Posts

Showing posts from September, 2026

কোলস্ওয়ার্দি গ্রান্টের 'রুরাল লাইফ ইন বেঙ্গল'।। অনুবাদ ও টীকা : অর্ণব রায়।। সুপ্রকাশ।।

Image
বগাডাঙা আধাআধি রাস্তা। এই জায়গাটাকেই আমরা ঘোড়াদের, চাকরদের ও আমাদের বিশ্রামস্থল হিসেবে ঠিক করে নিয়েছিলাম। ফলে আমরা বাকী দিনটা এখানেই থেকে গেলাম। ঠিক যেভাবে একজন প্ল্যান্টার আর একজন মফঃস্বলের যাত্রী গ্রামে গ্রামে যাত্রা করার সময় থাকে, সেভাবে। ট্রেনে করে যাতায়াত করার সময় যেরকম হুড়োহুড়ি করতে হয়, সেরকম ভাবে একেবারেই নয়, বরং অনেক ধীরেসুস্থে, আরাম করে। তা বলে এটা ধরে নিও না যে একজন প্ল্যান্টার দিনে ষোলো মাইলের বেশি যাত্রা করতে পারে না। যদি দরকার পরে, আর চাষের মরশুমে এরকম দরকার হামেশাই পড়ে, তাহলে বারবার ঘোড়া বদলে তারা দিনে তিরিশ থেকে চল্লিশ মাইল অবধি চলে যেতে পারে।     পরের দিন সকালে আবার চাকরদের মালপত্র দিয়ে আগে পাঠিয়ে দেওয়া হল। আমাদের যাত্রার ব্যাবস্থা আগের দিনের মতোই থাকল। ফেরিনৌকায় নদী পার হয়ে আমরা আবার ঘোড়ায় চড়ে কৃষ্ণনগরের দিকে চললাম। সেটা মোটামুটি আরও ষোলো মাইল দূরে। মাঝখানে আর একটা জায়গায় নদী পার হতে হলো। জায়গাটার নাম হাঁসখালি (মানে হাঁস চলার নদী)। সেখানে গিয়ে দেখলাম একখানা বড়ো ভৌলিয়া নৌকা দাঁড়িয়ে আছে। জানতে পারলাম এইচ— অ্যান্ড ডাব্লিউ— কোম্পানির অতি পরিচিত প্ল্যান্ট...

কোলস্ওয়ার্দি গ্রান্টের 'রুরাল লাইফ ইন বেঙ্গল'।। অনুবাদ ও টীকা : অর্ণব রায়।। সুপ্রকাশ

Image
বন্যা এখন মোটামুটি চরমে। ধানচাষীরা আউশ ধান কেটে ঘরে তুলে ফেলেছে। আর যাকে বলে ঘোলা পানি  সেই লাল রঙের কাদাগোলা জল ওপরের দিকের প্রভিন্সগুলো থেকে নেমে এসে ইছামতী ভরে ভরে বইছে। আর এই কাদাজলের আড়ালেই ঘুরে বেড়াচ্ছে কুমীর। খুব সম্ভবত গরমকালে এরা সুন্দরবনের দিকে চলে গেছিল। এবার তারা তাদের অভ্যস্ত শিকারের স্থলে ফিরে এসেছে। ইতিমধ্যেই গত পনেরো দিনে দুজন হতভাগ্য মহিলা এই আড়ালে আড়ালে ঘুরে বেড়ানো দৈত্যগুলোর শিকার হয়েছে। এই সব দৈত্যদের হাত থেকে সুরক্ষা দেওয়ার জন্যই ঘাটগুলোকে ঘিরে কাঠ আর বাঁশ দিয়ে শক্ত করে বেড়া দেওয়া হয়েছে। এই বেড়া নদীর ভেতরে ছয় থেকে আট ফুট পর্যন্ত এলাকা ঘিরে রেখেছে। এতে যে সমস্ত মানুষ স্নান করতে বা ঘরের কাজের জন্য জল নিতে আসবে, তারা সুরক্ষা পাবে। আর এদেশের পরিবারে এই দায়িত্বটা সবসময় মহিলাদের ঘাড়েই পড়ে। কিন্তু, এই সমস্ত অজ্ঞ, জেদি আর মূলত অদৃষ্টবাদী লোকগুলোর জন্য কোনওরকম সুরক্ষার ব্যবস্থা করার সব চেষ্টাই বৃথা। মি. এফ এখানে বাজারের কাছের ফেরি-ঘাটে এত কষ্ট করে একখানা বেড়া দাঁড় করালেন, কিন্তু যাদের ফায়দার জন্য এত কিছু করা, অন্তত এটুকু তো আশা করা যায় যে তারা এই বেড়াগুলো মেরামতটুকুর দ...

