Posts

Showing posts from March, 2025

চেতনার পথ জুড়ে শুয়ে আছে।। অনির্বাণ সিসিফাস ভট্টাচার্য।। সুপ্রকাশ।। পাঠপ্রতিক্রিয়া।।

Image
সুপ্রকাশ প্রকাশিত অনির্বাণ সিসিফাস ভট্টাচার্যের বই 'চেতনার পথ জুড়ে শুয়ে আছে (পরিবেশ সম্পর্কিত আক্রমণ-হত্যা : ইতিহাস-বর্তমান)' পড়ে লিখছেন পিয়াল রায়। আমরা তাঁর অনুমতি নিয়ে নিজেদের টাইমলাইন থেকে শেয়ার করছি। ..................................................... চেতনার পথ জুড়ে শুয়ে আছে (পরিবেশ সম্পর্কিত আক্রমণ-হত্যা : ইতিহাস-বর্তমান)  অনির্বাণ সিসিফাস ভট্টাচার্য  প্রকাশক : সুপ্রকাশ মুদ্রিত মূল্য : ৩৯০ টাকা ফেসবুকের জমানা এসে একটা লাভ হয়েছে যে কোনো বইয়ের খবর বেশ চটজলদি পাওয়া যাচ্ছে। আন্তর্জাতিক কলকাতা বইমেলায় সুপ্রকাশের স্টল থেকে অবশেষে বইটি হাতে আসে।  কেন বিশেষ এই বইটি সংগ্রহের জন্য আমি এতটা উতলা হয়েছিলাম সে প্রসঙ্গে বলতে গেলে বইটির বিষয় অভিনবত্বের কথাই বলতে হয়। আমার পক্ষে বইয়ের বিষয় এত বেশি নতুন ছিল যে পড়ে দেখার লোভ সংবরণ করা সম্ভব হয়নি এবং পড়ার পর বুঝেছি এই সময়ে দাঁড়িয়ে  বইটি পড়া কতখানি জরুরি। এই সময় বলতে আমি বোঝাতে চাইছি গোটা পৃথিবীর রাজনৈতিক এবং বাজার অর্থনৈতিক কারণে যে বিরাট পাওয়ার শিফটিংএর খেলা চলছে তার কথা। বিশ্বব্যাপী ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠেছে, বিশেষ...

এক যে ছিল গ্রাম।। অর্ধেন্দুশেখর গোস্বামী।। সুপ্রকাশ।।

Image
এই বিশাল ভুবনের এক অন্ধকার কোণে এক অখ্যাত গ্রাম। অনেক দূরের এক নিঝুম মাঠে পড়ে থাকা তার খড়ো চালের পাঠশালা, পাঠশালার পণ্ডিত আর পড়ুয়া, পণ্ডিতের রুলবাড়ি কিংবা দিয়াশলাই, পড়ুয়াদের বইদপ্তর; গাঁয়ের ছোটখাটো সব মানুষ, চিতু ওনা লুড়কা লেউল জগা ওন্তা বুড়া মথুর বদনা সত্য পদি কালীমতি উরা, তাদের সঙ্গী ঘোড়া-কুকুর-ইঁদুর-সাপ; তার গাছ আর ফল, আম-জাম-তাল-মোল; তার দুগ্‌গা আর ভাদু পূজা, যাত্রাপালা, তার বকুল গাছের ছায়ায় রামমন্দিরের শীতল চাতাল; তার শিলাই নদীর দ’ আর খালের বাঁধ— এই সবকিছু নিয়েই  ‘এক যে ছিল গ্রাম’। ............................................. এক যে ছিল গ্রাম অর্দ্ধেন্দুশেখর গোস্বামী ............................................. প্রচ্ছদ : সুলিপ্ত মণ্ডল অলংকরণ : অদ্বয় দত্ত মুদ্রিত মূল্য : ৩২০ টাকা সুপ্রকাশ                     

