়ে উঠে পড়তে পারে। অন্ধকারে ক্ষিতির তেমন অসুবিধে নেই। বিদ্যুৎহীন গ্রামের ছেলে সে, তারার আলোয় পথ চলতে অভ্যস্ত। কিন্তু দোলন ব...

অকূলের কাল।। অর্দ্ধেন্দুশেখর গোস্বামী।। সুপ্রকাশ।।

Image
'সকাল নটায় রাজগিরে গিয়ে যখন নামল সবাই, তখন সকলেরই পেট চুঁইছুঁই করছে। অনুপম আর অভীক শলাপরামর্শ করে ঠিক করল, নটা যখন বেজেই গেছে জলখাবারে পয়সা খরচ করার দরকার নেই। একেবারে পেট ভরে ভাত খেয়ে নেওয়াই ভালো। স্টেশনের বাইরেই সার সার খাবার হোটেল। ওরা দুজনে ঘুরে ঘুরে একটা পছন্দ করল। নিরামিষ থালি, ডাল-ভাত-ভাজি-সবজি যত খুশি খাও, মিল পিছু বারো আনা। কিন্তু দশটার আগে খাবার পাওয়া যাবে না। তা-ই সই। চল্লিশ জন খদ্দের পেয়ে মহা উৎসাহে রাঁধুনির সঙ্গে হোটেলওয়ালা নিজেও রান্নায় হাত লাগাল। রান্না তো হলো, খাওয়ার জায়গায় কোনোমতে পনের জন বসতে পারবে। সবাই আগে বসতে চায়, ঠেলাঠেলি করে বসেও গিয়েছিল। কিন্তু অনুপম তাদের মধ্য থেকে প্রদীপ আর দিনুকে তুলে এনে তাদের বদলে অসিত আর আগুয়ানকে বসিয়ে দিল। যারা জায়গা পেল না হতাশ হয়ে ফের গাঁজায় বুঁদ হয়ে গেল। তারপরেই বিপত্তির শুরু। একে তো সারা রাত উপোষ, তার উপর গাঁজার মহিমা, পনের জনের খাওয়া শেষই হতে চায় না। হোটেলওয়ালার মাথায় হাত, চল্লিশ জনের চাউল পনের জনেই সাবাড় করে দিল। সে হাত জোড় করে অনুপমকে বলল, মাফ করো ভাইলোগ, হামি আপনকো আউর খিলানে নেহি সকতে।  কাকু এতক্ষণে বুঝল অনুপমের বুদ্ধি আর দূ...

অকূলের কাল।। অর্দ্ধেন্দুশেখর গোস্বামী।। সুপ্রকাশ।।

Image
'তিনতলার বারান্দায় রেলিঙয়ে ভর দিয়ে দাঁড়িয়ে ছিল ক্ষিতি। বাঁ দিকের ছাদের দিকে তাকাতেই মন খারাপের হাওয়াটা ডিগবাজি খেয়ে ভ্যানিস! সেখানে তিনটি কিশোরী, যেন প্রস্ফুটিত তিনটি পদ্ম, দুটি কৃষ্ণা, একটি গৌরী। তিনজনেরই পিঠ-ছাপানো খোলা চুল। তারা যেন ক্ষিতিকেই দেখছে। দুই কৃষ্ণা হাসছে, কুন্দ ফুলের মতো তাদের দাঁত ঝকঝক করছে। গৌরী যেন ঈষৎ গম্ভীর, ঠোঁট চেপে আছে, হাসবে না কিছুতেই। দুই কৃষ্ণার একজন, মাথায় একটু খাটো, ক্ষিতির দিকে তাকিয়ে আঙুল দিয়ে আকাশের গায়ে কিছু একটা লিখল। কিছুই বুঝল না ক্ষিতি। সে নিজের বুকে আঙুল ঠেকাল। বলতে চাইল, আমাকে কিছু বলছো? দুই কৃষ্ণা দুদিক থেকে গৌরীকে চেপে ধরে হেসে গড়িয়ে পড়ল। বোকার মতো তাকিয়ে রইল ক্ষিতি। একটু পরে বেঁটে কৃষ্ণা ক্ষিতির দিকে হাত তুলল, তার হাতে ঝাঁটা! নিভে গেল ক্ষিতি— তার মুখে ঝাঁটা মারবে বলল কি? বারান্দা থেকে ঘরে, নিজের বিছানায় শুয়ে পড়ল সে। আলো যেটুকু বুকের মধ্যে জ্বলব জ্বলব করছিল, ঝাঁটার ঘায়ে ফুস করে নিভে গেল। শুয়ে শুয়ে তেতো স্বরে আওড়াল,— নহে নহে লীলাপদ্ম, রাইকিশোরী এসেছিল সম্মার্জনী হাতে। তিন দিন পরে আবার ক্ষিতি এসে দাঁড়াল বারান্দায়। আড়চোখে তাকাল সেই ছাদের দিকে। ...

