Posts

Showing posts from March, 2026

পলাশবাড়ি।। শুভদীপ চক্রবর্ত্তী।। সুপ্রকাশ।। পাঠপ্রতিক্রিয়া।।

Image
সুপ্রকাশ প্রকাশিত শুভদীপ চক্রবর্ত্তীর উপন্যাস 'পলাশবাড়ি' পড়ে মতামত জানিয়েছেন দীপঙ্কর দাস। আমরা তাঁর অনুমতি নিয়ে নিজেদের টাইমলাইন থেকে শেয়ার করছি। ..................................................... পলাশবাড়ি শুভদীপ চক্রবর্ত্তী সুপ্রকাশ প্রকাশনা  মুদ্রিত মূল্য : ২৫০ টাকা একটি জুটমিলকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা এক মফস্বল শহর দরদী। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বিশেষ করে বাংলার রাজনৈতিক পটপরিবর্তনকে সাক্ষী রেখে ধীরে ধীরে বদলে যেতে থাকে এই একরত্তি শহরের চেনা মুখ, চেনা ছন্দ। এই গল্পের কেন্দ্রে রয়েছে একটি বাড়ি। যাকে সকলে পলাশ বাড়ি নামে জানে।  ছোটবেলায় এক দুর্ঘটনায় বাবা-মাকে হারায় রুকু। স্থানীয় অভিভাবক অনঙ্গ মাস্টারের হাত ধরে তার জীবন নতুন পথে চলতে শুরু করে। প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষিকা হিসেবে রুকু নিজেকে আবিষ্কার করে। কিন্তু অনঙ্গ মাস্টারের মৃত্যুর পর রুকুর সেই আশ্রয়ও অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। অনঙ্গর ছেলের নাম ভুজঙ্গ বোস। এক উঠতি রাজনীতিক, এলাকার সিন্ডিকেটের মাথা সে। তার নজর পড়ে রুকুর স্কুলবাড়ি আর পলাশবাড়ির ওপর। ভয়, ক্ষমতা আর টাকার খেলায় একে একে দখল হয়ে যায় জুটমিলের ইউনিয়ন, বদলে যায় দরদীর চরিত্র।  এ...

দেয়ালের লেখা : এক অন্তহীন প্রকীর্ণ শিল্পকথা।। অনন্ত জানা।। সুপ্রকাশ।।

Image
"এ এমন এক কাজ, যার কথা শিবেশ-যতীশ সুমনের কাছে শুনেছে, ছবিও দেখেছে, তার ইতিহাসও তারা মোটামুটি জানে, কিন্তু নিজেরা কখনও হাতেকলমে করেনি। সুমনও এই গঞ্জদেশে সেই ধরনের দেয়াললেখার কোনো তাগিদ অনুভব করেননি। কিন্তু আজ তারই প্রয়োজন বোধ করলেন। ঘরে ছিল মোটা কার্টিজের কাগজ। তাতেই সুমন এঁকে ফেললেন এই রাঢ়ীয়-বঙ্গের প্রথম গ্রাফিতিটি। খুব সহজবোধ্য বিষয়— দু-জন ভিন্ন শ্রেণীর মানুষ— একজন অর্ধনগ্ন কঙ্কালসার একটি দেহাতি মানুষ— একেবারে নতজানু; অন্যজন ধুতি-সার্ট পরিহিত ভদ্রপানা একজন মানুষ। সকলেই দু-হাতে নিজ নিজ কর্ণধারণ করে আছেন। প্রথমে ছবিটার ক্যাপশন হিসেবে শ্লেষাত্মক কিছু লিখবেন ভেবেছিলেন। কিন্তু ভেবেচিন্তে তা বর্জন করলেন। শুধু বাঁ-হাতের তর্জনিতে ন্যাকড়া-জড়িয়ে ছেলেমানুষী কাগের ঠ্যাঙ-বগের ঠ্যাঙ করে গাঢ় কালো রঙে একটিমাত্র শব্দ লিখলেন— 'অগ্রগতী'। বলাই বাহুল্য হরফের এই কদর্যতা এবং 'অগ্রগতি' বানানের ঐ বিকৃতি একেবারেই ইচ্ছাকৃত। সবুজ বয়সে সুমনের শেখা রাজনৈতিক কৌশলের প্রয়োগ। সন্দেহ হলেও প্রকাশ্যে এমন কথা বলা মুশকিল যে, সুমন বা সুমনের চ্যালারা বানান ভুল লিখেছে! শিল্পের শক্তি ও উপভোক্তার বোধে তাঁর ...

