নিভৃত কুহক।। অলোক সান্যাল।। সুপ্রকাশ।।

বাজার থেকে ফেরার পথে মনে মনে প্রস্তুতি নিচ্ছিল সে। গেট পেরিয়ে পিচ ঢালা রাস্তা দিয়ে অনসূয়া যত এগিয়ে যাচ্ছিল, তত অজানা এক আশঙ্কা ভর করছিল তার ওপরে। সামনে অত লোকজন কেন? আরও কয়েক কদম হেঁটে যেতে সিকিউরিটির চেনা একটা মুখকে দেখতে পেয়েছিল সে। তার দিকে চেয়ে আছে। চোখ দুটো প্রবলভাবে কিছু বলতে চাইছে, কিন্তু পারছে না বেচারা। নীচতলার কয়েকজন আবাসিকও তার দিকে একইরকম ভঙ্গিতে তাকিয়ে। অধিকাংশই মহিলা। রিটায়ার্ড যাঁরা, তাঁরাই কেবল জমায়েতে যোগ দেওয়ার সুযোগ পেয়েছেন। এমনকি এ উইংয়ের মিসেস আগরওয়ালও তাঁর ভারী শরীর নিয়ে হাজির। হঠাৎ তাদের বিল্ডিংয়ের সামনে জমায়েতের কারণ কী?

'মিসেস গাঙ্গুলি...'

ঘোলাটে দৃষ্টিতে তাকিয়েছিল অনসূয়া। ভদ্রলোক যে আবাসনের সেক্রেটারি সেই মুহূর্তে এটুকুও তার মনে ছিল না। কেবল এক অদ্ভুত নিস্তব্ধতা যেন ভীষণ ভারী পাথরের মতো চেপে বসেছিল বুকের ভেতর। ভদ্রলোক আর কী বলেছিলেন, আরও অনেকে কী কী বলেছিল, কিছুই তাকে ছুঁতে পারেনি। দু-একজন তার হাত চেপেও ধরেছিল। সামনে পাঁচিল তুলে দাঁড়িয়েছিল আরও কয়েকজন। যেন কোনো বিদঘুটে দৃশ্যকে দারুণ গোপনীয়তায় মুড়ে রাখতে চাইছিল সকলে। কিন্তু তারা পারেনি। সমস্ত আড়াল ভেঙে সামনে গিয়ে দাঁড়িয়েছিল অনসূয়া।

দ-এর মতো দুমড়ে থাকা একটা শরীর। মাথাটা উলটো দিকে ঘুরে। রক্তকে চাদর বানিয়ে তার ওপরে কেউ শুয়ে আছে। পরনে ডেনিম রঙের ট্রাউজার আর সাদা গেঞ্জি। পিঠে বড়ো বড়ো করে লেখা 'HARD WORK SHOWS'। এত উঁচু থেকেও হরফগুলো ভীষণ স্পষ্ট মনে হচ্ছে অনসূয়ার! পনেরো দিন পরে আজও ছবিটা যেন জীবন্ত! কাগজের টুকরোটা বুঝি তার ডানার জোর হারিয়েছে। নেমে যাচ্ছে নীচে। অনসূয়ার মন চাইছে সেটার পিছু নিতে।
.
.
.
নিভৃত কুহক
অলোক সান্যাল

প্রচ্ছদ : সৌজন্য চক্রবর্তী
মুদ্রিত মূল্য : ৩৭০ টাকা

সুপ্রকাশ
       

Comments

Popular posts from this blog

লেটারপ্রেসের কম্পোজিটর।। এক বিষাদান্ত পরম্পরা।। অনন্ত জানা।। সুপ্রকাশ।।

আমার রবীন্দ্রনাথ, আমাদের। আলাপ বিলাপ। স্বপ্নময় চক্রবর্তী

পাথারে। সেকালের চিত্র চরিত্র