অকূলের কাল।। অর্দ্ধেন্দুশেখর গোস্বামী।। সুপ্রকাশ।।

Image
'শচির গ্রামের নাম গোবর্ধনপুর। বর্ধমানে নেমে তারা কাটোয়া লাইনের ট্রেন ধরল। ভারী মজার ট্রেন। মিটার গেজ লাইন, নাম নাকি মার্টিন রেল। তিনটে কি চারটে বগি। দৌড়চ্ছে সাইকেলের বেগে। চলন্ত ট্রেন থেকেই যখন খুশি যাত্রীরা নামছে আবার খানিক দৌড়ে গিয়ে উঠে পড়ছে। দেখেশুনে মজা পেয়ে গেল চারজনে। শুরু করে দিল ট্রেনের সঙ্গে দৌড় প্রতিযোগিতা। ট্রেনে ভিড় বিশেষ নেই। মানুষের চাইতে বোঁচকাবুচকিই বেশি। ওরা উঠেছে শেষের কামরায়। দিনু আর কাকু প্রথমে চলন্ত ট্রেন থেকে লাফ দিয়ে নেমে সামনের দিকে দৌড় লাগাল। তিনটে কামরা টপকে গিয়ে উঠে পড়ল সামনের দিকের একটা কামরায়। উঠেই দেখে পিছন পিছন প্রদীপ আর অনুপমও ছুটে আসছে সামনের দিকে। শচিই কেবল সকলের ব্যাগ আগলে বসে আছে নিজেদের জায়গায়। এই করতে করতে সব কামরাই দেখা হয়ে গেল তাদের। ভর দুপুরে ট্রেন এসে দাঁড়াল 'নিগন' নাম লেখা একটা ন্যাড়া স্টেশনে। শচি বলেছিল নিগন স্টেশনে তাদের নামতে হবে। তাহলে এটাই কি সেই স্টেশন? ঠিক বুঝতে না পেরে তারা সবাই নেমে নিজেদের কামরার দিকে এগোচ্ছে, তাকিয়ে দেখে শচি পাঁচ পাঁচটা ব্যাগ কাঁধে পিঠে নিয়ে হ্যাঁচোড়প্যাঁচোড় করে নামছে। স্টেশনে প্ল্যাটফর্ম বলতে কিছু নেই, ...