দেয়ালের লেখা : এক অন্তহীন প্রকীর্ণ শিল্পকথা।। অনন্ত জানা।। সুপ্রকাশ।।

Image
বস্তুত শেপার্ড বিগ ব্রাদার চরিত্রটিকে গ্রহণ করেছিলেন জর্জ অরওয়েল [প্রকৃত নাম: এরিক আর্থার ব্লেয়ার (১৯০২-১৯৫০)]-এর 'নাইন্টিন এইটি ফোর' (১৯৪৯/১৯৮৪ সালে পুনর্বার প্রকাশিত) উপন্যাসের ব্যবহৃত 'বিগ ব্রাদার'-এর নাম থেকে। উপন্যাসের শুরুতেই উইনস্টন স্মিথ নামীয় চরিত্রটি 'বিগ ব্রাদার'-এর নজরদারির মুখোমুখি হন। অরওয়েল এপ্রিলের এক উজ্জ্বল ঠাণ্ডা সকালে উইনস্টন স্মিথের সূত্রে বিগ ব্রাদার-এর উপস্থিতির রূপকীয়-বাস্তবতার সঙ্গে পাঠকের এইভাবে পরিচয় করিয়ে দেন: 'হলওয়েতে (ঘরসদৃশ করিডর বা প্যাসেজ- প্রা.) বাঁধাকপি সেদ্ধ এবং পুরোনো ন্যাকড়ার গন্ধ ছিল। প্যাসেজের একপ্রান্তের দেয়ালে ঘরের মাপের সঙ্গে বেমানান বড়ো একটি রঙিন পোস্টার সাঁটানো ছিল। এই পোস্টার জুড়ে এক মিটারেরও বেশি চওড়া একটিমাত্র মুখের ছবি: প্রায় পঁয়তাল্লিশ বছর বয়সী একটি পুরুষের মুখের চিত্রণ— ঘন কালো গোঁফ, মুখটি রুক্ষ হলেও সুন্দর। সাত তলার ফ্ল্যাটে যাওয়ার জন্য উইনস্টন লিফ্ট পাননি, কেননা বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকায় লিফ্টটি অচল ছিল। ঊনত্রিশ বছর বয়সী উইনস্টন তাঁর ডান গোড়ালির প্রায়-স্থায়ী ভ্যারিকোজ আলসার বা ক্ষত নিয়ে ধীরে ধীরে এগিয়ে যাচ...

নষ্ট চাঁদের আলো।। অলোক সান্যাল।। সুপ্রকাশ।। পাঠপ্রতিক্রিয়া

Image
সুপ্রকাশ প্রকাশিত অলোক সান্যালের উপন্যাস 'নষ্ট চাঁদের আলো' পড়ে মতামত জানিয়েছেন সুনীত বিশ্বাস। আমরা তাঁর অনুমতি নিয়ে নিজেদের টাইমলাইন থেকে শেয়ার করছি। ............................................................... আঠারো শতকের উত্তাল আটলান্টিক—নীল জলরাশি যেখানে কেবল ঢেউয়ের খেলা নয়; সেখানে মিশে আছে রক্ত, অদম্য লোভ আর হাজারো মানুষের ভাঙা স্বপ্নের নোনা স্বাদ। দিগন্তজোড়া সেই সমুদ্রপথ ছিল জলদস্যুদের অবাধ বিচরণভূমি। তামাক, তুলো আর চিনি বোঝাই জাহাজ মানেই ছিল লুণ্ঠনের হাতছানি। এই ঝঞ্ঝাবিক্ষুব্ধ সময়েরই এক জীবন্ত কিংবদন্তি—ব্ল্যাকবিয়ার্ড। তার ভয়ংকর রণতরি ‘কুইন অ্যানস রিভেঞ্জ’ যখন দিগন্তে ভেসে উঠত, তখন ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের বাণিজ্যিক মানচিত্রে নেমে আসত আতঙ্কের ছায়া। ওক্রেকোক খাঁড়ির সেই রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে রয়্যাল নেভির হাতে ব্ল্যাকবিয়ার্ডের পতন ঘটেছিল। কিন্তু তার সঙ্গে সাগরের অতল গভীরে হারিয়ে যায় জাহাজ, অগাধ ঐশ্বর্য, আর ইতিহাসের কিছু অমীমাংসিত রহস্য। শতাব্দী পেরিয়ে একবিংশ শতাব্দীতে সেই হারিয়ে যাওয়া সত্যের সন্ধানে আমাদের হাত ধরে নিয়ে যান লেখক অলোক সান্যাল। সমুদ্র-প্রত্নতত্ত্ব...

