Posts

শেষ মৃত পাখি।। শাক্যজিৎ ভট্টাচার্য।।

Image
'তাহলে নিখুঁত খুন ঘটতে পারে না বলেই তোমার মনে হয়?' জিজ্ঞাসা করল প্রণবেশ। 'উহু। ঘটতেই পারে। কিন্তু সেটাকে নিখুঁত প্রমাণ করা সম্ভব নয় এটুকু দাবি।' সশব্দে নস্যি টেনে শুদ্ধসত্ত্ব উত্তর দিল। তারপর লম্বা শরীরটা টানটান এলিয়ে দিল ইজিচেয়ারের ওপর। 'কেন?' ‘দ্যাখো, পৃথিবীর সবথেকে বুদ্ধিমান এবং নিখুঁত খুনি হিসেবে তুমি কাউকেই দাগিয়ে দিতে পারবে না। সহজ কারণ। যে নিখুঁত খুন করবে, সে চিহ্নিত হবে না। ধরাও পড়বে না। তাই দাগানো অসম্ভব।' 'ঠিকই। কিন্তু খুনির বেলায় যে তত্ত্ব খাটে, খুনের বেলায় খাটে না।' ‘খাটে, অন্যরকম ভাবে। যে খুনটা নিখুঁত হবে, তাকে তুমি খুন হিসেবে শনাক্ত করতে পারবে না। ভাববে আত্মহত্যা, বা অ্যাকসিডেন্ট। আর শনাক্ত করলে, সেটা নিখুঁত হবে না।' 'কেন হবে না? খুনি ধরা না পড়লেই হবে।” 'উফ্! আমরা এখানে হত্যার দর্শন নিয়ে আলোচনা করছি।' বিরক্ত স্বরে শুদ্ধসত্ত্ব বলল। ‘খুন হলো একটা শিল্প। আর গোয়েন্দা হলো সেই শিল্পের ক্রিটিক। সমালোচক যেমন শিল্পকর্মের ভেতর থেকে লুকানো নানা চিহ্ন খুঁজে খুঁজে ব্যাখ্যা করেন, গোয়েন্দাও একটা হত্যার মধ্যে লুকিয়ে থাকা বি...

টাঁড় পাহাড়ের পদাবলি।। মিহির সেনগুপ্ত।।

Image
'সোনেরিয়া টাঁড় গাঁওটি আপনারা পাবেন তোপচাঁচি থেকে কত্ৰাসগড় যেতে রাস্তার বাঁদিকে। ঢেউখেলানো ঘাসের জাজিমওয়ালা এক দিলদুখানিয়া প্রান্তর পেরিয়ে এই গ্রাম। সেখানে সাঁওতালি কুল্লির অস্তিত্ব রাস্তা থেকে মালুম হওয়া বেশ তকলিফদায়ক। ঘাসের জাজিমওয়ালা ওই যে ঢেউখেলানো প্রান্তরটির কথা বললাম ওটি এই কুল্লিকে আড়াল করে রেখেছে। এখানে বাঁশের ঝাড় পাবেন মেলা। আর আছে মহুয়ার গাছ। এই সোনেরিয়া টাঁড়ে থাকেন শত্ৰুঘন ও বুধন সরেন। বুধন শত্রুঘনের ভাতিজা। পৌষের এক মধ্যাহ্নে বুধন এসে নেওতা দেন। শহরায় উৎসবে যেতে হবে। শহরায় শুরু হয়ে গেছে। ‘আপনকার সকলের নেওতা, অবইসস্য যাব্যেন'। শহরায় শুরু হয়ে গেছে, এ বার্তা শুধু মুখের কথায় যাঁরা জানেন, তাঁদের মতো হতভাগ্য এ-টাঁড় বহিয়ারের মিলিজুলি ভূখণ্ডে খুব বেশি নাকি নেই। এ-অধম সেই হাতগুনতি হতভাগ্যের দলে। কেন? না, তার লীলা কৈবল্যে শহরায়ের কোনো খবর নেই। সে একটা শহুরা ধুর বট্যে। সে নাই জানলহ্, শহরায় কা মতলব ঔর মহত্ত্ব ক্যা হৈ। শহরায় এখানে শুরু হয় মাঠে, ঘাটে, বাটে। শহরায়ের ছন্দ কখন যেন পৌঁছে যায় শ্বশুরালে বন্ধোয়া মজদুরের মতো আবদ্ধ কচি বউটার পায়ে। কেননা তখন স...