কোলস্ওয়ার্দি গ্রান্টের 'রুরাল লাইফ ইন বেঙ্গল'।। অনুবাদ ও টীকা : অর্ণব রায়।। সুপ্রকাশ

Image
তেলের ঘানি বা তেল পেষানোর মিল যে ঠিক কী জিনিস, সেটা আমার কলমের থেকে আমার পেনসিল তোমাদের ভালো বোঝাতে পারবে। সাধারণত একটা গোটা কুঁড়েঘর জুড়ে একটা ঘানি হয়। সেখানে পুরো জায়গাটা লাগে ‘অন্ধ বাহক’-টির জন্য— সে আসলে একটা শান্ত অত্যন্ত ধৈর্য্যশীল চোখে ঠুলি পরানো বলদ। সে এক এক বারে তিন ঘণ্টা ধরে ধীরে ধীরে ঘানি ঘোরানোর ক্লান্তিকর পরিশ্রমের কাজটা করে থাকে।     সরষে পিষে তেল বের করার যে মূল যন্ত্র তাকে বলে ঘানি গাছ। এই ঘানি গাছ তৈরি করা হয় অশ্বত্থ বা বটের নিরেট গুঁড়ি থেকে। সেটাকে ঘষে ঘষে মসৃণ করে একটা নির্দিষ্ট আকারে আনা হয়। তারপর সেটাকে শক্ত করে মাটিতে পুঁতে দেওয়া হয়। এর ওপরের অংশটাকে বলা হয় পিঁড়ে। এটি একটি হামানদিস্তার হামান বা বাটির কাজ করে। এর নীচের অংশে একটি গর্ত থাকে। তার মধ্যে সরষে বা যা পেষাই করা হবে সেটিকে ঢেলে দেওয়া হয়। এর মধ্যের হামানদিস্তার মুষল অংশটি যাকে ঝাঁট বলা হয়, সেটিকে ঢুকিয়ে পেষাই-এর কাজটা করা হয়। একটা বাঁশের হেলেদার আড়াআড়িভাবে পাশ থেকে লাগানো থাকে। এতে করে খোঁদলের মধ্যে দেওয়া বীজ ক্রমাগত নাড়া যায়। এছাড়া হামানদিস্তার মধ্যে ক্রমাগত পেষাইয়ের জন্য মাল সরবরাহও করা যায়। ...

নিভৃত কুহক।। অলোক সান্যাল।। সুপ্রকাশ

Image
পর্ণশ্রী আবাসনে জোড়া খুন। ঘটনাস্থল পাঁচ তলার সেই ফ্ল্যাট, একবছর আগে যেখানে এক যুবকের রহস্যজনক ভাবে মৃত্যু হয়। তদন্তে নামেন পুলিশ অফিসার সূর্যশেখর সেনগুপ্ত। মৃত মানুষের অতীত, কর্পোরেট দুনিয়ার গোপন হিসেব, সম্পর্কের ভাঙন এবং মানুষের মনের অদ্ভুত নানান বাঁক। সব মিলিয়ে সত্যিটা ক্রমশ অধরা হয়ে ওঠে। মানুষ কেন বদলে যায়, কতটা বদলাতে পারে, আর সেই বদলের দায় শেষ পর্যন্ত কার— এই প্রশ্ন বারবার ফিরে আসে উপন্যাস জুড়ে। নিভৃত কুহক অলোক সান্যাল প্রচ্ছদ : সৌজন্য চক্রবর্তী মুদ্রিত মূল্য : ৩৭০ টাকা সুপ্রকাশ

