Posts

নৈশ অপেরা।। শাক্যজিৎ ভট্টাচার্য।। সুপ্রকাশ।। পাঠপ্রতিক্রিয়া

Image
সুপ্রকাশ প্রকাশিত শাক্যজিৎ ভট্টাচার্যের উপন্যাস 'নৈশ অপেরা' পড়ে মতামত জানিয়েছেন নীরা মুখার্জি। আমরা তাঁর অনুমতি নিয়ে নিজেদের টাইমলাইন থেকে শেয়ার করছি। .................................................... "লীন হয়ে গেলে তারা তখন তো - মৃত। মৃতেরা এ—পৃথিবীতে ফেরে না কখনো। মৃতেরা কোথাও নেই; আছে?" - জীবনানন্দ দাশ একটা মৃত গঞ্জ. যেখানে বাস করা প্রতিটা মানুষই মৃত. তারা কেবল বেঁচে থাকে ছায়ায়. সময় এখানে ক্লান্ত আর অন্ধকার নিস্পন্দ. শুধু অতীতের কঙ্কালরা কুয়াশার গায়ে মাখিয়ে রাখে ভুলে যাওয়া ইতিহাস ও স্মৃতিদের. গঞ্জে বেড়াতে আসা ক্রাইম রিপোর্টার তনয়া হঠাৎই সম্পৃক্ত হয়ে যায় এই ইতিহাসের সঙ্গে. গঞ্জের ডেভিড ব্রাউনের বাড়ী থেকে অতীতে হারিয়ে গিয়েছিল এক শিশু. ক্রিস. ক্রিসের অন্তর্ধান রহস্যের মাঝেই সামনে এসে দাঁড়ায় আরো এক চরিত্রের কাহিনী - যাকে এই গঞ্জ ভুলে গেছে অথবা ভুলে যেতে চেয়েছে. সে হলো অ্যাগনেস ও'ব্রায়েন. অন্তর্ধান হয়েছিল সেও ক্রিস কাহিনীর পাঁচ বছর আগে. কিন্তু স্মৃতির আনুগত্যে লুকিয়ে থাকা বিস্ময় আর প্রশ্নেরা সব সময়ই শক্তিশালী. তাই, অ্যাগনেস মুছে গিয়েও গ...

নির্মুখোশ শারদ ১৪৩২।। প্রবাসে দুর্দৈবের বশে : নিশিকান্ত চট্টোপাধ্যায়।। অনন্ত জানা

Image
বঙ্কিমাগ্রজ সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় বাংলার যাত্রা-সংক্রান্ত একটি বইয়ের আলোচনা করতে গিয়ে লিখেছিলেন :    ‘কিছুদিন হইল বাঙ্গালার যাত্রা নামে একখানি ক্ষুদ্র গ্রন্থ আমরা পাইয়াছিলাম। গ্রন্থখানি বিলাতে বসিয়া বিলাতি ভাষায় লিখিত হয় এবং বিলাতেই তাহা মুদ্রিত হইয়াছে। মূল্য দুই সিলিং। লেখক বাঙ্গালি আমাদের সুপ্রসিদ্ধ নিশিকান্ত চট্টোপাধ্যায়। আমরা সেজন্য বিশেষ আহ্লাদ পূর্ব্বক ইহা পাঠ করিয়াছি।’ (যাত্রার ইতিবৃত্ত :১২৮৯) বাংলার যাত্রা-বিষয়ে এই ধরনের গ্রন্থ আলোচনার সম্পূর্ণ অধিকার সঞ্জীবচন্দ্রের ছিল। কেননা ইতোপূর্বেই তিনি বঙ্গদর্শন ও ভ্রমর পত্রিকার পাতায় বাংলার যাত্রা নিয়ে তিনখানি প্রবন্ধ লিখেছিলেন। প্রবন্ধগুলি নিয়ে তাঁর ‘যাত্রা সমালোচনা’ (১৮৭৫) নামে একটি  গ্রন্থও প্রকাশিত হয়েছিল। সে-নিয়ে প্রাসঙ্গিক ক্ষেত্রে আমরা বিস্তারিত হতেই পারি। কিন্তু  গ্রন্থ-সমালোচনামূলক এই রচনায়  সঞ্জীবচন্দ্র আলোচ্য গ্রন্থটি নিয়ে ‘ইদানিং ঢাকা অঞ্চলে ‘স্বপ্নবিলাস’ প্রভৃতি তিনখানি যাত্রা রচিত হয়েছে। তথাকার বিস্তর লোক এই যাত্রার পক্ষপাতী। নিশিকান্তবাবু সেই যাত্রা উপলক্ষ করিয়া এই  গ্রন্থ লিখিয়াছেন’–ইত্যা...