শেষ মৃত পাখি।। শাক্যজিৎ ভট্টাচার্য।।

Image
সুপ্রকাশ প্রকাশিত শাক্যজিৎ ভট্টাচার্যের উপন্যাস 'শেষ মৃত পাখি' পড়ে লিখেছেন অরিজিৎ ব্যানার্জী। আমরা তাঁর অনুমতি নিয়ে নিজেদের টাইমলাইন থেকে শেয়ার করছি। ........................................................................................ সাল ১৯৭৫ – দার্জিলিং-এ খুন হলেন তরুণ কবি অমিতাভ মিত্র। সন্দেহের তীর ছিল তাঁরই বন্ধু, রহস্যকাহিনী লেখক অরুণ চৌধুরীর দিকে। কিন্তু সাক্ষ্যপ্রমাণে প্রচুর অসঙ্গতি থাকার দরুণ অরুণবাবুর বিরুদ্ধে কিছু প্রমাণ করা গেল না, বেকসুর খালাস পেলেন তিনি। সাল ২০১৯ – সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের সাংবাদিক তনয়া ভট্টাচার্য একটা ধারাবাহিক লিখছেন, ভারতের নানা প্রান্তে ঘটে যাওয়া ‘অমীমাংসিত’ খুনের কাহিনী নিয়ে। অমিতাভ হত্যারহস্য হবে তাঁর এই ধারাবাহিকের সর্বশেষ গল্প। সেইজন্য অনেক অনুরোধ-উপরোধ করে তনয়া শেষমেশ অরুণ চৌধুরীর সম্মতি আদায় করে এলেন দার্জিলিং-এ। অরুণবাবুর সাক্ষাৎকার নিয়ে চুয়াল্লিশ বছর আগে ঘটে যাওয়া এই হত্যা, এবং তার পরের ঘটনাবলী নিয়ে, একটা জমজমাট গল্প লেখার উদ্দেশ্যে। তনয়া কি পারবেন সত্যিটা বের করতে, ঘটনার এত বছর পরে? উপরে উল্লিখিত দুটো অনুচ্ছেদে যতটুকু বললাম, , “শে...

শেষ মৃত পাখি।। শাক্যজিৎ ভট্টাচার্য।।

Image
সুপ্রকাশ প্রকাশিত শাক্যজিৎ ভট্টাচার্যের উপন্যাস ' শেষ মৃত পাখি ' পড়ে লিখেছেন সায়ন সরকার। আমরা তাঁর অনুমতি নিয়ে নিজেদের টাইমলাইন থেকে শেয়ার করছি।  ....................................................... শেষ মৃত পাখি সুপ্রকাশ মুদ্রিত মূল্য ₹৫২০ শাক্যজিৎ ভট্টাচার্য পঁয়তাল্লিশ বছর আগে দার্জিলিঙের এক সম্ভাবনাময় কবি, অমিতাভ মিত্র খুন হয়েছিলেন। অভিযোগের তীর ছিল তাঁরই ঘনিষ্ঠ বন্ধু রহস্য-ঔপন্যাসিক অরুণ চৌধুরীর দিকে। কিন্তু নানা পরস্পর বিরোধী প্রমাণে সে অভিযোগ দাঁড়ায়নি। তনয়া একটি সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের সাংবাদিক। অমীমাংসিত খুনের কাহিনী নিয়ে ধারাবাহিক লিখছেন পত্রিকায়। অমিতাভ মিত্রের হত্যা-রহস্য নিয়ে লেখার জন্য দার্জিলিঙে এলেন তনয়া। তারপর? তনয়া কি খুঁজে পেলেন এই হত্যারহস্যের সমাধান? জাপানের হনকাকু ঘরানার থ্রিলার নিয়ে আলোচনা করতে করতে এই উপন্যাসের একটি চরিত্র আরেক চরিত্রকে কথাচ্ছলে বলেন ".... সাহিত্য না থাকলে শুধু শুকনো মগজের খেলা কতক্ষণ ভালো লাগে মানুষের??" আর ঠিক এই জায়গাতেই"শেষ পাখি মৃত" অন্য সমস্ত থ্রিলার থেকে সম্পূর্ণরূপে আলাদা। ব্যোমকেশের পর বাংল...

শেষ মৃত পাখি।। শাক্যজিৎ ভট্টাচার্য।।

Image
সুপ্রকাশ প্রকাশিত শাক্যজিৎ ভট্টাচার্যর উপন্যাস ' শেষ মৃত পাখি ' পড়ে লিখেছেন অরিন্দম ঘোষ। আমরা তাঁর অনুমতি নিয়ে নিজেদের টাইমলাইন থেকে শেয়ার করছি।  ........................................................... স্পর্শের মতো আয়ু চলে যায়, কখনো বা দ্রুত, কখনো বিলম্বিতে। প্রতীক্ষা ছিল, এখন আমার সারা ঘরে শ্বেত আলো স্পন্দনশেষে স্থির ও কম্পমান রহস্য আনে, সে কি রাত্রির শেষ মৃত পাখি, যার স্মৃতি আঁচড়াল মৃত্যুর ঘন ছায়ায় দেবযান ভয়ের মতন মৃদুসঞ্চারী স্বপ্নের পিছু নিতে? স্বপ্নের মতো আয়ু চলে যায়, কখনো বা দ্রুত, কখনো বিলম্বিতে।               -- পার্থপ্রতিম কাঞ্জিলাল শাক্যজিৎ বাবুর লেখা আর কোন বই আমি এর আগে পড়িনি, কিন্তু এই কাহিনীর বিষয়বস্তু ও কভারের ছবিটি দেখে বড় লোভ হল। বইটি কিনেও রেখে দিয়েছিলাম দার্জিলিং থেকে ফিরে তারপর পড়বো বলে, যাতে দার্জিলিং শহরের উপর লেখা উপন্যাসের আমেজ আরেকটু বেশিই উপভোগ করতে পারি।  কিন্তু পড়তে পড়তে উপন্যাসটির গভীরতা বুঝতে পারলাম- প্রচ্ছদে লেখা " একটি রহস্য উপন্যাস " ছাপিয়ে এই বই এক অনন্য সাহিত্যকীর্তি হয়ে উঠেছে। এযাবৎক...

