দেয়ালের লেখা : এক অন্তহীন প্রকীর্ণ শিল্পকথা ।। অনন্ত জানা ।। সুপ্রকাশ
"১৯৮০-র দশকে পূর্ব আর পশ্চিম জার্মানির মধ্যে ভাগ হওয়া, বার্লিনকে দ্বিখণ্ডিত করা জার্মান প্রাচীর [(১৯৬১-১৯৮৯) জার্মান প্রাচীর নিজেই ছিল ইতিহাসের একটি পর্বের সাক্ষী। বস্তুত জার্মান বা বার্লিন প্রাচীর ছিল আদর্শগত বিভেদ, মতাদর্শগত অবস্থানের প্রভেদ এবং দ্বিতীয় মহাযুদ্ধ-পরবর্তী ঠাণ্ডা যুদ্ধের প্রতীক] গ্রাফিতির একটি বিস্তৃত আশ্রয় হয়ে ওঠে। প্রকাশ, বিদ্রোহ, সামাজিক বৈপরীত্য, পরম্পরাগত আবেগ প্রকাশের মাধ্যম হিসেবে জার্মান প্রাচীর গুরুত্ব পেয়েছিল। এই প্রাচীরের পূর্ব অংশটি ঈষৎ ধূসর ছিল আর পশ্চিম অংশটি গ্রাফিতির জন্য বেশি ব্যবহৃত, অনেকটা প্রাণবন্ত। প্রাচীরের গ্রাফিতিগুলিকে এলা গারলিন গভীর সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। ১৮৮০-র দশকে আমেরিকার অকালপ্রয়াত চিত্রশিল্পী ও নিও এক্সপ্রেশনিজম আন্দোলনের সহযোগী জিন মিশেল-বাসকিয়াত (১৯৬০-১৯৮৮) ঐতিহ্যবাহী শিল্প জগতে গ্রাফিতিকে গুরুত্বপূর্ণ মর্যাদায় অভিষিক্ত করেছিলেন। বাসকিয়াতের কাজ উল্লেখযোগ্য স্বীকৃতি অর্জন করেছিল। তাঁর রচনায় বর্ণবাদ এবং শ্রেণীবিভেদের বিরুদ্ধে অসন্তুষ্টিজনিত প্রতিবাদে গ্রাফিতি নির্মাণে বাসকিয়েত নিজের স্বল্প-পরিসর জীবনে অকপট ছিলেন, কখনও কখনও আক্রমণাত্মক। সাধারণ ছবি আঁকার পাশাপাশি বাসকিয়েত ম্যানহাটনের অট্টালিকাগুলির দেয়ালে গ্রাফিতি আঁকতে শুরু করেন। তাঁর গ্রাফিতিতে প্রতিষ্ঠান-বিরোধিতা ছিল স্পষ্ট। বাসকিয়াতের কাজকে সাধারণভাবে গ্রাফিতির অন্তর্ভুক্ত করা যায়। যা তাঁর অসামান্য বিমূর্ত চিত্র এবং প্রতীকগুলিকে আশ্রয় দিয়েছে। বাসকিয়াতের সর্বাধিক কৃতিত্ব এই যে, তাঁর চিত্রবৈশিষ্ট্যের উপাদানগুলি (যেমন: শিল্প-আইকনের মাথার মুকুট) সারা বিশ্বেই বহু শিল্পীর কাজে দেখা যায়। (গারলিন) নিজের কাজ সম্পর্কে বাসকিয়াতের সুপরিচিত উক্তি: 'আই জাস্ট স্টার্ট এ পিকচার অ্যান্ড আই ফিনিশ ইট। আই ডু নট থিংক অ্যাবাউট আর্ট হোয়াইল আই ওয়ার্ক। আই ট্রাই টু থিংক অ্যাবাউট লাইফ।' এই স্বতোৎসার তাঁর গ্রাফিতিগুলিকে প্রাণ দিয়েছে।"
.
.
.
আসছে...
.
দেয়ালের লেখা : এক অন্তহীন প্রকীর্ণ শিল্পকথা
অনন্ত জানা
.
প্রচ্ছদ : সৌজন্য চক্রবর্তী
.
মুদ্রিত মূল্য : ৫৪০ টাকা
.
সুপ্রকাশ
.
আন্তর্জাতিক কলকাতা বইমেলায় স্টল ৫০৩ | গেট নম্বর ৯ |
Comments
Post a Comment