নির্মুখোশ শারদ ১৪৩২।। সার্কাসের ইতিকথা।। বরুণদেব।।

Image
১৮৭৯ সালে চিয়ারিনির রয়‍্যাল ইটালিয়ান সার্কাসের তাঁবু পড়ল বোম্বের বোরিবন্দর রেলস্টেশনের কাছে ক্রস ময়দানে। এই বোরিবন্দর রেলস্টেশন থেকেই ছাব্বিশ বছর আগে ভারতীয় রেল শুরু করেছিল তার যাত্রা। ১২ই ডিসেম্বর, ১৮৭৯-তে চিয়ারিনির প্রদর্শনীর উদ্বোধন করলেন বোম্বে প্রদেশের গভর্নর রিচার্ড টেম্পল। এর কয়েকদিন পর ক্রিসমাসের রাতে দর্শকপূর্ণ তাঁবুতে চিয়ারিনি ছুঁড়ে দিলেন চ্যালেঞ্জ— আমি জানি, ভারতে কোনো সার্কাস দল নেই। আরও অনেক বছর ভারতকে অপেক্ষা করতে হবে নিজেদের সার্কাসের জন্য। চ্যালেঞ্জ করছি, যদি কেউ আমার মতো ঘোড়ার খেলা দেখাতে পারে, তাকে আমি ভারতীয় মুদ্রায় এক হাজার টাকা দেব। সেই সঙ্গে আমার প্রশিক্ষিত ঘোড়াগুলোর মধ্যে যে কোনো একটা ঘোড়া দিয়ে দেব। ছ'মাস সময় দিচ্ছি। আছেন কেউ? কেউ আছেন? থাকলে এগিয়ে আসুন। এই বিস্ময়কর ইউরোপীয় শিল্পের সম্মোহন প্রত্যক্ষ করতে সার্কাসের তাঁবুতে সে সন্ধ্যায় হাজির দেশীয় রাজারা, সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ। দর্শকাসনে সপারিষদ উপস্থিত মহারাষ্ট্রের কুরুন্দওয়াদ প্রদেশের রাজা বালাসাহেব। আর ছিলেন অশ্বারোহী বিষ্ণুপন্থ মোরেশ্বর ছত্রে, কুরুন্দওয়াদ রাজপ্রাসাদের আস্তাবলের সুপারিনটেনডেন্ট। ইস্ট ইণ...