অকূলের কাল।। অর্দ্ধেন্দুশেখর গোস্বামী।। সুপ্রকাশ।।

Image
'কিছুদিনের মধ্যেই দেখা গেল মলয়ের সঙ্গে মনোজিৎদার দাবা বেশ জমে উঠেছে। অনুপম আর প্রদীপও দাবা খেলায় পোক্ত হয়ে উঠল ক্রমশ। দাবা দিয়ে মনোজিৎদাকে কাছে টানা যাচ্ছে না, আবার অনুপম প্রদীপও সেদিকে চলে যাচ্ছে দেখে ক্ষিতির মন খারাপ হচ্ছিল। একদিন সে একঝাল তাস কিনে নিয়ে এল। তারপর ব্রিজ খেলা আরম্ভ করল। তার গ্রামের নিরক্ষর লোকেরাও অক্সন ব্রিজে ওস্তাদ। সেই ঐতিহ্যের ভাগীদার ক্ষিতিও। অনেক ছোটো থেকেই সে এই খেলা রপ্ত করেছে। দেখা গেল শচি, দিনু, প্রদীপ এবং অনুপমও অক্সন ব্রিজটা খেলতে পারে। কিছুদিনের মধ্যেই দাবা ছেড়ে ব্রিজে ভিড়ে গেল প্রদীপ অনুপম। এই চারজন ক্ষিতির মতোই পড়াশুনায় ফাঁকিবাজ। প্রতি সন্ধেয় আর ছুটির দিনে নিয়মিত তাসের আসর বসতে লাগল। দেখা গেল ক্ষিতিই ব্রিজের সব চাইতে কুশল খেলোয়াড়। কাজেই আসরের মধ্যমণি সে-ই। দিনুর 'কাকু' এই আসরেই ক্রমশ সকলের কাকু হয়ে উঠতে লাগল। এখন কাকু উপন্যাসের খাতা নিয়ে লিখতে বসলে কেউ না কেউ এসে বলে, আরে কাকু তোর ভবেনকে এখন ঘুম পাড়িয়ে রাখ। ব্রিজ হবে কখন? লেখার চাইতে ব্রিজের আকর্ষণ ক্রমশ বেশি মনে হচ্ছে কাকুর। অভীক হস্টেলে এসেছে সবার শেষে। নরেন্দ্রপুরে ভর্তি হয়েও মাস তিনেকের ম...

ছায়ার পাখি।। অভিজিৎ সেন।। সুপ্রকাশ।। পাঠপ্রতিক্রিয়া।।

Image
সুপ্রকাশ প্রকাশিত অভিজিৎ সেনের উপন্যাস 'ছায়ার পাখি' পড়ে মতামত জানিয়েছেন পায়েল দত্ত। আমরা তাঁর অনুমতি নিয়ে নিজেদের টাইমলাইন থেকে শেয়ার করছি।। ............................................................... #পাঠ_অভিজ্ঞতা ♠ ছায়ার পাখি — অভিজিৎ সেন  ◾ সুপ্রকাশ, ৩৯০ টাকা  কিছু বই শেষ হওয়ার পর পাঠককে স্তব্ধ করে রাখে। তার মস্তিষ্কের শিরা উপশিরায় সেচ দেয়, চিন্তার পালে ঢেউ ওঠে। পাঠক তখন নিজের সঙ্গে কথা বলে, তর্ক বিতর্কে মাতে। সাহিত্যিক অভিজিৎ সেন বিরচিত 'ছায়ার পাখি' উপন্যাস পাঠককে এমনই অভিজ্ঞতার মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দেয়। আখ্যানের শুরু এক আশ্চর্য বাক্য দিয়ে— ‘চিরি নদী পৃথিবীর এক প্রত্যন্তে...’। এই চিরি নদী এবং সংলগ্ন আড়বেঁকি ও ধল্লা বিলের থই থই আলিঙ্গনে গড়ে উঠেছে যে জনপদ— জলছুঁই, অর্জুনপুর অথবা সদর বৈগ্রাম— এই সুবাসিত অঞ্চল ও তার মানুষজনকে নিয়ে লেখা এই উপন্যাস যেন বাংলার যে কোনো গ্রামাঞ্চলের রূপকল্প।  সাতের দশকের শেষার্ধে তখন প্রবল পরাক্রমশালী কংগ্রেসকে হারিয়ে বাংলার রাজনৈতিক ক্ষমতার মসনদে এসেছে বামফ্রন্ট সরকার। কিন্তু গ্রামাঞ্চলের গলি ঘুঁজিতে এখনও যথেষ্ট শক্তিশ...