নিভৃত কুহক।। অলোক সান্যাল।। সুপ্রকাশ।।

Image
বাজার থেকে ফেরার পথে মনে মনে প্রস্তুতি নিচ্ছিল সে। গেট পেরিয়ে পিচ ঢালা রাস্তা দিয়ে অনসূয়া যত এগিয়ে যাচ্ছিল, তত অজানা এক আশঙ্কা ভর করছিল তার ওপরে। সামনে অত লোকজন কেন? আরও কয়েক কদম হেঁটে যেতে সিকিউরিটির চেনা একটা মুখকে দেখতে পেয়েছিল সে। তার দিকে চেয়ে আছে। চোখ দুটো প্রবলভাবে কিছু বলতে চাইছে, কিন্তু পারছে না বেচারা। নীচতলার কয়েকজন আবাসিকও তার দিকে একইরকম ভঙ্গিতে তাকিয়ে। অধিকাংশই মহিলা। রিটায়ার্ড যাঁরা, তাঁরাই কেবল জমায়েতে যোগ দেওয়ার সুযোগ পেয়েছেন। এমনকি এ উইংয়ের মিসেস আগরওয়ালও তাঁর ভারী শরীর নিয়ে হাজির। হঠাৎ তাদের বিল্ডিংয়ের সামনে জমায়েতের কারণ কী? 'মিসেস গাঙ্গুলি...' ঘোলাটে দৃষ্টিতে তাকিয়েছিল অনসূয়া। ভদ্রলোক যে আবাসনের সেক্রেটারি সেই মুহূর্তে এটুকুও তার মনে ছিল না। কেবল এক অদ্ভুত নিস্তব্ধতা যেন ভীষণ ভারী পাথরের মতো চেপে বসেছিল বুকের ভেতর। ভদ্রলোক আর কী বলেছিলেন, আরও অনেকে কী কী বলেছিল, কিছুই তাকে ছুঁতে পারেনি। দু-একজন তার হাত চেপেও ধরেছিল। সামনে পাঁচিল তুলে দাঁড়িয়েছিল আরও কয়েকজন। যেন কোনো বিদঘুটে দৃশ্যকে দারুণ গোপনীয়তায় মুড়ে রাখতে চাইছিল সকলে। কিন্তু তারা পারেনি। সমস্ত আড়াল ভেঙে স...

কোলস্ওয়ার্দি গ্রান্টের 'রুরাল লাইফ ইন বেঙ্গল'।। অনুবাদ ও টীকা : অর্ণব রায়।। সুপ্রকাশ।।