দেয়ালের লেখা : এক অন্তহীন প্রকীর্ণ শিল্পকথা।। অনন্ত জানা।। সুপ্রকাশ

Image
"পোস্টার শিল্পের শুরুর যুগের সম্ভবত সবচেয়ে স্বীকৃত শিল্পী ছিলেন ইতালিয়ান শিল্পী এমিলিয়াস সেলের (পুরো নাম পাবলিয়াস এমিলিয়াস সেলের)। নির্বাচনী পোস্টার লিখেছেন তিনি, দেয়ালে, বিজ্ঞপ্তিও। সেসময়ে পোস্টারে টেক্সটের পর্যাপ্ত ব্যবহার ছিল। সেলেরের পোস্টারেও। সেলের অঙ্কিত গ্ল্যাডিয়েটর শো-এর পোস্টারে বয়ান ছিল এই রকম: 'টুয়েন্টি পেয়ারস অব গ্ল্যাডিয়েটরস ফার্নিশড্ বাই ডেসিমাস লুক্রেটিয়াস স্যাট্রিয়াস ভ্যালেন্স, পার্মানেন্ট প্রিস্ট অব নিরো, সন অব দি এম্পেরর, অ্যান্ড টেন পেয়ারস্ অব গ্ল্যাডিয়েটরস ফার্নিশড্ বাই ডেসিমাস লুক্রেটিয়াস ভ্যালেন্স হিজ সন, উইল ফাইট অ্যাট পম্পেই এপ্রিল ৮, ৯, ১০, ১১ অ্যান্ড ১২। দেয়ার উইল বি এ বিগ হান্ট অ্যান্ড অনিং। এমিলিয়াস সেলের রোট দিস, অল অ্যালোন বাই দি মুন।' (অগুস্ত মাও: ১৮৯৯) অর্থাৎ সেলের চাঁদের আলোয় একা এটি রচনা করেছিলেন। এখানে নিরোর উল্লেখ দেখে অগুস্ত মাও অনুমান করেছেন যে, এই ঘোষণাপত্রটি ৫০ খ্রিস্টাব্দ থেকে ৫৪ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে রচিত। কেননা নিজের চতুর্থ স্ত্রী এগ্রিপ্পিনা দি ইয়ংগারের পুত্র নিরোকে রোমান সম্রাট ক্লডিয়াস দত্তক নিয়েছিলেন খ্রিস্টীয় ৫০ খ্রিস্টাব্দে এ...

ভূমিকা পুস্তিকা।। উড়নচণ্ডীর পাঁচালি।। সুপ্রকাশ।।

Image
সুপ্রকাশ প্রকাশিত সমরেন্দ্র মণ্ডলের বই 'উড়নচণ্ডীর পাঁচালি'-র ভূমিকা-পুস্তিকা প্রকাশিত। যাঁরা এখনও পড়েননি, তাঁরা বই পড়ার আগেই বইয়ের অংশবিশেষ পড়ে নিতে পারেন। বন্ধুদের সঙ্গে ভাগ করে নিতে পারেন যত খুশি। ডাউনলোড লিঙ্ক  :  https://suprokashbooks.com/wp-content/uploads/2026/02/Bhumika-pustika-Uranchandi_02_02_26.pdf