কোলস্ওয়ার্দি গ্রান্টের 'রুরাল লাইফ ইন বেঙ্গল'।। অনুবাদ ও টীকা : অর্ণব রায়।। সুপ্রকাশ।।
নীল উৎপাদনের মরশুম যখন আসে, গোটা ফ্যাক্টরিটা আর তার সব মানুষজন যেন নতুন প্রাণ পেয়ে জীবন্ত হয়ে ওঠে। যদি কারখানা ছোটো হয়, সেখানে অল্প পরিমাণ নীল উৎপাদন হয়, যেমন ধরা যাক কোনো কারখানায় যদি এক মরশুমে ২৫০ মণ বা ১৭ কুইন্টাল নীল উৎপাদন হয় তাহলে এই কাজটুকু করার জন্য প্রয়োজনীয় শ্রমিক আশেপাশের এলাকা থেকেই পাওয়া যায়। চাষীদের বিশেষ করে এই মরশুমের জন্য কাজে নেওয়া হয়। কিন্তু, যদি ফ্যাক্টরি বড়ো হয়, যেমন মূলনাথে, সেক্ষেত্রে অন্তত শ’খানেকের বেশি লোক পাশের জেলা থেকে ভাড়া করে আনতে হয়। বেশ কিছু আসে মেদিনীপুর জেলা থেকে। কিন্তু বেশিরভাগ শ্রমিকই হলো মানভূম বা সিংভূম জেলার জঙ্গুলে আদিবাসী। বাঁকুড়ার আশেপাশের অঞ্চলে তাদের জঙ্গল মেহার-ও বলা হয়। সাধারণভাবে এদের ভূনা বা ভূনওয়া কুলি বলা হয়।
এই গরিব মানুষগুলো সম্ভবত একশো কুড়ি মাইল দূর থেকে আসে, সামান্য মাইনেতে একটা কাজ পাবার জন্য। সে কাজের মেয়াদও আবার খুবই অল্প কয়েকটা দিন। এই লোকগুলি বাড়ি থেকে রওনা হওয়ার আগে অগ্রিম হিসেবে গোটা তিনেক টাকা পায় যাতে করে তাদের অবর্তমানে তাদের পরিবারগুলি খেয়ে পরে বেঁচে থাকে। এদের মিতব্যায়িতা এমনই যে যখন এরা মরশুম শেষে ফিরে যায়, তখন তারা এই কয়দিনে তারা যা রোজগার করেছে তার দশভাগের নয়ভাগই সঞ্চয় হিসেবে ফেরত নিয়ে যেতে পারে। এরা করে কী, এক টাকার মতন চাল কিনে নেয়। তাতেই তাদের এখানে থাকার সময়টা পার হয়ে যায়। আর যে মুহূর্তে তাদের সকালবেলার কাজটা শেষ হয়, তারা ছুট্টে চলে যায় কাছেপিঠে নদী খাল বিল যা পায় সেখানে। তারপর ছোটো হাতজাল হোক বা আগের চিঠিতে যে সমস্ত মাছ ধরার যন্ত্রপাতির কথা বললাম, সে সব হোক, যা হাতের কাছে পায় নিয়ে মাছ ধরতে লেগে পড়ে। ছোটো ছোটো মাছ যা পায় তা-ই ভাতের সঙ্গে রান্না করে খেয়ে ফেলে। ব্যাস হয়ে গেল। শুধু চালের দামটুকু দিয়েই তাদের সারাদিনের খাওয়াদাওয়া হয়ে গেল। এবারের বন্যাতে এদের বিশেষ করে সুবিধে হয়েছে। চারিদিকে জল আর জল। অজস্র ছোটো ছোটো জলের ধারা নদী থেকে নীচু জমিতে বয়ে এসেছে। ফলে সবসময়েই এদের দেখা যাচ্ছে হয় মাছ ধরছে না হয় স্নান করছে না হয় তাদের গরু-মোষ যা আছে তাদের জল খাওয়াচ্ছে। কুমিরের কামড়ের ভয় তাদের মোট্টে নেই। ভুনা কুলিদের একটা ব্যাপার হলো, তারা যে কাজে আসার সময় সঙ্গে করে শুধুমাত্র তাদের বৌ-বাচ্চাদের নিয়ে আসে তা নয়, নিজেদের জাতের লোকেদের নিয়ে রীতিমতো গ্রাম বসিয়ে ফেলে। যেমন এখন তারা মূলনাথে ফ্যাক্টরির আশেপাশের জমিতে করেছে। আর এই মুহূর্তে যদি তাদের গ্রামের দিকে তাকানো যায়, দেখা যাবে, গ্রামের পুরুষদের মতো মেয়েরাও সমান ব্যস্ত। আর বাচ্চারা গম্ভীর ভাবে ধৈর্যের সঙ্গে জলের ধারে বসে আছে। তাদের হাতে একটা যেকোনও গাছের ডাল দিয়ে বানানো ছিপ, তাতে বাবলা কাঁটার বঁড়শি। এভাবে বসে ঘণ্টাখানেকের মধ্যে তারা এত মাছ ধরে ফেলে যে অল্প করে হলেও গোটা পরিবারের খাওয়া হয়ে যায়।
.
