খণ্ডপ্রহর।। অবিন সেন।। সুপ্রকাশ।।
উঠোন থেকে দোতলার বারান্দায় উঠে এল বিন্ধ্যবাসিনী। আজকাল একটানা সিঁড়ি ভেঙে দোতলায় উঠে আসতে হাঁপ ধরে যায়। খাড়া খাড়া ধাপ। পুরোনো বাড়ি। তবে ঢের মজবুত। বারান্দায় বেতের আরাম চেয়ারে বসে একটু দম নিয়ে নিল সে। সামনে ফিটফাট আকাশ। একেবারে ছবির মতো নীল। তবে এককোণে পাকা করমচার মতো রঙ ধরেছে। বিকেল নামছে। বিন্ধ্যবাসিনী সোজা হয়ে পশ্চিম আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকল। ষাটের চৌকাঠ পার করেও এখনও তার শরীর টানটান। গড়পড়তা বাঙালি মহিলাদের তুলনায় বেশ লম্বা। তাই হয়ত তাকে একটু দুবলা লাগে। তীক্ষ্ণ চোখ, টিকালো নাক। মাথায় অঢেল চুল এখনও, যেন কবেকার অন্ধকার নিশা। শুধু কালো চুলের মাঝে মাঝে দু’একটা রুপালি রেখা টেনে দিয়েছে বুড়ো বয়েস। বিকেলে বসে বসে সে শুধু ভাবে। কী ভাবে! ভাবনার কি কোনও হিসেব আছে? আকাশ পাতাল আছে? এই যে বাড়িটা? কোন এক যুবতী বয়েসের উপার্জন। হ্যাঁ, উপার্জন কথাটাই ঠিক ঠিক মানায়। বাকি সব বিচ্ছিন্ন হেঁয়ালি ছাড়া আর কিছু নয়। কিংবা আগাছার লৌকিকতা। তবে জমিদার বাড়ির বউ— এমন তকমাও আদতে মিছে কথা নয় যদিও। বউ ও বউয়ের সীমানার কাছে চৌকাঠ অবধি তো সত্যি। যে যুবতীরর চানঘরে পরপুরুষ! পরপুরুষ কথাটা ভাবলেই আবার থমকে যায় বিন্ধ্যবাস...