সিদ্ধিগঞ্জের মোকাম।। মিহির সেনগুপ্ত।। সুপ্রকাশ।।

Image
"সব মানুষের থাকে বোধহয় এক সিদ্ধিগঞ্জের মোকাম। ঋতুকালের কোনো এক নির্দিষ্ট আবর্তে সেই মোকামের কথা তাঁর স্মরণ হয়। কেউ তা বোধ করে বর্ষায়, কেউ শরতে বা শীতে, কারোর বা অন্য ঋতুতে। একসময় রাজারা এই ঋতুকালে দিগ্বিজয়ে বেরোতেন। এখন আমাদের মতো গেরস্তেরা যায় বেড়াতে। আমি ভাটিকুমার, আমার বোধ যেন-বা বাঁধা আছে শরতে। তাই ঘাসের ডগায় শিশির পড়লে আমার প্রাণ আনচান করতে শুরু করে। তখন বাক্স বাঁধার হুটোপুটি। কিন্তু বহু স্থানে গিয়ে থুয়ে দেখেছি প্রাণের মধ্যে ওই হায় হায় ভাবটি থেকেই যায়। এই ভেজা শিশিরভেজা ঘাসের উপর কাকে যেন চেয়েছিলাম! কৌশানির বিজন বাসে, রানিক্ষেতের শৈলাবাসে, কংখালের গঙ্গাকিনারে গিয়েও মনে হয়েছে, না, এ ঠিক নয়। অবশেষে তার সন্ধান পাই কালীগঙ্গার পারের এক হিজল-কাশ-হোগল-নলখাগড়ার ঝোপে। আর সেই হলো কাল। এখন ঘাসে শিশির পড়লেই পা চঞ্চল। এই আমার সিদ্ধিগঞ্জের মোকাম। একদা এখান থেকেই দেহতরী ভাসিয়েছিলাম গোনে, তাই এখন উজানযাত্রায় যাই সিদ্ধিগঞ্জের মোকামে। কালীগঙ্গার শেষ ঘাট আমার সিদ্ধিগঞ্জের মোকাম। হোগল, কাশ, নলখাগড়ার ঝোপের মধ্যে থাকে আবার এক মুখ। সে মুখের কোনো বাস্তব অবয়ব নেই, আবার আছেও ব...

প্রতিযাত্রা।। দুর্লভ সূত্রধর।। সুপ্রকাশ।।

Image
নগরীতে প্রবেশের পর হতেই নগরীর প্রধান মাগগটি নজরে আসছে। তার দুইপাশে তরুশ্রেণী। গগনমার্গে তরুশীর্ষগুলি দুইপাশ হতে পরস্পর লগ্ন হয়ে ছত্তক-ব্যূহ রচনা করেছে। মহামাগগ বা প্রধান সড়কটি প্রস্তরফলক দ্বারা আবৃত। ভিক্ষুদল মহামাগগ ধরে অগ্রসর হলেন। আশ্চর্য! কোনো নগরজন দৃষ্টিগোচর হচ্ছে না। প্রভাতকাল। মাগগপার্শ্বে সম্পদশালীজনেদের গৃহউদ্যান। সুপ্রশস্ত এই উদ্যানকে গৃহবনানীই বলা যায়। প্রথমে সুদৃশ্য পুষ্পবীথিকা, তার পর শ্রেণীবদ্ধ বিবিধ ফলতরু। সেই তরুশাখার মধ্যে দিয়ে প্রস্তর ও ইষ্টকনির্মিত গৃহগুলি দৃশ্যমান। অধিকাংশই প্রাসাদাকার, অলঙ্কৃত। সর্বাগ্রে নজরে আসে গৃহদ্বারের শীর্ষদেশের বিচিত্র ফুলকারী নকশার অলংকরণ এবং গেহদ্বারে দারুতক্ষণের কাজ। বহির্দ্ধারের স্তম্ভগুলিও ফুলকারি নকশায় সজ্জিত। গবাক্ষ ও বাতায়নের সারি। এই প্রভাতে সেসবই বন্ধ। এতটা প্রভাত তো নয়। বালার্ক দেখা দিয়েছে অনেকক্ষণ! প্রভাত বলেই কি কোথাও কোনো মানুষজন দৃষ্টিগোচর হচ্ছে না? এই নিজন নীরবতা তো হিরন্ময় নয়! ইতোমধ্যেই ভিক্ষুরা একটিমাত্র বস্ত্রখণ্ডে গ্রন্থি দিয়ে প্রস্তুত তাঁদের 'স্কন্ধ-পসিব্বক' থেকে 'ভিক্ষাভাজন' বের করে দক্ষিণহস্তে তা ধারণ ...

