Posts

ছায়াবৃতা।। সুনীল সেনশর্মা।। পাঠপ্রতিক্রিয়া।।

Image
সুপ্রকাশ প্রকাশিত সুনীল সেনশর্মা-র বই 'ছায়াবৃতা' পড়ে মতামত জানিয়েছেন আকাশ বৈদ্য। আমরা তাঁর অনুমতি নিয়ে নিজেদের টাইমলাইন থেকে শেয়ার করছি। ............................................................. #পাঠ_অনুভূতি সুপ্রকাশ প্রকাশনার বই গুলো আমার নজর কেড়েছিল তাদের ফেসবুক পোস্টের কল্যাণে। তাদের বেশিরভাগ বইয়ের বিজ্ঞাপন পড়তে গিয়ে মনে হয়েছে তাদের বইগুলো একটু ভিন্ন, একটু অন্যরকম। বিভিন্ন বইয়ের সারসংক্ষেপ পড়তে গিয়েই সেই ভিন্নতার আভাস পেয়েছিলাম। মনে ভাবনা ছিলই বইগুলো একবার উল্টেপাল্টে দেখার। সেই অভিপ্রায়ে সংগ্রহ করেছিলাম 'ছায়াবৃতা'।  ছায়াবৃতা অর্থাৎ ছায়া দ্বারা আবৃত। হ্যাঁ, এভাবেই নেফাকে বর্ণনা করেছেন লেখক। নেফা অর্থাৎ যাকে আমরা আজকের দিনে চিনি অরুণাচল প্রদেশ হিসেবে। সে যে শুধুমাত্র অরন্যাবৃত হওয়ার জন্য লেখকের কাছে এই নামে ভূষিত হয়েছে তা নয়, একটা নির্দিষ্ট সময় অবধি সে তো দেশের বাকি অংশের একপ্রকার ছায়াতেই ছিল। একটু একটু প্রাধান্য পেতে শুরু করে সে বাষট্টি সালের ইন্দো-চিন যুদ্ধের পর। যখন যুদ্ধের ফলাফল সরকার বাহাদুরকে ঘুম থেকে জাগিয়ে তোলে। সেই সময়েই লেখক ভূতা...

লেটারপ্রেসের কম্পোজিটর : এক বিষাদান্ত পরম্পরা।। অনন্ত জানা।। সুপ্রকাশ।।

Image
কিন্তু উনিশ শতকের শেষের দিকে তো বটেই বিশ শতকের গোড়ার দিকেও অধিকাংশ ক্ষেত্রেই কম্পোজিটর কিংবা প্রেসের অন্যান্য স্তরের কর্মীদের রীতিমাফিক মজুরির একটা মোটের ওপর মান্য-মাপকাঠি থাকলেও বেতন-কাঠামোর সুষ্ঠু প্রয়োগের অভাব ছিল। দক্ষ কম্পোজিটরেরা (যাঁরা হস্তলিখিত পাণ্ডুলিপি এবং সুবোধ্য ও আপাত-দুর্বোধ্য সর্বপ্রকার হস্তলিপির পাঠোদ্ধারে সক্ষম, যাঁরা টাইপকে সঠিকভাবে টাইপ-কেসে বিতরণ করতে এবং কম্পোজকালে দ্রুত আহরণ করতে সক্ষম, যাঁরা দ্রুততার সঙ্গে পৃষ্ঠার পর পৃষ্ঠা নাগাড়ে কম্পোজ করে চলতে পারেন, যাঁরা অতি সহজেই টাইপের বিভিন্ন ধরন ও মাপকে চিহ্নিত করতে পারেন, যাঁরা দ্রুততার সঙ্গে এমনভাবে পেজ-মেকাপ করতে পারেন যাতে মেশিনম্যান বা মেশিন-প্রিন্টারের ম্যাটার সেট করতে কোনো অসুবিধা হয় না, যাঁরা উদ্দিষ্ট ভাষার বানান ও বাক্যবন্ধের মান্যতা-সম্পর্কে সচেতন, স্বল্প-ব্যবহৃত শব্দাবলী এবং অক্ষরের সঙ্গেও যাঁরা পরিচিত, যাঁরা প্রুফ-রিডারদের ব্যবহৃত চিহ্নাবলী, কৌশল ইত্যাদি-সম্পর্কে ওয়াকিবহাল... ইত্যাদি ইত্যাদি) দক্ষতার জন্য কোনো কোনো ক্ষেত্রে অন্যান্য শিল্প-শ্রমিকদের থেকে বেশি উপার্জন করতে সক্ষম হলেও তাদের বেতনের সঙ্গতিপূর্ণ স...