.বাংলা সিনেমার চালচিত্র, প্রথম খণ্ড।। সংকলন, গ্রন্থনা, ভাষ্য : ঋদ্ধি রিত।। সুপ্রকাশ।।

Image
‘বাঙ্গালার ইতিহাস নাই’—এই আক্ষেপের মূলে আছে ডকুমেন্টেশান নিয়ে সামগ্রিকভাবে আমাদের উদাসীনতা। দুঃখজনক হলেও সত্যি, বাংলা সিনেমার প্রতিনিধি স্থানীয় নির্মাতাদের কাজও—প্রিন্ট, পোস্টার, বুকলেট—যথাযথভাবে সংরক্ষিত হয়নি।  এই শূন্যতার কথা ভেবেই এই উদ্যোগ। মুখ্যত মূলত সিনেমার পোস্টার ও বুকলেট সংকলন—‘বাংলা সিনেমার চালচিত্র’। প্রথম খণ্ডে থাকছেন মৃণাল সেন ও ঋত্বিক ঘটক। ........................................ বাংলা সিনেমার চালচিত্র, প্রথম খণ্ড সংকলন, গ্রন্থনা, ভাষ্য : ঋদ্ধি রিত ....................................... প্রচ্ছদ ও সজ্জা : ঋদ্ধি রিত মুদ্রিত মূল্য : ৬০০ টাকা সুপ্রকাশ

অকূলের কাল।। অর্দ্ধেন্দুশেখর গোস্বামী।। সুপ্রকাশ।।

Image
'৬৯-৭০-এ, অবশেষে ক্ষিতির কলকাতা-দর্শন। জীবনে প্রথম বার। ক্ষিতির খুড়তুতো দাদা, তার কাকার সেজ ছেলে অমরশঙ্কর স্কটিশ চার্চ কলেজের অধ্যাপক। স্কটিশের অনেক হস্টেল। তার মধ্যে একটার নাম অগিলভি। সেই হস্টেলের অ্যাসিস্ট্যান্ট সুপারিন্টেনডেন্ট হয়ে তিনি সেখানেই থাকেন, হস্টেলের মধ্যেই কোয়ার্টার। তাঁরই তত্ত্বাবধানে ক্ষিতির কলকাতায় আসা। স্কটিশের আর একটা হস্টেল, হরি ঘোষ স্ট্রিট যেখানে গ্রে স্ট্রিটের সঙ্গে এসে মিশেছে, নাম 'দ্য রেসিডেন্স'। এই হস্টেলটা স্কটিশ অন্য কলেজদেরকে খয়রাত করে দিয়েছে। পাঁচমিশালি কলেজের ছেলে, এমনকি চাকরি-করা লোকও এখানে জায়গা পেয়ে যায়। অমরশঙ্কর এখানেই ক্ষিতির থাকার ব্যবস্থা করেছেন। প্রথমে অগিলভিতে, অমরশঙ্করের কোয়ার্টারে এসেই উঠল ক্ষিতি। প্রায় ঝাড়া হাতপা হয়েই বাড়ি থেকে বেরিয়েছিল। পরনে একটা মাখনজিনের প্যান্ট আর হাওয়াই শার্ট, একটা ছোটো ব্যাগে বোর্ড থেকে পাওয়া ডুপ্লিকেট অ্যাডমিট-মার্কস শিট, একটা পাজামা, বাড়িতে দু-ভাঁজ করে লুঙির মতো করে পরার জন্যে দুটো ধুতি, গোটা দুয়েক গেঞ্জি-জাঙ্গিয়া, কয়েকটা গল্প-কবিতা-উপন্যাস ইত্যাদি লেখা খাতা আর পকেটে তিনশো টাকা। প্যান্টের কোমরের বোতাম নেই, ...