লেটারপ্রেসের কম্পোজিটর : এক বিষাদান্ত পরম্পরা।। অনন্ত জানা।। সুপ্রকাশ।।

Image
লেটারপ্রেসের এই অনিবার্য পরাজয় কিংবা নতুন প্রযুক্তির এই জয়—এবং নতুন ক্ষেত্রিয়-পুঁজির এই আস্ফালন কোনো অদূর ভবিষ্যতে মানব-অধ্যুষিত সভ্যতার পরাজয় বলে গণ্য হবে কিনা, এই দ্রুত পরিবর্তন ভালো কি মন্দ, উচিত কি অনুচিত—ভারত তথা প্রাচ্যের ঘাতসহ ঐতিহ্যের সঙ্গে একঝোঁকা, বেতালা এই পরিবর্তন আদৌ মানানসই কিনা—তা ভাববার জন্য বিশেষজ্ঞের মতামত দেওয়ার লোকের অভাব তো নেই। কিন্তু নতুন প্রযুক্তি, অনাবশ্যক দ্রুতির সঙ্গে শুধুমাত্র 'পুঞ্জি আর প্রবঞ্চনা'র জন্য বাহ্যত অকারণে প্রযুক্তির নিত্যি হাল-হকিকৎ বদলে ফেলায় যাঁরা ক্ষতিগ্রস্ত হলেন, তাঁদের নিয়ে বলবার লোক কমে যাওয়াটাই সবচেয়ে দুর্ভাগ্যের। আন্দোলনের অভিজ্ঞতা থেকে এটা বুঝতে পেরেই দুঃখ ঝেড়ে ফেলতে পেরেছিল ছোড়দি। স্ক্রিন-প্রিন্টিংয়ের মতো ডেস্কটপও শিখে নিয়েছিল ছোড়দি। শুধু একটাই আক্ষেপ ছিল তার—সুবলবাবু, অমর প্রধান, বিমলবাবু, পঞ্চাদা, ভূপালবাবুরা বোধহয় চিরতরে হারিয়ে গেলেন। হারিয়ে গেল প্রেস থেকে প্রেসে সকাল-সন্ধ্যায় কত কবি-শিল্পী-সাহিত্যিকদের সমাবেশ, পত্র-পত্রিকা-বই-ঘোষণাপত্র প্রকাশ করার চেষ্টায় সংশ্লিষ্টজনেদের অন্তহীন শ্রমের, আকুতির উষ্ণ-কম্পনের দিনলিপি। হারিয়ে গ...