নষ্ট চাঁদের আলো।। অলোক সান্যাল।। সুপ্রকাশ।। পাঠপ্রতিক্রিয়া।।

Image
সুপ্রকাশ প্রকাশিত অলোক সান্যালের উপন্যাস 'নষ্ট চাঁদের আলো' পড়ে গুডরিডস্ এ লিখেছেন নীল বৈদ্য। আমরা নিজেদের টাইমলাইন থেকে শেয়ার করছি।  ......................................................... নষ্ট চাঁদের আলো অলোক সান্যাল সুপ্রকাশ ৩৯৭ পাতা। দাম ৫৯০ এই উপন্যাসে উঠে এসেছে দুটো সময়ের কাহিনী। একটা বর্তমান সময়ে যেখানে আছে এমা আর এলিন দুই ভাইবোন। এছাড়া আছে ফাদার সাইমন আর ধনকুবের জোনাথন। আরেকটা সময়ে আছে ব্লাক বিয়ার্ড জলদস্যু। এই গল্পে তার উত্থান থেকে পতন সবই দেখানো হয়েছে। প্রথম দিকে গল্পের গতি কিঞ্চিৎ ধীর। শেষের ক্লাইমেক্স ভালো লেগেছে। প্রথম দিকে একটু ছাড়াছাড়া লাগলেও পরে গল্পে গতি এসে যায়। এই গল্প ঠিক থ্রিলার বা এডভেঞ্চার গল্প নয়। তবে কোথাও বিরক্তি লাগে নি। শেষে পিটার আর ব্র্কেন্টুথের কি হলো বোঝা গেলো না। শেষটা ভালো লেগেছে। আমার রেটিং 5/5

চেতনার পথ জুড়ে শুয়ে আছে।। অনির্বাণ সিসিফাস ভট্টাচার্য।। সুপ্রকাশ।। পাঠপ্রতিক্রিয়া।।

Image
সুপ্রকাশ প্রকাশিত অনির্বাণ সিসিফাস ভট্টাচার্যের বই 'চেতনার পথ জুড়ে শুয়ে আছে (পরিবেশ সম্পর্কিত আক্রমণ-হত্যা : ইতিহাস-বর্তমান)' পড়ে লিখছেন পিয়াল রায়। আমরা তাঁর অনুমতি নিয়ে নিজেদের টাইমলাইন থেকে শেয়ার করছি। ..................................................... চেতনার পথ জুড়ে শুয়ে আছে (পরিবেশ সম্পর্কিত আক্রমণ-হত্যা : ইতিহাস-বর্তমান)  অনির্বাণ সিসিফাস ভট্টাচার্য  প্রকাশক : সুপ্রকাশ মুদ্রিত মূল্য : ৩৯০ টাকা ফেসবুকের জমানা এসে একটা লাভ হয়েছে যে কোনো বইয়ের খবর বেশ চটজলদি পাওয়া যাচ্ছে। আন্তর্জাতিক কলকাতা বইমেলায় সুপ্রকাশের স্টল থেকে অবশেষে বইটি হাতে আসে।  কেন বিশেষ এই বইটি সংগ্রহের জন্য আমি এতটা উতলা হয়েছিলাম সে প্রসঙ্গে বলতে গেলে বইটির বিষয় অভিনবত্বের কথাই বলতে হয়। আমার পক্ষে বইয়ের বিষয় এত বেশি নতুন ছিল যে পড়ে দেখার লোভ সংবরণ করা সম্ভব হয়নি এবং পড়ার পর বুঝেছি এই সময়ে দাঁড়িয়ে  বইটি পড়া কতখানি জরুরি। এই সময় বলতে আমি বোঝাতে চাইছি গোটা পৃথিবীর রাজনৈতিক এবং বাজার অর্থনৈতিক কারণে যে বিরাট পাওয়ার শিফটিংএর খেলা চলছে তার কথা। বিশ্বব্যাপী ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠেছে, বিশেষ...

এক যে ছিল গ্রাম।। অর্ধেন্দুশেখর গোস্বামী।। সুপ্রকাশ।।

Image
এই বিশাল ভুবনের এক অন্ধকার কোণে এক অখ্যাত গ্রাম। অনেক দূরের এক নিঝুম মাঠে পড়ে থাকা তার খড়ো চালের পাঠশালা, পাঠশালার পণ্ডিত আর পড়ুয়া, পণ্ডিতের রুলবাড়ি কিংবা দিয়াশলাই, পড়ুয়াদের বইদপ্তর; গাঁয়ের ছোটখাটো সব মানুষ, চিতু ওনা লুড়কা লেউল জগা ওন্তা বুড়া মথুর বদনা সত্য পদি কালীমতি উরা, তাদের সঙ্গী ঘোড়া-কুকুর-ইঁদুর-সাপ; তার গাছ আর ফল, আম-জাম-তাল-মোল; তার দুগ্‌গা আর ভাদু পূজা, যাত্রাপালা, তার বকুল গাছের ছায়ায় রামমন্দিরের শীতল চাতাল; তার শিলাই নদীর দ’ আর খালের বাঁধ— এই সবকিছু নিয়েই  ‘এক যে ছিল গ্রাম’। ............................................. এক যে ছিল গ্রাম অর্দ্ধেন্দুশেখর গোস্বামী ............................................. প্রচ্ছদ : সুলিপ্ত মণ্ডল অলংকরণ : অদ্বয় দত্ত মুদ্রিত মূল্য : ৩২০ টাকা সুপ্রকাশ                     

