কোলস্ওয়ার্দি গ্রান্টের 'রুরাল লাইফ ইন বেঙ্গল'।। অনুবাদ ও টীকা : অর্ণব রায়।। সুপ্রকাশ
এই মুহূর্তে আমাদের নদীঘাটে একখানা স্টিমার দাঁড়িয়ে আছে। আধুনিক পক্ষীরাজ। নাম ‘মির্জাপুর’। আজকাল ভারতের নদীগুলিতে যত নৌকো ইত্যাদি জলযান চলছে, তাদের মধ্যে বৃহত্তম। এই স্টিমারই আমাকে মফস্বল যাত্রায় সুখসাগরে মাত্র ছয় ঘন্টায় আরামে নিয়ে এসেছে। নয়ত বজরায় চেপে গদাইলস্করি চালে এই পথ পাড়ি দিতে কমসে কম দুদিন লাগত। স্টিমারের উঁচু চেহারা নদীর আর যত জলযান আছে সবার মধ্যে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকে। গোটা নদীর প্রস্থ জুড়ে অসংখ্য দেশী নৌকা। তাদের চেহারা জবরজং, গতি ধীর আর কিছুতেই বাগে আনা যায় না। আমাদের স্টিমারের উঁচু মাথা তার মধ্যে সগর্বে অনেক ওপরে দাঁড়িয়ে রয়েছে। এত নৌকার ভীড়ে ক্যাপ্টেনের খুবই দক্ষতা, যত্ন আর ধৈর্য্য না থাকলে অন্তত ডজনখানেকের সলিল সমাধি না ঘটিয়ে কোনও জলযানের পক্ষে এক পা-ও এগোনো সম্ভব নয়। এই বিরাট উঁচু স্টিমারের ওপর বসে আমি দুপাশের তীরের গ্রামের দৃশ্য যেভাবে উপভোগ করেছি, এতদিন এদেশের গ্রামকে সেভাবে দেখার সৌভাগ্য আমার হয়নি।
বাংলার এই প্রান্তে এসে চারপাশে চাষাবাদ তবু কিছু দেখতে পাচ্ছি। একটু দেরির দিকে হলেও বৃষ্টি যে অত্যধিক হয়েছে, তারও প্রমান পাওয়া যাচ্ছে। ত্রিবেণী বা বাঁশবেড়িয়ার কাছে নদী দুভাগ হয়ে গিয়ে একটা বদ্বীপ সৃষ্টি করেছে। এখানে ১৮৪৪ সালে স্থাপিত একখানা মিশন স্কুল রয়েছে । এই পুরো এলাকাটা বন্যার জলে ডুবে গিয়েছে। যেদিকে তাকানো যায় শুধুই জল। মাঝে মাঝে এখানে ওখানে দু একটা সবুজ ছোপ হলুদ ছোপ, ধানের ক্ষেত সরষের ক্ষেত। আর কয়েকটা কুঁড়েঘর কোনওমতে দাঁড়িয়ে আছে। আর যেভাবে ভাসমান গাছের গুঁড়ির ওপর ইঁদুর এসে জড়ো হয়, বেচারা গরিব মানুষেরা এইসব উঁচু ডাঙায় দলে দলে এসে জড়ো হয়েছে। এদের দেখে দুই নদীর মাঝে কিছু যে স্থলভাগ আছে, সেটা আলাদা করে বোঝা যাচ্ছে। জল প্রায় সর্বত্রই নদীর পাড় ছুঁয়ে ফেলেছে। শুকনো মরশুমে এই নদীর পাড়ই জলের থেকে বেশ কয়েক ফিট উঁচুতে থাকে। কোনো কোনো জায়গায় তো দশ-বারো ফিট উঁচুতে থাকে। এবারে সুখসাগরে এসে দেখি বাড়িঘর কিচ্ছু আলাদা করে চেনা যাচ্ছে না। যে ঘাটে বরাবর এসে নামি, এতদিন নৌকা থেকে সেই ঘাটে নেমে পুরো সাত থেকে আট ফিট ওপরে উঠতে হতো। এবারে যখন নৌকা এসে সেই ঘাটে লাগল, আমি নামার জন্য নৌকা থেকে নীচে পা দিলাম। এ থেকেই পরিষ্কার ধারণা করা যেতে পারে বর্ষাকালে এদেশে নদী কতটা ফুলে উঠতে পারে!
.
.
.
কোলস্ওয়ার্দি গ্রান্টের 'রুরাল লাইফ ইন বেঙ্গল'
অনুবাদ ও টীকা : অর্ণব রায়
.
প্রচ্ছদ : অজন্তা হাজরা
মুদ্রিত মূল্য : ৫৫০ টাকা
সুপ্রকাশ
বাংলার এই প্রান্তে এসে চারপাশে চাষাবাদ তবু কিছু দেখতে পাচ্ছি। একটু দেরির দিকে হলেও বৃষ্টি যে অত্যধিক হয়েছে, তারও প্রমান পাওয়া যাচ্ছে। ত্রিবেণী বা বাঁশবেড়িয়ার কাছে নদী দুভাগ হয়ে গিয়ে একটা বদ্বীপ সৃষ্টি করেছে। এখানে ১৮৪৪ সালে স্থাপিত একখানা মিশন স্কুল রয়েছে । এই পুরো এলাকাটা বন্যার জলে ডুবে গিয়েছে। যেদিকে তাকানো যায় শুধুই জল। মাঝে মাঝে এখানে ওখানে দু একটা সবুজ ছোপ হলুদ ছোপ, ধানের ক্ষেত সরষের ক্ষেত। আর কয়েকটা কুঁড়েঘর কোনওমতে দাঁড়িয়ে আছে। আর যেভাবে ভাসমান গাছের গুঁড়ির ওপর ইঁদুর এসে জড়ো হয়, বেচারা গরিব মানুষেরা এইসব উঁচু ডাঙায় দলে দলে এসে জড়ো হয়েছে। এদের দেখে দুই নদীর মাঝে কিছু যে স্থলভাগ আছে, সেটা আলাদা করে বোঝা যাচ্ছে। জল প্রায় সর্বত্রই নদীর পাড় ছুঁয়ে ফেলেছে। শুকনো মরশুমে এই নদীর পাড়ই জলের থেকে বেশ কয়েক ফিট উঁচুতে থাকে। কোনো কোনো জায়গায় তো দশ-বারো ফিট উঁচুতে থাকে। এবারে সুখসাগরে এসে দেখি বাড়িঘর কিচ্ছু আলাদা করে চেনা যাচ্ছে না। যে ঘাটে বরাবর এসে নামি, এতদিন নৌকা থেকে সেই ঘাটে নেমে পুরো সাত থেকে আট ফিট ওপরে উঠতে হতো। এবারে যখন নৌকা এসে সেই ঘাটে লাগল, আমি নামার জন্য নৌকা থেকে নীচে পা দিলাম। এ থেকেই পরিষ্কার ধারণা করা যেতে পারে বর্ষাকালে এদেশে নদী কতটা ফুলে উঠতে পারে!
.
.
.
কোলস্ওয়ার্দি গ্রান্টের 'রুরাল লাইফ ইন বেঙ্গল'
অনুবাদ ও টীকা : অর্ণব রায়
.
প্রচ্ছদ : অজন্তা হাজরা
মুদ্রিত মূল্য : ৫৫০ টাকা
সুপ্রকাশ
Comments
Post a Comment