রাস্তার শুরু।। জয়া মিত্র।। সুপ্রকাশ।।

Image
সুপ্রকাশ প্রকাশিত জয়া মিত্রের উপন্যাস 'রাস্তার শুরু' পড়ে লিখেছেন সই সঙ্গীতা দাশগুপ্ত রায়। আমরা তাঁর অনুমতি নিয়ে নিজেদের টাইমলাইন থেকে শেয়ার করছি।  ....................... পড়ছিলাম ছেড়ে আসার গল্প। এ বই আমি আগেও বেশ কয়েকবার পড়েছি। মৃত্যুর কারণে যেতে দেওয়া  যাওয়া অথবা স্থানপরিবর্তনের কারণে ঠাঁইনাড়া হওয়া দুইয়েরই অভিজ্ঞতা আমাদের বয়সে এসে সকলেরই থাকে। তবে তার মধ্যে বোধহয় সবচেয়ে বেশি ভাবায়  শিশু-কিশোরবেলায় মুখোমুখি হওয়া বিচ্ছেদের স্মৃতি। "খুব বর্ষার দিনে ঐ দেওয়ালের গা খুব স্যাঁতসেতে, কখনো কখনো একটু জল গড়িয়ে পড়ে। পাহাড়ের নিজের জল, তাদের বাড়ির মধ্যে। সে জন্যেই বাথরুমটা বেশ রহস্যের। মানে, দেখা যায় কিন্তু সবটা বোঝা যায় না— তাকেই তো  রহস্য বলে" —এইখানে এসে ভাবি সত্যিই তো, এত বছর ধরে কত রহস্যই দেখলাম, চিনলাম কত রহস্যময় মানুষকেও। দেখা এবং সবটা না বোঝার এই অঙ্কটা কী সহজ করে ফুটিয়ে তুলেছেন লেখক।  "ওপরে একটা বড় গাছ আছে - মালবেরি গাছ। ওপরের ঠাকুমারা বলে তুঁত। একদিন রাঙাপিসি একটা কাচের প্লেটে বসিয়ে কয়েকটা কলা তার হাতে দিয়ে বলেছিল ওপরে দিয়ে আসতে। সে যাচ্ছিল ঠিকই, কিন্তু হঠাৎ দে...

বীরেশ্বর সামন্তর হত্যা রহস্য।। শাক্যজিৎ ভট্টাচার্য।। সুপ্রকাশ।।

Image
অবশেষে ভোর এল। তার রং ছিল মাছের শুকনো কাঁটার মতো ফ্যাকাশে। এবং কুয়াশা, যা সম্ভাবনাময়, তার পেট ফেটে রক্তের মতো চুঁইয়ে নামল আলো আর হুম হুম শব্দে অমোঘ শূন্যতাকে পায়ে ঠেলে মেঠোপথ বেয়ে জনা কুড়ির দল ইটভাটার চিমনি লক্ষ্য করে এগিয়ে গেল। আকাশে কোলাহল ছিল আর নাবালক মেঘে ছিল আস্ফালনের সম্ভাবনা। জীবন যেন নিজেকে খুঁজে পাচ্ছিল আর চমকপ্রদ শব্দাবলি কুচো পাপড়িদের মতো ঝরছিল চরাচরে, নদীতীরকে জ্যান্ত লাগছিল। ছন্নছাড়া পাখিগুলো তাদের বাসা ভুলে যাবার প্রস্তুতি নিল, আর দিগন্তছোঁয়া বলখেলার মাঠ জুড়ে সোঁদা বাতাস বইলে বর্ষণ সম্ভাবনায় সন্ত্রস্ত হলো চরাচর। পুরুষদের লুঙ্গি হাঁটুর ওপর পাট করে গুটিয়ে রাখা আর বয়স্কদের মাথায় ছিল মাঙ্কি ক্যাপ, অকৃপণ হিমে তাদের চামড়া কুঁচকে গিয়েছিল বলে কাঁপুনি দূর করার জন্য মুখ থেকে আরও জোরে হুম হুম আওয়াজ তুলে প্রায় দৌড়ের ছন্দে পা ফেলে আর কাহিল জন্তুর থরথরানির মতো কাঁপে কুয়াশার চাদর, ঝোপঝাড় তখন ভিজে চুপচুপে। দলটা বিহার থেকে এসেছিল আর তাদের সবথেকে অল্পবয়স্ক মেয়েটা বুঝতে পারছিল যে তার সঞ্চারিত গর্ভকে ক্রমে লুকিয়ে রাখা যাবে না অন্যদের থেকে, যেহেতু বাড়তে থাকা পেটকে কাপড়ের কষি দিয়ে দাবানো অসম্...