Image
হুগলী নদীর জল কেটে যত জলযান যাতায়াত করে তার মধ্যে আমার সবচেয়ে সুন্দর মনে হয় ইলিশ মাছ ধরার নৌকাগুলিকে। এই একহারা চেহারার নৌকাগুলি, যদিও লম্বায় অনেক বড়, দুদিকে সরু হয়ে যাওয়ার কারণে দেখে মনে হয় তাদের পূর্ণ দৈর্ঘ্যের এক তৃতীয়াংশ জায়গাই দখল করে আছে মাত্র। এই নৌকাগুলি মোটামুটি জনাপাঁচেক লোক বহন করতে পারে। আর মাছ ধরার মরশুমে এর সঙ্গে একটা ৬ ফিট চওড়া আর মোটামুটি ৩০০ ফিট লম্বা জাল আটকানো থাকে। এই জালের নীচের লম্বা দিকটায় হালকা হালকা ওজন আটকানো থাকে। আর ওপরের দিকটা ধরে থাকে বাঁশের কাঠামো। আর যখনই মাছ ধরার সময় আসে, বাঁশের কাঠামো সমেত জাল নেমে গিয়ে জলের ভেতরে একখানা প্রাচীর তৈরি করে দেয়। স্রোতের সঙ্গে দ্রুত সাঁতার কেটে আসা ইলিশ মাছগুলির ডানা এই জালের প্রাচীরে আটকে যায় আর তারা পালাতে পারে না। মাঝে মাঝে দেখা যায় এই বিশালাকার জালগুলো নদীর অর্ধেকটা জুড়ে টাঙানো আছে। এমনভাবে টাঙানো আছে যে দরকার পড়লে কাঠামোসুদ্ধু জালকে এতটাই গভীরতায় নামিয়ে দেওয়া যাবে যে বড় নৌকা বা স্টিমার ওপর দিয়ে গেলেও কোনো ক্ষতি হবে না। এই সময় জালসুদ্ধু নৌকাটিই স্রোতের সাথে সাথে ভেসে চলে। স্রোতের বিরুদ্ধে যাওয়ার কোনোরকম প্রচেষ্টাই জা...

কোলস্ওয়ার্দি গ্রান্টের 'রুরাল লাইফ ইন বেঙ্গল'।। অনুবাদ ও টীকা : অর্ণব রায়।। সুপ্রকাশ

Image
এই মুহূর্তে আমাদের নদীঘাটে একখানা স্টিমার দাঁড়িয়ে আছে। আধুনিক পক্ষীরাজ। নাম ‘মির্জাপুর’। আজকাল ভারতের নদীগুলিতে যত নৌকো ইত্যাদি জলযান চলছে, তাদের মধ্যে বৃহত্তম। এই স্টিমারই আমাকে মফস্বল যাত্রায় সুখসাগরে মাত্র ছয় ঘন্টায় আরামে নিয়ে এসেছে। নয়ত বজরায় চেপে গদাইলস্করি চালে এই পথ পাড়ি দিতে কমসে কম দুদিন লাগত। স্টিমারের উঁচু চেহারা নদীর আর যত জলযান আছে সবার মধ্যে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকে। গোটা নদীর প্রস্থ জুড়ে অসংখ্য দেশী নৌকা। তাদের চেহারা জবরজং, গতি ধীর আর কিছুতেই বাগে আনা যায় না। আমাদের স্টিমারের উঁচু মাথা তার মধ্যে সগর্বে অনেক ওপরে দাঁড়িয়ে রয়েছে। এত নৌকার ভীড়ে ক্যাপ্টেনের খুবই দক্ষতা, যত্ন আর ধৈর্য্য না থাকলে অন্তত ডজনখানেকের সলিল সমাধি না ঘটিয়ে কোনও জলযানের পক্ষে এক পা-ও এগোনো সম্ভব নয়। এই বিরাট উঁচু স্টিমারের ওপর বসে আমি দুপাশের তীরের গ্রামের দৃশ্য যেভাবে উপভোগ করেছি, এতদিন এদেশের গ্রামকে সেভাবে দেখার সৌভাগ্য আমার হয়নি। বাংলার এই প্রান্তে এসে চারপাশে চাষাবাদ তবু কিছু দেখতে পাচ্ছি। একটু দেরির দিকে হলেও বৃষ্টি যে অত্যধিক হয়েছে, তারও প্রমান পাওয়া যাচ্ছে। ত্রিবেণী বা বাঁশবেড়িয়ার কাছে নদী দ...