সিদ্ধিগঞ্জের মোকাম।। মিহির সেনগুপ্ত।। সুপ্রকাশ।।

Image
"সব মানুষের থাকে বোধহয় এক সিদ্ধিগঞ্জের মোকাম। ঋতুকালের কোনো এক নির্দিষ্ট আবর্তে সেই মোকামের কথা তাঁর স্মরণ হয়। কেউ তা বোধ করে বর্ষায়, কেউ শরতে বা শীতে, কারোর বা অন্য ঋতুতে। একসময় রাজারা এই ঋতুকালে দিগ্বিজয়ে বেরোতেন। এখন আমাদের মতো গেরস্তেরা যায় বেড়াতে। আমি ভাটিকুমার, আমার বোধ যেন-বা বাঁধা আছে শরতে। তাই ঘাসের ডগায় শিশির পড়লে আমার প্রাণ আনচান করতে শুরু করে। তখন বাক্স বাঁধার হুটোপুটি। কিন্তু বহু স্থানে গিয়ে থুয়ে দেখেছি প্রাণের মধ্যে ওই হায় হায় ভাবটি থেকেই যায়। এই ভেজা শিশিরভেজা ঘাসের উপর কাকে যেন চেয়েছিলাম! কৌশানির বিজন বাসে, রানিক্ষেতের শৈলাবাসে, কংখালের গঙ্গাকিনারে গিয়েও মনে হয়েছে, না, এ ঠিক নয়। অবশেষে তার সন্ধান পাই কালীগঙ্গার পারের এক হিজল-কাশ-হোগল-নলখাগড়ার ঝোপে। আর সেই হলো কাল। এখন ঘাসে শিশির পড়লেই পা চঞ্চল। এই আমার সিদ্ধিগঞ্জের মোকাম। একদা এখান থেকেই দেহতরী ভাসিয়েছিলাম গোনে, তাই এখন উজানযাত্রায় যাই সিদ্ধিগঞ্জের মোকামে। কালীগঙ্গার শেষ ঘাট আমার সিদ্ধিগঞ্জের মোকাম। হোগল, কাশ, নলখাগড়ার ঝোপের মধ্যে থাকে আবার এক মুখ। সে মুখের কোনো বাস্তব অবয়ব নেই, আবার আছেও ব...

প্রতিযাত্রা।। দুর্লভ সূত্রধর।। সুপ্রকাশ।।

Image
নগরীতে প্রবেশের পর হতেই নগরীর প্রধান মাগগটি নজরে আসছে। তার দুইপাশে তরুশ্রেণী। গগনমার্গে তরুশীর্ষগুলি দুইপাশ হতে পরস্পর লগ্ন হয়ে ছত্তক-ব্যূহ রচনা করেছে। মহামাগগ বা প্রধান সড়কটি প্রস্তরফলক দ্বারা আবৃত। ভিক্ষুদল মহামাগগ ধরে অগ্রসর হলেন। আশ্চর্য! কোনো নগরজন দৃষ্টিগোচর হচ্ছে না। প্রভাতকাল। মাগগপার্শ্বে সম্পদশালীজনেদের গৃহউদ্যান। সুপ্রশস্ত এই উদ্যানকে গৃহবনানীই বলা যায়। প্রথমে সুদৃশ্য পুষ্পবীথিকা, তার পর শ্রেণীবদ্ধ বিবিধ ফলতরু। সেই তরুশাখার মধ্যে দিয়ে প্রস্তর ও ইষ্টকনির্মিত গৃহগুলি দৃশ্যমান। অধিকাংশই প্রাসাদাকার, অলঙ্কৃত। সর্বাগ্রে নজরে আসে গৃহদ্বারের শীর্ষদেশের বিচিত্র ফুলকারী নকশার অলংকরণ এবং গেহদ্বারে দারুতক্ষণের কাজ। বহির্দ্ধারের স্তম্ভগুলিও ফুলকারি নকশায় সজ্জিত। গবাক্ষ ও বাতায়নের সারি। এই প্রভাতে সেসবই বন্ধ। এতটা প্রভাত তো নয়। বালার্ক দেখা দিয়েছে অনেকক্ষণ! প্রভাত বলেই কি কোথাও কোনো মানুষজন দৃষ্টিগোচর হচ্ছে না? এই নিজন নীরবতা তো হিরন্ময় নয়! ইতোমধ্যেই ভিক্ষুরা একটিমাত্র বস্ত্রখণ্ডে গ্রন্থি দিয়ে প্রস্তুত তাঁদের 'স্কন্ধ-পসিব্বক' থেকে 'ভিক্ষাভাজন' বের করে দক্ষিণহস্তে তা ধারণ ...