সমর ভট্টাচার্য রচনা সংগ্রহ।। সুপ্রকাশ।।

Image
পাঠশালার পাশেই গীলবার্ট সাহেবের বাড়ি। বাড়ির গঠনটাও বিদেশি ধাঁচের। সামনেটা ফুলের বাগান। বেল, জুঁই এবং বিভিন্ন ঋতুর বিদেশি ফুল ফুটে থাকে সব সময়। ফুলবাগান পেরিয়ে বাড়ি। শ্লেট রঙয়ের। সামনের ঘরটিতে আলমারি ভর্তি বই। সবই ইংরেজি। মধ্যিখানে বসবার চেয়ার টেবিল। ঘরের দেয়ালে টাঙানো ছবি। অংশু জানত না ছবিগুলো কীসের এবং কার। গীলবার্ট সায়েব প্রতিটা ছবি চিনিয়ে দিয়েছেন অংশুকে। অধিকাংশই যিশুখ্রিস্টের ছবি। ক্রুশ ঘাড়ে হাঁটছেন নিজের বধ্যভূমির দিকে। কোনোটাতে পড়ে গিয়েছেন। শেষের ছবিটাতে ক্রুশবিদ্ধ যীশু। মাথায় কাঁটার মুকুট। হাতে পায়ে বুকে নৃশংস পেরেক পোঁতা। তা থেকে রক্ত ঝরছে। মাথাটা কাত হয়ে আছে বাঁ-পাশে। ছবিগুলো দেখে অংশুর খুব কষ্ট হয়েছিল। —'মানুষ মানুষকে এমন করে মেরে ফেলতে পারে?' —'হ্যাঁ পারে। মানুষই তো মানুষকে মারে।' —'কেন মারে?' —'মানুষের স্বার্থে যদি কেউ আঘাত করে তাকে বাঁচতে দেয় না।' —'কী করেছিলেন যিশুখ্রিস্ট?' —'মানুষকে ভালবাসতে শিখিয়েছিলেন। বলেছিলেন, এ-মাটি কোনো রাজার নয়। মানুষের। ঈশ্বরের সৃষ্টি এ-পৃথিবী ভোগ করবে ঈশ্বরের পুত্র মানুষেরা। তাই তো রাজা হেরড রাজদ্রোহী ...

বাঘাচাঁদের কথাকাব্য।। অনিল ঘোষ।। সুপ্রকাশ।।

Image
বাইরে একটানা মানুষের ডাক, আকুল কান্না। বাঘাচাঁদ থাকতে না পেরে সকলের অলক্ষে, গোপন পথে বাইরে বেরিয়ে আসে। দেখে এক নতুন বাদা। আই ব্বাস, এ তো চেনা যায় না গো! হায়-হায়, আমার সাধের বাদার কী দশা হইল গো! বাঘাচাঁদ অনেক কষ্টে সটান উঠে দাঁড়ায়। কুড়াল তুলে হাঁক পাড়ে— এ কোন দ্যাশে আইলাম গো চিনিতে না পারি বাদার দ্যাশে অ্যামুন সাজ ক্যামনে হইল জারি। গাঁ-গঞ্জ কমনে গেল, কমনে গেল আবাদ ঘুণের বাসা বেধিছে র‍্যা, করিবে বরবাদ। হাঁকডাকের বদলে বাঘাচাঁদের গলা দিয়ে যা বেরিয়ে আসে, সেটা এককথায় গোঙানি। তাই শুনে হাড়হাভাতে মানুষজন, যারা বাঘাচাঁদের কাছে আর্জি জানাতে এসেছিল, তারা ঘুরে তাকায়। সরোষে বলে, অ্যাই, তুই কেডা রে? বাঘাচাঁদ বলে, আমি বাঘাচাঁদ, বাদার দেশের রাজা। তোরা এই বেড়া ভেঙি ফ্যাল, আমি বলতিছি। অমনি হাসির ঝড় ওঠে চারদিক থেকে, এই নাকি বাঘাচাঁদ, দুর-দুর—। হ্যাঁ বাবা, ওরা কেউ বাঘাচাঁদকে চিনতেই পারল না। বরং ব্যঙ্গ করল, বিদ্রুপ করল। ওদের আর দোষ কী! দীর্ঘকাল অদর্শনে বাঘাচাঁদ সম্পর্কে মনে মনে একটা মূর্তি তৈরি হয়ে গেছে। তার সঙ্গে বাস্তবের বাঘাচাঁদের কোনও মিল নেই। তাই হাসি ছাড়া আর কী! হো হো হাসির ঝড় বইতে থাকে চারদিক জুড়ে। হ...