নির্মুখোশ শারদ ১৪৩২।। সীমান্ত রেখা।। অবিন সেন।। সুপ্রকাশ

Image
চারপাশে অন্ধকারটা ঝাঁপিয়ে নেমেছে। এমন অন্ধকারের একটা গন্ধ আছে, যেন ভেজা ভেজা ঝোপঝাড়ের গন্ধ। কানু শুধু গন্ধটা পায়। সারা রাস্তাটায় এখন ইলেকট্রিক পোস্টে পোস্টে আলো লাগানো হয়েছে। কিন্তু অবনীদের বাড়ি পেরিয়ে চুলের কাঁটার মতো এই বাঁকানো মোড়ের কাছে দু তিনটে পোস্টের আলো কারা যেন ভেঙে দিয়ে যায় নিয়মিত। কানুর সাইকেলের আলোটা আবার খারাপ হয়ে গিয়েছে। নিকষ অন্ধকারে ঢুকে পড়ে ভিজে ভিজে গন্ধটা ছ্যাঁত করে তার নাকে লাগে। বুকের ভিতরে একটা ঢিব ঢিব শব্দ শুনতে পায় সে। কানুর হাত-পায়ের পেশী শক্ত আর কঠিন হয়ে ওঠে। কোথা থেকে একটা অলৌকিক শক্তি যেন তার দেহের ভিতরে ভর করে। সাঁ সাঁ করে প্যাডেল ঘুরিয়ে সে অন্ধকারটা পেরিয়ে যায়। আরও প্রায় দু তিন কিলোমিটার তাকে সাইকেল চালিয়ে যেতে হবে। রাস্তাটা এবার ফাঁকা মাঠের মধ্যদিয়ে। চারপাশে বাড়ি ঘর নেই। দু পাশে লম্বা লম্বা গাছের সারি। আধুনিক নব্য সভ্যতা যেন এই পর্যন্ত এসে থেমে গিয়েছে। এর পর থেকে প্রকৃতি যেন আপন খেয়ালে নিজেকে নিয়ে গড়েছে, ভেঙেছে আর মুচকি হেসে মানুষের যাবতীয় আধুনিক সভ্যতার হিসেব নিকেশকে ওলটপালট করে দিয়েছে। এই রাস্তাটা পার হতে কানুর বেশ ভয় ভয় করে। কিসের ভয় কানু ঠিক জানে না। ...

নির্মুখোশ শারদ ১৪৩২।। উপন্যাস।।

Image
অন্ধকার নামে… হ্যারিকেনের আলোয় মোগল সাম্রাজ্যের পতনের কারণ নাকি কোষ বিভাজন—কোনটা আগে পড়া দরকার সেই নিয়ে দোদুল্যমান নবা এলোমেলো একবার অমূল্যভূষণ, আরেকবার প্রভাতাংশু মাইতি খোলে। মন বসে না তার। বাইরে ভেসে আসে প্রতিবেশীদের বিবাদ, মসজিদ থেকে আজান, মাঠ থেকে ছেলেদের হুল্লোড়—সব মিলিয়ে তার মনে হয়, চারপাশে এত শব্দ থাকলেও নিজের ভিতরেই যেন সবচেয়ে বড় অন্ধকার। দীপেন স্যার বলেছিলেন—‘কাজেই কাজেই দেখতে পাচ্ছ, বস্তুটি যে অবস্থানেই থাকুক, মোট শক্তির যোগফল ধ্রুবক।’ কিন্তু নবার মনে হয়েছিল, মানুষের জীবনে কি সত্যিই শক্তির যোগফল ধ্রুবক থাকে? নাকি কোথাও না কোথাও প্রতিদিন একটু একটু করে ক্ষয় হয়—আশা, স্বপ্ন আর ভালোবাসার ভেতর? উপন্যাস ........................ জলের কাছে কৌশিক ঘোষ ........................ প্রচ্ছদ : সৌজন্য চক্রবর্তী  অলংকরণ : অদ্বয় দত্ত  নির্মুখোশ শারদ ১৪৩২ মুদ্রিত মূল্য : ২৫০ টাকা আসছে......