শেষ মৃত পাখি।। শাক্যজিৎ ভট্টাচার্য।।

Image
সুপ্রকাশ প্রকাশিত শাক্যজিৎ ভট্টাচার্যের উপন্যাস ' শেষ মৃত পাখি ' পড়ে লিখেছেন ঈপ্সিতা গুপ্ত। আমরা তাঁর অনুমতি নিয়ে নিজেদের টাইমলাইন থেকে শেয়ার করছি।  ........................................... শব্দছক খেলতে বসেছেন নিশ্চয়ই কখনও না কখনও। ধরুন একটা শব্দ খুঁজে পেলেন। সেটার সাথে জুড়ে থাকা শব্দ, তার সাথে জুড়ে থাকা শব্দ... পরপর সুন্দর করে মিলে যাচ্ছে। মন খুশি। ছকটার সমাধান সেরে ফেলছেন, এই আনন্দে। কিন্তু শেষ শব্দ, যেটা পেয়ে গেলেই ছক সম্পূর্ণ হবে, সেখানে এসে আটকে গেলেন। অনেক চেষ্টা করেও শব্দ খুঁজে পেলেন না। বুঝলেন, প্রথম খুঁজে পাওয়া শব্দ থেকে শুরু করে সবটাই ভুল করেছেন। সবটাই বাতিল। আবার করে শুরু করতে হবে। কেমন লাগবে বলুন তো! বর্ষার দার্জিলিং। কুয়াশায় মোড়া, অবিশ্রান্ত বৃষ্টিতে ঝিমিয়ে পড়া দার্জিলিং। যে শহর বিশেষ বিশেষ সময়ে মানুষের কোলাহলে মুখরিত হয়ে ওঠে, বর্ষায় সেই যেন মুখ গুঁজে থাকে শরীরের মাঝে। বিষন্নতা তখন তার সঙ্গী। এই দার্জিলিঙে পা পড়ল প্রবাসী বাঙালি মেয়েটির। পেশায় সাংবাদিক হলেও তার কাজ অন্যরকম। সারা দেশের অমীমাংসিত বিভিন্ন ঘটনার তল খুঁজে বের করতে চায় সে। তারপর তা ...

বাঙালির শিকার স্মৃতি।। সম্পাদনা : গৌরব বিশ্বাস।।

Image
'জঙ্গল নিস্তব্ধ। একটি পাখীর ডাকও শোনা যায় না। বসে বসে পায়ে ঝিনঝিনি ধরে গিয়েছিল। একটু নড়ে বসতে হোল। পাতার আড়ালেই ছিলাম, বাইরে থেকে আমাকে দেখতে হলে খানিকক্ষণ খুঁজতে হয়, কিন্তু আমার সামান্য নড়ায় গাছের তলায় কুটো ভাঙ্গার শব্দ শুনলাম। যেভাবে বসার ভঙ্গীতে আরাম কায়েমি হয়েছিল তাতে পিছন ফেরা কষ্টসাধ্য ব্যাপার। তবু ফিরতে হোল। ফিরে যা দেখলাম তাতে স্তম্ভিত হয়ে যেতে হোল। সেই প্রকাণ্ড বাঘ ঠিক আমার গাছের তলায় এসে দাঁড়িয়েছে। কি ভাবে কাঁটা বন পাশ কাটিয়ে নিঃশব্দে এখানে উপস্থিত হোল। অনুমান করা শক্ত। বন্দুক ঘুরিয়ে বাঘের দিকে নেবার উপায় নেই, আরামের প্রণালী মস্ত বড় বাধা হয়ে আছে— আমার চার পাশে ডাল আর পাতা। ইতিমধ্যে বাঘ নিচের ডালে সামনের পা রেখে সোজা হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমার পা থেকে বাঘের থাবা মাত্র কয়েক ইঞ্চি তলায়। বাঁচার কোন রূপ উপায় না থাকায় সামনের দিকে বন্দুকের নল রেখেই বাঁট বগলে তুলে নিলাম, তারপরে ঘোড়া টিপে দিলাম। বিকট আওয়াজ করে গুলি বেরিয়ে গেল এবং সঙ্গে সঙ্গে বাঘ আমার সামনে লাফিয়ে পড়ল। স্ন্যাপ শটে রিফল্-এ বহুদিন হাত পাকিয়েছিলাম। বাঘকে সামনে পেয়ে আর একবার গুলি চালালাম। সাম...