চেতনার পথ জুড়ে শুয়ে আছে।। অনির্বাণ সিসিফাস ভট্টাচার্য।। সুপ্রকাশ।।

Image
গোরিলা শিকার আটকাতে ভিরুঙ্গা ঘুরে ঘুরে অ্যান্টিলোপ শিকারের ফাঁদ ধ্বংস করতেন ডায়ান এবং তাঁর গোরিলা ট্র্যাকার দল। ১৯৬৭-তে রুয়ান্ডায় ২০টি দলে ঘুরে বেড়ানো ২৪০টি পার্বত্য গোরিলার এক একটা দলকে নেতৃত্ব দিত বিশালাকার সিলভারব্যাক গোরিলা। ১৯৭৭-এর শেষে ডায়ানের প্রিয়তম সিলভারব্যাক বারো বছরের ডিজিট-এর মাথা ও দুহাত কাটা শরীর আবিষ্কার করেন ডায়ানের সহকর্মী ইয়ান রেডমন্ড। ওয়াল্টার কঙ্ক্রাইটের সিবিএস ইভনিং নিউজ রিপোর্টে ১৯৭৭-এর ৩১ ডিসেম্বর ডিজিটের মৃত্যুর খবর বেরোলে গোরিলা সংরক্ষণে টনক নড়ে বাইরের পৃথিবীর। ১৯৭৮-এ চোরাশিকারি এবং ভিরুঙ্গা পার্কের আধিকারিকদের একটি দল শিশু গোরিলা কোয়েলিকে নিয়ে যেতে এলে সন্তানকে বাঁচাতে গিয়ে নিহত হয় ডিজিটের 'গ্রুপ ফোর'-এর আরেক সিলভারব্যাক আঙ্কল বার্ট, সঙ্গে ওই একই আক্রমণে শেষ হয় কোয়েলির মা ম্যাকো। কোনওক্রমে কোয়েলি বেঁচে গেলেও শিকারিদের গুলিতে আঘাত পেয়ে তিন মাসের মধ্যে গ্যাংগ্রিনে চলে যায় সেও। একের পর এক প্রিয় সঙ্গীর মৃত্যুতে অবসাদগ্রস্ত, নিজেকে গুটিয়ে নেওয়া, ধূমপানে আসক্ত হয়ে পড়া ডায়ান গোরিলা-গবেষণা থেকে সরে গিয়ে ক্রমশ একমুখী চোরাশিকার-বিরোধিতাকে লক্ষ্য হিসেবে বেছে নিল...