কোলস্ওয়ার্দি গ্রান্টের 'রুরাল লাইফ ইন বেঙ্গল'।। অনুবাদ ও টীকা : অর্ণব রায়।। সুপ্রকাশ।।

Image
নীল উৎপাদনের মরশুম যখন আসে, গোটা ফ্যাক্টরিটা আর তার সব মানুষজন যেন নতুন প্রাণ পেয়ে জীবন্ত হয়ে ওঠে। যদি কারখানা ছোটো হয়, সেখানে অল্প পরিমাণ নীল উৎপাদন হয়, যেমন ধরা যাক কোনো কারখানায় যদি এক মরশুমে ২৫০ মণ বা ১৭ কুইন্টাল নীল উৎপাদন হয় তাহলে এই কাজটুকু করার জন্য প্রয়োজনীয় শ্রমিক আশেপাশের এলাকা থেকেই পাওয়া যায়। চাষীদের বিশেষ করে এই মরশুমের জন্য কাজে নেওয়া হয়। কিন্তু, যদি ফ্যাক্টরি বড়ো হয়, যেমন মূলনাথে, সেক্ষেত্রে অন্তত শ’খানেকের বেশি লোক পাশের জেলা থেকে ভাড়া করে আনতে হয়। বেশ কিছু আসে মেদিনীপুর জেলা থেকে। কিন্তু বেশিরভাগ শ্রমিকই হলো মানভূম বা সিংভূম জেলার জঙ্গুলে আদিবাসী। বাঁকুড়ার আশেপাশের অঞ্চলে তাদের জঙ্গল মেহার-ও বলা হয়। সাধারণভাবে এদের ভূনা বা ভূনওয়া কুলি বলা হয়।   এই গরিব মানুষগুলো সম্ভবত একশো কুড়ি মাইল দূর থেকে আসে, সামান্য মাইনেতে একটা কাজ পাবার জন্য। সে কাজের মেয়াদও আবার খুবই অল্প কয়েকটা দিন। এই লোকগুলি বাড়ি থেকে রওনা হওয়ার আগে অগ্রিম হিসেবে গোটা তিনেক টাকা পায় যাতে করে তাদের অবর্তমানে তাদের পরিবারগুলি খেয়ে পরে বেঁচে থাকে। এদের মিতব্যায়িতা এমনই যে যখন এরা মরশুম শেষে ফিরে যায়,...

জনবিলাসের বারোমাস্যা।। সমরেন্দ্র মণ্ডল।। সুপ্রকাশ।।

Image
বিলাস পা বাড়াল বোর্ডিং হাউসের দিকে। এই ছোট্ট ঘিলুর বয়সেই তার ভিতর দ্বন্দ্ব শুরু হল। বোর্ডিং হাউসের দিকে যেতে যেতেই তার মনে হল, সে তো বিলাস। বিলাস সরকার। কোথা থেকে যে একটা জন এসে ওর ঘাড়ে বসল! সে মায়ের কাছে ভূতের গল্প শুনেছে অনেক। তার মনে হল জন একটা ভূত। তার ঘাড়ে চেপে বসেছে। জন নামটাকে সে মেনে নিতে পারছে না। কিন্তু সবাই ওকে জন বলে ডাকছে। আর জন ঘাড়ে চেপে বসতেই তার ভিতর কেমন রাগ রাগ অনুভূতি দেখা গেল। বিলাস ছিল নম্র, মৃদুভাষী। তার ভিতর ক্রোধ নামক রিপু কোনওদিন সেভাবে বাসা বাঁধেনি। কখনও সখনও অল্প স্বল্প রেগেছে ঠিকই, কিন্তু সে সাময়িক। কিন্তু এখন যেন ক্রোধ ওর ভিতর চোরাস্রোতের মতো ধীরে ধীরে প্রবাহিত হচ্ছে। সে ঘাড় ঘুরিয়ে দেখল পিতৃদেব অফিসঘরের সামনে বারান্দার রেলিংয়ে হাত রেখে তার দিকে তাকিয়ে আছেন। পাশে সেই সাদা ফাদার। বিলাস প্রশ্ন করল সতীশকে, উনি কে? —কে? —ওই যে বাবার পাশে দাঁড়িয়ে আছেন। সাদা ফাদার। হাসল সতীশ। বলল, উনি ফাদার অ্যান্টনি। আমরা বলি ফাদার আন্তন। উনি এখানে সবচেয়ে বড়ো। বড়ো ফাদার। বিলাস কী বুঝল কে জানে। বলল, ও। সতীশ বলল, তোমার জিনিসপত্র রেখে, তোমাকে নিয়ে ঘুরব। তোমার মা কিছু খাবার দিয়েছেন? ...