নির্মুখোশ শারদ ১৪৩১।। প্রবাসে দুর্দৈবের বশে : নিশিকান্ত চট্টোপাধ্যায়।। অনন্ত জানা।। সুপ্রকাশ

Image
বঙ্কিমাগ্রজ সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় বাংলার যাত্রা-সংক্রান্ত একটি বইয়ের আলোচনা করতে গিয়ে লিখেছিলেন :    ‘কিছুদিন হইল বাঙ্গালার যাত্রা নামে একখানি ক্ষুদ্র গ্রন্থ আমরা পাইয়াছিলাম। গ্রন্থখানি বিলাতে বসিয়া বিলাতি ভাষায় লিখিত হয় এবং বিলাতেই তাহা মুদ্রিত হইয়াছে। মূল্য দুই সিলিং। লেখক বাঙ্গালি আমাদের সুপ্রসিদ্ধ নিশিকান্ত চট্টোপাধ্যায়। আমরা সেজন্য বিশেষ আহ্লাদ পূর্ব্বক ইহা পাঠ করিয়াছি।’ (যাত্রার ইতিবৃত্ত :১২৮৯) বাংলার যাত্রা-বিষয়ে এই ধরনের গ্রন্থ আলোচনার সম্পূর্ণ অধিকার সঞ্জীবচন্দ্রের ছিল। কেননা ইতোপূর্বেই তিনি বঙ্গদর্শন ও ভ্রমর পত্রিকার পাতায় বাংলার যাত্রা নিয়ে তিনখানি প্রবন্ধ লিখেছিলেন। প্রবন্ধগুলি নিয়ে তাঁর ‘যাত্রা সমালোচনা’ (১৮৭৫) নামে একটি  গ্রন্থও প্রকাশিত হয়েছিল। সে-নিয়ে প্রাসঙ্গিক ক্ষেত্রে আমরা বিস্তারিত হতেই পারি। কিন্তু  গ্রন্থ-সমালোচনামূলক এই রচনায়  সঞ্জীবচন্দ্র আলোচ্য গ্রন্থটি নিয়ে ‘ইদানিং ঢাকা অঞ্চলে ‘স্বপ্নবিলাস’ প্রভৃতি তিনখানি যাত্রা রচিত হয়েছে। তথাকার বিস্তর লোক এই যাত্রার পক্ষপাতী। নিশিকান্তবাবু সেই যাত্রা উপলক্ষ করিয়া এই  গ্রন্থ লিখিয়াছেন’–ইত্যা...

টুক্কা।। কৌশিক ঘোষ।। সুপ্রকাশ।।

Image
"এ বছর জুন মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহের মাথায় গৌরব হঠাৎ আবিষ্কার করল, সে চন্দ্রাণীর জন্মদিন বেমালুম ভুলে গেছে। দুই দশকেরও বেশি সময় অতিক্রান্ত, সময়ের পলি অনেক কিছু ঢেকে দিয়েছে, এমনকি প্রথম প্রেমিকার জন্মদিনও। স্বাভাবিক, তবু অস্বস্তিকর— কেননা খুঁতখুঁত করছে, কবে যে জন্মদিন চন্দ্রাণীর, কিছুতেই মনে পড়ছে না। মাস মনে আছে, কিন্তু দিন নয়। যেন একটা গর্হিত কাজ করে ফেলেছে— দিন ভুলে গিয়ে মাস মনে রাখার এই অপরাধ। স্মৃতি আর বিস্মৃতির এই খেলা তাকে আচ্ছন্ন করে রাখল সারাদিন। লজিক দিয়ে উত্তর মেলে না, অনুমান দিয়েও নয়। ১৫, ১৭, ১৮ থেকে শুরু করে ২৬— সব তারিখই সম্ভাব্য মনে হয়। অথচ নিশ্চিত নয় কিছুই। একদিকে মনে হয়, তথ্যটার আর কোনো বাস্তব প্রয়োজনে নেই আজ, তবু না জানার অস্বস্তি কুরে কুরে খাচ্ছে। কবে জন্মদিন, কবে, কবে, কবে? এই এক অকিঞ্চিৎকর প্রশ্নই যেন জীবনের সমস্ত গুরুত্ব ছাপিয়ে উঠছে জুনের উষ্ণ দুপুরে।" ................................................................................ জন্মদিন ................................................................................ টুক্কা কৌশিক ঘোষ প্রচ্ছদ : সৌজন্য চক্রবর...