চেতনার পথ জুড়ে শুয়ে আছে।। অনির্বাণ সিসিফাস ভট্টাচার্য।। সুপ্রকাশ।।

Image
১৭৩০, ১১ সেপ্টেম্বর। খেজারলি গণহত্যা। রাজস্থানের মারোয়াড়ের মহারাজা অভয় সিং যোধপুরের জেহনাদ সহ বেশ কিছু গ্রাম নিয়ে তৈরি এস্টেটের দায়িত্বভার দিলেন ঠাকুর সুরাট সিংকে। মহারাজার নতুন প্যালেস ফুলমহল তৈরির পরিকল্পনা করা হল। তার জন্য প্রয়োজন প্রচুর চুন। চুনাপাথরের জোগান ছিল, কিন্তু সমস্যা হল সেই চুনাপাথরকে পুড়িয়ে চুন তৈরি করার জন্য প্রয়োজন যথেষ্ট জ্বালানির, এবং তার জন্যেই দরকার অজস্র কাঠ, অজস্র গাছ। হাত পড়ল বিশনোই কমিউনিটির ওপর। ১৪৮৫ সালে গুরু জাম্বেশ্বরের হাতে তৈরি ২৯টি নীতির ওপর ভিত্তি করে চলা প্রহ্লাদপন্থী বা বিশনোইদের ইতিহাস, যেখানে প্রথম ও শেষ কথা পরিবেশবাদ। নিরামিষ আহার, তালাব, ট্যাঙ্ক ইত্যাদি তৈরি করে বর্ষার জল সংরক্ষণ, গাছ কেটে আগুন জ্বালানো আটকাতে মৃতদেহ সৎকার না করে সমাধিস্থ করা, স্থানীয় 'ওরেন' অর্থাৎ সামাজিক বনসৃজন, বৃক্ষচ্ছেদনে নিষেধাজ্ঞা, মাটির উর্বরাশক্তি ও জলধারণক্ষমতায় প্রচণ্ড ক্ষতি করা নীল চাষে তীব্র আপত্তি—একাধিক পরিবেশ-রক্ষক নীতি মেনে এসেছে বিশনোইদের গ্রাম। সুরাট সিংয়ের আদেশপ্রাপ্ত মন্ত্রী গিরিধর ভাণ্ডারীর লেঠেল সৈন্যরা প্রথমেই এলেন বিশনোইদের জেহনাদে রামু বিশনয়ের বাড়...

লেটার প্রেসের কম্পোজিটর : এক বিষাদান্ত পরম্পরা।। অনন্ত জানা।। সুপ্রকাশ।। পাঠপ্রতিক্রিয়া।।

Image
সুপ্রকাশ প্রকাশিত অনন্ত জানার বই 'লেটার প্রেসের কম্পোজিটর : এক বিষাদান্ত পরম্পরা’  পড়ে মতামত জানিয়েছেন সুপ্রিয় ঘোষ। আমরা তাঁর অনুমতি নিয়ে নিজেদের টাইমলাইন থেকে শেয়ার করছি। .............................................................................. অনন্ত জানার 'লেটার প্রেসের কম্পোজিটর : এক বিষাদান্ত পরম্পরা’   গোলাপি মলাটের বর্ণপরিচয়-এর সঙ্গে যখন প্রথম সাক্ষাৎ ঘটে তখনই ছাপা অক্ষরের ভূত আমার ভবিষ্যৎ হয়ে ওঠে। তারও আগে বইপত্র যা দেখেছি সেগুলোর ছবি দেখা ব্যতিরেকে ছেঁড়ার সামগ্রী বলে মনে হয়েছে। দুই মলাটের মাঝে অগাধ লিপি সাঁতরে যে জ্ঞান অর্জন করতে হয় এবং এই বস্তুটিকে যে বই বলে—তা সব জানা হলো কালক্রমে। কৌতূহলী শিশু মনের প্রশ্ন এলো এ বই তৈরি হয় কেমন করে? মেজদাকে খুঁচিয়ে জেনেছিলাম ছাপাখানার কথা। তার পর ইতিহাস বইতে পড়া মুখস্থ করেছি—ছাপাখানার জনক হলেন গুটেনবার্গ। তারও পরে যখন পাশের গ্রামের হাইস্কুলে পঞ্চম শ্রেণীতে ভর্তি হলাম সেই গঞ্জ এলাকায় যে পথে যেতাম নানান বিপণীর পাশে দেখতাম একটা দোকান। কালিঝুলি মাখা কতগুলো টেবিল, চেয়ার, কেস, আর সেলাই মেশিনের চাকার থেকে বড় আকারের...