জনবিলাসের বারোমাস্যা।। সমরেন্দ্র মণ্ডল।। সুপ্রকাশ।।

Image
বিলাস চলেছে আবাসিক বিদ্যালয়ে। মিশনারি বিদ্যালয়। এই বিদ্যালয় সম্পর্কে তার পূর্ব ধারণা নেই। না থাকাটাই স্বাভাবিক। তার হাফপ্যান্টের বয়সে এবং যে কিনা প্রকৃতির ভিতর লিপ্ত ছিল, তার পক্ষে শহুরে বিদ্যালয় সম্পর্কে না জানাটাই স্বাভবিক। পিতৃদেবের মুখনিঃসৃত সংবাদে মাতৃদেবী যে ধারণা অর্জন করেছিলেন এবং উপদেশের ছলে তিনি বিলাসকে যা বলেছিলেন, তা থেকে তার বোধ তৈরি হয়েছে সাদা চামড়ার আলখাল্লা পরিহিত মিশনারিরা এই বিদ্যালয়ের পরিচালক। সেখানে অনেক বালক বাস করে। বিরাট বিরাট অট্টালিকা। বিদ্যালয় এবং আবাসন একটি প্রাচীর ঘেরা জায়গায় অবস্থিত। কঠোর নিয়মের নিগড়ে তাদের বাস করতে হয়। সবই চলে নিয়মমতে। সে চলেছে ট্রেনে চেপে। এর আগে বহরমপুর যাওয়ার জন্য সে ট্রেনে চেপেছিল, কিন্তু সেই স্মৃতি অনেকটা ধূসর হয়ে গিয়েছে। এবারের স্মৃতিটা হবে নতুন। ফলে সে কিছুটা উত্তেজিত। আরেকটা কারণেও সে কৌতূহলী, সেবার ট্রেন গিয়েছিল উত্তরমুখী, এবার দক্ষিণমুখী। ট্রেনের একটা খোপে তারা উঠল। সে ছুটে গিয়ে জানলার ধারে বসল। পিঠে হেলান দেওয়া কাঠের বেঞ্চি, ফাঁক ফাঁক করা। পিতৃদেব বললেন, দাঁড়া, কাপড়টা পেতে দিই। সে উঠে দাঁড়াল। পিতৃদেব ঝোলা থেকে মায়ের একটি ছিন্ন শ...

কোলস্ওয়ার্দি গ্রান্টের 'রুরাল লাইফ ইন বেঙ্গল'।। অনুবাদ ও টীকা : অর্ণব রায়।। সুপ্রকাশ