.
.
কোলস্ওয়ার্দি গ্রান্টের 'রুরাল লাইফ ইন বেঙ্গল'
অনুবাদ ও টীকা : অর্ণব রায়
.
প্রচ্ছদ : অজন্তা হাজরা
মুদ্রিত মূল্য : ৫৫০ টাকা
সুপ্রকাশ
এই গরিব মানুষগুলো সম্ভবত একশো কুড়ি মাইল দূর থেকে আসে, সামান্য মাইনেতে একটা কাজ পাবার জন্য। সে কাজের মেয়াদও আবার খুবই অল্প কয়েকটা দিন। এই লোকগুলি বাড়ি থেকে রওনা হওয়ার আগে অগ্রিম হিসেবে গোটা তিনেক টাকা পায় যাতে করে তাদের অবর্তমানে তাদের পরিবারগুলি খেয়ে পরে বেঁচে থাকে। এদের মিতব্যায়িতা এমনই যে যখন এরা মরশুম শেষে ফিরে যায়, তখন তারা এই কয়দিনে তারা যা রোজগার করেছে তার দশভাগের নয়ভাগই সঞ্চয় হিসেবে ফেরত নিয়ে যেতে পারে। এরা করে কী, এক টাকার মতন চাল কিনে নেয়। তাতেই তাদের এখানে থাকার সময়টা পার হয়ে যায়। আর যে মুহূর্তে তাদের সকালবেলার কাজটা শেষ হয়, তারা ছুট্টে চলে যায় কাছেপিঠে নদী খাল বিল যা পায় সেখানে। তারপর ছোটো হাতজাল হোক বা আগের চিঠিতে যে সমস্ত মাছ ধরার যন্ত্রপাতির কথা বললাম, সে সব হোক, যা হাতের কাছে পায় নিয়ে মাছ ধরতে লেগে পড়ে। ছোটো ছোটো মাছ যা পায় তা-ই ভাতের সঙ্গে রান্না করে খেয়ে ফেলে। ব্যাস হয়ে গেল। শুধু চালের দামটুকু দিয়েই তাদের সারাদিনের খাওয়াদাওয়া হয়ে গেল। এবারের বন্যাতে এদের বিশেষ করে সুবিধে হয়েছে। চারিদিকে জল আর জল। অজস্র ছোটো ছোটো জলের ধারা নদী থেকে নীচু জমিতে বয়ে এসেছে। ফলে সবসময়েই এদের দেখা যাচ্ছে হয় মাছ ধরছে না হয় স্নান করছে না হয় তাদের গরু-মোষ যা আছে তাদের জল খাওয়াচ্ছে। কুমিরের কামড়ের ভয় তাদের মোট্টে নেই। ভুনা কুলিদের একটা ব্যাপার হলো, তারা যে কাজে আসার সময় সঙ্গে করে শুধুমাত্র তাদের বৌ-বাচ্চাদের নিয়ে আসে তা নয়, নিজেদের জাতের লোকেদের নিয়ে রীতিমতো গ্রাম বসিয়ে ফেলে। যেমন এখন তারা মূলনাথে ফ্যাক্টরির আশেপাশের জমিতে করেছে। আর এই মুহূর্তে যদি তাদের গ্রামের দিকে তাকানো যায়, দেখা যাবে, গ্রামের পুরুষদের মতো মেয়েরাও সমান ব্যস্ত। আর বাচ্চারা গম্ভীর ভাবে ধৈর্যের সঙ্গে জলের ধারে বসে আছে। তাদের হাতে একটা যেকোনও গাছের ডাল দিয়ে বানানো ছিপ, তাতে বাবলা কাঁটার বঁড়শি। এভাবে বসে ঘণ্টাখানেকের মধ্যে তারা এত মাছ ধরে ফেলে যে অল্প করে হলেও গোটা পরিবারের খাওয়া হয়ে যায়।
.
.
.
কোলস্ওয়ার্দি গ্রান্টের 'রুরাল লাইফ ইন বেঙ্গল'
অনুবাদ ও টীকা : অর্ণব রায়
.
প্রচ্ছদ : অজন্তা হাজরা
মুদ্রিত মূল্য : ৫৫০ টাকা
সুপ্রকাশ
Comments
Post a Comment