প্রেস, নিকট-অতীতের লেটার-প্রিন্টিংপ্রেস মানে কী? প্রেস মানে তো একটা পরিচিত সাদা-কালো ছবি! মলিন ঘরে সস্তার কাঠের টেবিল, গুটিকতক চেয়ার, বেয়াড়া মাপের টুল অথবা নাতিদীর্ঘ বেঞ্চি—এই হলো সদর ; আর অন্দরে আধো-অন্ধকার-সমাকীর্ণ একটি-দুটি ঘরে কালিমাচিহ্নিত দেওয়াল, মলিন চেহারার কয়েকটি নাতি-উচ্চ কেস-র্যাক—যেখানে ঢুকিয়ে রাখা টাইপ-কেস, ঢালওয়ালা কিন্তু চালাহীন কম্পোজ স্ট্যান্ডের ওপরে ও স্ট্যান্ড ঘিরে রক্ষিত টাইপ-ভর্তি চৌকোণা খোপওয়ালা কেসগুলো। প্রেসের আয়তন ও সামর্থ্য-অনুযায়ী এমন টাইপ-স্ট্যান্ডের সংখ্যা, প্রত্যেকটি স্ট্যান্ডের সামনে কাঠের টুল। লেটার-প্রিন্টিংপ্রেসের এক প্রতিনিধি স্থানীয় চিত্রের সঙ্গে সঙ্গে এই বই বিশেষভাবে ছাপাখানার সেই তাঁদের কথা, যাঁদের হাতের বিন্যস্ত অক্ষর টেলিগ্রাফের মতো সংকেতে-ইশারায়-ইঙ্গিতে মূর্ত সৌধ রচনা করে এসেছে দীর্ঘকাল। এই বই সেই ঘরের কাছের উপেক্ষার দ্বীপান্তে নির্বাসিত জগৎটির ছবিটিকে সময়ের কুয়াশাচ্ছন্ন অরক্ষিত সংগ্রহশালা থেকে পুনঃসংগ্রহের একটা প্রচেষ্টা বলা যায়। এই অপরিসর, আলো-বাতাসের কার্পণ্যে মুহ্যমান জগতের শ্রমসাধ্য-ভ্রাতৃত্বের গল্প প্রায় উপকথা হয়ে আলো ছড়ায়। সেই আলো...
"ইমলির বীজ দিয়ে প্রথমে তারিক বাকিদের সঙ্গে গুলির প্র্যাকটিস করত। এভাবেই শুরু করে সবাই। তিতু ছিল তার সতীর্থ। গুলির অভাব তার একান্তই ছিল। কিন্তু, গুলির প্রাথমিক ব্যবস্থা তিতুই করে। টুক্কার ময়দানে অবতীর্ণ হওয়ার কিছুদিনের মধ্যেই তারিক ওস্তাদ হয়ে ওঠে। তিতু তাকে গুলি ধার দিয়েছিল। সে তিতুর গুলি দ্বিগুণ তিনগুণ, ধীরে ধীরে বহুগুণ করে তোলে। তারপরে তারা গুলির রঙিন স্ফটিকসাম্রাজ্যের অধীশ্বর হয়ে যায়। গুলির অভাব থেকে অঢেল প্রাচুর্য একসময় রাস্তাও বাতলে দেয়। একদিন সদরঘাটের বাপির সঙ্গেই গোপনে লেনদেন শুরু করে তারিক। দশ পয়সায় চারটে থেকে পাঁচটায় রফা হয়। বাপি নিজের দোকানে দশ পয়সায় দুটো বেচে। এভাবে আপাতত পাঁচটাকা বারোয়ানার মালিক আজ তারিক। কিন্তু টাকা বাড়তে চায় না। খিদের সঙ্গে লড়াই যুঝতে পারে না টুক্কার অনিয়মিত অর্জন। খিদে। যখন তখন খিদে পায়। তার খিদে। ভাইয়ের খিদে। বোনের খিদে। তার বাপের অধিক আয় উড়ে যায় রক্ষিতার জন্য। তাছাড়া গুলির আসর কমই বসছে আজকাল। তিতু-তারিক যুগলকে দেখলে মহল্লার নাবালকেরা খেলার আসর ছেড়ে দেয়। কিংবা, গোপনে আসর জমায়। তার বাপ মকবুল হেড-রাজমিস্ত্রি। তারিককে মাঝেমধ্যে জোরজার করে ডাকে কাজে। লে...
এমন দুপুরে বুড়োরা ঘরে ঢুকে থাকে আর তরুণেরা কাজে। সেজন্য ছোটো শহর নিস্তরঙ্গ হয়। কিন্তু, তা বলে মরে যায় কি? সেন্ট জন'স-এর মাথা ঘিরে বিচিত্র আকৃতিতে কাকের দলের ঘুরপাক। জঙ্গলে কাঠপোকার কিড়কিড় বাদে অন্য শব্দ আমি পাচ্ছি না। জায়গাটায় জিপিএস কাজ করছে না, তাই দরজাবন্ধ চার্চের সামনে দাঁড়িয়ে আমি এদিক-ওদিক তাকালাম। 'গোটা টাউনে ভূতেরা ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির মতো রাজ বসিয়েছে। এখানে আমরা কয়েক জন বাদে কেউ বেঁচে নেই। তুমি যাকে ভাববে বেঁচে, সে মরে আছে। আর যাকে মরা ভাববে, সে আসলে জ্যান্ত।' যাবার আগে দীপিকা বলেছিল আমাকে। আরও জানিয়েছিল একদিন জাদুবলে জঙ্গল ও পোড়োবাড়িদের দল উধাও হয়ে সেখানে মাথা তুলবে রিসর্ট, সুইমিং পুল, স্পা সেন্টার। 'ওই যে দেখছ চার্চ, ওটাই সেন্ট জন'স। রবিবার করে লোকজন আসে, কিন্তু বাকি সময়ে থমথমে। রাজ্যের সাপখোপের আড্ডা ওর অলটারের নীচে। আর আমার নাম দীপিকা সরেন।' আলগোছে, যেন অবহেলায় কাঁধ থেকে ঝাঁকিয়ে ফেলছে সে, যেভাবে অগ্রাহ্য করে এলোমেলো চুলের অবাঞ্ছিত ঝামরানো, জানিয়েছিল আমাকে। 'মনে রাখবে, এখন যতই গরম লাগুক, বিকেল থেকে কীভাবে তোমার হাড়ের ভেতর হিম ঢুকে যায়।' তবু ...
Comments
Post a Comment