Image
শহরের ইউরোপীয় অংশ ছাড়িয়ে আর উত্তরদিকে নদীবন্দরের মুখে জড়ো হওয়া অসংখ্য মালবাহী দেশীয় নৌকার ভিড় পার করলে প্রথম যে জিনিসটা চোখে পড়বে সেটা একটা ভাঙাচোরা দেখতে চতুষ্কোণ চত্বর, নদীর দিকে খোলা মুখ, বাকি দিকগুলোয় প্রাচীর দেওয়া। এই প্রাচীরের গায়ে বিরাট মাঠ। আর এই মাঠেই এক কাঁচা চামড়ার ব্যবসায়ী কিছু সাফাই আধিকারিককে সঙ্গে করে কলকাতা শহরের মৃত চতুষ্পদদের নিয়ে তার সুচারু কাজকারবার চালিয়ে থাকে। আর ওই প্রাচীরের ওপর সারাক্ষণ গোটা পঞ্চাশেক ক্ষুধার্ত শকুন হাঁ করে বসে থাকে। আর নীচে, আবর্জনা আর হাড়ের স্তূপের মধ্যে ঘুরে বেড়ায় একই রকম ক্ষুধার্ত জঘন্য দেখতে কিছু রাস্তার কুকুর। তাদের সাথে ওই ময়লা ঘেঁটে পাওয়া পুরস্কার নিয়ে কাড়াকাড়ি করে গোটা কুড়ি দৈত্যাকার সারস।     এই বাড়িটাকে   শ্মশানঘাট বলে। হিন্দুরা এই জায়গাটা ঘিরে দিয়ে অন্য জায়গার থেকে আলাদা করে রাখে তাদের মৃতদের দাহ করার জন্য। যখন আমি ‘হিন্দুরা’ বলছি, তখন বুঝতে হবে আমি বলতে চাইছি, যাদের মৃতদেহ দাহ করার ক্ষমতা আছে, তারা। কিন্তু দুর্ভাগ্যক্রমে, হিন্দু সমাজের অর্ধেকের বেশি মানুষ এই ক্ষমতা রাখে না। আর তোমরা ভালো করেই জানো, দু একটি ব্...

কোলস্ওয়ার্দি গ্রান্টের 'রুরাল লাইফ ইন বেঙ্গল'।। অনুবাদ ও টীকা : অর্ণব রায়।। সুপ্রকাশ।।

Image
যাত্রা শুরুর কথা বলতে গেলে আমাদের চলে যেতে হবে ঘাটে, যেখানে সমস্ত নৌকাগুলো এসে জড়ো হয়। আর কোন ঘাটে নৌকার সমাগম সবচেয়ে বেশি হয়, তা খুঁজতে গেলে আমাদের প্রথমেই যে ঘাটের কথা মনে আসবে সেটা হল বাবুঘাট। ঘাট বলতে কিছুই না, কয়েক ধাপ সিঁড়ি জলের দিকে নেমে গেছে। তার ওপরে একটা অনেকগুলো থামওয়ালা চাতালের মতো ঢাকা দেওয়া এলাকা। যে দেশীয় ভদ্রলোক এটি তৈরি করেছেন, থামের গায়ে তার নাম খোদাই করা। পাশেই একটা বিশাল অশ্বত্থ গাছ অনেকটা এলাকা জুড়ে ছাতা ধরে আছে। পুণ্যবতী হিন্দু মহিলাদের গঙ্গাস্নান সেরে উঠে আসার সময় হাতের তামার লোটা করে জল এনে এই অশ্বত্থ গাছের গোড়ায় দিতে দেখা যায়। তামার লোটা সবসময় তাদের হাতে থাকে।  . . কোলস্ওয়ার্দি গ্রান্টের 'রুরাল লাইফ ইন বেঙ্গল' অনুবাদ ও টীকা : অর্ণব রায় . প্রচ্ছদ : অজন্তা হাজরা মুদ্রিত মূল্য : ৫৫০ টাকা সুপ্রকাশ

আহাম্মকের খুদকুড়ো।। দুর্লভ সূত্রধর।। সুপ্রকাশ।। পাঠপ্রতিক্রিয়া

Image
সুপ্রকাশ প্রকাশিত দুর্লভ সূত্রধরের বই 'আহাম্মকের খুদকুড়ো' পড়ে গুডরিডস্-এ মতামত জানিয়েছেন পৌলমী ঘোষ। আমরা নিজেদের টাইমলাইন থেকে শেয়ার করছি।  .......................................................... দুর্লভ সূত্রধরের লেখার সঙ্গে আমার দ্বিতীয় পরিচয় আহাম্মকের খুদকুড়ো। 'অনন্যবর্তী' পড়ে তাঁর লেখার যে সহজ-সরল অথচ গভীর স্বরটির সঙ্গে পরিচয় হয়েছিল, এই বইয়ে এসে সেই স্বরটাকেই যেন আরও ব্যক্তিগত, আরও অন্তরঙ্গভাবে পেলাম। এটি আসলে কোনো সাজানো-গোছানো আত্মজীবনী নয়। বরং জীবনের এদিক-ওদিক ছড়িয়ে থাকা কিছু টুকরো স্মৃতি-শৈশব, স্কুল, শিক্ষক, বন্ধু, বাড়ির মানুষ, পাড়া, উৎসব, খাবার, অভাব, আনন্দ, ছোট ছোট বিস্ময় আর সময়ের বদলে যাওয়া। লেখক নিজেই যেন সেইসব স্মৃতির খুদকুড়ো কুড়িয়ে এনে আমাদের সামনে সাজিয়ে দিয়েছেন। আর আশ্চর্যের বিষয়, যেগুলোকে জীবনের সামান্যতম ঘটনা বলে পাশ কাটিয়ে যাওয়া যায়, লেখকের হাতে সেগুলোই হয়ে উঠেছে এক একটি সম্পূর্ণ গল্প। এই বই পড়তে পড়তে আমার বারবার মনে হয়েছে— মানুষের জীবনে আসলে বড় ঘটনা যতটা না থেকে যায়, তার চেয়ে অনেক বেশি থেকে যায় ছোট ছোট মুহূর্ত। জ্বরের দিনে মায়ের হাতে পাওয়া কোনো...

লেটারপ্রেসের কম্পোজিটর : এক বিষাদান্ত পরম্পরা ।। অনন্ত জানা।। সুপ্রকাশ।। পাঠপ্রতিক্রিয়া।।

Image
সুপ্রকাশ প্রকাশিত অনন্ত জানার বই 'লেটারপ্রেসের কম্পোজিটর : এক বিষাদান্ত পরম্পরা' পড়ে মতামত জানিয়েছেন সৌরজিৎ বসাক। আমরা তাঁর অনুমতি নিয়ে নিজেদের টাইমলাইন থেকে শেয়ার করছি। ..................................................... পাঠ প্রতিক্রিয়া— ➤ বই :  লেটারপ্রেসের কম্পোজিটর : এক বিষাদান্ত পরম্পরা  ➤ লেখক : অনন্ত জানা ➤ প্রকাশক : সুপ্রকাশ   ➤ মুদ্রিত মূল্য : ২৯০ টাকা ➤ প্রচ্ছদ শিল্পী : সৌজন্য চক্রবর্তী  ➤ অলংকরণ শিল্পী : সুলিপ্ত মণ্ডল  পাঠক-জীবনের মুসাফিরনামায় এই যে এতশত শব্দের সমুদ্রের (নিদেনপক্ষে স্রোতস্বিনী নদী তো বটেই) মধ্যে দিয়ে বৈঠা বেয়ে এগিয়ে চলতে হয়, সেটির কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা ‘বই’ নামক ‘দুই-মলাটে-বন্দি’ সত্তার বোধকরি দু’রকমের আত্মপ্রকাশ। তার মধ্যে প্রথমটা তো সুপরিচিত লেখক-পাঠক যুগলবন্দি, কিংবা একটি গ্রন্থ যা বলতে চায়, শোনাতে চায়। কিন্তু এরপর দ্বিতীয় যে বিষয়, যা কিনা অনেকটাই অব্যক্ত — অর্থাৎ, কাগজ-কালির কাঁচামাল হতে সম্পূর্ণ গ্রন্থে উত্তরণের যে যাত্রা, সেই শেষ-হতে-না-চাওয়া যাত্রার অভিযাত্রীদের নিজস্ব ইতিকথা।  প্রাসঙ্গিকতার খাতিরে আমরা...